দিনযাপন | ০৮০১২০১৬

কোথা দিয়ে যে সময় চলে যায়! কোথায় ভাবলাম যে ৬ তারিখ লালামের পুতুলের কাজ শেষ হতে না হতেই ট্রান্সলেশন, স্কুলের লেসন প্ল্যান, হ্যান্ডআউট এইসব নিয়ে বসবো!কিসের কি! এখন দেখা যাচ্ছে যে ১১ তারিখ পর্যন্তও আমি মহাব্যস্ত!প্রাচ্যনাটের অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন স্কুলের থিয়েট্রিক্যাল প্রেজেন্টেশন ওইদিন। আমি সরাসরি নাটকের কিছুর সাথে, মানে কস্টিউম, প্রপস, সেট, মিউজিক এইগুলা কিছুর সাথে নাই। কিন্তু গ্রুপের একটা কাজ হচ্ছে, এমনিতেই তো একটা দায়িত্ববোধ কাজ করে যে শেষের কয়েকটা দিন অন্তত উপস্থিত থাকি। ছোটোখাটো অনেক কাজেই তো হেল্প করা যায় সেই সময়টায়। তো, এই কারণেই ১১ তারিখ পর্যন্ত তো টানা গ্রুপে যাওয়া হবেই। অর্থাৎ, সকালে টিউশনি তারপর গ্রুপ, আর বাসায় ফিরতে ফিরতে সেই রাত ১২টা! আর তার মানে এই কয়েকদিন অন্য কোনো কাজ হচ্ছে না।

কিন্তু, তারপরের ৭টা দিন যেভাবেই হোক আমাকে কাজগুলো আগাতে হবে। স্কুলের জন্য হ্যান্ড-আউটগুলো যেমন তৈরি করতে হবে, তেমনি মুনির ভাইয়ের অনুবাদের কাজটাও আগাতে হবে। কিভাবে কি করা যায় তার একটা প্ল্যান করা যায় নাকি ভাবছি …

আজকে যেমন টিউশনি ছিলো না। কিন্তু দুপুরে মা’র সাথে একটা বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছি। মা’র ডিপার্টমেন্ট-এর কলিগের ভাগ্নীর বিয়ে। সেখানে কয়েকজন কলিগসহ মা’রও দাওয়াত। আবার মা’র সাথে আমারও স্পেশাল দাওয়াত। আন্টি নিজে ফোন করে বলেছেন যেন যাই। কাঁটাবনে তো যাওয়াই হবে, সো এলিফ্যান্ট রোডে বিয়েতে যেতে আর সমস্যা কি? সো, মা’র সাথে আমিও জোট বাঁধলাম। ফলে, সকাল থেকে কিছুটা সময় ঘরে একটা শেলফ গোছানো ছাড়া আর তেমন কিছুই করা হয়নাই। মিরপুর থেকে এলিফ্যান্ট রোড বিয়ে খেতে যাওয়া মানে তো সকাল থেকেই প্রস্তুতি নেয়া। গোসল করা, রেডি হওয়া, বের হয়ে সিএনজি খোঁজা, তারপর এক ঘণ্টা লাগিয়ে পৌঁছানো … অর্থাৎ দেড়টায় বের হওয়া মানে মোটামুটি বেলা ১১ টা থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা! আর ঘুম থেকেই যদি উঠি সাড়ে ৯ টায়, তাহলে ওইটুকুন বাকি সময় আর কি করা যায়? সো, গোসলের জন্য গিজারের পানি গরম হবার অবকাশে একটু ঘর ঘোছানোর কাজই করে নিলাম। গানের সিডি-গুলো একটা কার্ডবোর্ড বক্সে অনেকদিন যাবৎ পড়েই ছিলো, কিন্তু গোছানো হচ্ছিলো না। সেই সিডি-গুলোই আজকে গুছিয়ে একটা শেলফে তুলে রাখলাম।

আরেকদিন ডিভিডিগুলো গুছাতে হবে। আপাতত একটা বইয়ের শেলফে রাখা আছে, কিন্তু সেগুলোকে জায়গা বদল করে সিডি-গুলোর সাথে একই শেলফে রাখতে হবে। এরমধ্যেই একদিন করে ফেলবো।

সময়ের সাথে সাথে কতকিছু পালটে যায়! একটা সময় আমরা ক্যাসেটে গান শুনতাম। তারপর আসলো সিডি আর ডিভিডি। আর এখন অনলাইনেই সব গান পাওয়া যায় ! ক্যাসেট বা সিডি/ডিভিডি কেনার বালাই-ই নাই! এরপর আরো নতুন কি উপায় আসবে কে জানে! আমার অনেক অনেক ক্যাসেট ছিলো। সেন্ট্রাল রোডের বাসায় থাকতেই সেগুলো কোন বস্তার মধ্যে ঢুকেছিলো কে জানে! বাসা চেঞ্জ করে মিরপুরে আসার সময় নিশ্চয়ই ওই বস্তাও এসেছে। সব বস্তা এখনো নাড়া দিয়ে শেষ করা যায়নাই। সুতরাং কখনো না কখনো হয়তো কোনো একটা বস্তা থেকে ওই ক্যাসেটগুলোও বের হবে।

আজকে আর লিখবো না। ২টা বাজে অলরেডি। ভোরবেলা উঠতে হবে। বিবিসি’র একটা কাজ সেরে তারপর টিউশনিতে যেতে হবে। সেখান থেকে গ্রুপে। সো, সকাল থেকেই অনেক দৌড়াদৌড়ি … এখন সেজন্য তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়াটাই ভালো।

যথারীতিই আজকের কিছু ছবি দিয়ে দিচ্ছি …

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s