দিনযাপন । ১২০৪২০১৬

আমার এখন মনে হচ্ছে গরমে এবং ব্যস্ততায় নাজেহাল অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার জন্য কোথাও হাওয়া হয়ে যাই! … কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে গেলেও সমস্যা নাই! খালি একটা এসি রুমে রাখলেই হলো! …

গত কয়েকদিন যাবত আমার রুটিন কেমন? … সকালবেলা স্কুল … দুপুরে সুরের ধারার কাজ … সন্ধ্যায় ক্লাস … আর সেই সাথে গরমের যন্ত্রণা তো আছেই! … আবার যেদিন ক্লাস নেই, সেদিন টিউশনি … এইটা ঠিক যে এতকিছুর মধ্যে সুরের ধারার কাজটার মধ্যেই প্যানা কম, আর ৪টায় শুরু হয়ে ৬টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় … আমিও সাড়ে ৫টা পর্যন্ত থাকলেই হয় … কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে কাজটা না থাকলে ওই সময়টাতে তো আমি অন্য কোথাও গিয়ে এই গরমে একটু বিশ্রাম নিতে পারতাম … সেটা আর হয় না … স্কুল শেষ করেই কোনোরকমে কোথাও লাঞ্চ করে দৌড়াই লালমাটিয়ায় … সেখান থেকে ভার্সিটি … এর মধ্যে দুইদিন যেমন আবার গ্রুপেও গেলাম … আজকে গন্ডারের শো হলো, সেখানে মেবিন মিসেস বফ ক্যারেক্টারটা করছে, মানে যেটা আমি এর আগের কয়েকটা শো করেছি … মেবিনকে ক্যারেক্টারটা তুলতে হেল্প করার জন্যই যাওয়া … ও এমনিতেই ভালো পারফর্মার, আর এই ক্যারেক্টারটার সাবস্টিটিউট মেবিন হওয়ায় আমি খুশিও হয়েছি … সো, ওকে হেল্প করতেও আমার নিজের থেকেই গরজ কাজ করেছে … এইখানে প্যানা দেয়ার মতো কিংবা নিজ দায়িত্বে প্যানা ঘাড়ে নিয়ে নেবার মতো বিরক্তিকর কেউ থাকলে হয়তো আমার আর তাকে হেল্প করতেই ইচ্ছা করতো না! … অন্তত এইরকম প্যানাদায়ক রুটিন, অসহ্য গরম, আর কাহিল শরীরের মধ্যে তো নয়ই …

এর মধ্যে হয়েছে পিরিয়ড … এম্নিতেই তো পিরিয়ডের সময় শরীরের শক্তি বলতে কিছু থাকে না, এই গরমের মধ্যে পিরিয়ড হওয়াটা তো আরো যন্ত্রণাদায়ক! … প্রথম দুইটা দিন অন্তত ঘরে বসে থাকতে পারতাম, তাহলে ভালো লাগতো …

এই যে এখন সারাদিনের দৌড়াদৌড়ি করে এসে বসে বসে লিখছি, কোমরটা মনে হচ্ছে ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে …

আজকে সকালেই ভাবছিলাম, শো-টা করতে পারি নাই, একদিক দিয়ে ভালো হয়েছে … শরীরের এই অবস্থায় না পারতাম নাচতে, না পারতাম স্বস্তি নিয়ে অ্যাক্টিং করতে! … উফ! একবার গন্ডারের শো-এর সময় পিরিয়ড চলছিলো, আর সেই অবস্থাতেই নাচানাচি করেছিলাম, আর তারপর শো-এর আধা ঘণ্টা আগে কেমন গলগল করে দলা দলা ব্লিডিং হওয়া শুরু করলো! … আমি ভাবছিলাম যে শো-ই বোধহয় করতে পারবো না! … আধা ঘণ্টার মধ্যে তিন/চারবার প্যাড চেঞ্জ করতে হয়েছিলো … কিছুটা সময় পরে আবার ব্লিডিং স্বাভাবিক হলো … তখন তো আর জানতাম না যে আমার টিউমার আছে আর টিউমারের কারণেই এটা হচ্ছে …

