দিনযাপন । ১৬০২২০১৬

গতকাল্কে দিনটা শুরুই হলো কুফা দিয়ে! স্কুলে জুনিয়র সেকশনে বসন্ত উৎসবের প্রোগ্রাম ছিলো। আমার সেখানে অ্যাটেন্ড করে ছবি তোলার একটা কমিটমেন্ট ছিলো। তো আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম। রাতে ঘুমিয়েছি সাড়ে ৩টায়, ফলে সকালে উঠে ক্যামন অস্বস্তিকর একটা মাথা ব্যথা করছিলো। সে কারণে গোসল করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তাতে বের হতে আধাঘণ্টা দেরি হলো। সাড়ে সাতটায় বের হবার কথা, বের হলাম ৮টায়। চিন্তা করলাম মোটামুটি পৌনে ৯টার মধ্যে পৌঁছায় যাবো। প্রোগ্রাম তো সাড়ে ৮টায় শুরু হবে। কিন্তু, কপালে শনি থাকলে যা হয় আর কি! সিএনজি’ই নাই রাস্তায়। যখন সিএনজি পেলাম তখন বাজে প্রায় সাড়ে ৮টার বেশি। স্কুলে গিয়ে পৌছালাম সাড়ে ৯টায়। ততক্ষণে প্রোগ্রাম-টোগ্রাম তো শেষই, আমার প্রতি বড় আপাদের ইম্প্রেশনটা কি হলো সেটার কথা আর না-ই তুলি!

এরপর স্কুল থেকে টিউশনি … আর টিউশনি থেকে গ্রুপে যাবার পথে আরেক কাহিনি …

আমি যেখানে টিউশনি-তে যাই সেই জায়গাটার নাম তল্লাবাগ। তো, সেখান থেকে গ্রুপে আসার পথে আমার প্রায় সময়ই পান্থপথ মোড় দিয়ে বের হয়ে কাঁঠালবাগানের ভেতর দিয়ে আসা হয়। আরেকটা অল্টারনেটিভ রুট হচ্ছে কলাবাগান দিয়ে বের হয়ে গ্রিন রোড হয়ে সায়েন্স ল্যাব বা হাতিরপুল দিয়ে আসা। তো, যেদিনই পান্থপথ দিয়ে আসা হয়, সেদিনই মনের মধ্যে খচখচানি শুরু হয়। যতই সোহেলের বাসার সামনের এলাকায় যেতে থাকি, ততই খচখচানি বাড়তে থাকে যে এই বুঝি আশেপাশে কোথাও ওর চেহারা দেখা লাগলো! পাস্থপথ মোড়টা পার হয়ে গেলেই ক্যামন হাফ ছেড়ে বাঁচি। তবে, কালকে আর শেষরক্ষা হলো না! ওর চেহারা দেখাই লাগলো। পান্থপথ মোড়টা পার হবার সময় অভ্যাসবশতঃ অ্যাডভেঞ্চার শপ-এর শো-রুমটার দিকে চোখ দিয়ে রেখেছিলাম। ঐটার পাশেই ওয়েল ফুড-এর একটা ব্রাঞ্চ আছে। তো, ওই তাকায় থাকতে থাকতেই চোখ গেলো ওয়েল ফুড-এর দোকানের ভেতর। দিনের বাকি অংশের মেজাজ খারাপ করিয়ে রাখার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট ছিলো, কারণ ভেতরে চোখ পড়তেই দেখলাম সোহেল ওখানে দাঁড়িয়ে বিকালের নাস্তা খাচ্ছে! …

বিক্ষিপ্ত … বিক্ষিপ্ত … তখন থেকেই মেজাজ খুবই বিক্ষিপ্ত … কেন ওর সাথে আমার দেখা হতেই হবে? … কাল্কেই কথায় কথায় একজনকে বলছিলাম যে ওই বাইঞ্চোতটার সাথে সামনাসামনি দেখা হলে খুনাখুনি হবার মতো ফিলিংস হয় … সহ্যই হয় না ওর এক্সিটেন্স এখন! মনে হয় যে ও বেঁচে আছে এটাই এখন আমার জন্য সবচেয়ে পেইনফুল! ওর ছায়াও আমি দেখতে চাই না, ওর চেহারা তো যোজন যোজন দূরের কথা! …

