দিনযাপন । ১৯০৪২০১৬

গত পরশু রাতে দিনযাপন লিখতে বসে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম … কালকেও খুব টায়ার্ড ছিলাম …স্কুলের বৈশাখী মেলা … বিকালে ক্লাস … তারপর গরমের মধ্যে সেদ্ধ্ব হয়ে দেড় ঘণ্টা লাগায় বাসায় ফেরা … ফলে কালকে রাতে ঘুমিয়ে গেছি তাড়াতাড়ি … সেজন্য আজকে সকাল সাতটা সময় উঠে মহাসমারোহে দিনযাপন লিখতে বসেছি …

উদ্দেশ্য, গত তিনদিনের উত্তরবঙ্গ ট্রিপের একটা সামারি লিখে ফেলা … ১৪ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল একটা বেশ ভালো ট্রিপ হলো … দিনাজপুর , নীলফামারী আর রংপুর … স্বভাবতই আলসেমিজনিত কারণে উত্তরবঙ্গের এই ট্যুরের ডাইরি কখনোই লিখে ওঠা হবে না … বিগত ট্যুরগুলোর মতো ঘটনাগুলো, স্মৃতিগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, তাই একটা সারসংক্ষেপ লিখে রাখা আর কি! …

অনেকদিন পর একটা রিফ্রেশিং ট্যুর হলো … কাজের চাপে, পড়াশোনার টেনশনে, থিয়েটারের ব্যস্ততায় আর কয়েকদিন গেলেই ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ টাইপ অবস্থা হয়ে যাচ্ছিলো … সে সাপেক্ষে এই ট্যুরটা মাথা থেকে সব বের করে দিয়ে আবার নতুন করে সাজিয়ে গুছিয়ে শুরু করার জন্য একটা ভালো ব্রেক হিসেবে কাজ করেছে …

যাই হোক, প্লেনে যাবার পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছিলাম … কিন্তু এপ্রিলের ১/২ তারিখের দিকেই দেখা গেলো যে ঢাকা- সৈয়দপুরের কোনো প্লেনেই আমাদের পছন্দমতো তারিখে ফাঁকা নাই! না যাওয়ার, না আসার! … শেষমেশ, যাবোই যখন আরাম করেই যাই চিন্তা করে আমরা এসি বাসের টিকিট কাটলাম। ১৪ তারিখ সকালের টিকিট … সুরের ধারার কাজটা না থাকলে তো ১৩ তারিখেই রওয়ানা দিয়ে দিতে পারতাম। ওই কাজটার কারণেই ১৪ তারিখ সকালে যাওয়া। … আরাম আর কিছুই হলো না … একে তো জ্যাম, তার ওপর এসি বাস তো এমনিতেই আস্তে চালায়, এর মধ্যে এসি বাসের মধ্যে প্রচণ্ডরকমের সাফোকেশন শুরু হলো … আমি তাও এদিকওদিক নড়েচড়ে বসে, জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে কন্ট্রোলে রাখলাম, নিশাত পারলো না … দুইবার বমিও করলো … তারপর ১২ ঘণ্টার মতো জার্নি করে শেষমেশ যখন দিনাজপুরে নামলাম, তখন রাত সোয়া ৯টা বাজে! ওইদিন রেস্ট হাউজে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে কোনোমতে একটু খেয়ে দেয়ে তারপর ঘুমিয়েই গেছি, আর কিছুই হয়নাই …