তবে পজিটিভ দিক এইটাই যে পরশুদিন যে ট্যুরে যাচ্ছি, তার আগে অন্তত এই যন্ত্রণার অনেকটাই কমে যাবে … অন্তত ঘণ্টায় ঘন্টায় স্যানিটারি প্যাড চেঞ্জ করার জায়গা খুঁজতে হবে না! … এমনিতেই বাসে যাবো, প্রায় ৮/১০ ঘণ্টা জার্নি হবে … এর মধ্যে এই পিরিয়ড সংক্রান্ত প্যানা থাকলে মনে হয় ট্যুর-ই ক্যান্সেল করে দিতাম …

FB_20151227_19_11_05_Saved_Picture

যাই হোক … কালকে অনেক দৌড়াদৌড়ি … আজকে তো তাও স্কুলের ডে-অফ আর ভার্সিটি’র সুবাদে কিছুটা হলেও রিলাক্সড দিন কাটালাম … কিন্তু কালকে যে কোথা থেকে কোথায় যাবো তার ঠিক নাই! … ব্যাংকে গিয়ে টাকা-ই তুলবো, নাকি নেসার আঙ্কলের কাছে ব্লাউজ বানাতে দিবো, নাকি স্কুলের ক্লাস-ই নিবো, না পরশু দিনের জন্য দুইটা ট্র্যাভেল পিলো কিনবো … এর মধ্যে আবার ৩টার দিকে চিন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে যেতে হবে … ওখানে কালকে সুরের ধারার প্রোগ্রাম … নাটকের কাজ করালাম কয়েকদিন, এখন শো-এর দিন যাবো না? …

ঠিক করেছি যে উত্তরবঙ্গের ট্যুর থেকে ফিরে এসে একটা জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস আপডেট দেবো ফেসবুকে, এই মর্মে যে আগামী কয়েকটা মাস, অন্তত আগামী একটা বছর আমি খালি স্কুলের চাকরি আর ভার্সিটির পড়ালেখা ছাড়া আর কিছুর মধ্যে ফিজিক্যালি ইনভল্ভড থাকবো না … এই সেশন শেষ হলে টিউশন-টাও ছেড়ে দেবো … মাথার ওপর এত প্রেশার নিয়ে আর যাই হোক, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা হয় না … কিন্তু আমি তো আগামী দুইটা বছর পড়াশোনার কাজটাই মনোযোগ দিয়ে করতে চাই …

এবার একটা দিনের জন্যও চারুকলা এলাকায় বৈশাখের প্রিপেরেশান দেখতে যাওয়া হলো না! … সময়ই মেলাতে পারলাম না … কালকেও তো পারবো না … গত বছর আর তার আগের বছরের চৈত্র সংক্রান্তির দিনগুলি অনেক ইভেন্টফুল ছিলো …  পিরিয়ডের যন্ত্রণা না থাকলে হয়তো চিন-মৈত্রীর প্রোগ্রাম শেষ করে কালকে চারুকলা, বুয়েট এইগুলা ঘুরে আসতাম … কিন্তু সেই রিস্ক এইবার আর নিচ্ছি না … এইসব জায়গায় ওয়াশরুম একটা ফ্যাক্টর … ওয়াশরুমে না হয় না গেলাম, ইউরিনের প্রেশার না হয় চেপে রাখলাম, কিন্তু অত লম্বা সময় প্যাড চেঞ্জ না করে তো আর থাকতে পারবো না … আর চারুকলা বা বুয়েট দুইটারই বাথরুমের যা অবস্থা … যেতেই তো ইচ্ছা করে না! …

সো, এবারের মতো বৈশাখের সমস্ত প্রিপেরাশান থেকে আমি বহুদূরে … কালকে সন্ধ্যায় চারুকলায় চৈত্র সংক্রান্তির প্রোগ্রাম-ও মিস করবো …

উৎসাহের জায়গা এক্টাই যে পরদিন ঘুম থেকে উঠেই ট্যুরে যাচ্ছি তিনদিনের জন্য … শহর থেকে দূরে … কোলাহল থেকে দূরে … বেঁচে থাকলে ১৭ তারিখ ফিরে আসবো! …

কি আর লিখবো আজকে! … কিছুই ভালো লাগছে না … শরীরে এসি ফিট করতে পারলে মনে হয় ভালো লাগতো! … ইচ্ছামতো এয়ার কন্ডিশন করিয়ে নিতাম! …

সেই উপায় যেহেতু নাই, সো কি আর করা … এই দুঃসহ গরমের মধ্যেই ঘুমানোর প্রস্তুতি নেই! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s