দিনযাপন । ২১০১২০১৬

কালকের দিনের গল্প কালকেই একেবারে ওভেন ফ্রেশ লিখতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু, কালকে আসলে ইচ্ছা করেই ল্যাপটপ বের করে বসিনাই। কারণ, গত পরশুদিন রাতে আমাদের বাসায় আবারো চোর বাবাজি উঁকি মেরেছিলো! আজকে বিকালে জানতে পেরেছি যে চোর পরশু রাতে আমাদের পেছনের দিকে যে পাঁচ তলা বাড়িটা আছে, সেখান থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল এই জাতীয় কিছু চুরি করেছে। আর সেই সূত্রেই আমাদের বাসারও উত্তরসাইডের পশ্চিমমুখী জানালায় উঁকি মেরে গেছে। কিন্তু চোরকে ব্যর্থ মনোরথেই ফিরতে হয়েছে কারণ ওইদিকের জানালার পাশে নেয়ার মতো কিছুই নাই। সকালে ঘুম থেকে উঠে মা দেখতে পেয়েছে যে পর্দা কিছুটা সরানো আর জানালাটা অল্প খোলা। আর জানালার পাশে একটা শেলফে দুই-তিনটা প্লাস্টিকের ঝুড়ি আছে, সেগুলোর কোনোটাতে কিছু টুকরা কাপড় ছিল, আর সেই টুকরা কাপড়গুলো এক-দুইটা মাটিতে ছড়ানো। তাতে করে বোঝা গেছে যে চোর একটু হাতিয়ে দেখেছে কিছু আছে কি না!

তো, গতকালকে সকালে বের হবার সময় ল্যাপটপটা আব্বুর ঘরের আলমারিতে রেখে দিয়েছিলাম। কালকে আর বেরই করি নাই! এমন যদি হতো যে চোর গতকালকে আবার দক্ষিণমুখী ঘরগুলাতে উঁকি মেরেছে! এই জন্য ল্যাপটপ নিয়ে কালকে আর বসিই নাই।

কালকে আবার দিনটাও কেমন আউলা-ঝাউলা টাইপের গেছে! সকালবেলা স্কুলে গেলাম ইউজুয়্যাল ওয়েদারে, আর দুপুর নাগাদ স্কুল শেষ করে বের হতে না হতেই কেমন একটা অদ্ভুত আবহাওয়া তৈরি হলো। হুট করেই যেন ঠাণ্ডা জেঁকে বসেছে, এমন একটা অবস্থা। এদিকে, গতকালকে শরীফ ভাইয়ের গায়ে হলুদের প্রোগ্রাম ছিলো। উনার আমিনবাজারের বাসাতেই প্রোগ্রাম হয়েছে। এদিকে, একটা বড় দল ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’র শো-এর জন্য বরিশালে থাকার কারণে কে প্রোগ্রামে যাচ্ছে, কে যাচ্ছে না সেটা নিয়ে একটা কনফিউশন ছিলো। এইটুকু শিওর ছিলাম যে ‘সর্বনাম’ টিম যাবে, কারণ তারা ওই প্রোগ্রামে গান করবে। কিন্তু তাই বলে এখন তো আমি সর্বনামের ওদের সাথে নিজে গরজ দেখায় ট্যাগড হতে পারি না! এমনিতেই নোবেল ভাই এখন তাকে নিয়ে দিনযাপনে কখন কি বলে ফেলি, লিখে ফেলি সেই কারণে বেশ রিজার্ভড থাকে! তো, আমার কি আর এখন তাকে বলা সাজে যে ‘আমাকেও নিয়ে যাইয়েন আপনাদের সাথে!’ … আনলেস, উনি নিজে ইনভাইট না করে! … তো যাই হোক, রানা ঢাকায় থাকলে হয়তো ওর উদ্যোগে গ্রুপ থেকে একটা আমিনবাজারগামী দল তৈরি হতো, আর তখন সেখানে নিশ্চিন্তে ইনক্লুড হয়ে যাওয়া যেতো। পরশুদিন এরকম একটা প্ল্যান হয়েছিলো যে রিতা’র বাসার দিকে যাবো আমি আর নায়ীমী, তারপর সেখান থেকে আমরা আমিনবাজার যাবো। কিন্তু রিতার বাসা থেকে আদৌ কীভাবে যাওয়া হবে, সেটার কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যান ছিলো না। তো, কালকে স্কুলে গিয়ে নায়ীমীর সাথে কথা বলে ঠিক করলাম যে আমার বাসাতেই যদি সবাই চলে আসি, তাহলে এখান থেকে তো আমিনবাজার যাওয়া সহজ। সিএনজি-তে গেলে ২০ মিনিট থেকে আধাঘণ্টা লাগবে।রিতাকে সেটা জানানোর পর রিতা বললো যে রিপাও সাথে যাবে, আর ওর ক্লাস শেষ হতে হতে পৌনে চারটা, সো ওরা দুইজন রেডি হয়ে বের হয়ে আমাদের সাথে মিরপুরের দিকে মিট করবে। আমি আর নায়ীমী বাসায় এসে খাওয়াদাওয়া করে একটু ফ্রেশ হয়ে রেডি হতে যাই যাই করছি, এমন সময় নামলো বৃষ্টি! বৃষ্টির কারণে রিতা আর রিপা ওদের যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল করলো। আমারও বৃষ্টি দেখেই বের হওয়ার ব্যাপারে মন উঠে গেলো। একে তো রাস্তাঘাটের সব শুকনা বালিগুলা কাদা কাদা হয়ে থাকবে, তারপর শীত বাড়বে, আর সবচেয়ে বড় কথা এখন হয়তো সিএনজি-ই পাবো না! এদিকে আমার আর নায়ীমী’র দুইজনেরই একই কনফিউশন যে বাসায় ফিরবো কীভাবে! দুইজনেরই পরদিন স্কুল। আমি না হয় সকাল ১০টার পরে যাই, নায়ীমী’র তো ৮টা থেকে স্কুল। সো, এমনও সম্ভব না যে আমার বাসায় চলে আসবে, আর এখান থেকে সকালে স্কুলে যাবে। ফলে, এই প্ল্যানও করা যাচ্ছিলো না যে যেহেতু আমার বাসা কাছে, ও চাইলে আমার বাসাতেও চলে আসতে পারবে। বৃষ্টি যেন এইসব ইতস্তততাকে আরো বাড়িয়ে দিলো! আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে যাবো না! আর নায়ীমী যদি একান্তই যেতে চায়, তাহলে হয়তো যাবো, কিন্তু শাড়ি-টাড়ি আর পড়বো না। এই বৃষ্টির মধ্যে কি আর সাজগোজ করে যাওয়া সম্ভব? গাড়ি থাকলে না হয় এক কথা ছিলো!

