দিনযাপন । ৩০০৪২০১৬

গত দুইদিন ক্লান্তিজনিত কারণে দিনযাপন লিখতে বসা হলো না … বৃহস্পতিবার তো গরমের চোটে এতই অস্থির লাগছিলো যে স্কুল শেষ করে বাসায় চলে এসেছি … ওইদিন সন্ধ্যায় রিঙ্কন দা’র স্মরণে অনুষ্ঠান ছিলো … ভাবছিলাম যে ওখানে যাবো … কিন্তু ১ টা সময় স্কুল শেষ হবার পর বিকাল ৫টা পর্যন্ত কি করবো, আর কোথায়ই বা গিয়ে থাকবো ভাবতে ভাবতে মনে হলো যে সব বাদ দিয়ে বাসায় গিয়ে ঘুমাই সেটাই ভালো … বাসায় এসে গোসল করে, খেয়ে দেয়ে প্রায় ৮টা পর্যন্ত ঘুমালাম … তারপর উঠে জাপানিজ স্টাডিজ এর পড়ালেখা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে আর দিনযাপন লেখা হলো না …

শুক্রবার দিন তো সেই ভোর ৬টায় উঠে কাজ শুরু করেছি একটা ট্রান্সলেশনের। তার মধ্যে আবার বের হয়েছি, নিশাতের বাসায় গেছি, ওর সাথে চাঁদনী চক গেছি, সেখানে ঘুরে ঘুরে গরমে প্রায় সেদ্ধ হয়ে বের হয়েছি, হানডি-তে গিয়ে লাঞ্চ করেছি, আবার নিশাতের বাসায় গেছি, সেখান থেকে ৫টার দিকে বাসায় ফিরে এই যে ট্রান্সলেশন নিয়ে বসেছি, রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা ট্র্যান্সলেশন করে গেলাম … মাথা পুরা হ্যাং হয়ে গেলো এক পর্যায়ে … তখন কি আর দিনযাপন লেখার মতো অবস্থা থাকে? দিলাম ঘুম …

আজকে আবার ভোরবেলা উঠে ট্র্যান্সলেশন শেষ করলাম …

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে নাকি কামতা বৌ, মানে আমার বড়মামীর গলব্লাডার স্টোন অপারেশন হয়েছে। তেমন সিভিয়ার না, একটাই ছোটো পাথর পাওয়া গেছে। কিন্তু ব্যথা হচ্ছিলো অনেক। সেজন্য রিস্ক না নিয়ে অপারেশন করে ফেলা হয়েছে। ল্যাব এইডে ছিলো। তো, আমি যখন জেনেছি ততক্ষণে আমি বাসার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। স্কুলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় জানলে আমি ল্যাব এইডে চলে যেতে পারতাম, একটু হেল্প-ও করা যেতো … সেটা আর হলো না …

গতকালকেই অবশ্য কামতা বৌ হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়ে গেছে। মুক্তা আপুদের বাসায় উঠেছে বোধহয়। গতকালকে টিয়াম, মা সবাই দেখতে গেলো। আমার আর যাওয়া হলো না । ট্র্যান্সলেশনের কাজটা জরুরি ছিলো, আর সারাদিন মার্কেটে ঘুরে আর বের হতেও ইচ্ছা করছিলো না। এই গরমে এত দৌড়াদৌড়ি ভালো লাগে না।

আজকে সারাদিনের ইভেন্ট বলতে একটাই – রাখি’ র বিয়ে। রাখির ভালো নাম তানজিলা কায়সার। ও আমার সাথে হলিক্রস কলেজে পড়তো। ওকে তখন আমি ভালো নামেই চিনতাম। পরে যখন কলেজ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর অনেকদিন পরে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে ওর সাথে দেখা হলো, তখন থেকে রাখি নামটাই বেশি ব্যবহার হয়েছে! যে কোনো কারণে কলেজে পড়ার সময় থেকেই আমাকে রাখি অনেক পছন্দ করতো। তো, কলেজে থাকতে ও আমাকে ওর একটা ছবি দিয়ে বলেছিলো ওর পোর্ট্রেট করে দিতে। আমি দিয়েছিলামও ।  খুব যে ভালো কিছু হয়েছিলো তা-ও না। এমনকি ওইটার কথা আমি পরে ভুলেও গিয়েছিলাম। একবার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি গিয়ে রাত হয়ে গিয়েছিলো বলে ওর হলে ছিলাম। তখন দেখেছিলাম ও ওর হলের রুমের দেয়ালে আমার এঁকে দেয়া ছবিটা সেঁটে রেখেছে! আমি কি না কি এঁকে দিয়েছি, ওর চেহারাও ঠিকমতো হয়নাই, অথচ ওই ছবিটাকেই ও কতো যত্ন করে, কত গুরুত্ব দিয়ে রেখে দিয়েছে! তখন খুব খারাপ লেগেছিলো মনে মনে, কলেজে ওকে পাত্তা দিতাম না বলে!

