দিনযাপন । ২৬০৪২০১৬

বায়োমেট্রিক সিস্টেমে সিম রি-রেজিস্ট্রেশন না করলে নাকি ১ তারিখ থেকে আনরেজিস্টার্ড সিম বন্ধ করে দেবে! … সে ক্ষেত্রে আমার সিমটাও বন্ধ হয়ে যাবে কারণ আমি সিম রি-রেজিস্ট্রেশন করবো না … যখন সিম কিনেছি তখন তো নিজের ন্যাশনাল আইডি কার্ড-এর নাম্বার দিয়েই সিম কিনেছি … এখন আবার আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, এই ব্যাপারটার পক্ষে –বিপক্ষে হাজারো যুক্তি-তর্ক পড়ার পরেও নিজের ভেতরে কনভিন্সড হতে পারি নাই যে বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন এর ফলাফল খারাপ কিছু হবে না। মন থেকে যা সায় না দেয় তা যেহেতু করার টেন্ডেন্সি নাই, তাই সিম রেজিস্ট্রেশনও করবো না বলে ঠিক করেছি।

সো, ১ তারিখ থেকে আমাকে হয়তো ফোন ছাড়া থাকতে হবে …

এবং আমি তাতে ব্যাপক খুশি হবো …

মোবাইল ফোন বিষয়টা আমার ভালো লাগে না খুব একটা … মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু কমিটমেন্ট-এর জায়গায় বিশাল ফারাক তৈরি করেছে … আগে যেমন কারো সাথে ৫টা সময় দেখা হওয়ার মানে পারলে পৌনে ৫টাতেই নির্দিষ্ট জায়গায় চলে যেতো মানুষ … আর এখন ৫টায় দেখা করার সময় বাধা থাকলে রাস্তায় জ্যাম, রিকশা পাই নাই, সিএনজি পাই নাই ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে অন্তত সাড়ে ৫টা বাজাবেই কোনো এক পক্ষ! … আমি নিজেও যে সেটা করি না মাঝে মাঝে তা না … কিন্তু মোবাইল ফোন না থাকলে আমি কেন, কেউই আসলে এরকম করার কথা ভাবতেও পারতো না!

আগের দিনের মতো টিঅ্যান্ডটি ফোন নিয়ে নিবো নাকি ভাবছি! … মা’কে বলছিলামও আজকে … ২০/২৫ বছর আগের মতো টিঅ্যান্ডটি ফোন থাকলো, যার দরকার সে টিঅ্যান্ডটি-তে ফোন করলো … সারাদিনের জন্য মোবাইলে ফোন আসলে ধরতে হবে জাতীয় সামাজিকতার চাপ থেকেও মুক্ত থাকবো ! …

মাঝে মাঝেই যে আমার ফোন হারিয়ে যায়, তখন আমার বেশ ভালোই লাগে … মনে হয়, কারো কাছে আমি বাধা না! … আমাকে খুঁজে পাওয়া সংক্রান্ত ঝামেলা নাই, এটা-ওটা কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়ার ঝামেলা নাই … ইচ্ছা হলে কাজে গেলাম … নইলে না ! … কাজে না গেলে ফোন করে কারো প্রশ্ন করারও উপায় নাই যে কেন আসছি না! …

১ তারিখ যদি ফোন বন্ধ হয়েই যায়, তাহলে এরকম একটা চান্স নেয়া যাবে কিছু কিছু জায়গায় … যেমন, টিউশনি তে … কিংবা গ্রুপে … এই যে, গত কয়েকদিন গরমে অসুস্থ বোধ করছিলাম দেখে টিউশনি-তে যাই নাই, স্টুডেন্ট-এর মা ফোন-টোন দেন নাই … আমিও নিতান্তই উদাসীন মুডে ছিলাম বলে নিজে ফোন দেয়ার কথা ভাবছিলামই না! … তো, আজকে উনি ফোন করলেন অবশেষে … আমি তো ভাবছিলাম যে উনি ফোন না দিলে আমিও দিবো না … টিউশনি চলে গেলে যাক! … এমনিতেই তো ছেড়েই দেবো ভাবছি! … যাই হোক, কালকে যাবো আর কি! …

২০১১ সালের এই দিনে প্রাচ্যনাটে ‘যন্তর মন্তর’ নামে একটা ইনহাউজের শো করেছিলাম … আমি নাটকটা লিখেছিলাম আর ডিরেকশন দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম … তখন নতুন -পুরান নির্বিশেষে সব মেম্বাররাই ইনহাউজ বানাতো … এটা একটা অলিখিত সিরিজ -এর মতো হয়েছিলো কয়েক মাস … তো, আমার নাটকটায় নোবেল ভাই আর জার্নাল ভাই অভিনয় করেছিলো … আমার ধারণা ছিলো যে এত ডিটেইলে লেখা স্ক্রিপ্ট আর এরকম সিনিয়ার দুইজনকে নিয়ে কাজ করছি, আমার আর কি চিন্তা! … কিন্তু চিন্তা তো ছিলই … মোটামুটি চোখের পানি, নাকের পানি এক করে নাটকটার শো হয়েছিলো অবশেষে … তবে স্ক্রিপ্ট-এর প্রশংসা পেয়েছিলাম … আর মজার বিষয় হচ্ছে স্ক্রিপ্ট-টার চিন্তা অনেক আগে থেকেই মাথায় ছিলো … প্রাচ্যনাটে জয়েন করার-ও আগে … তখন ভাবতাম ফিল্মের সাপেক্ষে, আর পরে ওটাকে থিয়েটারের সাপেক্ষে মোডিফাই করেছিলাম …