আমার কেবলই মনে হয়, কোনোদিন যদি শুনি ও মারা গেছে, তাহলে বুকের মধ্যে জমাট বেঁধে থাকা অনেকটা কষ্টের দীর্ঘশ্বাস একসাথে বের হয়ে আসবে, আর তখন আমি হঠাৎ করেই সব ভুলে গিয়ে খুব ফুরফুরা মেজাজে ‘আনন্দ’ অনুভব করতে করতে আবার ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ ভেবে নিয়ে পথ চলতে শুরু করবো! …

যাই হোক, ওকে নিয়ে লিখে দিনযাপনের পৃষ্ঠা ভরে লাভ নাই। গত তিন-চারদিনেরই অনেক কথা জমে আছে … ইনফ্যাক্ট ৮ তারিখে আর্ট সামিটের কিচ্ছা-কাহিনি লিখবার পর তো আর দিনযাপনই লেখা হয়নাই। ৯-১১ তারিখ পর্যন্ত সময়টা সাদামাটাই গেছে। স্কুল,টিউশনি, গ্রুপ এই তো! … শুক্রবারে, মানে ১২ তারিখ হুট করে প্ল্যান হলো তৃষার বাসায় গেট-টুগেদার করবো মিন্নি, নিশাত আর আমি। কাওসার কয়েকদিন হলো দেশে এসেছে। ওকেও বলা হয়েছিলো, কিন্তু ওইদিন ও জয়েন করতে পারেনি। তো, তৃষার বাসায় যাওয়ার প্ল্যান শেষে গিয়ে নিশাতের বাসায় ঠেকলো, কারণ নিশাত জানালো অ্যাসিডিটির কারণে সে অসুস্থ। সো, আমরা বাকি ৩ জন ওকে দেখতে যাওয়ার ছুতায় ওর বাসাতেই আড্ডা দিতে চলে গেলাম। অনেকদিন পর একটা ভালো উইকেন্ড কাটানো হলো বলা যায়।

১৩ তারিখ তো পহেলা ফাল্গুন গেলো। সেই সাথে আবার একই দিনে স্বরসতী পুজাও একই দিনে পড়েছে এই বছর। সেই হিসাবে ব্যাপক ভিড় হলো এক জগন্নাথ হলেই। আর আমিও কোনোরকমে ওইখানে গিয়ে যে খুটি গাড়লাম, সারাদিন ওইখানেই পড়ে থাকলাম। ভিড়ের মধ্যে আমার আর হাঁটতে একদমই ইচ্ছা করছিলো না। একে তো শাড়ি পড়েছি, তার ওপর পিরিয়ডের তৃতীয় দিন। তিন্নি আপুর সাথে প্ল্যান হয়েছিলো যে সকালে আগে চারুকলা যাবো, তারপর সেখান থেকে জগন্নাথ হল। আমি সময়মতো চারুকলায় পৌঁছে গেলেও তিন্নি আপু তখনও বাসা থেকে বেরই হতে পারেনাই! চারুকলায় কিছুক্ষণ বসে থেকে মনে হলো যে এখন যদি সোহেল কিংবা ওর ফটোগ্রাফার সার্কেলের কারো সাথে দেখা হয় তাহলে তো মেজাজ বিগড়াবে। সো, আমি শুভকে ফোন দিয়ে ক্যাম্পাসে আছে কি না জেনে জগন্নাথ হলে চলে গেলাম। ওইখানে গিয়ে আবার বাপ্পির সাথে দেখা … এদিকে চারুকলার তমাল জোর করে ওদের মন্ডপে নিয়ে গেলো প্রসাদ দেবে বলে … বাপ্পি, আমি, শুভ আর ওর এক বন্ধুর সাথে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডাবাজি হলো। এর মধ্যে তিন্নি আপু এসে আমাকে ফোনের নেটোয়ার্কে পায় না, আবার পেলেও কথা বোঝে না … এই করে করে কোথায় আছি সেইটা বের করে তার সাথে দেখা হতে হতে আরো আধাঘণ্টা গেলো। এদিকে আমার ওয়াশরুমে যাওয়া ইমার্জেন্সি হয়ে গেছে। একে তো ব্লাডারের প্রেশার, তারওপর প্যাড চেঞ্জ করতে হবে। সরকারি ছুটির দিন বলে ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু করে ব্রিটিশ কাউন্সিল পর্যন্ত সবই বন্ধ। শাড়ি পরে তো আর যেন তেন ওয়াশরুমে যাওয়া যাবে না, তাছাড়া আবার প্যাডও চেঞ্জ করবো। সো তিন্নি আপুকে সাথে নিয়েই গ্রুপে চলে গেলাম। সেখানে ফ্রেশ হয়ে তারপর গ্রুপের নিচেই ক্লাব গ্রিলে খাওয়া-দাওয়া করতে করতে নায়ীমীও এসে জয়েন করলো। তারপর তিন্নি আপু চলে গেলো কার্জন হল আর আমি নায়ীমীর সাথে আবার জগন্নাথ হল! সেখানে শর্মী তার সিসিম্পুরের বন্ধু পলাশকে নিয়ে জয়েন করলো। পরে আবারো কতক্ষণ ঘোরাঘুরি করে, শুভদের ডিপার্টমেন্ট-এর মন্ডপে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে আড্ডাবাজি করে গ্রুপে চলে গেলাম। গ্রুপেও বেশ মজা হলো। মামুন ভাই বহুদিন পর অইদিন গ্রুপে ছিলেন। উনার সাথে অনেক কথাবার্তা, আড্ডাবাজি হলো সবার। নজরুল নিয়ে কথা হচ্ছিলো … সেই রেফারন্সে তিনি আবার নজরুলের কিছু গান গেয়ে তার গায়কী দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করে ফেললেন। মামুন ভাই এত ভালো গান গায় সেইটা নতুন জানার সুযোগ হলো সেদিন। … প্রাচ্যনাটে থাকার প্রায় সাত বছরে এই অভিজ্ঞতা আমার হয়নাই …

