দিনযাপন । ২৭০২২০১৬

বহুদিন পর একটা ফ্রেশ মাথা নিয়ে দিনযাপন লিখতে বসলাম। খোয়াবনামা’র কাজ শেষ হবার পর পরই তো গতকাল পর্যন্ত জাপান স্টাডিজ-এর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এই এক ভর্তি পরীক্ষার জন্য যতটা পড়াশোনা করেছি, শেষ কবে এইরকম আঁট-ঘাঁট বেধে পড়ালেখা করেছি সেটাই ভুলে গেছি। তবে, এইটুকু কনফিডেন্ট ছিলাম যে বেসিক আইডিয়াটুকু যদি নিতে পারি, তাহলে যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসতে পারবো। পরীক্ষা হয় ১০০ নাম্বারের, আবার সময় থাকে ১ ঘণ্টা। খুব যে বড় বড় উত্তর লিখতে হয় তা না। কিন্তু, একটা কনক্রিট উত্তর লাগে, যেখানে আবশ্যক সব পয়েন্ট মেনশন করা হয়। ভাষাগত দিক থেকে আমার সাবলীলতা নিয়ে কনফিডেন্ট ছিলাম যে যা-ই লিখবো, সেটা অবশ্যই ভাষাগত বিচারে ভালো হবে। তো যাই হোক, পরীক্ষা দিলাম … আজকে রেজাল্টও দিয়ে দিলো রিটেন টেস্ট-এর … সিলেক্টেড হয়েছি ভাইভার জন্য। আগামীকালকে সকালে ভাইভা। ভাইভা’র পর ফাইনাল সিলেকশন। হয়তো কালকে ভাইভা’র সাথে সাথেই বলে দেবে এনরোলড হচ্ছি কি না। কিংবা আবার হয়তো আরেকদিন রেজাল্ট দেবে ভাইভা’র। কাল যাই আগে, তারপর বোঝা যাবে।

Aranyak, Gazipur, 20112015

Aranyak, Gazipur, 20112015

২১ তারিখের শো-এর পরে তো আর গ্রুপের দিকেও যাওয়া হয়নি। গতকালকে গিয়েছিলাম। সজীব একটা রিভিউ মিটিং-এর জন্য ডেকেছিলো খোয়াবনামা’র ২১ তারিখের প্রেজেন্টেশনের টিম-টাকে। মিটিং অবশ্য তেমন যুতসই হলো না। অনেকেই আসে নাই। আবার যারা এসেছে তাদের অনেকেই একটা ইম্প্রোভাইজেশনের রিহার্সালেই অনেকক্ষণ এনগেজড ছিলো। আজকে নাকি ওই ইম্প্রোভাইজেশনটার শো হবার কথা ২৭ নাম্বারের কোথাও। সে কারণেই রিহার্সালটাই জোর দিয়ে হচ্ছিলো। অবশ্য রিহার্সাল শেষ হবার পর জানা গেলো যে শো-টা আজকে হচ্ছে না, বরং ৩ তারিখ হবে। এদিকে রিহার্সাল কখন শেষ হবে, কখন মিটিং হবে এসব নিয়ে বসে থাকতে থাকতে দুই/তিনজন চলেই গেলো। শেষে পৌনে ১০টার দিকে যে কয়জনই ছিলাম তারা ৪/৫ জন বসে বেশ ইনফরমালি মুড়ি মাখানি খেতে খেতে মিটিং করে ফেললাম। আসলে মিটিং মানে তো খুব সিরিয়াস কিছু না, কার কাছে কাজ করে কেমন লাগলো টাইপের থট শেয়ারিং আর কি! যেহেতু সামহাও সজীব আর আমি কিছুটা হলেও নির্দেশনা সংক্রান্ত ভূমিকা পালন করেছি, সেহেতু একটা কথা সবার মুখেই কম-বেশি শুনে ভালো লাগলো যে কাজটা করতে গিয়ে কেউ কোথাও কোনো প্রেশার ফিল করে নাই এবং প্রত্যেকেই নিজেদের চরিত্রগুলো এক্সপ্লোর করার সুযোগ পেয়েছে। মানে, টিপিক্যালি যেটা হয় আর কি যে নির্দেশনায় যে থাকে সে তার চিন্তাটাই অভিনেতার ওপর চাপিয়ে দেয় এবং সে নির্দেশক হিসেবে যেভাবে যা ভাবছে সেটা সেরকমই হতে হবে টাইপ একটা টেন্ডেন্সি তৈরি হয়ে যায়। তখন অভিনেতার আর উৎসাহের জায়গাটাও থাকে না, নিজেকে এক্সপ্লোর করে উত্তরণের জায়গাটাও আর থাকে না। ফলে কাজটা তখন ঘাড়ের ওপর বোঝা হয়ে যায়। অনেকটা স্কুলে মুখস্ত লাইন বাই লাইন উত্তর না লিখলে মার্কস পাওয়া যাবে না টাইপের অবস্থা হয় আর কি! অথচ ‘যা বুঝেছো তার সাপেক্ষে ব্যাখ্যা করো’ টাইপ ওপেন এন্ডেড প্রশ্ন দিলে যে শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনাটাকে মজা নিয়ে গ্রহণ করে সেটা অনেক কম শিক্ষকই ভাবেন। নির্দেশনার জায়গায়ও তাই। তো যাই হোক, সজীব বা আমি কেউই এই ‘চাপায় দেয়া’ নীতিতে বিশ্বাসী না, ফলে পুরা কাজের কোথাও-ই ‘আপনাকে এটাই করতে হবে’ টাইপ কিছু ছিলো না। বরং দেখা গেলো যে খোয়াবনামা’র যেসব পারফর্মার একই সময়ে চলতে থাকা আরেকটা নাটকে কমন ছিলো, তারা ওইটার রিহার্সাল নিয়ে বরং এক পর্যায়ে ফেড-আপ হয়ে গেলো। কারণ ওই নাটকের নির্দেশক খুব সিরিয়াস এবং শো থাকলে মোটামুটি ৪/৫ দিন আগে থেকেই ম্যারাথন রিহার্সাল করায়। সেই রিহার্সালের প্রেশার দেখা যায় অনেকেই নিতে পারে না, আর তারপর মানসিকভাবেই প্রচন্ড স্ট্রেসড হয়ে যায়।

