দিনযাপন । ১২০৩২০১৬

গতকালকেই দিনযাপন লিখবার ইচ্ছা ছিলো … অন্তত কালকে অনেককিছুই বলার ছিলো … বাসায়ও ফিরেছি বেশ তাড়াতাড়ি … কিন্তু একে তো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়ে ছিলো, তারওপর শরীরও ভালো লাগছে না … তাই ঘুমিয়েও পড়েছি তাড়াতাড়ি। সকাল সকাল উঠবারও একটা তাড়া ছিলো …

মাঝে মাঝে এমন একেকটা দিন যায় যার প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায়ই মেজাজ খারাপ করা ঘটনা ঘটে, কিংবা মেজাজ খারাপ হবার যুক্তিযুক্ত কারণ না থাকলেও সবকিছুতেই মেজাজ কেমন খিঁচে থাকে। গতকালকের দিনটা গেছে ঠিক এরকম! একেবারে সেই সাতসকাল থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া অবধি একের পর এক খালি মেজাজই খারাপ হয়েছে। তার কিছু যুক্তিযুক্ত, আর কিছু পূর্ববর্তী মেজাজ খারাপীয় ঘটনার আফটারইফেক্ট …

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলাম সাড়ে সাতটায়। উদ্দেশ্য এই যে ৯টার মধ্যে বের হয়ে যাবো, শিল্পকলা একাডেমি যেতে হবে ১০টার মধ্যে; মুভিয়্যানা ফিল্ম সোস্যাইটির আয়োজনে একটা স্ক্রিপ্ট রাইটিং ওয়ার্কশপ আছে সেটায় যাবো। তো, উঠে হাত-মুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি নাস্তা করে নেয়ার চিন্তায় যেই বাথরুমের দিকে গেছি, দেখি বুয়া বাথরুম ধুচ্ছে! গেলো মেজাজ খিঁচে! দশ মিনিট পর বুয়া বাথরুম ধুয়ে বের হওয়া অবধি গজগজ করতে থাকলাম রাগে আর বিরক্তিতে। এখানে দশ মিনিট দেরি হওয়া মানে নাস্তা খেয়ে, বাথরুম করে, গোসল করে, রেডি হয়ে বের হবার পুরো প্রক্রিয়ায় আরো আধাঘণ্টা বেশি লেট! যাই হোক, শিল্পকলায় সাড়ে দশটার দিকে পৌঁছানোর পরেও যখন দেখলাম যে বীরেন শর্মাকে নিয়ে মামুন ভাই তখনো অবধি পৌছায়নাই, তখন মেজাজ খিঁচে থাকা ভাবটা একটু কমলো।

