দিনযাপন । ২২০৪২০১৬

সকালবেলা গত বছরের ২১ এপ্রিলের দিনযাপন পড়ছিলাম … পড়তে গিয়ে নিজের কাছেই নিজেকে অনেক অন্যরকম লাগলো … মনে হলো, মাত্র এক বছর আগেই এইটা আমি ছিলাম! … ওই সময়ের আবেগ আর এখনকার আবেগে কি আকাশ-পাতাল পার্থক্য ! … কি আশ্চর্যজনকভাবে মানুষের জীবনে সবকিছু সয়ে যায়! … যেই ট্রমাটাইজড সিচুয়েশনের মধ্যে দিয়ে ওই সময়টায় যাচ্ছিলাম, সেই ট্রমা যে এখনও নাই তা না … কিন্তু এখন আর সেটা দুঃস্বপ্নের দুষ্টু দানোর মতো মাথার ভেতরে কিলবিল করে না … কোনোভাবে তো বিষয়গুলা ভুলে যাওয়ার উপায় নাই … প্রতিদিনের প্রতিটা মুহুর্তের অনেক কিছুর সাথেই সবকিছু কেমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে … ভুলে যেতে চাইলেও চোখে আঙ্গুল দিয়ে মনে করিয়ে দেয়, এই যে দ্যাখো! ভুলে যাবা মানে কি? জীবনের প্রতিটা মোমেন্টে তোমাকে এগুলা মনে রাখতে হবে … সো, আলটিমেটলি ‘স্ট্রং মাইন্ড’ এর ঢাল বাড়িয়ে আমি চলতে থাকি … আর সময়ে সময়ে দীর্ঘশ্বাস গিলি …

যাই হোক, অন্তত আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জীবনের আর অন্য সব সময়ের থেকে এখন আমি সবচেয়ে শক্তিশালী … ইন ফ্যাক্ট, কিছু কিছু বিষয়ে আমার মনে হয় আমার আসলে আবেগতাড়িত হবার ক্ষমতাও বোধহয় নষ্ট হয়ে গেছে! …

যেমন ধরা যাক, কোনো একজনের সাথে আমার সেক্সুয়াল বিষয়াদি নিয়ে অনেক কথা হয় … অনেক কথা মানে অনেক বেশিই কথা হয় … এমনকি আমি কবে কার সাথে কীভাবে কি করেছি সবকিছু নিয়েও … জেনেরালি, কোনো ছেলের সাথে একদিনের বেশি দুইদিন এইসব বিষয় নিয়ে এত খুল্লাম-খুল্লা কথা বললে তিনদিনের মাথায় সে আমাকে তার সাথে বিছানায় যাওয়ার জন্য ছলে-বলে-কৌশলে আগ্রহ প্রকাশ করতো … কিন্তু এই ছেলের ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় নাই! … তাতে একাধারে অবাক এবং ইম্প্রেসড হয়ে আমি তার সাথে আরো ফ্রি অ্যান্ড ফ্র্যাঙ্কলি এসব বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলার আগ্রহ পেয়েছি! … কিন্তু যখনই মনের মধ্যে এই প্রশ্ন জেগেছে যে আমার নিজের মধ্যেও কি কিছু তৈরি হচ্ছে কি না, তখন নিজেই নিজেকে ‘একদম না’ বলে শাসিয়েছি … দেখলাম যে আল্টিমেটলি কারো ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হবার আগ্রহটাই তো কাজ করছে না! … একটা ছেলের সাথে রাত-বিরাতে সেক্স্যুয়াল টপিক নিয়ে খুল্লাম-খুল্লা আলোচনার পরেও যদি তার প্রতি কোনো প্রকার সেক্সুয়াল আর্জ তৈরি না হয়, তাহলে নর্মালি কারো ব্যাপারে মিনিমাম ফিলিংস তৈরি হওয়া তো প্রায় অসম্ভব!

সেদিন বৃতা খুব মজা নিচ্ছিলো … আমি নাকি হঠাৎ করে খুব সুন্দর হয়ে গেছি! … কি কাহিনী … প্রেমে পড়েছি কি না! … এইসব এইসব বললো… আমার খুব হাসি পেলো! … আফটার হ্যাভিং অল দোজ এক্সপেরিয়েন্স উইথ সোহেল, আমি আর প্রেম? ভেরি ফানি! … সারাজীবনের জন্য শিক্ষা হয়ে গেছে আমার! … কেউ যদি প্রেমে পড়ে খুব হাতে-পায়ে ধরে ‘তুমি ছাড়া বাঁচবো না’ বলে কান্নাকাটিও করে, তাও আমার কিছু যাবে আসবে কি না সন্দেহ আছে! …

শত হলেও, ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়! …

যাই হোক, এই প্রসঙ্গ বাদ দেই … ভালো লাগছে না এটা নিয়ে লিখতে …

ওইদিন টাকা-পয়সার ক্রাইসিস নিয়ে দিনযাপন লিখতে না লিখতে পরদিন সকালবেলা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো হাজার চারেক টাকার একটা চেক পেয়ে গেছি! স্কলাস্টিকা স্কুলে যে মার্চ মাসে ছবি তুলেছিলাম, ওইটার চেক … আমি তো ঐটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম! … ইমন ভাই নাকি আমাকে না পেয়ে অমিতের কাছে চেকটা দিয়ে রেখেছিলো, অমিতেরও দেখা হবার পরেও আমাকে দেবার কথা মনে ছিলো না বেশ কয়েকদিন! … ভালই হলো! … টাকাপয়সার অভাব সংক্রান্ত দুঃখ আপাতত শেষ! … এই মাসটা বেশ ভালোমতোই শেষ করা যাবে এখন …