আর ১৪ ফেব্রুয়ারি! … এমনিতেই এইটা একটা দীর্ঘশ্বাসের দিন … অনেককিছুর কারণে … ভ্যালেন্টাইন ডে-হিসেবে এইটার তাৎপর্য তেমন নাই আমার কাছে। কিন্তু ঘটনার ঘনঘটায় এই দিনটা অনেক কারণেই লাল দাগ কাটা। ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিটা অনেককিছুতেই অনেক অন্যরকম হতে পারতো! … আর তাহলে পরবর্তী ঘটনাগুলোও আর হয়তো একরকম হতো না! … আব্বুর সাথে ঝগড়া … সোহেলের সাথে প্রথম রাত কাটানো … একটা ইগোটিজমের শুরু … কিছুই হয়তো হতো না! …

সোহেলের প্রসঙ্গেই আবার আসতেই হলো … ১৪ ফেব্রুয়ারি’র আগের একটা কন্টেক্সট আছে। সেইটা একটু লেখা দরকার। সোহেলের সাথে ওই ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে আমার সময় কাটানোর শুরু। ৬ ফেব্রুয়ারি, ৯ ফেব্রুয়ারি টাইপের কিছু ঘটনাবহুল দিন আছে এর মধ্যে … তো, এই ১৪ তারিখেই তার সাথে প্রথম রাত কাটানো হয়েছিলো আমার।

এবার আসি ওইদিনেরই আরেকটা ঘটনায় … ওইদিন সন্ধ্যাতেই আব্বুর সাথে আমার একটা কথাকাটাকাটি হয়েছিলো … এই মিরপুরের বাসার টাইলসের হিসাব নিয়ে। বাংলাদেশি কোম্পানির কমদামী কম টেকসই টাইলস কেনার পক্ষপাতি আমি কখনোই ছিলাম না। বিশেষ করে বাথরুমে তো না-ই। তো, অনেক দেখেশুনে চাইনিজ টাইলস পছন্দ করে করে যেই বাজেট করা হয়েছিলো তা ডেভেলপারের বাজেটের চাইতে অনেক-ই বেশি হয়েছিলো। সেটা হবারই কথা। ডেপেলপার টাইলস দেবে ৬০টাকা স্কয়ার ফিটের, আর আমি টাইলস দেখেছি মিনিমাম ২০০টাকা পিস-এর। আমার চিন্তা ছিলো প্রয়োজনে ওই টাকাতে আমিও শেয়ার করবো, দরকার হলে ধারই করবো। তবু একবার টাইলস লাগিয়ে অন্তত ১০/১৫ বছরের জন্য নিশ্চিত হতে চাই। কমদামী টাইলস কিনে লাগালে সেইটা ৪/৫ বছরের মধ্যে দাগ বসে যাবে, ময়লা হয়ে যাবে, ভেঙ্গে-টেঙ্গে যাবে, তারপর আবার প্রায় একই খরচ করে সেগুলা চেঞ্জ করবো – সেইটার রিস্কে আমি অন্তত কখনোই যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলাম না। তো, টাইলসের জন্য অত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে এই-সেই কথাবার্তা হতে হতে এক পর্যায়ে আমারও মেজাজ চড়ে গেলো যে আমার কথা কেন আব্বু বুঝতেই চাইছে না! আমিও গলা চড়ালাম, আব্বুও পালটা গলা চড়ালো। শেষমেশ সে রাগে ফেটে পড়ে যখন জুতা নিয়ে মারতে আসলো তখন আমি এক দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম। ইন ফ্যাক্ট বাসা থেকে বের হবার জন্য প্রস্তুতির মাঝেই তার সাথে আমার কথা কাটাকটির শুরু হয়েছিলো। সো, এমনিতেও আমি বের হবার জন্য দরজার কাছেই দাঁড়ায় ছিলাম। তো, ওই তো, আব্বু বার্স্ট আউট করলো, আর আমি এক নিঃশ্বাসে, এক দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে একেবারে রাস্তায় বের হয়ে রিকশায় উঠে তারপর হাফ ছেড়েছিলাম।