ওয়ার্কশপের সেশনটুকুতে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে কারণ মহিলা সমিতিতে যেতে হবে। ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো। ওয়ার্কশপে যতক্ষণ ছিলাম ভালোই সময় কাটলো। অনেককিছুই জানা জিনিস রিক্যাপ হচ্ছিলো, রিভাইসড হচ্ছিলো, নতুন অনেক আঙ্গিকে লেখা নিয়ে ভাববারও উপাদান পাচ্ছিলাম বীরেন শর্মার কথা থেকে। লেখারও একটা ভালো অনুশীলন হচ্ছিলো। আফসোস হচ্ছিলো যে ওয়ার্কশপটা পুরোটা করতে পারবো না। তো, যাই হোক, সাড়ে ৩টার দিকে বের হয়ে মহিলা সমিতি গেলাম। নতুন মঞ্চ, নতুন আরেঞ্জমেন্ট। প্রজেকশন নিয়ে তাই চিন্তাও বেশি। তো, প্রজেক্টর নিয়ে ফজলু ভাই তখনো গিয়ে পৌঁছায় নাই আর ওখানে যারা সেট লাগানোর কাজ-টাজ করছিলো তারা খেতে যাবে। আমি শিল্পকলা থেকে খেয়ে গিয়েছি, কিন্তু সেই খাবারটা মোরগ পোলাও ছিলো বলে অস্বস্তি হচ্ছিলো। ভাবলাম যে আমিও ওদের সাথে একটু ঘুরে আসি, একটা ঠান্ডা পেপসি বা মিরিন্ডা খেলে হয়তো আরাম পাওয়া যাবে। কথা বলতে বলতে রানা, টুটুল আর গোপীর সাথে সাথে রওনা হলাম। বেইলি রোডের চেহারার পরিবর্তন দেখতে দেখতে হাঁটছিলাম, ফলে প্রথম থেকেই একটু পিছিয়ে পড়লাম। এদিকে এক পর্যায়ে সামনে ওরা তিনজন পরস্পরের সাথে কথা বলতে বলতে অনেকটাই সামনে এগিয়ে গেলো। আমি তখন বেশ বিরক্তই হলাম। ওদের সাথে যে চতুর্থ আরেকজন মানুষ আছে, সেইটা কি কারো খেয়াল হচ্ছে না? নাকি সেই মানুষটা থাকলো কি না থাকলো সেটা নিয়ে তারা বদারড না? একা একা রাস্তায় হাঁটতে বেশ অস্বস্তি লাগে আমার, যদি সাথে ব্যাগ-ট্যাগ কিছু না থাকে। মনে হয় যে আমার অত্ত বড় শরীরটা নিয়ে যে আমি হাঁটছি, সেইটা সবাই একবার হলেও তাকিয়ে দেখছে আর মনে মনে বলছে ‘ কত্ত মোটা!’ ‘পাছা দেখসোস?’ ইত্যাদি ইত্যাদি … কাঁধে ব্যাগ-প্যাক থাকলেই আবার কিজানি একটা অদৃশ্য শক্তি চলে আসে নিজের মধ্যে, মনে হয় যে সবকিছুই থোরাই কেয়ার করছি! তো, নিজের শারীরিক গড়নের কারণেই মূলত ওদের সাথে তাল মিলিয়ে হেঁটেও ওদের কাছাকাছি যেতে পারছিলাম না, আবার সেই সাথে পিরিয়ড হয়েছে বলে চাইলেও খুব শক্তি খাটিয়ে জোরে হাঁটা সম্ভব হচ্ছিলো না। এদিকে ওরা কিন্তু ততক্ষণে খেয়াল করেছে যে আমি বেশ পেছনে পড়ে গেছি, ভাবলাম যে থামবেও। কিন্তু একবার তাকায় দেখলো শুধু, থামলো না। সাথে সাথে আমার মেজাজ আবার খিঁচে গেলো! এইটুকু কার্টসি ওদের কারো মধ্যে নাই যে দলের মধ্যে একজন পিছিয়ে পড়েছে বলে একটু থেমে তার জন্য অপেক্ষা করবে কিংবা কেউ একজন একটু আস্তে হেঁটে তার সাথে ব্যালেন্স করবে? আবারো ‘বিয়িং লেফট আউট’ অনুভূতিটা কাজ করতে শুরু করলো … মনে মনে গজগজ করতে করতে ওদের অনেকটা পেছনে থেকেই হাঁটতে থাকলাম। যেই হোটেলে ঢুকলো খাওয়ার জন্য, ওখানে ঢুকে খুব নর্মালি বলতে গেলাম যে ‘সাথে যে আরেকজন কেউ আছে সেটা তো খেয়াল করা উচিত নাকি?’ উত্তর টুটুল বোঝালো যে এরকম আস্তে হাঁটলে তো চলবে না, ওদের সাথে চলতে গেলে দৌড়াতে হবে! … এই কথা শুনে মেজাজ পুরাই খিঁচে গেলো আমার। ‘এইগুলা কার্টসি কেউ কখনো শেখায় নাই?’ ‘ অশিক্ষিত নাকি?’ টাইপ কথাবার্তা মুখ দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার মতো মেজাজ খারাপ! খুব কষ্ট করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখলাম। একটু পরেই প্রদ্যুত দা, পারু, শাহরিয়ার আর সাদি এসে ঢুকাতে রিলিভড হলাম যে অন্তত এখন পরবর্তী দলটার সাথে কথাবার্তা বলে নিজের মেজাজকে ডাইভার্ট করা যাবে। এবং হলোও তাই … খিঁচে থাকা মেজাজটা আস্তে আস্তে আবার শিথিল হলো …