স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এবং নিজের ভিজ্যুয়ালাইজেশন অনুযায়ী কিছুই করতে পারিনি … কত ফ্যান্টাসি ছিলো ! ঘরের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাকি পোকা ছেড়ে দেবো টাইপের ফ্যান্টাসি! …

আজকে ২০১৬ সালে এসে যদি নাটকটা আবার করার সুযোগ পেতাম, তাহলে আরো ভালো একটা কিছু দাঁড় করানো যেতো! … এবং অবশ্যই আগের পারফর্মারদের দিয়ে নয়! …

বাই জি ওই শো-এর ছবি তুলেছিলো কয়েকটা … ওই ছবিগুলোই আজকে শেয়ার করছি লেখার সাথে! … ‘যন্তর মন্তর’ এর একটা হাল্কা-পাতলা স্মৃতি রোমন্থন হয়ে যাক ! …

 উফ! এত গরম! রাত বাজে প্রায় ১২টা … তাও কি গরম!

এই গরমের মধ্যে স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিয়ে আর কোথাও যেতে ভালো লাগে না … মনে হয় বাসায় চলে যাই … ক্লাস থাকলে ভার্সিটিতে গিয়ে কমার্স ফ্যাকাল্টির এসিওয়ালা কমনরুমে বসে থাকি … তাও কিছুটা সময় আরাম পাওয়া যায় … পড়ালেখাও হয় বেশ … কালকে টিউশনিতে যেতে হবে স্কুল থেকে, তারপর ভার্সিটি … রেস্ট পাবো না … এবং যথারীতি আবার অসুস্থ হয়ে যাবো! … স্টুডেন্ট-এর মা বললেন যে উনার বাসায় যেহেতু এসি আছে, তাই গরমের সমস্যা নাই … স্কুল থেকে উনার বাসা … উনার বাসা থেকে ভার্সিটি … এই যে এতবার রোদের মধ্যে যাবো-আসবো, সেই গরমটার কি হবে সেইটা উনার একবারও মনে হইলো না … কারণ উনি তো এমনিতে গাড়িতে যাতায়াত করে, সেখানেও এসি! … উনাকে আর কি বলবো! … কিছুই বললাম না! …..

এই যে এখন আমার আবার ঘুম পেতে শুরু করেছে … গতকালকে বৃতা ছিলো বাসায় … ঘুমিয়েছিও দেরিতে, উঠেছিও তাড়াতাড়ি … এমনিতে মঙ্গলবার আমার ডে-অফ। কিন্তু বাসায় সারাদিন ইলেক্ট্রিসিটি থাকবে না শুনে আমি বৃতার সাথে বের হয়ে স্কুলে চলে গেলাম … একটা ক্লাসের ফাইনাল পরীক্ষার কোশ্চেন পেপার জমা দিয়েছি আজকে … একটা কাজ আগালো … এবার আরেকটা ক্লাসের কোশ্চেন পেপার জমা দেয়া বাকি … বৃহস্পতিবার দেবো …

যাই হোক, আজকে লম্বা সময় ভার্সিটিতে বসে পড়ালেখা করেছি … তারপর ক্লাস করেছি … তারপর বাসায় এসেছি প্রচণ্ড ক্ষুধা পেট নিয়ে … এখন রীতিমতো গা ছেড়ে দিয়েছে পেট ভরে ভাত খাওয়ার পর … সো, ঘুমও আসছে ব্যাপক …

সো, ঘুমিয়েই থাকি …

গতবছরের লিঙ্ক দেই যে, পড়েন তো? … আজকের দিনযাপন আর গতবছরের এই দিনের দিনযাপন পর পর পড়লে আমার নিজের পরিবর্তনে নিজেই মোহিত হই! … আশা করছি সামনের বছর যখন এই দুই বছরের দিনযাপন এর সাথে নতুন দিনযাপন লিখবো, তখনকার কমপেয়ারিজনটা আরো ইনটেরেস্টিং হবে! …

যাই হোক, এই যে লিঙ্ক –

২৫ এপ্রিল ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/04/26/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%ab%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

গত বছর ২৬ এপ্রিল মনে হয় দিনযাপন লিখি নাই … সো, ওইদিনের কোনো কমপেয়ারিজন নাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s