এই ঘটনাটা ওইদিন সোহেলের সাথে থাকাটা আরো ইনেভিটেবল করে দিয়েছিলো। সোহেলের সাথে থাকবো কি থাকবো না সেটা নিয়ে একটা কনফিউশন আমার মধ্যে ছিলো। মনে হচ্ছিলো শেষ মুহুর্তে না করে দেই। কারণ আবারো কোনো একটা অনিশ্চিত সম্পর্কে আমি জড়াবো কি না সেটা নিয়েই নিজের সাথে নিজের দ্বন্দ্ব ছিলো। যদি বাসায় ওই ঝগড়া না হতো তাহলে হয়তো শেষমেশ ‘না থাকা’র চিন্তাটাই জয়ী হতো! তাহলে আমার আর সোহেলের সাথেও থাকা হতো না, আর আমি থাকলাম না সেই ইগো থেকে সোহেল হয়তো আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করতো না … আর তারপরের যাবতীয় সময়গুলোও অন্যরকম হতো! অথচ কিভাবে একটা ঘটনার সাথে আরেকটা ঘটনার সূত্রবন্ধন একেকটা ঘটনাকে ইনেভিটেবল করে তোলে! সেদিন আমার আর বাসায় গিয়ে আব্বুর সামনে পড়ার অবস্থা ছিলো না। বাসায় থাকলেই হয়তো আব্বুর সাথে আরেক প্রস্থ ঝগড়া, এমনকি হাতাহাতিও হয়ে যেতো। আব্বু আমাকে মারতে আসলে আমি বাধাই দিতাম। প্রচণ্ড স্বাধীনচেতা হবার কারণেই হয়তো এই মারধর করার ব্যাপার-স্যাপারগুলো আমাকে প্রচন্ড রি-অ্যাক্ট করায়। সো, দেখা যেতো ওইদিন যদি এমন হতো যে আমি বের হচ্ছিলাম না, এম্নিই বাসায় ছিলাম আর আব্বু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জুতা হাতে নিয়েছিলো মারবে বলে, আমি হয়তো আমার সর্বশক্তি দিয়ে তাকে বাধা দেয়ার জন্য আঘাত করতাম। যেই রাগে আব্বু আমার সাথে ওই আচরণ করেছে, ওই একই রাগ আমার রক্তেও আছে – কম না, বরং বেশিই আছে …

আর সেই ঘটনার সূত্রেই আব্বুর সাথে আমার কথা বন্ধ হবার দুই বছর হয়ে গেলো। আব্বুর সাথে দাদুর এরকমই কোনো একটা বিরুদ্ধবাদিতার সূত্র ধরে প্রায় দুই যুগ কথা বন্ধ ছিলো! দাদুর লেখা সব বই আব্বু রাগ করে ছিড়ে কুটিকুটি করে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে এসেছিলো, দাদু মারা যাবার আগ পর্যন্তও দাদুর সাথে আব্বুর কোনো কথা হয় নাই। আবার সেই আব্বুর সাথেই আমি তার মেয়ে এখন কথা বলি না! আমি আব্বুর মতো রাগ করে তার কোনোকিছু হয়তো ফেলে দেবো না, কিন্তু এক ছাদের নিচে থেকেও আমরা এখন কথা বলি না। আমার জিদ সম্পর্কে আমি যা জানি, আর আব্বুর জিদ সম্পর্কে আমি যা জানি, তাতে কেউ যে কারো কাছে সারেন্ডার করার মানুষ না, এইটুকুও আমি  বুঝি … আব্বুর অনেক ভালো ভালো জিনিস যেমন আমার মধ্যে কপি-পেস্ট হয়ে আছে, অনেক নেগেটিভ ইমোশনও তাই … সো, একজন যথার্থ ‘বাপ কা বেটি’ হিসেবে মাঝে মাঝে আমি ভাবি, হয়তো বা আমারও এমন হবে যে আব্বু একসময় থাকবে না, তবুও আমার সাথে তার কথা হবে না! … কি জানি!