IMG_5049_1

এদিকে হলে ফিরে আসার পর থেকে আরেক ক্যাচাল। প্ল্যান হলো যে উপরের দর্শকসারির অ্যাঙ্গেল থেকে প্রজেক্টর বসাবো। কিন্তু ফজলু ভাই লাইনই নাকি পায় না। তারপর প্যানেল থেকে মাল্টিপ্লাগ টেনে লাইন দিতে গিয়ে মাল্টিপ্লাগই শর্ট সার্কিট হয়ে তার-টার পুড়ে অস্থির অবস্থা করে ফেললো। অগত্যা নিচের থেকেই লাইন দেয়া হলো। আর তাও ভালো যে কি মনে করে একটা ব্যাকআপ মাল্টিপ্লাগ নিয়ে গিয়েছিলাম গ্রুপ থেকে, নইলে পরে আবার ‘তার ছোটো’ এই মর্মে প্রজেক্টর হয়তো ঠিকঠাক পজিশনে বসানোই যেতো না! ফজলু ভাইয়ের ওপর এমনিতেই লাস্ট দুই/তিনটা শো যাবত আমি বিভিন্ন কারণে কিঞ্চিৎ বিরক্ত ছিলাম, কালকে ওইসময়য় বিরক্তির ইন্টেন্সিটি আরেকটু বাড়লো। এদিকে শো-এর আগে ‘সার্কাস সার্কাস’-এর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন প্রোগ্রামের উৎসাহে কালকে সাউন্ড চেক-ই করা হয় নাই, প্রজেক্টরের ল্যাপটপেও তাই লাইন লাগে নাই। শো-শুরু হবার মিনিট পাঁচেক আগে দৌড়ের ওপর সাউন্ড চেক হলো, প্রজেক্টরের ল্যাপটপে সাউন্ডের লাইনও লাগলো। এইবার আরেক নাটক! প্রজেক্টরের ল্যাপটপে যেই লাইনটা দেয়া হয়েছে সেটায় আর্দিং হয় বলে কেমন একটা ভোঁ ভোঁ টাইপের শব্দ হচ্ছে! সেই শব্দ বন্ধ করার পেছনে আরো পাঁচ মিনিট নষ্ট! … এদিকে সাতটা বেজে গেছে, ফার্স্ট বেল দেয় না দেখে বাইরে দর্শকও অস্থির হয়ে যাচ্ছে!

যাই হোক, শো শুরু হলো … প্রথমত সেটের ওপর থেকে যেই মাচাটা ঝোলে ওটার ছায়া প্রজেকশনের কিছুটা ঢেকে ফেললো … দ্বিতীয়ত প্রতিটা কলাপ্সের কিউ-তে লাইটের প্যানেল থেকে এমনই স্মোক দেয়া শুরু হলো যে সেই স্মোকের আবহ কাটতে কাটতে ভিডিও’র স্কিডটাই শেষ হয়ে যাচ্ছিলো! তাও মন্দের ভালো যেটুকু প্রজেকশন দেখা যাচ্ছিলো, সেইটাতেও শেষ খড়গের কোপ পড়লো খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ভিডিও কিউ’র মাঝপথে প্রজেক্টরের লাইন ডিসকানেকটেড হয়ে গিয়ে! ফজলু ভাই কই দৌড়ে গিয়ে আগে প্রজেক্টরটা বন্ধ করবে যাতে স্ক্রিনজুড়ে ‘হিটাচি’ লেখাটা বন্ধ হয় তা না, উনি আমার পাশে বসে বসে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলেন যে ‘কি কি পসিবল কারণে প্রজেকশন বন্ধ হয়ে গেছে’! … শেষে যখন একটু গলা উঁচিয়েই বলতে বাধ্য হলাম যে ‘আগে প্রজেক্টরটা বন্ধ করে আবার চালান’ তখন উনি গেলেন। ততক্ষণে হলজুড়ে সবাই দেখছে স্ক্রিন জুড়ে ‘নো সিগন্যাল’ ‘হিটাচি’ ‘পাওয়ার অন’ এইসব আসছে! …

