দিনযাপন । ০৩০৪২০১৬

পরিচিত মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরগুলো খুব কাঁপিয়ে দেয় নিজেকে। মনে হয়, এই মানুষটাকে তো আমি চিনতাম, তারই যদি এরকম মৃত্যু হয় তাহলে আমার নিজেরও আসলে অস্বাভাবিক মৃত্যু হতেই পারে … যে কোনো দিন … যে কোনো মুহুর্তে …

দৃক-এর ইরফান ভাইয়ের সাথে আমার কখনো কথাবার্তা হয় নাই, এমনকি উনি আমাকে চেহারায় চিনলেও নামে হয়তো চিনতেন না। দৃকে গেলে, কিংবা পাঠশালার কোনো প্রোগ্রামে উনাকে দেখতাম। কিন্তু, মুখ চেনা হিসেবেও তো উনি পরিচিতের তালিকাতেই পড়েন। গতকালকে ফেসবুকে পোস্ট দেখছিলাম উনি নিখোঁজ, আর আজকে খবর পেলাম উনি মৃত! গতকালকে সকালে ধানমণ্ডি ৮ নাম্বারে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে গিয়ে লাপাত্তা হয়েছিলেন, এবং বিকাল ৫টা সময় নাকি নারায়ণগঞ্জ –এর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার এক ঝোপ না জলাশয় থেকে ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে উনার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ! আজকে সকালে সেটাকে ইরফান ভাইয়ের দেহ হিসেবেই আইডেনটিফাই করা হয়েছে। অটোপসি রিপোর্ট বলে যে উনি শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। এখন, নিজে নিজে তো আর কেঊ কারো শ্বাসরোধ করতে পারে না, সেটা কাঊকে করতে হয় … তারমানে এটা খুন হবার সম্ভাবনাই প্রবল! … ডাচ-বাংলার বুথ থেকে উনি বিরাট অঙ্কের টাকা তুলতেই গিয়েছিলেন, তাও দৃকের টাকা! আর সেই টাকার জন্যই হয়তো উনি কিডন্যাপড হয়েছেন, এবং তাকে মেরেও ফেলা হয়েছে!

কি অদ্ভুত আমাদের জীবন! … কি অদ্ভুত আমাদের সমাজ! … ঘর থেকে বের হয়ে দিনশেষে ঠিকঠাক বাড়ি ফিরে আসবো কি না সেটাই আমরা জানি না! … ঘরের ভেতরেই বা নিরাপত্তা কোথায়? …

রিসেন্টলি চারদিকে এত খুন-খারাবি, ছিনতাই, রেইপ, হ্যারাসমেন্ট এইসবের খবর দেখি আর শুনি, নিজেরই অসহায় লাগতে থাকে … খালি মনে হয়, কে জানে, নেক্সট ভিকটিম-টা আমি কি না? … কারো জানমালের কোনো নিরাপত্তাই কি আছে?

রাতের বেলা একা একা সিএনজি-তে করে বাসায় ফিরতে গিয়ে বেশ ভয় লাগে আমার … খামারবাড়ি পর্যন্ত সাদি সাথে থাকলে ওইটুকু সময় বেশ কথা-বার্তা বলতে বলতে কেটে যায় … কিন্তু তারপরের পথটুকু যখন একা হয়ে যাই, তখন মনে হতে থাকে যে যদি রাস্তায় এখন বাস বা ট্রাকের সাথে একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যায়, তাহলে কি হবে? কিংবা এমন যদি হয় সিএনজিওয়ালার কোনো বদ মতলব থাকে? যদি সে নির্জন কোনো রাস্তায় নিয়ে গিয়ে সিএনজি থামিয়ে দলবল নিয়ে এসে হাইজ্যাকিং করে? কিংবা কোনোরকম ভায়োলেন্সও যদি হয়, তখনই বা কি হবে? … এইসব নানাবিধ চিন্তা করতে করতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দিতে শেষে বাসায় পৌঁছাই …

খুব অসহায় লাগে সময়ে সময়ে … এই অসহায় লাগার অনুভুতি কিভাবে কাটানো যায় সেটার কোনো উপায় পাইনা দেখে আরো অসহায় লাগে! …

IMG_9141 (2)