পরের দিনটা বেশ ভালো গিয়েছে … সকাল সকাল বের হয়ে গেছি … নিশাত, আমি আর নিশাতের চাচাতো ভাই তারেক … তারেক দিনাজপুরেই থাকে, আমাদের সাথে জয়েন করলো … আমরা পল্লী বিদ্যুত সমিতির রেস্ট হাউজে ছিলাম, ওখান থেকেই ঘুরাঘুরির জন্য গাড়িও পেলাম … তো, সকালে রামসাগর দীঘি-তে যাওয়া হলো প্রথমে, সেখান থেকে রুদ্রপুর নামে একটা জায়গায় দীপশিখা নামে একটা সংস্থার একটা স্কুল দেখতে গেলাম … তবে রুদ্রপুর না বলে বিরল বললে জায়গাটা ভালো চেনা যায় …স্কুলটা জার্মান একজন আর্কিটেক্ট-এর ডিজাইন করা, মাটি আর বাঁশের তৈরি … গরীব বাচ্চাদের জন্য লেখাপড়া, ভোকেশনাল ট্রেনিং-এর স্কুল … পুরো পরিবেশটাই এত সুন্দর! আমরা মোটামুটি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম … নিশাত আগেই বলেছিলো এই স্কুলটাতে যাওয়ার কথা … সো ওখানে যাবো সেই প্ল্যানটা ঢাকায় থাকতেই করা ছিলো … গিয়েই মনে হলো আমাদের প্ল্যান সার্থক … ওহ! স্কুলটায় যাওয়ার পথে আমরা আবার একটা মেলাতেও নেমেছিলাম … দিনাজপুর মাঠে একটা বৈশাখী মেলা হচ্ছিলো … তবে আমরা যখন গিয়েছি, সকাল ১১টার দিকে, তখন মেলা ঠিকমতো বসেও নাই … দুই তিনটা স্টল খুলেছে মাত্র … ওখান থেকেই টুকটাক কেনাকাটা হয়ে গেলো … গলার মালা, মাটির ফল-পাখি …

ওইদিন দুপুর বেলা আমাদের একটা বিয়ের দাওয়াত-ও অ্যাটেন্ড করা হয়ে গেলো! রেস্ট হাউজের বাবুর্চির ছেলের বিয়ে ছিলো, তাই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা ওখানেই হয়ে গেলো! …

ওইদিন দুপুরের পরেই আমাদের নীলফামারী নামিয়ে দিয়ে গাড়ি সৈয়দপুর যাবে, এরকম একটা প্ল্যান ছিলো। পরে তারেক যোগাযোগ করে একটা গাড়ি ম্যানেজ করলো, তাই আমরা আর জিএম আঙ্কেলের গাড়িতে গেলাম না … দুপুরের পরে বের হয়ে আমরা দিনাজপুরের একটা পুরনো রাজবাড়িতে গেলাম, সেখান থেকে কান্তজিউ মন্দির … কান্তজিউ মন্দির তো এতকাল ছবিতেই দেখে আসছি আর গল্প শুনেছি … ছবিতে খোলা মাঠের ওপর মন্দির দেখে যেরকম ভিজ্যুয়াল দেখার এক্সপেকটেশন ছিলো আর যা দেখলাম তাতে যারপরনাই হতাশ লাগলো! … কান্তজিউ মন্দিরের রিনোভেশন চলছে … আর রিনোভেশনের নামে আমাদের দেশে হেরিটেজ সাইটগুলো যেভাবে নষ্ট করা হয়, সেইটাই হচ্ছে আর কি! … মন্দিরের অনেকটাই এখন দেখার জন্য বন্ধ করে রেখেছে, নিচের অংশটা সিমেন্ট দিয়ে বাধাচ্ছে, চারপাশে ধর্মশালা বানাচ্ছে! … এই জায়গাটার প্রকৃত সৌন্দর্যের কিছুই এখন নাই! … আমি খুব মন খারাপ করে নিশাতকে বলছিলাম যে কবে জানি দেখা যাবে মন্দিরের টেরাকোটার ফিগারগুলা একেকরকম রঙ দিয়ে পেইন্ট করে ফেলেছে! … যেমনটা একদম তার আগেই ঘুরে আসা পুরনো রাজবাড়িটায় দেখে এসেছিলাম … আমার এখনো পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, মহাস্থানগড়, ময়নামতি এগুলা কিছুই দেখার সৌভাগ্য হয় নাই … যতদূর জানি রিনোভেশনের নামে ওগুলাও যথেষ্টই নষ্ট করা হয়েছে … ওগুলার নেচারালিটি পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলার আগেই ঘুরে আসতে হবে …

