দিনযাপন । ০৮০৫২০১৬

গত দুইদিন যাবৎ কমপ্লিট বাসা-বন্দি থেকে কেবল পড়ালেখাই করছি! তাও আবার প্রাচীন জাপানের ইতিহাস! গতকাল সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পড়ালেখা ম্যারাথন শুরু হলো! দুপুরে খেয়ে-দেয়ে ঘুম, সন্ধ্যায় উঠে আবার পড়তে বসা! রাতে খেয়ে-দেয়ে ঘুম, সকালে উঠে আবার পড়ার টেবিলে! … আজকে তাও সকাল সকাল পড়তে বসার কারণে ১১টার দিকে উঠে গিয়ে কতক্ষণ ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ পড়েছি। ওই বইটারও এমন একটা জায়গায় এসে ঠেকেছি যে মনে হয় সবকিছু বাদ দিয়ে ওইটাই এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করে ফেলি! যাই হোক, প্রচুর নোট করলাম গত দুইদিন যাবত। জাপানের ইতিহাসের প্রাচীন যুগের ওপর টেস্ট, তাও ১০ নাম্বারের। কিন্তু পড়ার বহর দেখলে মনে হচ্ছে যেন ১০০ নাম্বারের পরীক্ষা হবে! …

আসলে যেই সিলেবাসের ওপর পরীক্ষা, ওই ক্লাসগুলোই আমার করা হয়নি। ফলে, যা পড়ার এবং বোঝার তা তো এখন রিডিং ম্যাটেরিয়াল আর ইন্টারনেটের আর্টিকেলগুলা পড়ে পড়ে বুঝতে হচ্ছে। ক্লাস করা থাকলে মোটামুটি গায়ে বাতাস লাগিয়েই ঘুরতাম আর পরীক্ষার দুই দিন আগে, মানে কাল-পরশু পড়ালেখা নিয়ে বসতাম! কারণ, আমার যা পড়ার তা মোটামুটি ক্লাসের লেকচার শুনে শুনে লিখতে গিয়েই হয়ে যায়, বাকিটুকু খালি শূণ্যস্থান পূরণের মতো কাজ করে, আর তা দিয়েই আমি বেশ কনফিডেন্স-এর সাথে পরীক্ষার হলে উৎরিয়ে যাই। শুধু উৎরাই না, ভালো নাম্বার পেয়েই উৎরাই। তো যাই হোক, ক্লাশ যখন করি নাই, পড়ালেখা তো একটু ডিটেইল করতেই হবে!

আজকে সন্ধ্যাবেলা আমার পড়ার টেবিলের ওপর বরাবর টিউবলাইট-ও লাগানো হয়েছে। এতদিন মাথার ওপর লাইট ছিলো না, তাই কিঞ্চিৎ অন্ধকারেই পড়তে বসা হচ্ছিলো। পাশের দেয়ালের এনার্জি বাল্ব আর কতটুকুই বা আলো দেয়? … আর এতদিন তো টেবিলে সেভাবে বসে পড়ালেখার কাজ হতো না, ফলে লাইটও দরকার ছিলো না। এখন তো রীতিমতো বই-খাতা নিয়ে পড়ালেখা করি, ব্যাপার-স্যাপারই আলাদা। সো, লাইট-ও ইন্সটল করা হয়ে গেলো। এলইডি লাইটের ফকফকা আলোয় এখন যদি তাও পড়ালেখার উৎসাহ দ্বিগুন হয়!

আজকে হরতালের কারণে একটা দিন ফাঊ পেয়ে গেলাম। তাতে লাভ-ক্ষতি দুইটাই সমান। লাভ হচ্ছে যে পড়ালেখা করতে পারলাম, আর ক্ষতি হচ্ছে যে স্কুলের কাজের প্রেশারটা আরেকটু বেড়ে গেলো। যেহেতু আজকে থেকে ফাইনাল পরীক্ষার আগে রিভিশন উইক শুরু হচ্ছে বাচ্চাদের, একটা করে ক্লাস বাদ যাওয়া মানে ওইটার মেকাপ ক্লাস নেয়ার প্রেশার। কীভাবে যে কি করবো জানি না! … সব টিচারেরই তো একই অবস্থা … কার কাছে যে ক্লাস চাইবো তাও বুঝতে পারছি না! … এক্সট্রা কারিকুলার ক্লাসের দিকে তাকিয়ে কোনোই লাভ নাই, কারণ ঐগুলা অলরেডিই কেউ না কেউ নিয়ে রেখেছে। … দেখি, কালকে যাই, কি হয় দেখা যাক!

