দিনযাপন । ২৭০৪২০১৬

সম্ভবত লো প্রেশারের কারণেই ঘাড়ের নিচ থেকে মেরুদন্ড বরাবর একটা খামচি মেরে ধরে রাখা টাইপের ব্যথা করছে। আর তার সাথে কোমরের নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ব্যথায় আমার বসে থাকতেও অস্থির লাগছে … আজকে সারাদিন একটা ভারি ব্যাগ তো টেনেছিই, সেই সাথে হাতেও একগাদা জিনিস নিয়ে নিয়ে ঘুরেছি। তার মধ্যে গরম … দুইয়ে মিলেই মনে হয় পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্যাম হয়ে আছে …

তাও আমি আজকে দিনযাপন লিখবোই … কারণ আজকে লেখার মতো যথেষ্ট গল্প আর অ্যালিবাই আছে … সেগুলো কালকে লিখলে আর আজকের ফ্রেশনেস থাকবে না …

সকাল থেকে গরমে অস্থির হয়েই স্কুলে গেছি … তার মধ্যে আজকে যেহেতু ক্লাস ছিলো, সেজন্য বইখাতা নিয়েছি … কোশ্চেন পেপার বানাবো বলে ল্যাপটপও নিয়েছি … সব মিলায় সকাল থেকেই অস্থির অবস্থা … তারমধ্যে আবার টিউশনি যাবো, সেইটারও একটা দৌড়াদৌড়ি আছে …

তো, যাই হোক, স্কুল শেষে ১টার দিকে বের হবো বের হবো করে প্রস্তুতি নিচ্ছি … গন্তব্য টিউশনি … কালকে এমনভাবে কথা দিয়েছি যে যাবো, আজকে তাই ভাবছিলাম যে একদম কাটায় কাটায় দেড়টার মধ্যে চলে যাই … এমন সময় দেখা গেলো বৃতা এমনই অসুস্থ হয়ে গেছে যে ও মনে হচ্ছে যেকোনো সময় ফিট হয়ে যাবে! ওর নাকি সকাল থেকেই বমি হয়েছে, পেট ব্যথা করছিলো, ডিসেন্ট্রির ভাব ছিলো কিন্তু পেট ক্লিয়ার হচ্ছিলো না … এই অবস্থাতেও বের হয়ে ক্লাস নিতে আসছে … এবং আল্টিমেটলি ক্লাস নিয়ে এসে বসতে না বসতেই ওর প্রচন্ড পেটে ব্যথা শুরু হলো … ও যে বাসায় যাবে, একা তো মোটেই যেতে পারবে না … কার সাথে বাসায় যাবে সেই সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা-গবেষণা করতে করতে ওর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেলো … এর মধ্যে শাহরিয়ার-কে ফোন করলাম, বললাম যে বৃতাকে বাসায় পৌঁছায় দেয়ার জন্য একটু কষ্ট করে ধানমন্ডি আসতে … শাহরিয়ার নিকেতন যাবে, সো একদিক দিয়ে ওর রুটেই পড়লো … ও-ও রওয়ানা দিলো … এদিকে বৃতার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে দেখে ওকে নিচে অফিস রুম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলো, স্যালাইন এনে খাওয়ানো হলো, তাসলিমা আপা উনার এক ডাক্তার রিলেটিভকে ফোন করে একটা ওষুধের নাম নিলেন, ওইটা আনতে পাঠানো হলো … বৃতাকে বমি করানোর  চেষ্টা করা হচ্ছিলো, কিন্তু ওর বমিও হচ্ছিলো না … বমি বমি লাগছে ঠিকই কিন্তু বমি করতে পারছে না … বাথরুমের চাপ আসছে ঠিকই কিন্তু কিছুই হচ্ছে না … খালি পেটের মধ্যে প্রচন্ড ব্যথা … অ্যাপেনডিসাইটিস-এর ব্যথাই উঠলো কি না সেটা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হলো … কি থেকে কি হয় চিন্তা করে ওকে পাশেই আনোয়ার খান মডার্ন হসপিটালে ইমার্জেন্সি ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হলো … তাসলিমা আপার গাড়িতে করে তাসলিমা আপা আর অরুণদ্যুতি আপু ওকে নিয়ে গেলো, আমি আর ফৌজিয়া আপাও হেঁটে হেঁটে আগালাম… নায়ীমী-ও সব গুছিয়ে একেবারে বের হয়ে হসপিটালে এসে জয়েন করলো …