যাই হোক, কান্তজিউ মন্দির থেকে বের হয়ে আমরা গেলাম খানসামা … ওখানে বাশুলি বলে একটা জায়গায় নিশাতের চাচাদের বাড়ি … ওখানে যেতে যেতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো, তাই আশেপাশের কিছুই তেমন দেখার সুযোগ হলো না … আমরা ওখানে সবমিলিয়ে বোধহয় আধাঘণ্টাও ছিলাম না … তারেকদের বাসায় উঠলাম … একই প্রেমেসিস-এর মধ্যেই বাকি চাচাদের ঘর, তাই প্রতিটা বাড়িতেই দুই/তিন মিনিটের জন্য যাওয়া হলো … মানে, একরকম ‘এসেছি’ বলেই ‘গেলাম’ বলে বের হয়ে আসা আর কি! … আমরা দিনাজপুরে ঘুরতে ঘুরতে কথায় কথায় কচু শাক ভর্তার কথা বলেছিলাম … ওই চাচার বাসায় গিয়ে দেখি কচু শাক ভর্তা দিয়ে ভাত রেডি! … তারেক কোন ফাঁকে ফোন করে বাসায় বলে রেখেছে নিশাত কচু শাকের ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে চেয়েছে, আর চাচি সাথে সাথে বানিয়ে রেখেছে! … ব্যাপারটা আমারই খুব ভালো লাগলো! … আমাদের ফ্যামিলিতে তো এগুলা রূপকথার গল্প ! … একই বিল্ডিং-এ দাদি থাকে, পাশের গলিতে ফুপু থাকে, অথচ এইসব আবদার, আহ্লাদ আর চাইতে না চাইতেই ইচ্ছা পূরণ টাইপের ব্যাপারগুলো তো মিথলজির মতো! …

তো, বাশুলি থেকে আমরা গেলাম নীলফামারী … তারেক সেদিন আর গেলো না, ওর ভাই রানা আমাদের সাথে গেলো … যেই ড্রাইভারটা ছিলো, তার মালিকের সাথে মিসকম্যুনিকেশনের কারণে আমাদের ট্রিপ নিতে গিয়ে তার একটা বড় ট্রিপ মিস হয়েছে। এইজন্য সে বেশ খ্যাপা হয়ে ছিলো … আমাদের তো সে আর কিছু বলতে পারছিলো না, তাই তার যাবতীয় রাগ প্রকাশ পাচ্ছিলো ড্রাইভিং-এ … নীলফামারী’র রেস্ট হাউজে পৌঁছানোর পর মনে হলো হাফ ছেড়ে বাঁচলাম যে কোনো অ্যাকসিডেন্ট না করে পৌঁছেছি! …নীলফামারীর রেস্ট হাউজটা খুব সুন্দর ছিলো … মনে হচ্ছিলো রংপুর না গিয়ে এখানেই দুইদিন থেকে যাই! তো, ওইদিন রাতে আমরা আবার নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম আন্টির বাসায় দাওয়াত খেলাম। উনারা হাজবেন্ড-ওয়াইফ দুইজনই এত ডিসেন্ট আর এত শান্ত-শিষ্টভাবে কথা বলেন! আমি আর নিশাত তো পরে মজা করে আলোচনা করছিলাম যে উনারা ঝগড়া করলেও বোধহয় এভাবে আস্তে আস্তে কথা বলেন! …

নীলফামারীতে নীলসাগর আর তিস্তা ব্যারেজ ছাড়া আর তেমন কিছুই দেখা হয়নি … তিস্তা ব্যারেজ তো এতদিন কেবল শুনেই এসেছি, আর ক্লাসেও যখন পড়াই তখন ছবি দেখে ধারণা থেকেই বুঝিয়েছি … এবার স্বচক্ষে দেখা হয়ে গেলো! … একটা গেট খোলা ছিলো ব্যারেজের, তাতেই কি স্রোত ! … পাঁচটা গেট-ও যদি খোলা থাকতো, তাইলে তো মনে হয় আর চরও পড়তো না! …

