দিনযাপন । ০৬০৫২০১৬

বাসায় ঢুকবার সাথে সাথেই দুনিয়ার যত ক্লান্তি এসে শরীরে ভর করে। তা সে আমি যখনি বাসায় ফিরি না কেন, রাত ১০টাই হোক, আর সন্ধ্যা ৬টাই হোক, আর দুপুর ৩টা! যেদিন ক্লাস থেকে সেদিন ক্লাস শেষে আর গ্রুপে না গিয়ে বাসায় ফিরলে মোটামুটি ৯টা-সোয়া ৯টা বাজে … আর যেদিন ক্লাস থাকে না, সেদিন আর কোনো কাজ না থাকলে স্কুল শেষ করে বাসায় চলে আসি। স্কুল আর ভার্সিটি, এর বাদে আর কোনোকিছুতে ইনভল্ভড হওয়ার এখন আর ইচ্ছাই করে না …

কালকেই যেমন, গ্রুপের কয়েকজন মিলে ‘মুসাফির’ দেখবে বলে প্ল্যান করেছিলো … সপ্তাহ দেড়েক আগে যখন প্ল্যান শুরু হয়, তখন বেশ উৎসাহ ছিলো। আমাদের গ্রুপের একটা ছেলে আছে, সোহেল, ও এখানে একটা অ্যান্টাগনিস্ট চরিত্রে অভিনয় করেছে। খুব বড় চরিত্র না, কিন্তু মেইন্সট্রিম সিনেমায় ওর প্রথম অভিনয়, তাও আবার আরেফিন শুভ সেই সিনেমার নায়ক! ও স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্টই এক্সাইটেড ওর কাজ নিয়ে। তো, ওকে উৎসাহ দেয়ার জন্যই সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যাওয়ার প্ল্যান করা … তো, আমি যাবো যাবো বলেও গতপরশুদিন বলে দিলাম যে যাবো না। আসলে আমার ইচ্ছাই করলো না সিনেমা দেখতে যাওয়ার। মানে, ওই হই-হুল্লোড়, হইচই করার ব্যাপারটা ভাবতে গিয়ে মনে হইলো যে থাক! এখন হই-হুল্লোড় করার মুড কাজ করছে না! … যারা সিনেমা দেখতে যাচ্ছে তাদের সাথে গিয়ে তো আর চুপ করে বসে থাকা যাবে না! … এমনকি কালকে দুপুরবেলা গোপী মেসেঞ্জারে নক করে কনফার্ম হবার জন্য জিজ্ঞেস করলো যে যাচ্ছি কি না সিনেমা দেখতে, তখনও হয়তো হ্যাঁ বলার অপশন ছিলো। কিন্তু তখনও ‘না’- ই বলে দিলাম …

যাই হোক, সিনেমা দেখতে গেলাম না … এই হচ্ছে কাহিনী … অনেকদিন হইলো গ্রুপেও যাই না … গ্রুপে যাওয়ারও উৎসাহ পাচ্ছি না … ক্লাস শেষ করে বের হয়ে প্রথমত অনেক ক্লান্ত লাগতে থাকে, মনে হয় যে কখন বাসায় যাবো, আর দ্বিতীয়ত মনে হয় যে গ্রুপে গিয়ে কি-ই বা হবে, কে-ই বা আসবে! … মাঝে মাঝেই আমার এরকম উইথড্রয়্যাল সিনড্রোম হয় তা তো আগেই লিখেছি … ইদানীং গ্রুপে যাওয়া নিয়ে এই সিনড্রোম কাজ করতে শুরু করেছে …

গত কয়েকদিনে অনেকগুলা ছোটোখাটো কাহিনী জমে গেছে দিনযাপনে লেখার জন্য। কিন্তু, সেগুলো এখন এখানে একের পর এক লিখতে গেলে আসলে খাপছাড়া লাগবে। তাও একটা দুইটা কাহিনী তো মেনশন করতেই হবে …