মাঝে মাঝে আমার অনেক মন খারাপ হয়, আবার মাঝে মাঝে ভাবি, যা হয় হবে! জীবন যেমন চলছে, নিয়ম মেনে সেভাবেই চলতে থাকবে … এত ভেবে কি-ই বা হবে? … সবকিছুই যেন একটা অদৃশ্য ফোর্সের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে … কার সাথে থাকি, কার সাথে মিশি, কাকে পছন্দ করি, কার সাথে কথা বলি, কার সাথে দেখা হবে বা কথা হবে বলে অপেক্ষা করি, রাতে বাসায় বাসায় ফিরে ল্যাপটপ নিয়ে বসে ফেসবুকের চ্যাটবক্সে কার অনলাইন হবার অপেক্ষা করি, কার সাথে অবলীলায় একান্তই ব্যক্তিগত কথাগুলো বলে যাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা … এইসব কিছুই যেন আমার নিয়ন্ত্রণে নাই … কোনোকিছু সচেতনভাবে নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেট এমনিতেও আমি কম করি … প্রকৃতির অদৃশ্য সেই শক্তিকেই জায়গ ছেড়ে দেই সবকিছু তার মতো করে নিয়ন্ত্রণের …

তবুও, মানুষ হবার ধর্ম মেনে কখনো কখনো খুব ইমোশনাল হই …

যাই হোক, আজকের কথা সামান্য বলে শেষ করি … আজকে সারাদিনের সবচেয়ে নোটেবল ঘটনা এইটাই বলা যায় যে স্কুল থেকে বের হয়ে বৃতার সাথে শাহবাগে জাদুঘরে গিয়েছিলাম ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা দেখতে। আজকে দেখলাম – তিতাস একটি নদীর নাম। এই সিনেমাটা আগে কখনো দেখা হয়নি, এমনকি উপন্যাসটাও পড়িনি। কালকে দেখে মুগ্ধ হলাম। যুক্তি-তক্কো-গপ্পো ছিলো এর পরেই। কিন্তু গ্রুপে রিহার্সালে যাবো দেখে আর সেটা দেখার সুযোগ হলো না। আমার স্বীকার করতে দোষ নাই যে বাংলা সিনেমার মাস্টার ফিল্মমেকারদের কাজ দেখার ব্যাপারে একসময় আমার অনেক আলসেমি ছিলো। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফিল্ম সোস্যাইটির কল্যাণে কয়েকটা সিনেমা দেখা হয়েছে। কিন্ত নিজে দায়িত্ব নিয়ে কখনো বাকিগুলো দেখি নাই … না ঋত্বিক, না সত্যজিৎ না অন্য আর কেউ! … গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রেও একই কথা … আবার শুধু বাংলা না, বিশ্ব চলচ্চিত্র আর বিশ্ব সাহিত্যের প্রসঙ্গ তুললে অনেক কিছু দেখা বা পড়ার ক্ষেত্রেই আমি অনেক পিছিয়ে আছি! …

এই অভ্যাসটা পাল্টাতে ইচ্ছা করে সবসময়ই … কিন্তু সেখানেও প্রচন্ড আলসেমি কাজ করতে থাকে …

মাঝে মাঝে ভাবি, সবকিছু ছেড়ে- ছুড়ে দিয়ে যদি এক-দুই বছর ঘরে থেকে খালি সিনেমা দেখতে পারতাম আর বই পড়তে পারতাম, তাহলে অনেক কিছুতেই অনেক এগিয়ে যেতে পারতাম! …

জানি, এগুলা ভাবনাই সার … বিশেষ কোনো তাগিদ না পেলে কখনোই আমি এইসব করবো না …

আর বিশেষ কোনো তাগিদ … সেটাও আমার ইচ্ছা মতো আসবে না …

যাই হোক, আজকের মতো এখানেই শেষ করি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s