দিনযাপন । ০৫০২২০১৬

এখন মনে হচ্ছে দিনযাপন লিখবার জন্যও আলাদা রুটিন করতে হবে। না হলে হয়তো দিনযাপন লেখায় ভাটা পড়তে পড়তে শেষে আর লেখাই হবে না। গত একটা মাস যাবৎ রুটিনটা আর গুছিয়ে আনতে পারছি না। এমনিতেও রাতে বাসায় ফিরতাম দেরিতে, তারপর ক্লান্ত হয়ে আর লিখতে বসা হতো না … আর যেটুকু সময় ফ্রি পেতাম, অনুবাদের কাজ নিয়েই বসতাম। ফেব্রুয়ারি মাসেও ইনফ্যাক্ট অনুবাদের কাজটাতেই সবচেয়ে বেশি সময় দেবো। ফলে,স্কুল, টিউশনি, গ্রুপ সবকিছুর সাথে অনুবাদের কাজের টাইমিং-টা মার্জ করতে গিয়ে আর দিনযাপন লেখার জন্য সময় বের হয় না।

আশা করছি সামনের কয়েকটা দিন এরকম গেলেও আস্তে আস্তে আবারো ট্র্যাকে চলে আসবো। আর শীতের শেষের সময়টাও জানি কেমন! পুরোটা শীতকাল সাবধানে সাবধানে থেকেছি যাতে ঠাণ্ডা না লাগে। এখন মনে হচ্ছে শেষ সময়ে এসে তীরে এসে তরীটা ডুববে!গত পরশু রাত থেকে কেমন জানি মাথা ভার হয়ে আছে, টেম্পেরেচারও মনে হয় ফ্ল্যাকচুয়েট করছে। আজকে সেকারণে আর বাসা থেকে বের হলাম না। মাঝখানে একবার খালি টিয়ামের বাসায় গেলাম। টিয়াম ১১ নাম্বার বাজারে যাবে লেস আর ওড়না কিনতে, আমারও দুই-তিনটা ওড়না কেনা দরকার ছিলো, সেকারণে আমিও সাথে গেলাম। সেখান থেকে ঘুরে-টুরে প্রিন্স বাজার হয়ে আবার টিয়ামের বাসায় গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে বাসায় চলে আসলাম। সারাদিনের মাথা ভার লাগার ব্যাপারটা আরো বেশি ভর করলো বাসায় ফেরার পর। অনুবাদের কাজটা নিয়ে বসলাম, ভাবলাম যে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাজ করলে অনেকটা কাজ আগাবে। কিসের কি! ঘুমে এখন আমার দুনিয়া ভেঙ্গে আসছে। আজকে দিনযাপন লিখবোই বলে পণ করেছি, সেকারণে ঘুমের চোখে হলেও দিনযাপন লিখছি …

এই মুহুর্তে আমার যাবতীয় রুটিনের মধ্যে সবচেয়ে অনিয়মিতভাবে চলছে গ্রুপে যাওয়া। এমনিতেই তো এখন খোয়াবনামা’র কাজটা না থাকলে হয়তো পারতপক্ষে গ্রুপে যেতামও না, এদিকে খোয়াবনামা’র কাজটাও ঠিকমতো হচ্ছে না! ২১ তারিখে একটা প্রেজেন্টেশনের প্ল্যান করে হয়েছে, কিন্তু সেটার জন্য যে আমাদের ফ্লোরে দাঁড়ানোর কথা, সেটারই সময় পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে বনমানুষের শো গেলো ২ তারিখে, এখন আবার গত দুইদিন ধরে পুতুলমানব-এর রিহার্সাল চলছে! আজকে শো হয়েছে একটা, কালকেও আছে … রানা প্লাজা’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটক বলে ইদানীং এটার অনেক শো-ই হয়। কিন্তু যখনই শো হয়, তখনই এইটার এমন ফুল ফ্লেজেড রিহার্সাল হয় যে গ্রুপে আর কোনো কাজ হবার উপায় থাকে না। [ভাগ্যিস আমি এই নাটকের সাথে নাই, নইলে তো সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রিহার্সাল করার ধৈর্য্য আমার পারতপক্ষে হতো না! দেখা যেতো মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো, আর বিরক্তির চোটে একটা কিছু বলে বসতাম!] কালকে থেকে হয়তো কাজ করা যাবে। ১০/১১ তারিখের পর আবার কয়েকদিন ব্রেক যাবে গর্তের রিহার্সাল, পহেলা ফাল্গুন, ভ্যালেন্টাইনস ডে এসবের ছুতায়!

