দিনযাপন । ০৮০২২০১৬

আজকে ঢাকা আর্ট সামিট-এ গিয়েছিলাম। প্রথম ইম্প্রেশনই হলো – ‘এ কই এসে পড়লাম?’ আর যখন এক্সিবিশন মোটামুটি পুরোটা দেখে বের হলাম, তখন ইম্প্রেশন হলো – ‘ কি দেখলাম?’ … মডার্ন আর্ট মানেই যদি হয় যে দর্শক দেখবে, কিন্তু কিছুই বুঝবে না, তাহলে সেটা কি আসলে আর্ট হিসেবে সফল? আর্ট যদি এতই অ্যাবস্ট্রাক্ট হয় যে সেটার কনটেক্সট-ই বোঝা যায় না, তাহলে সেটা আসলে কেমন আর্ট হলো? অনেকগুলা গ্যালারি স্পেসেই আমরা গেলাম, দেখলাম, তারপর ‘ বিষয়টা আসলে কি ছিলো?’ চিন্তা করে চলে আসলাম!

যেমন, একটা রুমে ঢুকলাম। সেখানে ফোমকে বিভিন্ন কৌণিক মাপে কেটে কেটে সারা ঘরময় বসিয়ে সাউন্ড প্রজেকশনের জন্য একধরণের স্পেস তৈরি করা হয়েছে আর ফ্লোরে ধাতব বেড়াজাল বসিয়ে তার নিচে অনেকগুলো স্পিকার বসিয়ে একধরণের ফ্রিকোয়েন্সি তৈরি করা হয়েছে, যেটা আবার ঘরের কোণভেদে ডিফেরেন্ট হয়। ভালো কথা! আমরা গিয়ে দাঁড়ালাম, আসলে এইখানে কি হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করলাম। ভলান্টিয়ার মেয়েটা বললো সবাইকে মাঝখানে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়ালাম। লাইট অফ হলো। তারপর আস্তে আস্তে লাইটের ব্রাইটনেস বাড়তে লাগলো। তারপর আবার লাইট অফ হয়ে গেলো। ভলান্টিয়ার মেয়েটা বললো, ‘সবাইকে ধন্যবাদ’! … এই আর্টের মাথামুণ্ডু কি বুঝবে অডিয়েন্স?

তারপর আরেকটা স্পেসে একটা বাচ্চা মেয়ে ক্রমাগত ম্যানিকিনের মতো হাত নেড়ে বলেই চলেছে ‘ আই লাভ আর্ট … আই অ্যাম অ্যান আর্টিস্ট … ডু ইউ ওয়ান্ট টু আস্ক মি অ্যানি কোয়েশ্চেন?’ ইত্যাদি ইত্যাদি … এইটাও আর্ট!

এইরকম অনেককিছুই ধরে ধরে বলা যায় … আমি আর্টের বোদ্ধা না … কিন্তু আর্ট হিষ্ট্রি এবং কন্টেম্পরারি আর্ট সম্পর্কে মিনিমাম একটা বেসিক ধারণা আছে, আর্টের ফর্ম আর ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কেও একটা ধারণা আছে … সেই আমারই মাথার ওপর দিয়ে অনেক কিছু গেছে … অনেক কাজ দেখে মনে হয়েছে – এইটা যদি আর্ট হয়, তাইলে তো আমিও এর চাইতে ভালো আইডিয়া হোল্ড করি! …

সবমিলিয়েই আসলে ক্যামন জানি খাপছাড়া লাগলো সবকিছু! অনেককিছুই আবার অতিরঞ্জিত মনে হলো। মানে, অ্যারেঞ্জমেন্ট যত, কাজটা ততটা আহামরি মনে হলো না। আর সবকিছুতেই ক্যামন একটা এলিট এলিট গন্ধ! অ্যাজ ইফ, আর্ট ইজ অনলি ফর এলিটস! মানে, এলিটরাই আর্ট করবে, এলিটরাই আর্ট বুঝবে, এলিটরাই আর্ট প্রমোট করবে … মাঝখানে জেনারেল অডিয়েন্স বলতে যারা আছে তারা খালি আর্ট দেখবে আর মাথা চুল্কাবে যে ‘ঘটনাটা আসলে কি?’ …

