দিনযাপন । ০৭০৪২০১৬

তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসতে পারলে এখন বেশ উপকার হয় … টুকটাক অনেক কাজ সেরে ফেলা যায় … আর এমনিতেও যেই গরম বাইরে, সারাদিন ছুটোছুটি করার আসলে এনার্জিও থাকে না … আমি তো পারলে স্কুল শেষ করেই বাসায় ফিরে আসি! … সেই উপায় যেহেতু নাই, তাই অন্তত সন্ধ্যায় ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে গ্রুপে না গিয়ে সরাসরি বাসায় চলে আসার চেষ্টা করি মাঝে মাঝে … যেমন আজকে করলাম …

এই গরমের মধ্যে সারাক্ষণ মনে হয় ঠান্ডা পানির মধ্যে নিজেকে চুবিয়ে রেখে বসে থাকি! এসি-তে থাকার বিষয়টা আমার খুব একটা পছন্দ না, কারণ এসি থেকে বের হবার সাথে সাথে গায়ে যে গরমের হল্কা লাগে সেইটা বরং আরো অসুস্থবোধ করায়। বাতাসটা একটু ঠাণ্ডা হলেই যথেষ্ট … দেখা যায় যে ঘরের বাইরেই বরং বাতাস বেশি, আর ঘরের ভেতর কেমন গুমোট একটা গরম হয়ে থাকে। আর সিএনজি’র ভেতর তো মনে হয় সেদ্ধ হচ্ছি! …

বাসায় ঢুকেই মনে হয় কাপড়-চোপড় গায়ে দিয়েই শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে যাই! … গোসলটা করার পরেই যা একটু শান্তি … গোসল করে বের হয়ে এসে ফ্যানের নিচে দাঁড়ালে মনে হয় এর চেয়ে শান্তি আর পৃথিবীতে নাই! … ভেজা চুলে আরো গরম লাগে বলে স্ট্যান্ড ফ্যান চালিয়ে চুল শুকানোর ব্যবস্থা করেছি … নইলে ভেজা চুল ছেড়ে বাসা থেকে বের হই আর মনে হয় গরমে আরো সেদ্ধ হচ্ছি! …

যাই হোক, গরমের প্যাচাল কম পেড়ে আজকের দিনযাপনে একটা ইন্টেরেস্টিং স্মৃতিচারণ করি! … পুরানো ডাইরি ঘাটছিলাম সন্ধ্যায় বসে … মূল উদ্দেশ্য ছিলো স্কুল লাইফে মিন্নি’র জন্মদিন নিয়ে আজকের দিনে কিছু লিখেছিলাম কি না সেটা দেখতে … সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা থাকলে সেটা শেয়ার করবো, এরকমই উদ্দেশ্য ছিলো … মিন্নিকে নিয়ে তেমন এন্ট্রি পেলাম না, কিন্তু ২০০০ সালের ডাইরি এন্ট্রিটা আমাকে একটা ইন্টেরেস্টিং ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিলো …

২০০০ সালে যখন ঘটনাটা ঘটিয়েছিলাম, এবং সেটা সম্পর্কে লিখেছিলাম, তখন হেভি সিরিয়াস ছিলাম বিষয়টা নিয়ে … আর আজকে ২০১৬ সালে এসে সেটা পড়তে গিয়ে ওইসময়কার কথা মনে করে খুব হাসলাম … আর মনে হলো, আমাদের ছোটোবেলাগুলো কি সরল থাকে! আর বয়স বাড়ার সাথে সাথে সবকিছু কেমন জটিল হয়ে যায় … যেমন,  যেই ঘটনাটা ওইসময় ১৪ বছর বয়সে ঘটেছিলো, সেই একই ঘটনা এই ৩০ বছর বয়সে এসে প্রায় একইরকমভাবে ঘটতেই পারতো, কিন্তু তার কন্টেক্সট কিন্তু ছোটোবেলার মতো সরল থাকতো না!