ওই যে বলছিলাম যে উনার ওপর আগে থেকেই বিরক্ত ছিলাম, আর সেই বিরক্তির ইন্টেন্সিটিটা বাড়ছিলো খালি … এই ঘটনার পর সেই বিরক্তিটা প্রচন্ড রাগে টার্ন নিলো। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম যে আর যাই হোক, এই লোককে দিয়ে আমার আর কাজ হবে না। আমার মতো খুঁতখুঁতানি পাবলিকের সাথে, বলা ভালো পারফেকশনিস্ট পাবলিকের সাথে উনার মতো রিলাক্টেন্ট লোকের কি আর মিলবে? এর আগে দুই/তিন বার যেহেতু উনি প্রজেক্টর রিলেটেড বিষয়েই ডিফল্টার হয়ে গেছেন, কালকের ঘটনাটা ছিলো উনার জন্য খড়গের শেষ কোপ! গ্রুপে অনেকদিন থেকেই প্রজেক্টর কেনার কথা হচ্ছিলো, এবার সেটা করার উপযুক্ত সময় এসে গেছে। নিজেদের প্রজেক্টর নিজেরাই কানেকশন দেবো, প্রজেকশনের ঝামেলা হলে সেটা তখন নিজের ঘাড়েই বর্তাবে, নিজে ডিফল্টার হলে ‘কাজটা ঠিকমতো হলো না’ সংক্রান্ত গ্লানিবোধটাও কম হবে। অন্যের কারণে যদি নিজের কাজটা ঠিকমতো না করতে পারি, সেই দুঃখটা কীভাবে কাকে বোঝাবো? বোঝানোর উপায় নাই দেখেই শো শেষ হবার পরেও মেজাজ এমনই খিঁচে রইলো যে সেইটা স্বাভাবিকই করতে পারলাম না! গোপীর সাথে ব্রশিয়ার নিয়ে বেহুদাই ক্যাচাল করলাম, শাহরিয়ারের সাথেও শুধুশুধুই চিল্লাপাল্লা করলাম … পাভেল মঞ্জুর ভাই খুব হাসিহাসি মুখ নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করছিলো ‘কি? ছবি কি একটা দুইটা তুলেছেন আমার?’ , উনাকেও মুখ ঝামটা মেরে উত্তর দিলাম ‘ আমাকে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতে দেখসেন একবারও’? … ভাবলাম বাসায় চলে যাই, মানুষগুলার সাথে যত থাকবো ততই মেজাজ খারাপ করে আচরণ করবো, অথচ ভেতরের অস্বস্তিটা কাউকেই বোঝাতে পারবো না। সাদিকে বললাম, চল যাই … ভাবলাম যে ও সাথে গেলে অন্তত খামারবাড়ি পর্যন্ত কথাবার্তা বলতে বলতে মনের ক্ষোভ-হতাশা-অস্বস্তিগুলো ঝেড়ে ফেলা যাবে কারণ ছেলেটা অন্তত মন দিয়ে কথা শোনে … সে নাকি মোখলেসের সাথে যাবে … শুনে ‘জাহান্নামে যা’ টাইপ মনোভাব নিয়ে সিএনজি খোঁজা শুরু করলাম। এর মধ্যে সিএনজি-ও একটাও মিটারে যাবে না … সিএনজিওয়ালাদের ‘তাইলে বসে বসে মুড়ি খান’ বলতে বলতে মেজাজ আরো খারাপ হতে থাকলো … এর মধ্যে গোপী একপাশে দাঁড়ায় ছিলো, ও প্রশ্ন করে, ‘কি খোঁজেন?’ … ‘ আমার মাথা’ বলে ওকেও মুখ ঝামটা প্রায় দিয়েই দিচ্ছিলাম, সাথে সাথে নিজেকে কন্ট্রোল করলাম … একটু সময় নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে বললাম, ‘আর কি? সিএনজি!’ … ও বলছিলো যে এদিকে সিএনজি পাবেন না … বলতে বলতে একটা সিএনজি পেয়ে গেলাম … সব রাগ শেষমেশ ওই সিএনজি’র দরজার ওপর দিয়েই গেছে! সিএনজি-তে উঠে এমন জোরে দরজা লাগিয়েছি যে সিএনজিওয়ালা যেমন কেঁপে উঠেছে, আশেপাশের সবাই-ও কথা থামিয়ে দিয়ে সিএনজি’র দিকে তাকিয়েছে …