যাই হোক, এবার একটু বাস্তবে ফিরে আসি …

যা বুঝতেসি, তাতে আগামী ১৩ তারিখ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দিন না হয়ে ৪৮ ঘণ্টায় দিন হলেও হয়তো কম মনে হতো! … একদিকে স্কুল আর জাপানিজ স্টাডিজের ব্যস্ততা তো আছেই … তার সাথে থিয়েটারের ব্যস্ততাও যোগ হয়েছে … নিজের দলে নিজের পারফর্মেন্সওয়ালা শো আছে … আবার আরেকজায়গায় বাচ্চাদের একটা মিউজিক্যালে অভিনয়ের অংশটুকু নিয়ে কাজ করাবো, সেটার ব্যস্ততাও আছে। ওহ! টিউশনির কথা তো বাদই দিলাম! এতকিছুর ভেতরে ওইটা যে কিভাবে ম্যানেজ করবো আল্লাহ খোদাই জানে! ঘটনা হচ্ছে, সুরের ধারা নামে যে একটা নাচ-গানের স্কুল আছে, ওখানে চৈত্র সংক্রান্তির প্রোগ্রামে বাচ্চারা ‘হিংসুটে দৈত্য’ গল্পটার একটা মিউজিক্যাল করবে … নাচ আর গানের সাথে সাথে ছোটো ছোটো কিছু অ্যাক্টিং-এর জায়গা আছে, ওইগুলা নিয়ে কাজ করতে হবে। কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না! সময়টাই সবচেয়ে বড় সমস্যা! ওদের রিহার্সাল শুরু হয় ৫টার দিকে … আর আমার যেদিন যেদিন মাস্টার্সের ক্লাস সেদিন তো ভার্সিটিতেই থাকতে হবে সাড়ে ৫টার মধ্যে! … আমি অবশ্য কথা বলে নিয়েছি যে কাজ করাবো ৪টা থেকে ৫টা, সর্বোচ্চ সাড়ে ৫টা পর্যন্ত … তারপর ভার্সিটির ক্লাস … সেখান থেকে গ্রুপ … ১২ তারিখে আবার গন্ডার-এর শো … মানে, সবকিছু কেন জানি একসাথেই পড়তে হয়! … গন্ডার নাটকটার শো হয় না, হয় না, এই মাসেই এই ১২ তারিখেই হতে হবে? … এমনিতেই জান যায় যায় অবস্থা, এর মধ্যে গন্ডারের শো ! … ওইটার রিহার্সালেও তো অন্তত তিনদিন সময় দিতে হবে … রিহার্সালের টাইমটাও আসলে সমস্যা না … কিন্তু দেখা যাবে ১২ তারিখে শো-এর কারণে জাপানিজ স্টাডিজের ক্লাস বাদ যাবে, আবার ১৩ তারিখেও একটা ক্লাস বাদ যাবে, কারণ ওইদিন সুরের ধারার প্রোগ্রাম … পরপর দুইদিন ক্লাস মিস গেলে অ্যাটেনডেন্স-এর পার্সেন্টেজ তো কমবেই … তারচেয়ে বড় কথা, ১২ তারিখে হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস … এই ক্লাস মিস দিলে আবার ল্যাঙ্গুয়েজ-এ পিছিয়ে যাবো অন্যদের চেয়ে! …

উফ! প্যারা মানে প্যারা! … বিবিধ দিক থেকে বিবিধ রকমের প্যারা নিয়ে আগামী ১৩ তারিখ পর্যন্ত চলতে হবে …

এর মধ্যে আমি টিউশনিতে যাবো কখন? …

এর মধ্যে পড়ালেখা করবো কখন? …

একবার ভাবছিলাম গন্ডার-এর পারফর্মেন্সটা করবো না বলে দেই … কিন্তু এই একটা নাটকেই তো অভিনয় করি, আর তারচেয়ে বড় কথা এইটার সাবস্টিটিউট-ও কেউ রেডি নাই … সো, নিজের স্বার্থে গ্রুপের কাজকে না করাটা আসলে খুব ইম্প্রেসিভ কিছু হবে না … এ পর্যন্ত কখনোই তো আসলে এই প্র্যাকটিসটা করি নাই … সো, আলটিমেটলি … ক্লাস বাদ দেয়ার পেইনটা নিয়েই পারফর্মেন্সটা করবো …

এদিকে, জাপান স্টাডি সেন্টার থেকে নাকি এই শুক্র-শনি-রবি স্টাডি ট্যুরে যাবে … কুষ্টিয়ায় … আজকে মিটিং হয়েছে সেটার … কালকে ক্লাসে গেলে ডিটেইল জানতে পারবো … কিন্তু, ওখানেও কিন্তু যেতে পারবো না … এই ১২ তারিখের মধ্যেই কেন এইটাও হতে হবে? …

আরও যে কি কি এসে জুটবে ঘাড়ের ওপর আগামী কয়েকদিনে! … ভাবতেই ভয় লাগছে! …

আবার, ১৪, ১৫, ১৬ ঢাকা থেকে পালিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবো এরকম একটা প্ল্যান হয়ে আছে … উত্তরবঙ্গের দিকে যাবো … সো, ১৩ তারিখ ব্যস্ততা শেষ হবার পরেও দৌড়াদৌড়ি আসলে ১৬ তারিখ পর্যন্ত! … ধরে নিচ্ছি যে ১৮ তারিখে গ্রুপের কিনু কাহারের থেটার-এর শো এর পর একটু দম ফেলার ফুরসৎ পাওয়া যাবে …

ভাবছিলাম যে আমি নিজেই পড়ালেখার ব্যস্ততার জন্য মে মাসের পরে টিউশনিটা ছেড়ে দেবো … মানে স্টুডেন্টটার এই টার্মটা শেষ হলে আর কি … কিন্তু যা অবস্থা দাঁড়াচ্ছে, তাতে উনারা নিজেরাই বোধহয় ফেড আপ হয়ে বলবে যে ‘আপনার আর আসার দরকার নাই!’ … অবশ্য বিভিন্ন কারণে আমার এমনিতেও টিউশনিটা থেকে মন উঠেই যাচ্ছে … সো, টিউশনিটা না থাকলেই বরং একটু কম স্ট্রেসড ফিল করবো … যেই কাজ বোঝা মনে হয়, সেই কাজটা আমি কেন জানি কখনোই আর মন থেকে করতে পারি না …

মাঝে মাঝে মনে হয়, একেবারে ঘোষণা দিয়ে সব কাজ ছেড়েছুড়ে দিয়ে আগামী দুই বছর খালি স্কুলের চাকরি আর পড়ালেখাটা করি! … খাতা কিনে রেখেছি ক্লাসের লেকচারগুলো থেকে নোট তৈরি করবো বলে … ওইগুলা নিয়ে বসবার সময়ই তো পাচ্ছি না! …

যাই হোক, এখন ঘুমাতে যাই … বহুত প্যাচাল পাড়লাম …

Advertisements

One response to “দিনযাপন । ০৩০৪২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s