যাই হোক, ঘটনাটা বলি …

এই ৭ এপ্রিলেই, ২০০০ সালে, একটা আর্ট কম্পিটিশন-এ গিয়েছিলাম … ওইসময় আইসিসি ক্রিকেট উইক ২০০০ টাইপের একটা কিছু চলছিলো, সে উপলক্ষ্যেই কুইজ কম্পিটিশন, আর্ট কম্পিটিশন এসব বিভিন্ন আয়োজন ছিলো … তো, আর্ট কম্পিটিশন যেহেতু আইসিসি ক্রিকেট উইক নিয়ে, তো সেখানে আবার ওইসময়কার ক্রীড়ামন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, অইসময়কার আইসিসি প্রেসিডেন্ট ডালমিয়া, শ্রীলঙ্কার দুই প্লেয়ার সানাথ জয়সুরিয়া আর চামিন্দা ভাস গিয়েছিলো গেস্ট হিসেবে। জয়সুরিয়া, ভাস এদেরকে টিভিতে খেলতে দেখি, আর ওখানে একেবারে চোখের সামনে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে দেখছি – এক্সাইটমেন্টটাই ছিলো অন্যরকম … স্কুলে গিয়েই পরদিন এবং পরবর্তী ৬ মাস খুব বগল বাজিয়ে বলবো, ‘জানিস, আমি জয়সুরিয়া আর ভাস-কে সামনা-সামনি দেখেছি, অটোগ্রাফ নিয়েছি!’ টাইপ এক্সাইটমেন্ট … ডালমিয়া, জয়সুরিয়া, ভাস প্রত্যেকেরই অটোগ্রাফ নিয়েছিলাম। এখনো আছে বোধহয় … অনেক পুরানো একটা ফাইলে থাকার কথা … সেই ফাইলটাই অবশ্য হাতের কাছে নাই … কোনো একটা বস্তার মধ্যে আছে মনে হয় …

অটোগ্রাফের সাথে ভাস একটা খুব সুন্দর কথা লিখেছিলো – “ Climb every mountain/ Cross every sea/ And follow every rainbow/ Until you find your dream” …

ঘটনা কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা নর্মালি! … কিন্তু সেটা হয় নাই! …

হয় নাই … তার কারণ তখন আমার মাথার মধ্যে একটা দুষ্টু বুদ্ধি চেপেছিলো! … একেবারেই বয়সসুলভ সরল-সোজা দুষ্টুবুদ্ধি বলা যায়! …

তার আগের একটু কাহিনী বলি … সেসময় আমি সাউথ আফ্রিকা’র ডাই হার্ড ফ্যান … তো, ওই আইসিসি উইকে বাংলাদেশ যেহেতু মূল ভেন্যু ছিলো, সেখানে এশিয়া একাদশ বনাম বিশ্ব একাদশ দল করে একটা ওয়ান ডে হয়েছিলো। তো, সেখানে তো সাউথ আফ্রিকার প্লেয়ারও এসেছিলো দুই-একজন। কে কে এসেছিলো আমার ঠিক মনে নাই। ক্যালিস এসেছিলো মে বি, আর সাথে আরেকজন … তো, যাই হোক, আমি চিন্তা করছিলাম, জয়াসুরিয়া, ভাস এরা যখন এত কাছে আছেই তখন প্রিয় দলের প্রিয় খেলোয়াড়দের নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে একটা চিঠি দিলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমনই কাজ করেছিলাম। জন্টি রোডস, শন পোলক এদের উদ্দেশ্য করে একটা দুই পাতার আবেগে গদ্গদ চিঠি লিখে ফেললাম … নিজের বাসার ঠিকানাও দিয়ে দিয়েছিলাম যতদূর মনে পড়ে! যদি তারা চিঠি পেয়ে উত্তর দেয় এই ভাবনা থেকেই ঠিকানা দেয়া। তখন তো মোবাইল ফোন ছিলো না। ল্যান্ড ফোনও সবার ঘরে ঘরে থাকতো না। ফলে ঠিকানাটাই ভরসা ছিলো। তো সেই চিঠি লিখে আমি ভাসের হাতে দিয়ে দিয়েছিলাম, যাতে সে সাউথ আফ্রিকান প্লেয়ারদের কাছে এই চিঠি দিয়ে বলে জন্টি রোডসদের কাছে পৌছিয়ে দিতে!