যাই হোক, এই আগের প্যারার-ই রেফারেন্সে বেশ অনেকদিন আগের একটা ঘটনার রেফারেন্স টানি। ঘটনাটা গত ২০১৫-এর নভেম্বরের। তারিখটাও মনে আছে আমার, ৬ নভেম্বর, কারণ ওইদিন প্রমার জন্মদিন বলে আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো সেজন্য পাভেল ভাইকে বলতে গিয়ে উনার সাথে একটা বিষয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয়েছিলো। উনি কথাটা যেভাবে শুরু করেছিলেন সেটা ছিলো এরকম যে ‘ আমাদের বাংলাদেশের টিপিক্যাল সোস্যাইটিতে একটা মেয়ের পুরুষের মতো খ্যাক করে ওঠাটাকে ভালো চোখে দেখা হয় না; আমি সেই প্র্যাকটিসটা অ্যাপ্রেশিয়েট করছি না, কিন্তু যেহেতু তোমার ডাইরেকশনের লাইনে যাবার ইচ্ছা আছে, এবং তোমাকে একটা টিম নিয়ে কাজ করতে হবে, সেহেতু এই স্বভাবটা নিয়ে বোধহয় তোমার কাজ করা উচিত …’ । কথাটার ব্যাপারে মনে মনে আমার ইনস্ট্যান্ট রিঅ্যাকশন ছিলো যে ‘কথাটা আমার মোটেই পছন্দ হলো না’ কিংবা ‘ জাস্ট অ্যানাদার মেল শোভিনিস্ট অ্যাটিচুড’। কিন্তু তার পরপরই মনে হলো যে কেউ যদি কোনো কারণে পাভেল ভাইয়ের কাছে আমাকে এভাবে প্রেজেন্ট করেই থাকে, তাহলে সমস্যাটা তো তার, এবং পাভেল ভাই নিজেও হয়তো সেই জায়গাটা বুঝেই তাকে কিছু না বলে উলটা আমাকেই সাবধান করে দিচ্ছেন যাতে ওইসব মানুষদের সাথে কাজ করার ব্যাপারে আমি আরো সহনশীল হই এবং তাদেরকে তাদের স্বভাবসুলভ শোভিনিজমের জায়গা থেকে অ্যাটিচুড করার সুযোগ না দেই। কথাটা আমাকে অনেক ভাবিয়েছিলো, কারণ কয়েক মুহুর্তের জন্য হলেও আমি নিজেও কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম যে ‘আমার আচরণ কি এতই খারাপ?’ … তারপর অনেক ভাবনার পর এই রিয়েলাইজেশনে এসেছিলাম যে গ্রুপে আমার আসলে হাতে গোনা দুই/তিনজনের সাথেই ঝামেলা হয়, এবং তাদের বন্ধুদলটাও আবার খুব সহজে বায়াসড হয়ে যাওয়া মানুষের একটা দল। এ কারণেই ঘটনা ঘটে একজনের সাথে, আর গায়ে লাগে আরেকজনের! কিংবা, তারা নিজেরাই যেচে পড়ে সবকিছু নিজেদের গায়ে লাগায়!