যেমন, মাঝখানে একদিন, মানে এই সোমবারেই, ২ তারিখে, স্কুলে গিয়েছিলাম ল্যাপটপ নিয়ে যে বসে বসে ওয়ার্কশিটের কাজ করবো। ওইদিন ক্লাস শেষ করেই তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেছি, বসুন্ধরা সিটিতে ‘জাঙ্গল বুক’ মুভিটা দেখতে যাবো বলে। তো, আমি ক্লাসে যাওয়ার আগে ল্যাপটপটা রেজিস্টার খাতা দিয়ে চাপা দিয়ে রেখে গিয়েছিলাম যাতে কারো চোখে না পড়ে। যথারীতি ক্লাস থেকে এসে ব্যাগ গোছানোর সময় আমারই চোখে পড়লো না, এবং আমি ল্যাপটপ না নিয়েই বের হয়ে গেলাম! এবং সেটা আবার আমার খেয়াল হলো সিনেমা দেখে-টেখে নিশাতের বাসায় গিয়ে গেম অব থ্রন্স-এর সিক্সথ সিজনের সেকন্ড এপিসোড দেখে শেষ করে যখন গল্প করছি আর চা খাচ্ছি, তখন! ওই সময় তো আর স্কুলে ফিরে যাওয়ারও উপায় নাই। কি আর করা, ‘কিচ্ছু হয়নাই’ ভাবসাব নিয়ে খুব ঠাণ্ডা থাকার চেষ্টা করে বাসায় এসেই ঘুম দিলাম, সকালে উঠে স্কুলে গিয়ে ল্যাপটপ জায়গামতো পেয়ে তারপর শান্তি!

এদিকে গতপরশু সন্ধ্যায় কি হলো? শফিক স্যারের ক্লাস শেষ করে বের হয়ে সিএনজি পাই না, পাই না করতে করতে শেষে একটা সিএনজি পেলাম। তখন বাজে প্রায় সাড়ে সাতটা। কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী না কে এসেছে, তাকে নিয়ে শেখ হাসিনা ডিপ্লোমেটিক মিটিং-ফিটিং করতে চিন মৈত্রী-তে গেছে, আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেছে এইরকম কি কি সব হাবিজাবি কারণে নাকি সারাদিনই ঢাকা শহরের এদিকের ওদিকের রাস্তা বন্ধ ছিলো। আর সে কারণে বিকাল ৫টা নাগাদ নাকি সেইরকম জ্যাম। টিএসসি থেকে বাংলা মোটরের মোড় পর্যন্ত যেতেই প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা লেগে গেলো, মিটারে দেখি ১৫০ টাকা উঠে গেছে! … নর্মালি এই সময় বাসায় ফিরি তখন প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টাতেই মিরপুর পৌঁছায় যাই, এবং মোটামুটি ১৬০/১৭০ টাকার মতো ওঠে! … তো, বেশ দুনিয়া ঘুরে আমি যখন বাসায় পৌছালাম, তখন বাজে রাত ১০টারও বেশি, এবং ভাড়াও দিলাম ৪০০ টাকা! এবং বাসায় ফিরে আমি লিটেরেলি অসুস্থ বোধ করছিলাম। কিছুক্ষণ এম্নেই ফেসবুক ঘেঁটে, অল্প একটু খাওয়া দাওয়া করে ঘুমায় পড়লাম …

FB_20160505_09_48_06_Saved_Picture

গতকালকে সন্ধ্যায় আবার এক ‘চানটিং বোল’ নাটক হয়ে গেলো! বকুল ভাইয়ের ‘মুল্লুক’ নাটকটায় চানটিং বোল –এর ঈঊজ হয়, তো ওরা প্রথম থেকেই আমার নেপাল থেকে আনা চানটিং বোল-টা ইউজ করছে। তো, ‘মুল্লুক’ এখন বেশ পপুলার নাটক হিসেবে প্রায়ই শো হচ্ছে, ঢাকার বাইরেও শো করে এসেছে। তো, এতদিন নায়ীমী এই নাটকটায় কাজ করতো, আমি ওর দায়িত্বে চানটিং বোল-টা দিতাম। কিন্তু নায়ীমী এখন আর কাজ করছে না, সো চানটিং বোল-টা কার দায়িত্বে দিবো সেইটা একটা ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। … এখন এইটুকু ঘটনার মধ্যেই আরও অনেক প্যাঁচ আছে, সেগুলা বলে ফেলি …