আমার আবার এর মধ্যে জ্বর না আসলেই হয়! তাইলেই তো ষোলোকলাপূর্ণ হবে! সব কাজ মাথায় উঠে বসে থাকবে!

এমনিতেই তো ফেব্রুয়ারি মাসে অনেক প্রোগ্রাম থাকে। পহেলা ফাল্গুন, একুশে ফেব্রুয়ারি এসব তো আছেই, সেই সাথে হাবিজাবি এটা-সেটা প্রোগ্রাম লেগেই থাকবে। এই তো, আজকেই যেমন ঢাকা আর্ট সামিট শুরু হয়েছে। আবার জাদুঘরে মুসলিন ফেস্টিভ্যালও শুরু হয়েছে। সামনে আবার দুই-তিনটা কন্সার্ট আর শো-তে যাবারও প্ল্যান আছে মনে মনে। এবার আবার পহেলা ফাল্গুন আর সরস্বতী পূজা একই দিনে পড়েছে! সুতরাং ওইদিনটা তো জমজমাট হবেই! … এখন অসুস্থ হওয়া মানে তখনকার জন্য একগাদা কাজের প্রেশার নিয়ে থাকা!

মাঝখানে একদিন স্কুলের কলিগরা মিলে ‘আন্ডারকনস্ট্রাকশন’ সিনেমাটা দেখতে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সেদিন যেহেতু দিনযাপন লেখা হয়নি, তাই সেটা নিয়ে এখন আর লেখার মতো বিশেষ কিছু নেই। এই সিনেমা আমি কিন্তু আগেও একবার দেখে এসেছি, পাবলিক লাইব্রেরিতে। ১৮ জানুয়ারিতে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য আন্ডারকন্সট্রাকশনের একটা ফ্রি শো হয়েছিলো। সেখানে গ্রুপ থেকে  ১০ জন মেয়ের একটা টিম গিয়েছিলাম। ওইখানের অডিয়েন্স রেসপন্স এর সাথে স্কুলের কলিগ গ্রুপটার অডিয়েন্স রেসপন্স কেমন হয় সেটা দেখার একটা উৎসাহ কাজ করছিলো বলেই আবার যাওয়া! যেমন, মিডিয়া এবং থিয়েটার সার্কেলের অনেকেই এই ছবিতে ইমন ভাইয়ের কাজের প্রশংসা করেছেন, কিন্তু আমার কলিগদের কাছে নাকি উনার অ্যাক্টিং ভালোই লাগে নাই! ওইখানে সবাই তো আর জানে না যে ইমন ভাইকে আমি চিনি, কিংবা উনি যেই থিয়েটার গ্রুপে আছেন সেখানে আমিও কাজ করি! ফলে, উনারা একদম মন খুলেই উনাদের রিভিউ দিয়েছেন! এই ব্যাপারটা কিন্তু খুব ইন্টেরেস্টিং! মানে, এই যে একদম জেনেরাল অডিয়েন্স-এর রিভিউ শোনাটা। কারণ, আমরা যখনি কারো অভিনয়, কিংবা কোনো একটা সিনেমা/নাটকের গল্প সম্পর্কে আমাদের রিভিউ দেবো সেখানে অবশ্যই না চাইলেও আমাদের থিয়েটার করার অভিজ্ঞতা, কিংবা সিনেমা,গল্প, অভিনয় এসব সম্পর্কে টেকনিক্যাল ভাবনাগুলো চলেই আসবে! কিন্তু যারা একদমই সাধারণ দর্শক, তারা কিন্তু এত কিছু চিন্তা করে না। যেমন, আন্ডারকন্সট্রাকশনের একটা জায়গায় নায়িকার পার্লারে গিয়ে ওয়াক্সিং করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। আমার এক কলিগের সেটা একদমই ভাল লাগেনি। আমি যখন দেখেছি, তখন আমার মনে হয়েছে যে, নায়িকাকে যেরকম স্বাধীনচেতা দেখানো হয়েছে, এই পার্লারে এসে নিজের পায়ের লোম ছাঁটানোটা সম্পূর্ণই তার বিপরীত। একটা ছেলের পায়ে লোম থাকতে পারে, সে ওই লোমওয়ালা পা নিয়েই হাফ-প্যান্ট পরতে পারে, কিন্তু একটা মেয়ে যদি লোমওয়ালা পা নিয়ে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট-ও পরে, একটা ছেলেই তখন তাকে কথা শোনাবে। এই যে সিনেমায় মেয়েটা অত স্বাধীনচেতা হবার পরও এইসব ক্ষেত্রে মেয়েদের সৌন্দর্য নিয়ে টিপিক্যাল ‘মেইল গেজড’ ডেফিনিশন দ্বারা প্রভাবিত, এখানে ওয়াক্সিং-এর মতো একটা সেনসিটিভ বিউটিফিকেশন ইমেজ দেখিয়ে ডিরেক্টর হয়তো সেটাই পয়েন্ট আউট করেছে। কিন্তু, সেই কলিগ কিন্তু বারবার এটাই বলছিলেন যে ‘ওয়াক্সিং’ দেখাতে হবে কেন? পার্লারে গিয়েছে, এইটুকু দেখানোই তো যথেষ্ট ছিলো! আমার খুব মজা লাগছিলো উনার কথাগুলো শুনতে। উনার কাছে আন্ডারকন্সট্রাকশন ভালো লাগে নাই। আবার এরকম অডিয়েন্সও পেয়েছি যে আন্ডারকন্সট্রাকশনের প্রশংসায় দশমুখ হলেও তার কাছে কম মনে হতো!

আন্ডারকন্সট্রাকশন সিনেমাটার সাথে আমার একটা গল্প আছে। এই সিনেমায় ফটোগ্রাফি করার জন্য ডিরেক্টর রুবাইয়াত একজন মেয়ে ফটোগ্রাফার খুঁজছিলো। এই সিনেমায় টেকনিক্যাল ক্রু সবাই মেয়ে, সো স্বাভাবিকভাবেই ফটোগ্রাফারও মেয়েই চাইছিলো। তো, শামীম ভাইরা এইটার প্রডাকশনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। তিনিই আমার সাথে কন্টাক্ট করেছিলেন যে আমি এই সিনেমার ফটোগ্রাফির কাজ করতে আগ্রহী কি না। কথাবার্তা ভালোই আগাচ্ছিল, টাকাপয়সা হাবিজাবি এইগুলা নিয়েও কোনো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু সমস্যা বাধলো সময় নিয়ে। টানা ৪৫ দিন ওদের ইউনিটের সাথে ক্যাম্পিং করে থাকতে হবে গুলশান না বনানীর শ্যুটিং স্পটটায়! আর তখন আমি সানিডেইলে চাকরি করি। ওই সময় স্কুলের কোনো ছুটিও নাই, আর টানা ৪৫ দিন ছুটি নেয়ার তো কোনো উপায়ই নেই! সো, প্রায় লাস্ট মোমেন্টে এসে না করে দিতে বাধ্য হলাম! পরে পৃথ্বী আপু ওই কাজটা করেছিলো।

অনেক লিখে ফেললাম। আজকের মতো শেষ করি। …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s