চর প্রসঙ্গে যমুনা নদীর কথা বলে ফেলি … যতবারই যাই, প্রতিবারই দেখি চর কেবল বাড়ছেই … আর এক/দেড় বছরের মধ্যে মনে হয় এক পাড় থেকে আরেক পাড়ে চর দিয়েই হেঁটে পার হয়ে যাওয়া যাবে! … যমুনা নদীটাও বোধহয় গেলো! … নদীমাতৃক দেশে একদিন বোধহয় আর নদীই থাকবে না! … পদ্মা শেষ … যমুনাও যাচ্ছে … মেঘনা তখন একা আর কতটা সামলাবে! …

যাই হোক, নীলফামারী থেকে আমরা দুপুরবেলা গেলাম রংপুর … রংপুরে যাওয়ার আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো শতরঞ্জি দেখা … এবং শতরঞ্জি পল্লীতে গিয়ে আমরা দুইজনে মিলে প্রায় ৮/১০টা শতরঞ্জি কিনে ফেললাম! … আড়ং বা ঢাকার আর কোনো শতরঞ্জির দোকান থেকে কিনতে গেলে অতগুলা শতরঞ্জি মনে হয় ২০ হাজার টাকার বেশি পড়তো, আর আমাদের দুইজনের মিলে ৮ হাজার টাকাও লাগলো না ওখানে! তার মধ্যে আবার সাথে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম আঙ্কেল ছিলেন বলে আমরা ডিস্কাউন্ট-ও পেলাম! …

শতরঞ্জি কিনে-টিনে আমরা একটু সামনেই একটা পার্কে ঘুরলাম কিছুক্ষণ … সেনাবাহিনী বানাচ্ছে … বিনোদন পার্ক টাইপের একটা কিছু … এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি … ওইখানে একটা বৈশাখী মেলা হচ্ছিলো … ঐটাই একটু ঘুরতে যাওয়া আর কি! …

তারপর সেখান থেকে সোজা রেস্ট হাউজ … ওইদিন আমরা আবার তারেক-কেও সাথে রেখে দিলাম … দুইজনে তো আর আড্ডা জমে না … তারেক থাকলে সারারাত গল্প করা যাবে তিনজন মিলে এই চিন্তা করেই ওকে থাকতে বলা হলো … এর মধ্যে আমরা আবার এজিএম আঙ্কেলের বাসায় গেলাম … উনার ওয়াইফ-ই এসে নিয়ে গেলেন … আঙ্কেল অবশ্য তখনো ফিরেন নাই … ওই শতরঞ্জি পল্লী থেকেই উনি উনার এমবিএ ক্লাসে চলে গিয়েছিলেন … উনার ওয়াইফ-এর সাথে গল্প-টল্প হলো … উনাদের মেয়ে আবার ভীষণ জেদি! মা তাকে রেখে কেন বের হয়েছে এই জিদে সে কান্নাকাটি করে গাল-টাল ফুলায় অস্থির অবস্থা… এজিএম আঙ্কেলের বউ নিনজা স্টাইলের হিজাব পরে, ছেলেদেরকে চেহারা দেখায় না … ৩ বছরের মেয়েটাকেও তাই হিজাব পরানো হয়, ফুলহাতা জামা পরিয়ে রাখা হয়! … সেই মেয়ের জিদ দেখে আমরাই মোটামুটি আস্থির হয়ে গেলাম! … এর মধ্যে ওকে শান্ত করার জন্য বাইরে খেলার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো … ওখানে ওর ভাবলেশহীন ব্ল্যাঙ্ক লুক দিয়ে কোনো সাপোর্ট ছাড়াই দোলনায় চড়া দেখে আমরা তিনজনই একই সময়ে একই সাথে হরর ফিল্মগুলাতে যে পজেজড বাচ্চারা থাকে সেরকম দৃশ্য ভিজ্যুয়ালাইজ করলাম … মনে হলো যে রাত দুইটা সময় যদি এখানে এসে দেখা যায় মেয়েটা দোলনায় বসে আছে, তাইলেও অস্বাভাবিক লাগবে না! … রীতিমত ভয় লাগলো মেয়েটাকে দেখে! …