প্রথমত, চানটিং বোলটা যে এই নাটকে ব্যবহার হচ্ছে সেটাই আমি জানতাম না যদি না ‘মুল্লুক’ নাটকটা নামার আগে একদিন আমি নায়ীমীর সাথে ওদের রিহার্সাল ফ্লোরে না যেতাম! চানটিং বোল-টা কি একটা কাজে জানি নোবেল ভাইয়ের কাছেই ছিলো, আর আমারও নেয়া হচ্ছিলো না। এর মধ্যে এই নাটকে চানটিং বোল লাগবে দেখে উনি নিজ দায়িত্বে আমার-ই চানটিং বোল আমাকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে না করে ‘মুল্লুক’ এর মিউজিক টিমে দিয়ে আসছে! নোবেল ভাই-কে আমি এইটা ইউজ করতে দিয়েছি বলেই যে আর কাউকে দেবো, সেটা উনি ভাবলো কীভাবে সেই প্রশ্ন তো অনেক পরে। এইটা আমার অজান্তেই এভাবে হাতছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এই ব্যাপারটাই তো বিরক্ত হবার জন্য যথেষ্ট! … উনাকে আমি খুব ডিসেন্টলি পরে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলাম, আর উনি উত্তর দিয়েছিলো যে উনি কিছু জানেন না, বকুল ভাই জানে! অ্যাজ ইফ, বকুল ভাই জানতো যে আমার একটা চানটিং বোল আছে, আর ওইটা যেন নোবেল ভাই উনার নাটকের জন্য দেয়, আমাকে যেন না জানায়! … প্রচন্ড বিরক্ত হওয়ার পরেও কিছু বললাম না। এদিকে ওই চানটিং বোল আমি শো হওয়ার পরেও ফেরত পাই না! ধ্বনি’র অফিসে, এখানে সেখানে, হ্যান- ত্যান সাত-সতেরো বোঝানো শুরু করলো নোবেল ভাই। আমারও জিদ ছিলো যে ওইটা আমি নোবেল ভাইয়ের মাধ্যমেই ফেরত নেবো, তো শেষমেশ গ্রুপের-ই এক শো-তে সেটা ইউজ হলো, তখন আমি ওইটা ফেরত নিয়ে আসলাম। তখন বকুল ভাই-এর সাথে কথা হলো এরকম যে চানটিং বোল-টা আমার কাছেই থাকবে, কিন্তু শো-এর সময় কেউ দরকার হলে বাসা থেকে গিয়ে নিয়ে আসবে। তো তখন আমি চানটিং বোল-টা নায়ীমীর দায়িত্বে দিলাম কয়েকবার। নায়ীমী যেহেতু রেসপন্সিবল মানুষ, ওকে দিতে আমার সমস্যা ছিলো না। কিন্তু লাস্ট টাইম কি হলো? ‘মুল্লুক’ এর শো হলো জামালপুরে, ওখানে তো নায়ীমী গেলো না, তো ওই শো-এর পরে একজন আমাকে চানটিং বোল-টা ফেরত দিয়ে গেলো, তাও খালি হাতে এনে দিলো, কোনো ব্যাগ ছাড়া! অথচ আমি যখন দিয়েছি, সাথে একটা কাপড়ের ব্যাগ ছিলো! ওইটা দেখে আমার পুরনো বিরক্তি আবার ফিরে আসলো, এবং আমি ঠিক করলাম যে চানটিং বোল আবার চাইলে আমি দেবো না!