তো, হাসপাতাল নিয়ে তো একটা প্রি-কনসেপশন থাকেই যে ডাক্তাররা বেশিরভাগই খুব ক্যালাস হয় … ভাবছিলাম যে ইমার্জেন্সিতে নিশ্চয়ই আরো রিলাক্টেন্ট আচরণ করবে … দেখলাম যে ডাক্তারটা বেশ ভালো … খুব বিনয়ের সাথে কথা বলছে, কোনো ‘আমি হই ডাক্তার’ টাইপ পার্ট নিচ্ছে না … বৃতার সব হিস্ট্রি শুনলো … সব শুনে ধারণা করা হলো যে এইটা ফুড পয়জনিং … কারণ জানা গেছে যে আগের দিন সন্ধ্যায় বৃতা ঝালমুড়ি খেয়েছিলো … তারপরে আবার রিহার্সালও করেছে … আর ঝালমুড়ি, রিহার্সাল, পানি কম খাওয়া, ঘুম কম যাবতীয় সবকিছুর সাথে ওর সিগারেট খাওয়াও তো আছেই … এতকিছু মিলায় পেটে এরকম গ্যাস ফর্ম করা, ডিহাইড্রেশন হওয়াটা তো খুবই স্বাভাবিক … তো, ডাক্তার কয়েকটা ওষুধ ইঞ্জেক্ট করলো … বললো যে এতে ব্যথা না কমলে তখন ফারদার টেস্ট করা লাগবে কি না জানাবে … তো ওকে ওষুধ ইঞ্জেক্ট করার পর ওইটার ইফেক্টে বৃতা একটু শান্ত হয়ে চোখ বুজলো … আর ওই যে বললাম, ডাক্তার বেশ বিনয়ী … এর মধ্যে আবার দেখেছে যে এক রোগীর জন্য ৫/৬ জন একসাথে চলে এসেছে, তাও আবার তাসলিমা আপা আর ফৌজিয়া আপা তো সিনিয়ার … তো ডাক্তার এসে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন যে আমরা সবাই একসাথে কোথা থেকে আসলাম এইসব এইসব …

এর মধ্যে শাহরিয়ার-ও চলে আসলো … আমি স্নাতা আপুকে এক ফাঁকে জানালাম বৃতার অবস্থার কথা … এদিকে বৃতার ফোনে পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা … আমি সেই লকের আনলক প্যাটার্ন জানি না দেখে সেই লক-ও খুলতে পারছি না … ওর ভাই বা মা-কে যে জানাবো সেইটাও করতে পারছি না … আবার স্নাতা আপুর কাছেও উনাদের নাম্বার নাই যে আপু জানায় দেবে … ওই মোমেন্টে আবার একই সাথে বিরক্তিবোধ আর অসহায় লাগতে শুরু করলো … এখন যদি ওর এই ব্যথা ফুড পয়জনিং এর কারণ না হয়ে অন্য কোনো কারণে হয়, যদি হাসপাতালে রাখতে হয়, কিংবা যদি কোনো অপারেশন-ও লাগে, সেই ডিসিশনটা দেবে কে? আমরা তো বন্ধু আর কলিগ! ফ্যামিলি মেম্বার হিসেবে তো ওর মা কিংবা ভাই অথবা বাবাকেই লাগবে! যোগাযোগই যদি না করা যায় তাহলে কীভাবে হবে? … এমনকি স্কুলেও ওর কোনো ইমার্জেন্সি নাম্বার দেয়া নাই … বৃতার ওপর তখন একটু রাগ-ও হলো … এইটা যদি আজকে এরকম পেটে ব্যথা না হয়ে কোনো অ্যাকসিডেন্ট হতো? … তখন কই হতো? … ওর ফোন থেকে সিম খুলে অন্য ফোনে ভরেও যদি দেখতাম যে নাম্বার সব সেটে সেভ করা, তখন কি হতো?

