দিনযাপন। ১৯০১২০১৬

স্কুলটা খুলেই গেলো! আর ইন্টেরেস্টিংলি এবার ছুটির শেষের কয়েকটা দিন খুব আগ্রহের সাথেই অপেক্ষা করছিলাম স্কুলটা খোলার জন্য। কারণ, মনে হচ্ছিলো যে রুটিনগুলা সব ক্যামন উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে! একটা নির্দিষ্ট সময়ের ছকে যদি নিয়মিত কাজগুলোকে বাঁধা যায়, তাহলে আসলে বেশ রিলাক্সডভাবেই কাজ করা যায়। এই যেমন, এখন রুটিনটা খুব সহজেই এভাবে সাজানো যাবে যে ২টা পর্যন্ত স্কুল, সপ্তাহে ৪ দিন ৩টা/সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা/সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিউশনি, তারপর গ্রুপ, নয়তো বাসা। দিনযাপনের বাকি সব কাজ এখন এই সময়ের ছকের শূণ্যস্থানগুলোতে ফেলে দেয়া যাবে। আমার অনেক কাজকর্ম, বলা যায় বেশিরভাগ কাজকর্ম-ই অগোছালো ঠিকই, কিন্তু আমি মনে করি এই অগোছালোভাবে কাজ করাটাকেও একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। বলা যায়, সিস্টেমেটিকভাবে অগোছালো হওয়া যায়!

যেমন, ভাবছি যে গ্রুপে যাওয়ার রুটিনটাও এমন করা যায় কি না যে শনিবার থেকে মঙ্গলবার যেহেতু টিউশনি থাকেই, সো এই চারদিন তো গ্রুপে যাওয়াই হবে। বুধবার ইউজুয়ালি আমি স্কুলে যাই, সেখান থেকে আগারগাও-তে ভায়োলিন ক্লাসে যাই, তারপর আবার সেখান থেকে গ্রুপে যাই, তারপর রাতে আবার সেই মিরপুরেই ফিরে আসি!তো, একান্তই জরুরি না হলে বুধবার গ্রুপে গেলাম না! আবার বৃহস্পতিবারে আমার টিউশনি নাই। স্কুলের পরে কোনো কাজ না থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধানমন্ডি এলাকায় সময় কাটানোর উছিলা বানাতে হয়।এর চেয়ে তো আমি বৃহস্পতিবারেও স্কুল শেষে বাসায় ফিরে আসতে পারি! আর থাকে শুক্রবার। এই দিনটা যেহেতু সারাদিন বাসাতেই থাকা হয় ইউজুয়ালি, সন্ধ্যায় গ্রুপে যাওয়াই যায়। শনিবার স্কুল বন্ধ থাকে, তাই দুপুর পর্যন্ত অন্তত সময় পাওয়া যাবে। এখন, এই বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র আর শনিবার যতটুকু সময় পাচ্ছি, সেই সময়টুকুতে যদি রবার্ট অ্যাডামস-এর বইটার অনুবাদের কাজ কিংবা স্কুলের ওয়ার্কশিট বানানো, সারা সপ্তাহের ক্লাস লেকচারের জন্য প্রস্তুতি এইসব নিয়ে সময় কাটাই, তাহলে আমার সবগুলো কাজই একটা সিস্টেমেটিক রুটিনের মধ্যে আসে!

কিন্তু, যতই এইসব প্ল্যান করি না কেন, সেটা কি আর ঠিকমতো মেইন্টেইন হয়? এই যেমন আজকে! বিকালে স্কুলে মিলাদ ছিলো বলে সন্ধ্যায় টিউশনিতে গেলাম। মনে মনে একদম ডিটারমাইন্ড যে টিউশনি শেষ করে ৮টা/সাড়ে ৮টার দিকে যখন বের হবো, তখন সরাসরি বাসায় যাবো, রেস্ট নেবো, তারপর অনুবাদের কাজটা নিয়ে বসবো। সেকন্ড চ্যাপ্টারের অনুবাদ হাতে লিখে লিখে অনেকটাই এগিয়েছি। ওইটুকু টাইপ করে ফেললে সাথে সাথে একরকমের এডিটও হয়ে যেতো। জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে প্রথম দুইটা চ্যাপ্টার একদম ফাইনালি দেখে-শুনে মন থেকে মোটামুটি ‘সন্তোষজনক’ হিসেবে সাড়া পেলে মুনির ভাইয়ের কাছে মেইল করে দেবো, এরকমটাই ভেবে রেখেছি। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করার জন্য এটার পেছনে সময় তো দিতে হবে! যাই হোক, সোবহানবাগ থেকে বের হয়েই দেখি সাতাশ নাম্বারের রাস্তাটায় ব্যাপক জ্যাম। সেই জ্যাম যে বানিজ্য মেলা পর্যন্ত গড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য। মুহুর্তের সিদ্ধান্তে বাড়ি ফেরার প্ল্যান বদলে ফেলে সোজা গ্রুপে গিয়ে হাজির হলাম! রাত তখন বাজে ৯টা!