তো, সেই জায়গা থেকেই কালকে যখন চানটিং বোল চাইলো যে আজকে শো, সেজন্য লাগবে, আমি প্রথমে না করে দিলাম। তাও কি! নায়ীমী-কে দিয়ে প্রথমে ফোন করালো, যদিও নায়ীমী ওই টিমেই নাই। তারপর শশাঙ্ক দা ফোন করার পর আমি প্রথম থেকে এ যাবতকাল পর্যন্ত ইতিহাস তাকে বয়ান করে দিলাম যে দেখেন, এইরকম এইরকম হয়েছে, সো আমার না আসলে চানটিং বোলটা আর দিতে ইচ্ছা করছে না ইত্যাদি ইত্যাদি … পরে বকুল ভাই ফোন করে নিজের দায়িত্বে সেটা চাইলো। বকুল ভাই নিজে দায়িত্ব নিয়ে নিয়ে যাবে, আবার ফেরত দেবে বলেছে, সেটা আর না করি কীভাবে। তখন শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম। পরে বকুল ভাই আজকে সকালবেলা নিজে বাসায় এসে নিয়ে গেলো চানটিং বোল।

মানুষের সেন্স অব রেসপন্সিবিলিটি দেখলে আমার মাঝে মাঝে অবাক লাগে! আমার কাছে যদি কারো একটা জিনিস থাকে, সেটা কি আমি যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করবো, কিংবা বিলিয়ে বেড়াবো, কিংবা চরম অযত্নে ঘরের এক কোণায় ফেলে রাখবো?

এই কয়েকদিন আগেই, স্কুলেও এরকম একটা ঘটনা ঘটলো। এক কলিগের পরিচিত ‘টাপারঅয়ার’ ডিলার আছে, তো উনার কাছ থেকে সেই কলিগের আমার জন্য একটা পানির জার এনে দেবার কথা। তো উনি একদিন আনলেন। আমি তখনও স্কুলে যাই নাই। তো, ক্লাসের আগে আগে যখন গেলাম, তখন উনি জানালেন যে আরেক কলিগের নাকি ওই জারটা দেখে পছন্দ হয়েছে, তাই টাকা দিয়ে সাথে সাথে নিয়ে গেছে! আমি কার ওপর রাগ করবো সেইটাই আমি ভাবতে পারলাম না আমার এত বিরকত লাগলো! এইটা কোনো কথা হইলো নাকি! উনি তো আরেকটা অর্ডার দিতে পারতেন, আমার জন্য যেটা এনেছে ওইটাই নিয়ে নিতে হবে? তাও আবার উইথাউট ইভেন আস্কিং মি! আজব! … এখন কাহিনী কি হলো? ওই কলিগের সাথে নাকি ওই ডিলার ভাব নিচ্ছে, তাই উনি আমার জন্য আরেকটা আনতে পারছেন না! প্রতিদিন দেখা হলেই বলে, ‘ মিস আজকেও তো পেলাম না আপনার জন্য!’ … ওইদিন আমি খুব বিরক্ত হয়ে ওই না বলে আমার জন্য আনা জারটা আরেকজনের নিয়ে যাওয়া নিয়ে একটু লাউডলিই উষ্মা প্রকাশ করেই ফেললাম অন্য আরেক কলিগের সামনে! …

যাই হোক, এরকম বলতে থাকলে মনে হয় একের পর এক লিস্ট বাড়তেই থাকবে। সো, প্রসঙ্গ পাল্টাই …

১১ তারিখে জাপান স্টাডিজ-এর একটা কোর্সের পরীক্ষা। এখনো ওইটার নোট-টোট কিছুই করার জন্য বসতে পারি নাই। স্কুলের কাজই শেষ করতে পারছি না। রিভিশন ওয়ার্কশিট বানাচ্ছি একেকটা চ্যাপ্টারের, সেই কাজই শেষ করতে পারছি না। কালকে আর পরশু সারাদিন বাসায় থেকে যদি একটু নিজের জন্য পড়ালেখা করা যায়!

আজকে আর লিখবো না। সারাদিন বনানী ঘুরে-টুরে বাসায় এসে বিকাল থেকে ঘুমিয়েছি টায়ার্ড হয়ে। এখন আবার ঘুম পাচ্ছে। অল্প একটু খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে থাকবো।

গতবছরের দিনযাপনের লিঙ্ক –

২ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/03/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

৩ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/04/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%a9%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

৪ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/05/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%aa%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

৫ আর ৬ তারিখে দিনযাপন লিখি নাই গতবছর। সো লিঙ্ক নাই …

এই লিঙ্কগুলা যেদিনেরটা যেদিন দেয়ার তাগিদে হইলেও আমার প্রতিদিন দিনযাপন লিখতে পারা উচিত! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s