চিঠিটা ভাস মৃদু হেসে তার পকেট পর্যন্ত ঢুকিয়েছিলো, এইটুকুই আমি জানি … সেই চিঠি আদৌ কারো হাতে গিয়েছিলো কি না সেটা জানি না! …

চিঠি পেয়েছিলো কি পায়নি সেই হিসাব এখন আসলে অনেক গৌণ ! এরকম একটা ঘটনা ঘটিয়েছি, সেটাই মুখ্য! এই একই ঘটনা আজকে ঘটলে কি হতো? আমি ভাস-দের অটোগ্রাফ নেয়ার সাথে সাথে তাদের সাথে সেলফি তুলতাম, নইলে কাউকে বলে ওদের সাথে ছবি তুলতাম, তারপর ওদের ইমেইল অ্যাড্রেস নিতাম, ফেসবুক আইডি’র কথা জিজ্ঞেস করতাম! … আর সাউথ আফ্রিকান প্লেয়ারদের কাছে চিঠি পাঠালে তাদেরকে আমার ইমেইল অ্যাড্রেস, ফেসবুক শুদ্ধা সবকিছুর অ্যাড্রেস/লিঙ্ক দিয়ে দিতাম! কিন্তু ওই সময় এক চিঠি আর ল্যান্ড ফোন ছাড়া মানুষের যেহেতু যোগাযোগের আর মাধ্যম ছিলো না, তাই এক্সাইটমেন্ট-ও ছিলো বেশি! …

ঘটনাটা তো আমি ভুলেই গিয়েছিলাম! এতদিন পরে ডাইরিটা পড়তে গিয়ে আবার সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠলো!

FB_20160403_12_38_25_Saved_Picture

বাই দ্য ওয়ে, ১২ তারিখে গন্ডারের শো-টা করবো না বলে দিলাম। মুখে বলার সাহস পাইনি, তাই প্রডাকশন ম্যানেজারকে মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছি … ১২ তারিখে একসাথে এতকিছুর স্ট্রেসটা আর নিতে চাইছিলাম না … আর যাই হোক, ক্লাসটা তো করতে হবে! … ওইদিন থেকে আবার লেসন শুরু হবে, সো, ওই ক্লাস বাদ মানেই পরের ক্লাসের জন্য দুই ক্লাস পিছিয়ে যাওয়া! … আর এই উইকে অলরেডি দুইদিন ক্লাস মিস হয়ে গেছে, নেক্সট উইকে তো ক্লাস করতেই হবে সবগুলা কোর্সের … ১২ তারিখে সুরের ধারার প্রোগ্রামের টেকনিক্যাল, কিন্তু এক ফাঁকে আমি ক্লাস করে গিয়ে জয়েন করতে পারবো। কিন্তু যদি শো করি, তা হলে তো ক্লাশ, টেকনিক্যাল সবই বাদ যাবে! তারপর ভেবে দেখলাম, কমিটমেন্ট এবং দিন বন্টনের হিসাবে সবচেয়ে আগে আসে ক্লাশ, তারপর সুরের ধারার প্রোগ্রাম, তারপর গণ্ডারের শো। কারণ গণ্ডারের শো এর ডেট পাওয়ার তিনদিন আগেই আমি সুরের ধারায় কাজ করানোর বিষয়টা কনফার্ম করে ফেলেছি। আর ক্লাসের ইম্পোর্টান্স তো বলাই বাহুল্য!

কালকে সন্ধ্যায় মেসেজ পাঠানোর পর অবশ্য আজকে সকাল অবধি ভালো-মন্দ কোনো রিপ্লাই আসেনি। দুপুরে একটা কল এসেছিলো, কিন্তু তখন স্কুলে ছিলাম বলে ধরতে পারিনি। যে ফোন করেছিলো তার সাথে পারতপক্ষে কথা না বলে থাকতে পারলেই বাঁচি কারণ তার সাথে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন কারণে আমার অস্বস্তি হয় … আমি আসলে মন খুলে কথা বলতে পারি না …

যাই হোক, কোনোকারণে দিনযাপন পড়ে থাকলে উনি হয়তো বুঝবেন কেন আমি তাকে ফোন না করে মেসেজ পাঠিয়েছি, আর উনার মিসড কলটাও ব্যাক করি নাই …

এখন আমাকে ঘুমিয়ে পড়তে হবে … কালকে প্যারেন্টস-টিচারস মিটিং … সকালবেলা সাড়ে ৮টার মধ্যে স্কুলে থাকতে হবে! … তারপর আবার সারাদিন সুরের ধারার প্রোগ্রামের রিহার্সাল, টিউশনি  এসবের দৌড়াদৌড়ি … সন্ধ্যায় গ্রুপে যেতে পারি, যদি শরীরে কুলায় … সো, এখন একটা ভালো ঘুম দিতে হবে …

ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাসের ধারা অব্যাহত রাখতে এখন পড়ছি আলবেয়ার কামু’র দ্য আউটসাইডার-এর অনুবাদ … কেমন লাগছে পড়তে সে বিষয়ে আরেকদিন অনেককিছু লিখবো …

আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s