IMG_5079_1

যাই হোক, আধাঘণ্টা পর ওর ওই অসহ্য ব্যথাটা কমে গেলো … তবে ডাক্তার ওকে অন্তত ৫দিন বেড রেস্টে থাকার কথা বলে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক-ও দিয়ে দিলো … শাহরিয়ার আর নায়ীমী পরে ওকে নিয়ে বাসায় গেলো … এখন ও নিয়ম মানলেই হয়! নিজের খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম সংক্রান্ত অনিয়মকে মানুষ কীভাবে রুটিন বানায় ফেলতে পারে আমার মাথায় ঢুকে না! …

যাই হোক, এইসব কাহিনি শেষ হয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে হতে দেখি সাড়ে ৩টা বেজে গেছে … এতক্ষণ পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি আর টেনশনের মধ্যে তো আর স্টুডেন্টের বাসায় ফোন করে কিছু বলবো সেটাও মাথায় ছিলো না! … উনাকে তখন আর ফোন করে কি বলবো সেটা ভেবে লজ্জাও লাগলো … আবার এটাও মনে হইলো যে উনি হয়তো ভাব্বেন যে আসবো না বলে বানিয়ে বলছি! আর সাড়ে ৩টা সময় গিয়েই বা লাভ কি ? ৫টার মধ্যে বের হয়ে যেতে হবে … তারপর দৌড়ের ওপর ক্লাসে যেতে হবে … এই গরমে এত দৌড়াদৌড়ি করতে শরীরে কুলায় না … এমনিতেই কালকে রাত থেকে চোখ জ্বলছে, এখন জ্বর না আসলেই হয়! … এমনিতেই স্কুলে একের পর এক টিচার অসুস্থ হচ্ছে! …

আর স্টুডেন্ট-এর মা-ও দেখলাম আর ফোন করেননি।… অন্য সময় তো আধা ঘণ্টা দেরি হলেও ফোন দিয়ে জানতে চাইতেন কোথায় আছি! … মনে হয় হাল ছেড়েই দিয়েছেন! … একদিক থেকে ভালো … আমার প্রতি উনাদের বিরক্তির পরিমাণ যত বাড়বে, আমার ‘আর পড়াবো না’ বলা তত সহজ হবে! … হলোই বা নেগেটিভ ইম্প্রেশন ! …

আজকে ক্লাশ শেষ করে আবার গ্রুপে গিয়েছিলাম … কালকে রিঙ্কনদা’র স্মরণে প্রোগ্রাম … ওইখানে রিঙ্কনদা’র লেখা গানগুলো গাওয়া হবে … আমাকে কালকে টুটুল মেসেজ পাঠিয়েছিলো রিহার্সালের কথা বলে … আমি শিওর ছিলাম না যে ওইটা কি মিউজিক টিমে বসার কল ছিলো কি না … গতবার তো ভায়োলিন বাজিয়েছিলাম … সো, এবারও কি টিম-এ কল পেয়েছি কি না বুঝতে পারছিলাম না। আমি অবশ্য আর নোবেল ভাইকে জিজ্ঞেস করি নাই … ইন ফ্যাক্ট, জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হয় নাই … তো গ্রুপে গিয়ে দেখলাম ফুয়াদ-ও ভায়োলিন বাজায় না, এমনিই বসে আছে … ভাবলাম তাইলে মনে হয় এবার ভায়োলিন বাদ! … এমনিতেই সবাই গোল হয়ে বসে গলা মিলাচ্ছিলো কোরাসে … আমিও কতক্ষণ গানের সাথে গলা মেলালাম, কতক্ষণ ফেসবুকে চ্যাট করলাম, আর তারপর শরীর খুব ক্লান্ত লাগছিলো দেখে বের হয়ে যাওয়ার ডিসিশন নিলাম … শান্তা আপুও আজকে গ্রুপে গিয়েছিলো … সেও বাসায় ফিরবে … একসাথেই চলে আসলাম দুইজন মিলে …

কালকে যাবো আর কি! দর্শক হিসেবেই যাবো … এমনিতেও যদি কালকে ক্লাস থাকতো, তাহলে তো যেতেই পারতাম না! …

গ্রুপে যাওয়ার ব্যাপারটাতেও ইদানীং বেশ উদাসীনতা কাজ করতে শুরু করেছে … ! … দেখা যাক, সামনে কি হয়! …

আর লিখবো না আজকে … খুব খারাপ লাগছে শরীর … কেন জানি মনে হচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যে প্রচন্ড রকমের একটা জ্বর আসবে! … গোসল করলে ভালো লাগতো কি না জানি না … কিন্তু এত রাতে এই শরীরে গোসল করতেও ইচ্ছা করলো না …

যাই হোক, শেষ করে ঘুমাই গিয়ে …

আর গতবছরের দিনযাপনের লিঙ্ক এই যে –

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/04/28/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%ad%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s