13119989_616861445133323_252659862429201714_o

আজকে সারাদিন ফেসবুকে সবার ‘মা দিবস’ সংক্রান্ত আবেগ-উত্তেজনা দেখতে দেখতে কাটলো। কেউ ‘আই লাভ মম’ লিখে পোস্ট দেয় তো কেউ আবার কাউন্টার পোস্ট দেয় এই বলে যে ‘মা-এর জন্য ভালোবাসা কি একদিনই নাকি?’ … মানে, বেশ বিনোদনমূলক অবস্থা! … আমি একবারই ‘মাদার’স ডে’ –তে মাকে নিয়ে বের হয়েছিলাম, নান্দোস-এ ‘বাই ওয়ান, অ্যান্ড গেট মাদার’স বিল ফর ফ্রি’ টাইপ একটা অফার চলছিলো, তো নান্দোসে খাওয়ার ছুতাতেই মা’কে নিয়ে যাওয়া। তবে, এই নান্দোস-এ যাওয়াটা কোনো ঘটনা না, তার আগের ঘটনাটাই ইন্টেরেস্টিং। আমি যেহেতু সাধারণত এসব হাবিজাবি মাদার’স ডে, ফাদার’স ডে, সিব্লিং’স ডে টাইপ বিষয়বস্তুর সেলিব্রেশন নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাই না, ফলে আমি মাদার’স ডে-তে মা’কে নিয়ে বের হতে চাইছি, এইটাতেই মা কত আপ্লুত হবে সেটাই ভাবছিলাম। এখন, নান্দোস-এর অফারটা মনে হয় বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত চলেছিলো। আমি মা-কে বলেছিলাম যে রবিবার যেহেতু মাদার’স ডে, ওইদিন অনেক ভিড় হবে, চলো আমরা শুক্রবার কিংবা শনিবার যাই। মা তখন খুব সিরিয়াস চেহারা করে বললো, ‘আমি তো রবিবার ছাড়া পারবো না’ । আমি যখন জানতে চাইলাম যে কেন পারবে না, কি কাজ, তখন সে খুব নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলো, ‘ রবিবারে সিরিয়াল নাই, তাই ওইদিন যেতে পারবো। অন্যদিন গেলে তো সিরিয়াল মিস হয়ে যাবে!’ … আমার ওইদিন লিটেরেলি কার্টুনে যেমন ‘ট্যাঁও’ টাইপের সাউন্ড দিয়ে ‘কি আর বলবো’ টাইপের এক্সপ্রেশন দেখায়, সেরকম অবস্থা হয়েছিলো! …

তো যাই হোক, ওই এক বছর ছাড়া মাদার’স ডে নিয়ে আর বিশেষ কিছু মাতামাতি কখনোই হয়নাই। আর এখন তো অবশ্য আমি এইসব যাবতীয় সেলিব্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ করে বাসায় সাইলেন্ট মোডে চলে গেছি দেখে আরো হয়ই না …

তবে, আজকে আরেকটা ইন্টেরেস্টিং বিষয় দেখলাম। আজকে যেমন মাদার’স ডে, তেমনি রবীন্দ্রনাথেরও জন্মদিবস। যেটা হলো যে মাদার’স ডে’র আবেগ-উত্তেজনায় ফেসবুকীয় বাঙালিরা আজকে আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে মাতামাতি করার অবকাশ পেলো না। নয়তো কে কত ভালো আর গভীরভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে বোঝে সেটা প্রমাণ করার প্রাণান্তকর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতো! … এই বছর বাঙ্গালি না হয় মা-কে কত ভালোবাসে সেইটা উদাহরণসহ প্রমাণেই ব্যস্ত থাকলো!

ধুর, আজকে আর লিখবো না। ঘুম পাচ্ছে। ঘুমিয়ে থাকি গিয়ে। কালকে তো আবার সকাল সকাল ঊঠে স্কুলের উদ্দেশ্যে দৌড়াতে হবে। দুইদিন টানা বাসায় থেকে এখন আর কালকে বের হতে ইচ্ছা করছে না! … সো, সকালবেলা নিজের সাথে নিজের একটা যুদ্ধ করতে হবে রুটিনে ফেরার!

আর গতবছরের দিনযাপনের লিঙ্ক –

৭ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/08/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%ad%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/?fb_action_ids=10155498468355655&fb_action_types=news.publishes&fb_ref=pub-standard

গতবছরের ৭ মে’র দিনযাপনটা কিন্তু হেভি ইন্টেরেস্টিং। একটু আগে পড়তে গিয়ে নিজের কাছেই ভালো লাগলো।

৮ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/09/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%ae%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

এইদিনের দিনযাপনে জেবার সাথে প্রথম সাক্ষাতের প্রসঙ্গে অনেককিছু লিখেছিলাম। কিন্তু জেবার সাথে প্রথম কীভাবে দেখা হলো, সেই ঘটনাটা কোনো কারণে লিখে রাখি নাই। এখন আবারো সেটা পুরোপুরিই ভুলে গেছি! … কেন লিখে রাখি নাই কে জানে! … এখন কি আবার জেবাকে জিজ্ঞেস করে মনে করবো? …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s