তো, যাই হোক, শরীফ ভাইকে ফোন করে গতকাল বিকালে ঠিকানা পর্যন্ত নিলাম, বললাম যে যাচ্ছি, তারপর ওই বেরসিক বৃষ্টির জন্য আর যাওয়া হলো না। ভদ্রতা করে আমার হয়তো শরীফ ভাইকে একটা এসএমএস হলেও করা উচিৎ ছিলো যে বৃষ্টির জন্য যেতে পারছি না। কিন্তু এইসব সোশ্যাল নর্ম-এর প্র্যাক্টিসের ক্ষেত্রে আমি বরাবরই ‘আনসোশ্যাল’। এমন না যে আমি ইচ্ছা করে এইসব আনসোশ্যাল অ্যাটিচুড করি, আমার আসলে মাথাতেই কাজ করে না যে এরকম কিছু করা যেতে পারে! এমন একটা সময় হয়তো সেই জিনিসটা মাথায় আসে যখন অলরেডি একটা বেমানান সময়! আগামীকালকে হোপফুলি বৌভাতের প্রোগ্রামে যাবো, যদি না আগামীকালকেও আচমকা কোনো ‘কপাল খারাবি’ ঘটনা না ঘটে!

গতকালকে রিতাকে ফোন করা নিয়ে আরেক কাহিনি! স্কুল থেকে বের হয়ে রিতার সাথে প্ল্যানের আপডেট নিয়ে কথা বলার জন্য ফোন দেবো – দেখা গেলো আমার বা নায়ীমী’র কারো কাছেই রিতার নাম্বার নাই! আমার কাছে বাসায় ল্যাপটপে একটা ফোন নাম্বারের লিস্টে রিতার নাম্বার আছে, কিন্তু আমি ভেবেছি নায়ীমী’র কাছে নিশ্চয়ই আছে, তাই আমি আর সকালে বের হবার সময় সেই লিস্ট দেখে নাম্বার সেভ করে নেই নাই। তো, এখন নাম্বার পাওয়া যাবে কোথায়? রানার কাছে অ্যাটলিস্ট সবার নাম্বার পাওয়া যায়। কিন্তু রানা যেহেতু বরিশাল, তাই ওকে ফোন করে নাম্বার চাওয়াটা ফার্স্ট অপশনে রাখলাম না। এদিকে রিতার ব্যাচের আর কারো নাম্বারও আমার বা নায়ীমী’র কাছে নাই। একটু ভেবেচিন্তে গোপীকে ফোন করা হলো। রিতাদের ব্যাচের সাথে ওর বেশ ভালো বন্ধুত্ব আছে, সুতরাং ওর কাছে নাম্বার থাকতে পারে! কিন্তু দেখা গেলো ওর কাছে রিতার নাম্বার নাই। তখন ওর কাছ থেকে রিপা’র নাম্বার চাওয়া হলো! রিপা-কে ফোন করে যদি রিতার নাম্বার পাওয়া যায়! এদিকে গোপীর নাম্বার পাঠাতে দেরি হচ্ছে, আমরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি! অগত্যা রানাকেই ফোন করা হলো। ও-ও তখন কি জানি দৌড়াদৌড়ির মধ্যে, তাও বললো পাঠাচ্ছে। একটা নাম্বারের জন্য এত লেয়ারের যোগাযোগ করতে হচ্ছে! তাও আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে! আমি শেষমেশ ফেসবুক থেকে ইভনের নাম্বার বের করে ওকে ফোন দিলাম। এবার নাম্বার একবারেই পাওয়া গেলো! আর ইভনকে ফোন করতে করতে এর মধ্যেই গোপীও রিপা’র নাম্বার পাঠালো, রানা-ও রিতা’র নাম্বার পাঠালো! … আমি একা থাকলে হয়তো অধৈর্য্য হয়ে বাসাতেই চলে যেতাম, আর তারপর রিতার নাম্বার বের করে ওকে ফোন করতাম!

যাই হোক, আজকে আমি নিজের টাইম ডিস্ট্রিবিউশনের রুটিন মেনে স্কুলের পরে বাসায় চলে এসেছি। সন্ধ্যায় টিউশনিতে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সেটা ক্যান্সেল হয়ে গেলো। ফলে বাসায় আসার সিদ্ধান্তটা সহজ হয়ে গেলো। সন্ধ্যায় আবার নিজের রুটিন ফলো করতে পারার আনন্দে টিয়ামের বাসায় ঘুরেও আসলাম। এই সপ্তাহে তো একদিনও যাওয়া হয়নি!

আর কি লিখবো? দিনযাপন এখানেই শেষ করি না হয়!

বাই দ্য ওয়ে, বাসায় একটা নতুন ওয়্যারড্রোব এসেছে। কিন্তু সেটাকে ‘উপদ্রব’-ও বলা যেতে পারে! এবং এই ওয়্যারড্রোব-এর উপদ্রব বনে যাওয়ার পেছনে মহান অবদান আমার হিসাবের ভুল। মাপ নিয়েছিলাম লম্বায় ৬ ফিট আর পাশে দেড় ফিট। এখন, ইঞ্চি টেপ-এ মাপতে গিয়ে ১৮ ইঞ্চি দেখে কীভাবে কীভাবে মাথায় ঢুকেছে ৩ গুন ৬ সমান ১৮, আর তারপর কোথা থেকে ব্রেইন কোডিং করে নিয়েছে আলমারির মাপ হবে ৩ ফিট বাই ৬ ফিট! যখন ডিজাইন আঁকলাম, তখনও ৩ ফিট লিখলাম, যখন অর্ডার দিলাম তখনও ৩ ফিট লিখেই অর্ডার দিলাম, অথচ ভিজ্যুয়ালি কিন্তু আমি দেড় ফিট-ই দেখছি! অর্ডার হয়ে যাওয়ার দুই দিন পর হঠাৎ সম্বিৎ ফেরার মতো করে আমার মাথায় ঢুকলো যে আমি কি আকাম-টা করেছি! তখন আর অর্ডার চেঞ্জ করাও সম্ভব হয় নাই এবং এখন ৩ ফিট বাই ৬ ফিটের বিশাল একটা আলমারি আমার ঘরের সমস্ত ইন্টেরিওর ভাবনাকে উল্টা-পাল্টা করে ঘর দখল করে আছে!

যাই হোক, শেষ করছি। প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে। মগজ রান্না করেছে মা। মগজ ভুনা দিয়ে গরম গরম ভাত খেয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে ‘দস্যি ক’জন’ পড়তে পড়তে ঘুম দেবো। কালকে মহান ‘লাল শুক্রবার’! অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম ভাঙ্গার দিন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s