দিনযাপন । ০৬০২২০১৬

আজকে মোটামুটি একটা প্ল্যান বানচাল-এর দিন গেলো!

গতকালকে রাতে হাল্কা-পাতলা ভেবে রাখলাম যে সকালে ঘুম থেকে উঠে ১২টার দিকে বের হয়ে শিল্পকলা অ্যাকাডেমি যাবো, সেখানে ঢাকা আর্ট সামিট-এর এক্সিবিশন, পারফর্মেন্স এইসব এক ঝলক দেখে, পরিচিতদের সাথে হাই-হ্যালো করে তারপর টিউশনিতে চলে যাবো। কিন্তু সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই এমন আলসেমি লাগতে শুরু করলো যে বের হওয়ার আর ইচ্ছাই হলো না। তারপর ভাবলাম সন্ধ্যায় আহসান মঞ্জিল যাওয়া যায়, ওখানে মুসলিন ফেস্টিভ্যাল-এর পার্ট হিসেবে সাধনা’র নাচের প্রোগ্রাম আছে। নায়ীমীর সাথে আলাপ করছিলাম যে ও যাবে কি না। পরে জানলাম যে আজকের ‘পুতুলমানবের’ শো দুপুরে হবে, সো খোয়াবনামা’র সবাই তো সন্ধ্যায় ফ্রি-ই হয়ে যাবে। সো, রিহার্সাল বাদ দিয়ে আর যাই কিভাবে? সো, ওই প্ল্যানও বাদ! এদিকে আজকেই আবার টিএসসি-তে চা-শ্রমিকদের ধানের জমি কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে কি প্রোগ্রাম ছিলো, সেখানে আবার সর্বনাম গান করবে।তো, সেটায় যাওয়ার প্ল্যান করলাম। সন্ধ্যায় গান করার কথা সর্বনামের। ভাবলাম যে গ্রুপে যাওয়ার আগে টিএসসি-তে নাহয় একটা ঘুরান দিয়ে আসাই যাবে! তো, দুপুরে বের হয়ে টিউশনি-তে গেলাম। সেখান থেকে টিএসসি রওয়ানা দিয়ে হাতিরপুল বাজারের কাছে গিয়ে নোবেল ভাইকে ফোন করে শুনি যে তারা তখনো যায়ই নাই! আর পারফরমেন্স-এরও নাকি অনেক দেরি, তাও আবার হয়তো ১/২ টা গান করবে। তো, আমি ভাবলাম যে পারফর্মেন্স যখন এত দেরিই হবে, তাহলে গ্রুপেই চলে যাই, অন্তত খোয়াবনামা’র রিহার্সালটা হোক। গ্রুপে গিয়ে দেখি নায়ীমী ছাড়া আর কেউ নাই! আর পুতুলমানবের পারফর্মেন্স-ই নাকি তখনো শুরু হয়নাই! পরে আমি আর নায়ীমী দুইজনই দুঃখ করলাম যে এরকম জানলে তো আমরা সাধনা’র প্রোগ্রামে যেতেই পারতাম! দেখা যেতো পুতুলমানবের শো শেষ করে সবাই আসতে আসতে আমরাও হয়তো সাধনা’র প্রোগ্রাম দেখে চলে এসেছি! আমি এটাও দুঃখ করলাম যে আগে জানলে শিল্পকলাতেও তো আর্ট সামিট ঘুরে আসতে পারতাম! পরে গ্রুপে একা একা বসে বসে আর কি করবো? আমি আর নায়ীমী এলিফ্যান্ট রোডে জুতার দোকানে ঘুরতে বের হলাম। দু’জনেরই জুতা কেনা দরকার, তাই এই ফাঁকে ঘুরে নেয়ার চিন্তা। বেশিক্ষণ অবশ্য ঘোরার সুযোগ হলো না। সজীব ফোন করে জানালো যে ও গ্রুপে আছে, এদিকে পুতুলমানবের পারফর্মেন্স-ও শুরু হয়েছে। পরে খালি দুইটা দোকান ঘুরে দুইজন দুইটা জুতা কিনে গ্রুপে ফেরত গেলাম। তাও ভালো যে ৮টার মধ্যে পুতুলমানবের সবাই চলে আসলো। পরে সাড়ে ৮টা থেকে ঘন্টাখানেক কাজ করা গেলো। যাক! অত কষ্ট করে গ্রুপে যাওয়াটা অন্তত নিরর্থক হলোনা!

