দিনযাপন । ০১০৫২০১৬

সকালবেলা ঘুম ভাঙ্গার পর থেকেই আজকে কেমন একটা মাথা ধরা ভাব লেগে ছিলো। মনে হয় কালকের মাথা ব্যথারই আফটার ইফেক্ট … তবে, আজকে বেশ অনেকদিন পর মাথা ব্যথা জিনিসটা আবারো সেই ঘোর লাগা অনুভূতিতে রূপ নিলো। এই সময়টায় আমার অনেক ঘুম পায়, আর ঘুমের মধ্যে আমার মনে হতে থাকে যে আমি আসলে ঘুমাচ্ছি না, কেমন একটা ট্রান্স মোডে চলে গেছি। এসময় আমি স্বপ্ন দেখি, আর সেই স্বপ্নগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করি । কারণ আমার মনে হয় এই স্বপ্নগুলো আমার অবচেতন মন নিয়ে অনেক কিছু ভাববার উপাদান দেয়।

যেমন, আজকে দেখলাম যে কোথাও একটা শো হবে, আমরা প্রাচ্যনাটের সবাই সেখানে আছি। আমি মনে মনে ভাবছি জায়গাটা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি, কিন্তু আসলে জায়গাটা শিল্পকলার মতো না মোটেই। আর কেমন যেন অন্ধকার। এদিকে আমরা কি শো করবো, কারাই বা শো করবো তাও আমরা জানি না! আমি মনে মনে এটাও ভাবছিলাম যে ইম্প্রোভাইজেশন বেজড কাজ করতে করতে কি প্রাচ্যনাট এতই ওভারকনফিডেন্ট হয়ে গেছে যে শো করতে এসে ইনস্ট্যান্ট ইম্প্রোভাইজ করবে? এর মধ্যে আবিষ্কার করলাম যে আমাকেও শো-তে থাকতে হবে! কি জ্বালা! আমার তো মিনিমাম আইডিয়াই নাই যে কি জন্য কিসেরই বা শো হচ্ছে! যাই হোক, আমরা কয়েকজন লাইন ধরে বসলাম … একজন উঠে কি কি জানি ডায়ালগ দিলো … এদিকে তারপর আর কেউ ওঠেনা! … কারণ এখন মূল চরিত্রের সেখানে দাঁড়াবার কথা! মূল চরিত্র কে? তাও জানি না! হঠাৎ দেখলাম জগন্ময় দা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসছে! উনিই মূল চরিত্র, কিন্তু আসতে দেরি করে ফেলেছেন …

এরপর স্বপ্নটা একটা জাম্প কাট নিলো … দেখলাম যে আমি  ইন্ডিয়া বেড়াতে এসেছি, আর একটা জায়গায় শপিং করতে আসছি … এখানে আবার আমার ট্যুর পার্টনার এক্সেলের কয়েকজন টিচার, জেসমিন আপা, শর্মিষ্ঠা আপাদের সার্কেলটা! আমি স্বপ্নের মধ্যেই এটা ভেবে অবাক হচ্ছিলাম যে উনাদের সাথে তো আমার ওট খাতিরই নাই, তাইলে ট্যুরে আসলাম কেন! … তো আমি ভাবছি মা’র জন্য কিছু একটা নেবো। তো, আমি ক্রোকারিজ সেকশনে টি-পট দেখছি। কিন্তু কোনোটাই পছন্দসই হচ্ছে না … আবার যেটা পছন্দ হয় সেটার দাম অনেক … আমি একজন সেলসম্যানকে ডাকলাম আমাকে বাজেটের মধ্যে কিছু একটা দেখানোর জন্য … সে আমাকে জাপানিজ টি –মেকিং এর সেট বের করে দেখাতে শুরু করলাম … আমি মনে মনে বললাম যে দুইদিন পর তো এমনিতেই জাপান যাবো, তখন জাপানিজ টি-সেট জাপান থেকেই কিনবো! তো তারপর কি কি জানি কিনলাম, মনে নাই। কিন্তু, ওই সেলসম্যান আমার সাথে মহা ফ্লার্ট করতে শুরু করলো … আমি আবিষ্কার করলাম যে সেলসম্যানটা দেখতে সোহেলের মতো। চরম বিরক্তিতে চোখ-মূখ বিকৃত হয়ে গেলো আমার। কিন্তু সেলসম্যান পিছু ছাড়ে না। মুগ্ধ’র বিয়ের সময় সোহেল যেভাবে যেভাবে ফ্লার্ট করতো, ওইরকম করতে থাকলো। এক পর্যায়ে দেখি সিএনজি-তে সবকিছু নিয়ে উঠেছি, সেও সাথে উঠেছে! … আমি তাকে না-ও করতে পারছি না! … কারণ আমার মনে হচ্ছে যে ওর ফ্লার্ট করায় রেসপন্স করলে অন্তত কয়েকদিনের জন্য একটা সেক্স পার্টনার তো পাওয়া যাবে! …