পুরোটা রাস্তা নিজের মনে গজগজ করতে করতেই ফিরলাম … খুব মনে হচ্ছিলো যে রাগের চোটে যদি কেঁদে ফেলতে পারতাম তাহলে বুকের ভেতরে জমে থাকা অস্বস্তিটা একটু হলেও হাল্কা হতো … কিন্তু সেটাও কিছুতেই হলো না … তবে বাড়ি ফেরার লম্বা পথে মনের মধ্যে গজগজ করতে থাকাটা মেজাজ খিঁচে থাকার পরিমাণ কিছুটা কমালো … আর বাসায় ফিরে শুয়েও পড়লাম তাড়াতাড়ি … নইলে বাসাতেও কি কালবৈশাখী হতো কে জানে!

আজকে সকাল থেকে ঘুম ভেঙ্গে আবার মেজাজ ফুরফুরে … খালি শরীর জুড়ে পিরিয়ডের অস্বস্তি … এবার পিরিয়ড শুরু হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের ৪/৫ দিন দেরিতে … তারওপর আবার ওষুধও শেষ হয়ে গিয়েছিলো, তাই সকালে ওষুধও খেতে পারিনি। খালি মনে হচ্ছিলো ব্লিডিং না আউট অভ কন্ট্রোল হয়ে যায়! এমনিতেই গেছি স্কলাস্টিকা স্কুলে ছবি তুলতে … সেখানে গিয়ে তো আর ঘন্টায় ঘণ্টায় প্যাড চেঞ্জ করা যাবে না! ওষুধটা খেলে তো তাও ব্লিডিং-টা কন্ট্রোলে থাকে … পরে অবশ্য খুব একটা সমস্যা হয়নি। ব্লিডিং-এর ফ্লো বাড়তে বাড়তে আমি ওষুধ কিনে খেয়ে ফেলেছি। এখন ব্লিডিং, মেন্সট্রুয়াল আবেগের আতিশয্য সবই নিয়ন্ত্রণে …

স্কলাস্টিকার কাজ শেষ করে নিশাতের বাসায় গিয়েছিলাম। লাঞ্চের পরে তৃষাও আসাতে বেশ ভালো একটা আড্ডা হলো সন্ধ্যা অবধি … আজকে আর গ্রুপের দিকেও গেলাম না … গ্রুপে সব মেয়েদের নিয়ে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির দুইদিনের একটা ইনফর্মাল ওয়ার্কশপ হচ্ছে। গেলে হয়তো ভালো হতো, কে কেমন করছে সেটা অবজার্ভ করতে পারতাম … কিন্তু শরীরে আর কুলাচ্ছিলো না যে মোহাম্মদপুর থেকে আবার কাঁটাবন যাবো, তারপর আবার রাত ১২টায় বাসায় ফিরবো! অন্তত পিরিয়ডের সময় এত দৌড়াদৌড়ি শরীরে কুলায় না মোটেই …

এই যেমন এতক্ষণ বিছানায় উবু হয়ে বসে লিখছি বলে কোমরে এমন ব্যথা শুরু হয়েছে যে এখন টানটান হয়ে শুয়ে না থাকলে এই ব্যথা যাবে না। তার মানে, আমাকে দিনযাপন লেখা এখানেই শেষ করতে হবে।

অতএব, শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s