এখন কেন জানি আর কাজ না থাকলে গ্রুপে যেতে ভালো লাগে না। আগে যেমন কিছু হোক আর না হোক, গ্রুপে গিয়ে আড্ডা দিলেও মনে হতো অনেককিছু শিখলাম। আর এখন গ্রুপে যেসব আড্ডা হয় সেগুলোতে থাকলে নিজেরই অস্বস্তি লাগে! একজন আরেকজনকে কথায় কথায় হিউমিলিয়েটিং মন্তব্য করাটাই নাকি ফান! কি আজিব! প্রডাক্টিভ কোনো কথাবার্তা নাই কারো! আর যদি বা শুরুও হয়, সেটা আবার গড়ায় কে কার পাছা মারলো সেই আলোচনায়! এত এত কমপ্লেক্স সবার! কমপ্লেক্সের চোটে কেউ ভালোভাবে কথাই বলতে পারে না! ওই আড্ডায় থাকার চেয়ে বাড়িতে বসে বই পড়া, সিনেমা দেখাও অনেক ভালো! তাতেও কিছু শেখা যায়! গ্রুপে প্রডাকশন রিলেটেড কাজ হলেও তবু কিছু দেখার থাকে, শেখার থাকে। যেমনটা ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নামার সময় হয়েছে, তার আগে মায়ের মুখ, পুনর্জন্ম এগুলা নামার সময় হয়েছে। খোয়াবনামা যদি সিরিয়াস গতিতে শুরু হয়, তখন হয়তো সেখান থেকে অনেক কিছু শেখার স্কোপ তৈরি হবে। অবশ্য … সেটা কবে হবে সেটাও ভাববার বিষয়! আগে তো শুরু হোক কাজ … গাছে কাঁঠাল না ধরতেই গোঁফে তেল দিয়ে লাভটা কি?

IMG_5148_1

দিন-তারিখের হিসাবে এই ৬ ফেব্রুয়ারি দিনটা একটা সিগ্নিফিকেন্ট দিন। আরো স্পষ্ট করে বললে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ে অনেককিছু লেখা যেতে পারে এখনই। কিন্তু সে প্রসঙ্গে কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না আসলে! সোহেল সংক্রান্ত কাহিনী যা লিখেছি দিনযাপনে, এর চেয়ে বেশি আর কিছু লিখতে গেলে সেটা এখন বাহুল্য হয়ে যাবে। এই তো, কয়েকদিন আগেই মুগ্ধ’র বিয়ের ডেটলাইনগুলো গেছে। সেসময়কার অনেক গল্পই লেখা যেতো। সোহেলকে নিয়ে … মুগ্ধকে নিয়ে … কিন্তু সেগুলো লেখার ইচ্ছা হলো না। কারণ সেগুলার তো কোনো প্রসঙ্গ নাই, শুধু শুধু সেগুলো লিখতে গেলে নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে। কোনো একটা ঘটনার কনট্যাক্স থাকতে হবে তো! আর এখন একমাত্র সোহেলের মৃত্যুসংবাদ শোনা ছাড়া অর ব্যাপারে আমার তো আর কিছু ভাবনা নাই। মাঝে মাঝেই ভাবি যে এরকম যদি হতো যে একদিন সকালে খুব আয়েশ করে চা খাওয়ার মুহুর্তে ফোনে বা এসএমএস-এ জানলাম যে সোহেল মারা গেছে, আর আমি ‘ও তাই? ভালো হয়েছে! আপদ বিদায় হয়েছে!’ বলে বেশ আয়েশ করে চায়ের কাপে চুমুক দিলাম … সিনেমা হলে হয়তো ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ টাইপ কোনো একটা গান বাজতো! … হতে পারে, চিন্তাটা খুবই স্যাডিস্ট! বাট আই লাভ বিয়িং স্যাডিস্ট অ্যাবাউট সাচ আ বাইনচোত টাইপ অভ পারসন!

যাই হোক, কালকে সকাল সকাল উঠতে হবে … স্কুলে কালকে অনেক কাজ …

সুতরাং, ঘুমিয়ে যাওয়াটাই ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s