পরদিন সকাল হতে না হতেই ট্রিপ শেষ! নাস্তা করে রেডি হয়ে বের হয়ে বাসে উঠে গেলাম! … আমাদের এসি বাসে যাওয়ার কথা ছিলো … কিন্তু যাওয়ার দিনের অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে আমরা টিকিট ক্যান্সেল করিয়ে নন-এসি করে নিয়েছিলাম … ওইদিন যেতে লাগলো ১২ ঘণ্টা … আর ১৭ তারিখ আমরা ১০টায় রওয়ানা দিয়ে বিকাল ৫টার আগেই ঢাকায় পৌঁছায় গেলাম!

আমাদের জার্নি শেষ হলো অবশ্য সুপারভাইজারের ওপর মেজাজ চরম খারাপ করে! বাস যে টেকনিক্যাল মোড়েই সব প্যাসেঞ্জার নামিয়ে দেবে এইটা বলে নাই! আমরা আরেকটু সামনে একটা কাউন্টার থেকে উঠেছিলাম, ধারণা ছিলো যে বাস ওখানেই থামাবে। তো যাই হোক, আমাদের অনেকগুলা ব্যাগ … দুইজন মিলে সামলে উঠতে পারছিলাম না … এদিকে সুপারভাইজার বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের ব্যাগ টানাটানি দেখছে, অথচ এগিয়ে এসে হেল্পও করছে না ! … আমি শেষে বাধ্য হয়ে ডাক দিলাম যে একটু আসেন না, দেখতেসেন আমরা দুইজন মিলে ব্যাগগুলা নামাতে পারছি না … সুপারভাইজার উত্তর দিলো, আপনি কি হেল্প চাইসেন? আপনারা তো নিজেরাই ব্যাগ নামানো শুরু করসেন! আপনারা তো একাই একশো! … এমন মেজাজ খারাপ হলো! … হেল্প আবার চাইতে হয় নাকি? দেখতেসে যে আমাদের সমস্যা হচ্ছে, সেটাও আবার ডাক দিয়ে বলতে হবে হেল্প করেন! … চরম মেজাজ খারাপ করে যেভাবে পারলাম ওভাবেই নিজেরাই ব্যাগ নিয়ে নেমে গেলাম … পরে আবিষ্কার করলাম যে একটা ব্যাগে কয়েকটা আতা ফল দিয়েছিলো নিশাতের চাচা, ওই ব্যাগটা ফেলে আসছি বাসে! … অবশ্য কয়েকটা আতা মনে হয় নিশাত ব্যাগে নিয়ে নিয়েছিলো, আর যেগুলো জায়গা হয়নাই, ওইগুলা কাপড়ের ব্যাগটাতেই ছিলো … নইলে তো সবগুলা ফল ফেলে আসা হতো! …

ঢাকা শহরে এসেই গরমে অস্থির হয়ে যাচ্ছি … উত্তরবঙ্গে যেই তিনদিন ছিলাম, এক ফোঁটা ঘাম-ও হয়নি! আর বাতাস-ও রীতিমতো ঠাণ্ডা ছিলো! … আর রাতে তো ফ্যানের স্পিড কমিয়ে, গায়ে চাদর দিয়ে ঘুমিয়েছি! … ঢাকায় আসার সাথে সাথে গা জ্বালা করা গরম লাগতে শুরু হয়েছে, আর ঘামতে ঘামতে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যাচ্ছি!

আর লিখতে ইচ্ছা করছে না … লিখতে লিখতে এখন আবার ঘুম চলে আসছে … আজকে স্কুল বন্ধ, কিন্তু এমনিতেও বের হতে হবে … ফলে ঘুমানোর বিলাসিতা করা যাবে না … গোসল করে ফ্রেশ হয়ে বের হবো একটু পর …

যাই তাহলে …

দিনযাপন দিন দিন সপ্তাহযাপন হয়ে যাচ্ছে … এই রুটিন ভাঙতে হবে … যত তাড়াতাড়ি সম্ভব …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s