কতগুলা কাজ যে একসাথে ঘাড়ের ওপর এসে জুটেছে হঠাৎ করে! … সব শেষ করতে হবে এই দুই/তিন দিনের মধ্যেই … স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষার কোশ্চেন পেপার বানাতে হবে … তাও আবার দুই ক্লাসের … এর মধ্যেই আবার মে মাসের সেকন্ড উইকেই নাকি মিড-টার্ম পরীক্ষা নেবে জাপান স্টাডিজ –এ! … চারটা কোর্স-এর পড়াশোনার বহর-ও কম না! … একটা তো তাও ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স … ওইটা হয়তো উৎরায়-ও যাবো … কিন্তু বাকী ৩ টা কোর্স-ই থিওরি কোর্স, এবং একেবারে নোট করে সাজিয়ে গুছিয়ে পড়তে হবে! … নোটগুলো যে করবো, সেটার জন্য যে পড়ালেখা করতে হবে, বইপত্র, ইন্টারনেট ঘাটতে হবে, সেই সময়টাই তো হচ্ছে না! … যেদিন ক্লাস থাকে না, সেদিন বাসায় চলে এসে কিন্তু আরাম করেই পড়ালেখার কাজ করা যায় … কিন্তু সেদিন আবার টিউশনিতে যাই … শুক্র-শনি দুইদিনই যদি সারাদিন বাসায় থাকি, তাহলেও অনেকটা কাজ আগায় … কিন্তু সেদিনও টিউশনির জন্য বের হই বলে সারাদিন-ই ক্যামন হচপচ লেগে যায়! …

এদিকে, যেহেতু টিউশনিতে গেলে আসলে আমার খুব এনজয়মেন্টে সময় কাটে না, তাই টিউশনিতে যাওয়ার মোটিভেশনটাও নষ্ট হয়ে গেছে … টিউশনিতে ঢুকবার একটা বড় মোটিভেশন ছিলো স্কুলের পরের সময়টা কাটানো … এখন তো এম্নিতেই ভার্সিটির ক্লাসের কারণেই সময় চলে যায়! … ফলে, টিউশনিতে গিয়ে আর কি হবে টাইপ একটা ভাবসাব চলে আসছে! … তবে, সবচেয়ে বড় কথা, বাচ্চাটার নিজেরই পড়তে বসার আগ্রহ কাজ করে না … জাস্ট টিচার এসেছে বলে নিতান্ত অনাগ্রহের সাথে বসে, আর খালি পড়াশোনা বাদ দিয়ে কথা বলা, দুষ্টুমি করার ছুতা খোঁজে … আমি যখন যেই কাজ করি, সেইটাতেই ফুল অ্যাটেনশন নিয়ে করি বলে আমার কাছে ব্যাপারটা খুব বিরক্তিকর লাগে! … ওর যদি পড়তে বসার মিনিমাম আগ্রহই না থাকে, তাহলে আমার শুধু শুধু ‘লিখো’, ‘পড়ো’, ‘কথা বইলো না’ , ‘ কেন সময় নষ্ট করছো’ টাইপ কথা বলে বলে আসলে লাভটা কি? … ও-ও স্কুল থেকে ফিরে টায়ার্ড হয়ে থাকে, আমিও যথেষ্ট ক্লান্তি নিয়েই ওকে দুপুরবেলা পড়াতে যাই … ও আগ্রহ নিয়ে পড়তে বসলে আমারও ওকে বেশি বেশি পড়ানোর মোটিভেশন তৈরি হতো … মে মাসে ওর পরীক্ষা শেষ করেই বলবো যে আর কন্টিনিউ করবো না …

আমার পক্ষে একসাথে দুইটা সমান প্রেশারের কাজ করা সম্ভব হয় … তিনটা বা চারটা না … আগামি দুই বছর আমি খালি চাকরি আর পড়ালেখা নিয়েই থাকবো … থিয়েটারের ব্যস্ততাও কমিয়ে দিয়েছি … এখন আসলে প্রায় বেড়াতে যাওয়ার মতো করেই যাই … ডিরেক্ট কাজে ইনভল্ভমেন্ট যত কম রাখা যায় …

ইদানীং কিছু মানুষের কিছু আচরণে বেশ বিনোদন পাচ্ছি … কে অথবা কি আচরণ সে প্রসঙ্গে আজকে আর লিখবো না … খালি বিনোদনের অনুভূতিটা মনের ভেতর চেপে রাখার বিষয়টা খচখচ করছে দেখে এইটুকু বললাম … দিনযাপন আমাকে কত মানুষই না চেনালো! … আশা করি ভবিষ্যতে আরো চেনাবে! …

আই লাভ রাইটিং দিনযাপন …

যাই হোক, আজকের মতো প্যাঁচাল এখানেই শেষ করছি … কালকে সকাল সকাল উঠে অনেক কাজ … আজকেও সকালে সাতটায় উঠে কোশ্চেন পেপারের কাজ করেছি, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের লেসনগুলা ক্লাসের লেকচার খাতা থেকে নোট খাতায় ফ্রেশ করে তুলেছি … কালকে সকাল সকাল উঠে আরেকটা কোর্সের নোট নিয়ে বসতে হবে … কোশ্চেন পেপারও শেষ করতে হবে … অন্তত ক্লাস সেভেনেরটা … কারণ ওদের পরীক্ষা প্রথম দিকেই, সো প্রশ্নও আগে আগে রেডি হয়ে যেতে হবে …

অতএব … সাইয়োনারা …

আর আজকে থেকে নতুন যোগ করছি একটা জিনিস – আগের বছরের এই দিনের দিনযাপনের লিঙ্ক –

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/04/23/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/?fb_action_ids=10155447949915655&fb_action_types=news.publishes&fb_ref=pub-standard

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s