তো যাই হোক, আজকে ওর কাবিন-এর প্রোগ্রাম ছিল। একেবারেই ঘরোয়া আয়োজন। ডিসেম্বরে নাকি বড় করে প্রোগ্রাম হবে। আমার দাওয়াত ছিলো ছবি তুলে দেবার জন্য। প্রোগ্রামের ছবি ঠিক না, ওর কিছু ভালো ছবি তুলে দিতে হবে, সেজন্য। আগে এরকম প্রোগ্রামে উৎসাহ নিয়েই যেতাম। কিন্তু এখন আর এনার্জি কাজ করে না। কিন্তু রাখিকে না করলাম না। ও অনেক শখ করেই আমাকে দাওয়াত করেছে। যাই হোক, ওর প্রোগ্রাম হওয়ার কথা ছিলো দুপুরে, ১২টা থেকে ২ টা নাগাদ। কিন্তু বরযাত্রী নাকি সেই ভোরবেলা বগুড়া থেকে রওনা দিয়েছে, ১২টার দিকে নাকি ওরা সাভারেই পৌছেছে। সাভারে আবার ছেলের বোনের বাড়ি আছে, নাকি ওদেরই নিজস্ব বাড়ি সেটা ঠিক মনে নাই। ওখানে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে তারপর ওরা যখন এসে রাখিদের বাসায় পৌঁছেছে তখন প্রায় বিকাল ৫টা! এদিকে একে তো প্রচণ্ড গরম, তার ওপর শাড়ি পড়েছি, তার ওপর বসার জায়গা নাই আরাম করে, এতক্ষণ বসে থাকতে থাকতে আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো, আর প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগতে থাকলো। কাজি সাহেব তাও এসেই তাড়াহুড়া করতে থাকলেন, কারণ যেভাবেই হোক তাকে মাগরিবের ওয়াক্তের আগেই বিয়ে পড়ানো শেষ করতে হবে। বিয়ের যাবতীয় ফর্মালিটিস শেষ করে ফ্যামিলির সবাইকে নিয়ে গ্রুপ ছবি তুলতে তুলতে ৭টা বাজলো। আমি মোটামুটি ৭ টা বাজতে না বাজতেই বের হয়ে গেলাম। রাখির ছোটো ভাইয়ের এক ফ্রেন্ড আমাকে সিএনজি পাওয়া পর্যন্ত এগিয়ে দিলো। তাও অনেকটা হেঁটে সিএনজি পাওয়া গেলো। বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় রাত ৯টা। সিএনজি’র ভেতরে গরমে আর জ্যামের মধ্যে বসে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছিলো পারলে শাড়ি-টাড়ি খুলে বসে থাকি! কি অসহ্য গরম! সন্ধ্যা বেলাতেও তাপমাত্রা থাকে ৩২ ডিগ্রি, আর হিউমিডিটির কারণে সেটা ফিল হয় ৩৮ ডিগ্রি! …

প্রমা আর লালাম এসেছে বাসায়। আজকে থাকবে। কালকে সারাদিন থেকে হয়তো সন্ধ্যায় চলে যাবে। কালকে সারাদিন আমি ছুটি মুডে থাকলেও, আল্টিমেটলি কিছু কাজ নিয়ে বসতেই হবে। কালকে অন্তত বাসা থেকে বের হবো না এইটা শিওর। বৃতা বলছিলো ওদের ঊর্ণাজাল-এর শো আছে, দেখতে যাওয়ার জন্য, পারলে ওর ক্যারেক্টারের কিছু ছবি তুলে দিতে। গ্রুপেও নাকি আজকে গেট-টুগেদারের মতো হবে। হিরা ভাই আমেরিকা চলে যাবে কয়েকদিনের মধ্যেই। সেজন্য নাকি উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হবে। উনি কি আর কোনোদিন ফিরবে না, নাকি উনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রাচ্যনাট’-ই ছেড়ে দিচ্ছে বুঝলাম না! এত আড়ম্বর, এত আয়োজন! যাই হোক, আমি কোনোটাতেই যাবো না। কালকে ছুটির দিন, সো, ছুটি কাটাবো …

বাই দ্য ওয়ে, ওই যে বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এত কথা, এত হম্বিতম্বি হচ্ছিলো, বলছিলো যে ১ তারিখ থেকে নাকি সিম-ই বন্ধ করে দেবে রেজিস্ট্রেশন না করলে, সেই রেজিস্ট্রেশনের নাকি এক মাস সময় বাড়িয়েছে! আমার কথাটা শুনে এত হাসি পেলো! এই হচ্ছে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা! যতই গর্জে, তার ৫ ভাগও বর্ষে না! সিম বন্ধ করে দিতো, সেটার জন্য তো প্রস্তুতই ছিলাম …

যাই হোক, আর লিখবো না আজকে …

অনেক ক্লান্ত … ঘুমাতে যাই …

আর, এখানে, গতবছরের দিনযাপনের লিঙ্ক –

২৮ এপ্রিল ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/04/30/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%ae%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

২৯ এপ্রিল ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/04/30/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%af%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

৩০ এপ্রিল ২০১৫ তে দিনযাপন লিখি নাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s