অনেকদিন আগে শুভ কথায় কথায় বলছিলো যে ‘ প্রথম প্রথম আপনার সাথে কথা বলতে আমার খুব ভয় করতো, ভাবতাম যে আপনি মনে হয় খুব রুড। কিন্তু কয়েকদিন পরে আস্তে আস্তে বুঝলাম যে আপনি আসলে পুরাই উলটা!’ … কয়েকদিন আগে প্রদ্যুতদা কথায় কথায় বললো, ‘ প্লিজ, মনে কিছু নিয়েন না। প্রথম দিকে আপনাকে আমার তেমন ভালো লাগতো না। কিন্তু, এখন কাজ করতে গিয়ে রিয়েলাইজ করলাম যে কাজের ক্ষেত্রে ওই রুডনেসটুকু আপনি প্রয়োজনবোধেই রাখেন। আসলে একসাথে কাজ না করলে একটা মানুষকে ঠিকভাবে বোঝা যায় না …’

তারও অনেক অনেক আগে, স্কুল লাইফে বান্টি আমাকে একবার বলেছিলো, ‘ তুই আসলে একটা নারিকেল। বাইরে শক্ত খোল, আর ভেতরে টসটসা পানি’ …

তারপর আমি অনেক ভেবে দেখলাম, আসলে প্রতিটা ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো এমনই ঘটেছে যে যার সাথে আমার গ্যাঞ্জাম লেগেছে কেউ হয়তো যেটা যৌক্তিক সেটাকে ‘জাস্ট আমি বলেছি দেখে’ গ্রাহ্য না করে তার যুক্তি-বুদ্ধিতে একটা কিছু করতে গেছে, কিংবা হুট করেই কোনো একটা কাজের মধ্যে এসে তার সিনিয়রিটির অধিকার মনে করে নিয়ে এমন একটা কিছু বলেছে যেটা একদমই ওই মুহুর্তের কাজের জন্য অসংগতিপূর্ণ। অথবা, কেউ হয়তো প্রি-ডিটারমাইন্ডই ছিলো যে ‘একটা মেয়ের কথায় সে চলবে না’। আমি অনেক ভেবে দেখলাম, সবগুলা গ্যাঞ্জামের ঘটনাতেই কম-বেশি এসব বিষয়ই কমন!

যাই হোক, নিজের মধ্যে নিজেকে নিয়ে এইটুকু আত্মবিশ্বাস অন্তত আছে যে কখনো এক মুখে দুই কথাও বলি না, কিংবা বাইরে বাইরে মানুষের সাথে ‘ আরি দোস্ত’ ভাব দেখিয়ে পেছনে ‘ শালা বাইঞ্চোত’ বলেও গালি দেই না। যে ‘দোস্ত’ সে বরাবরই দোস্ত, যে ‘বাইঞ্চোত’ সে বরাবরই বাইঞ্চোত – এমনটাই তো হবার কথা! কিন্তু সেটা আসলে হয় না। ইদানীং যেখানেই যাই, সেখানেই দেখি এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি যাদের সাথে কথা বলার সময় খুব ভাবতে হয় যে ‘কি বলবো’ আর ‘কতটুকু বলবো’। দেখা যায় যে একটা কনভারসেশনে সে হয়তো আমার সাথেই একমত হচ্ছে, আর আমিও মতের মিলের মানুষ পেয়ে অনেককিছুই বলছি; কিন্তু আসলে সে মতের মিল দেখিয়েছে কথা আদায়ের জন্য এবং এই কথাগুলোই সে আবার আরেকজায়গায় গিয়ে আরো মশলা মাখিয়ে তারপর বলবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে যে খুব সচেতন হয়ে কথা বলি তা না। আমার কথা হচ্ছে আমার যে কোনো ঘটনা সম্পর্কে যা ভালো লাগা বা খারাপ লাগা সেটা তো মন থেকেই লাগছে, আর আমি প্রজ্ঞা একজনকে যা বলছি আর ১০ জনকেও একই কথাই বলবো। অন্তত আমার যেহেতু কারো কাছ থেকে কথা আদায় করে নিয়ে আরেকজনকে সেটা বলে দেয়ার স্বভাব নাই, ফলে অন্যের এই স্বভাব নিয়ে আমি খুব একটা বদারড হই না। যদি এমন হইতো যে আমি ৫ জনক ৫ রকম কথা বলি, তাহলে বরং আমার ভয় থাকতো যে কোন ভার্সনটা আসলে এক মুখ থেকে আরেক মুখে যাচ্ছে।

আমি তো পারলে নিজের গরজেই দিনযাপনে নাম-ঠিকানাসহ আমার সব ঘটনার বর্ণণা দিয়ে দেই। ইদানীং যদিও কিছুটা ফিল্টারিং করছি, কিন্তু প্রসঙ্গ আসলে যে কখনো পরিচয় না দিয়ে হলেও বলবো না তা তো না!

যাই হোক, আজকে আর লিখবো না। আগামীকাল সকাল সকাল উঠে আগে স্কুলের কাজেড় প্ল্যান করতে হবে। যেহেতু ভাইভা ১২টায়, সেহেতু স্কুলে তো যেতে পারবো না। সকালে উঠে ফোন করে দিতে হবে। ক্লাসের কাজ কি করানো হবে সেটা ঠিক করে দেয়া লাগবে ফোনে ফোনে।

এখন বরং ঘুমিয়ে যাই। আর কিছু তো করার পাচ্ছি না। গতকালকে একটা বই কিনেছি, ‘হিস্ট্রি অভ দ্যা রিলিজিয়ন্স’। অইটা এখনো পড়া শুরু করিনি। দেখি, এখন শুরু করা যেতে পারে।

যাই হোক, দিনযাপন এখানেই শেষ করছি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s