এদিকে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে আমি আসলে শিল্পকলা অ্যাকাডেমি যাবো, আর শিল্পকলা অ্যাকাডেমি তো পেছনেই! সেটার জন্য তো সিএনজিও লাগবে না! … সাথে সাথে ওই সেলসম্যানকে কাটানোর সুযোগ হয়ে গেলো … শিল্পকলায় উঠে দেখলাম যে আগে যেই শো-টার কথা লিখলাম ওইটা শেষ, সবাই গল্প করছে! আমার কাছে একটা ক্যাপ ছিলো হাতে, ওইটা নোবেল ভাইয়ের, তাই উনাকে ফেরত দিতে গেলাম। উনি বললো যে ক্যাপটা উনার না। আমি বললাম যে এইটা আপনারই, আমিই আপনাকে দিয়েছিলাম। নোবেল ভাই তখন হাসি সিয়ে বললো, ও আচ্ছা, মনে নাই! কে যে কখন কি দেয়, মনে থাকে না! … কথাটা আমার খুব গায়ে লাগলো। আমি জোরে জোরে সবাইকে শুনায় শুনায় বললাম, দোকান বেশি হইলে এমনই হয়! যত্তসব! … বলে গটগট করে বের হয়ে গেলাম …

তারপর হয়তো আরো অনেককিছুই দেখতাম। কিন্তু প্রমা এসে জোরে ডাক দিয়ে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিলো … ফলে স্বপ্নও আর দেখা হলো না, মাথা ব্যথাও বাড়লো …

InstagramCapture_4ebb6ab8-04ce-43c2-a3d2-b99d7c57f6bc

বিকালেও ভাত খেয়ে-টেয়ে একটু রেস্ট নিলাম … এই মাথা ব্যথাটা গোসল করার সাথে সাথে কমে যায়, আর তখন ক্লান্তিজনিত একটা ঘুম আসে … ঘুম ভাঙলো ঝড়ো বাতাসের ঝাপটায় … ঝড় আসছে বাইরে! … কালবৈশাখী … মনে হইলো যে ছাদে যাওয়া গেলে শিওর গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতাম! … বাইরে কি ধূলিঝড়! বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ধূলিঝড় দেখলাম … এক পর্যায়ে বৃষ্টি নামলো … তাপমাত্রা মনে হলো এক লাফে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ২৬ ডিগ্রিতে নেমে গেলো, হিউমিডিটিও ১০০% এর কাছাকাছি! আর কি লাগে! দুনিয়া ঠান্ডা টাইপের ভাবসাব নিয়ে ভেতরে এসে কাজ-কর্ম নিয়ে বসলাম …

কিন্তু কাজের কাজ আসলে কিছুই হয়নাই আজকে … ছুটি ছুটি মুডে থেকে কি কাজ হয়? … স্কুলের কোশ্চেন পেপার তৈরির কাজ, বিবিসির কাজ সব পেন্ডিং রেখে আমি খুব মনোযোগের সাথে ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ পড়ছি সন্ধ্যা থেকে! … পড়ছি আর মনে হচ্ছে এই লেখাটার কি সুন্দর ইংরেজি অনুবাদ করা যায়! ডেফিনিটলি ইংরেজি অনুবাদটা ভাষাগত দিক থেকে অনেক সহজ হবে বুঝতে … কিন্তু সেটা আসলে ফ্যাক্টর না। শওকত আলী কি সুন্দর করে একেকটা জিনিসের বর্ণণা দিয়েছে। পড়তে পড়তে আমার মনে হচ্ছে চোখের সামনে দৃশ্যটা দেখতে পাচ্ছি … এজন্যই আরো এইটার অনুবাদের ইচ্ছা তৈরি হইলো। আমরা এত এত বিশ্ব সাহিত্য পড়ি, আমাদের যে এত সুন্দর সুন্দর লেখা, সেগুলাও কি সব ভাষার মানুষের জন্য পড়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া উচিত না? … শওকত আলী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরী … এদের একেকজনের লেখা অনুবাদ করতে পারলেও নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হইতো …

সবকিছু ছেড়েছুড়ে দিয়ে খালি লেখালেখি করার দিন যে কবে আসবে! … সেই স্বপ্নের দিন! … আদৌ কি আসবে? …

আজকে আর লিখবো না …

গতবছর ১ মে-তে দিনযাপন লিখিনাই, তাই আজকে আগের বছরের লিঙ্ক-ও নাই …

যাই হোক, মে মাস অনেক ঘটনাময়তার মাস … অনেক পেইনফুল স্মৃতির মাস … এই মাসটা … বিশেষ করে এই মাসের শেষ দুই সপ্তাহ খুব তাড়াতাড়ি চলে যাক …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s