ইন্টেরেস্টিংলি, এইবারের আর্ট সামিটে আমার একটা ভিআইপি পাস ছিলো। গত বছর যে নিখিল চোপড়ার সাথে একটা পারফর্মেন্স আর্ট-এর ওয়ার্কশপ করলাম, সামদানী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে, সেটার পারটিসিপেটর হবার সুবাদেই হয়তো এই কার্ড ইস্যু হয়েছে আমার নামে। কিন্তু, সেই কার্ড আমার নেয়া হয়নাই। মাসখানেক আগে এক মেয়ে ফোন করে বলেছিলো যে ‘ আপু আপনার নামে একটা ভিআইপি কার্ড আছে, এই সপ্তাহের মধ্যে কালেক্ট করে নেবেন, কারণ তারপর সবাই বিজি হয়ে যাবে, তখন আর ওই কার্ড দেয়ার জন্য কেউ থাকবে না’ … তো, ওই সপ্তাহেই আমি বেশ বিজি ছিলাম, আর গুলশান পর্যন্ত গিয়ে কার্ড আনার সময় করতে পারিনি। পরে আবার সেই কার্ডের ব্যাপারে কেউ আর যোগাযোগ করেনি, আমিও ওই মেয়েকে আর ফোন দেই নাই। ভিআইপি কার্ড থাকলে হয়তো বিভিন্ন বিগ শটদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হাবিজাবি এইসব-এর সুযোগ থাকতো। কিন্তু ওইসব-এর আগ্রহও যেহেতু আমার নাই, সো কার্ড নিয়েও মাথা ঘামাই নাই!

যাই হোক, ঘুরলাম, দেখলাম, কিছু বুঝলাম, কিছু বুঝলাম, কিছু ভালো লাগলো, কিছু ভালোই লাগলো না … এইসব মিলিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আর্ট হ্যাপেনিং দেখা হলো। গতবারের আয়োজন অনেক ভালো লেগেছিলো। বেশিরভাগ কাজই অনেক ইন্টেরেস্টিং লেগেছে। আর এবার মনে হয়েছে একসাথে অনেকধরণের অনেককিছু ইনকর্পোরেট করতে গিয়ে কেমন একটা জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে! এমন অনেককিছুই ওখানে এসেছে, যেটা আদৌ না থাকলেই হয়তো পুরো এক্সিবিশনটার সোফিস্টিকেশন আরো বাড়তো। আমার কাছে এক পর্যায়ে মনে হয়েছে আয়োজকরা আসলে পরিচিত শিল্পীদের কাকে ছেড়ে কাকে রাখবে দ্বন্দ্বে ভুগে মোটামুটি সবাইকেই রেখে দিয়েছে যাতে ‘ওকে রাখলো’ ‘আমাকে রাখলো না’ এইসব ভেবে শিল্পীরা মাইন্ড না করে!

আজকে এক্সিবিশন দেখতে গিয়েছিলাম নায়ীমী, কলি আপু, ভাষা আর আমি। আমরা গিয়েছি বিকালে ৪টার দিকে। রানা সকাল থেকেই ছিলো। মাঝখানে মাঝখানে আমাদের সাথে জয়েন করলো। পরে নায়ীমী আর রানা মুল্লুকের রিহার্সালে চলে গেলো, আর আমরা তিনজন ঘুরে ঘুরে দেখলাম। পরে আমি গ্রুপে চলে আসছি খোয়াবনামা’র রিহার্সাল ধরার জন্য, কলি আপুরা ছিলো।

এদিকে আমার ইচ্ছা ছিলো নিখিল চোপড়া, মাধবী আর ইয়ানা’র সাথে দেখা হলে কথা-বার্তা বলবার। কিন্তু আজকে পারফর্মেন্স আর্ট –এর কিছু ছিলো না বলেই মনে হয় ওরা পারফর্মেন্স প্যাভিলিয়নে ছিলো না। ভিআইপি লাউঞ্জে গেলে নিশ্চয়ই অনেকের সাথেই দেখা হতো। শেহজাদ ভাইদের সাথেও দেখা হয়নাই। অনেকের সাথেই দেখা হয় নাই, যাদের এক্সপেক্ট করেছিলাম যে দেখা হয়ে যাবে।

যাই হোক, আর্ট সামিট ছাড়া আজকের দিনযাপনে আর তেমন কিছু নিয়ে লেখার নাই। লেখার জন্য মাথায় অনেক কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু সেগুলো আসলে কংক্রিট প্রসঙ্গ ছাড়া লেখার মানে নাই। আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বো। গতকালকে রাত জেগেছি, আজকে আবার সকাল সকাল উঠেই দৌড়ের ওপর খেয়ে-দেয়ে-গোসল করে বের হয়ে গেছি, তারপর আবার আর্ট সামিটে সেই বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্রমাগত হেঁটেছি, সেখান থেকে আবার আধাঘন্টার জন্য গ্রুপেও গেছি! একদিনে অত দৌড়াদৌড়ি করে আমি প্রচন্ড টায়ার্ড। মনে হচ্ছে পা দুইটা যদি পানিতে চুবিয়ে রাখতে পারতাম, তাহলে ভালো লাগতো!

কালকে মঙ্গলবার, আমার ডে অফ, কিন্তু কালকে আমার স্কুলে যাওয়া লাগবে। স্কুলে নতুন ড্রামা টিচার হিসেবে বৃতা জয়েন করেছে। তো আমি মোটামুটি প্রথম মাসটা ওর সাথে সাথে থাকবো। সো, এই মাসটাতে আমাকে মঙ্গলবারেও স্কুলে যেতে হবে।

যাই হোক, শেষ করি। অল্প কিছু একটা খেয়ে ঘুম দেই আজকের মতো! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s