তবে, আজকে আমার দিনযাপন লিখতে বসার তাগিদ থাকলেও মাথায় চিন্তাগুলো খাপছাড়া! আজকে এই করেছি, ওই করেছি টাইপের কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না। গতকালকে দিনযাপন লিখি নাই … আজকেও লিখতে বসবো কি না সেটা নিয়ে একটু ভেবেছি … তারপর ঠিক করেছি যে লিখবো … খাপছাড়া চিন্তা মাথায় ঘুর ঘুর করলেও সেগুলো নিয়েই প্রয়োজনে লিখবো!

অ্যাকচুয়ালি, আজকে আমার মনটাই কেমন জানি বিক্ষিপ্ত! কোনো নির্দিষ্ট কারণ নাই, তারপরও বিক্ষিপ্ত! এটাকে ঠিক মন খারাপও বলা যায় না। মানে … কেমন জানি !

সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে ফেসবুক গুতানো শুরু করেই দেখলাম যে ঈগলস ব্যান্ডের ফাউন্ডার গ্লেন ফ্রে মারা গেছে। সাথে ঈগলস সংক্রান্ত যাবতীয় অভিজ্ঞতার স্মৃতি মাথার মধ্যে ঘুরঘুর করতে শুরু করলো। হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া … লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ … টাকিলা সানরাইজ … স্কুলে বছর শেষের কালচারাল প্রোগ্রামে একবার ‘লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ’ গানটা করার চিন্তা-ভাবনা হয়েছিলো। স্কুলের জুনিয়র তিনজন, ফারিহা, নিটোল আর আরেকজন কে নাম ভুলে গেছি, আর আমি – এই চারজন মিলে বেশ কয়েকদিন গানটা প্র্যাকটিস-ও করেছিলাম … পরে কি কারণে জানি আর গানটা হয় নাই … আর হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া’র কথা আর কি বলবো! যতই শুনি, কখনোই পুরানো হয় না টাইপের একটা গান! ‘ইউ ক্যান চেক আউট অ্যানিটাইম, বাট ইউ ক্যান নেভার লিভ!’ … গানটার পুরা কথাবার্তাই ক্যামন সুরিয়ালিস্টিক!

এদিকে দুঃখ-কষ্ট সংক্রান্ত বিষয়আশয় নিয়েও মাথার মধ্যে ব্যাপক চিন্তার ঘুরপাক! আশেপাশে কতরকমের দুঃখ-কষ্ট! কেউ মুখ ফুটে বলতে পারে, কেউ পারে না। আমিও পারি না। অন্তত দিনযাপনে আমি যতটা সরব, মানুষের মুখোমুখি তার চাইতেও অনেক বেশি নীরব … একটা সময় এতই নীরব থেকেছি যে এখন অন্তত একটা মাধ্যম বেছে নিয়ে সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার দিচ্ছি! এই যে একটু আগেই ফেসবুকে গতবছরের একটা পোস্ট শেয়ার দিলাম। লিখেছিলাম – “ একদিন চিৎকার হবে, মনের সব বিষঝাড়া চিৎকার …” … আবার সেটা শেয়ার দিতে গিয়ে আজকে নতুন করে লিখলাম – “হ্যাঁ … চিৎকার দিচ্ছি আমি … মনের সব বিষ ঝেড়েই চিৎকার দিচ্ছি … তাতে অনেকেরই কানে তালা লাগছে … মুখেও কুলুপ আঁটছে … নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে আমার ছায়ারও আশ-পাশ থেকে … তাতে আমার কিন্তু লাভই হচ্ছে … চিৎকারের অনুরনন আরো জায়গা নিয়ে ছড়াচ্ছে … চিৎকার চলছে … চলুক … প্রচণ্ড চিৎকারের অনুরননে সবকিছু ভেঙ্গে যাক … সেই ভগ্নাবশেষ-এর মধ্যে যেটুকু টিকে থাকবে, সেটুকুই আমার সই … সেটুকু নিয়েই চলবে আমার আত্মশুদ্ধির নিরন্তর যাত্রা …”

ধুর! … আজকে লিখতে ভালো লাগছে না … দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s