দিনযাপন । ০৯০৫২০১৬

একটা জিনিস প্রতিদিনই দিনযাপন লেখার সময় ভাবি, দিনযাপন পোস্ট করার পর মানুষের লাইক আর কমেন্ট দেখে আরো ভাবি, সেটা হলো যে – কতজন মানুষ আমার দিনযাপনের পুরোটুকু পড়ে আর কতজন ওই ফেসবুকে শেয়ার হওয়া লিঙ্কে যতটুকু দেখা যায় ঐটুকু টেক্সট পড়ে? … কয়েকজনের ব্যাপারে আমি জানি যে তারা দিনযাপনের সবটুকুই পড়ে, লেখার খুঁটিনাটি নিয়ে তাদের সাথে আমার আলাপও হয়, কিন্তু বাকিরা? … যেমন, আমি দিনযাপনের লেখার সাথে যেই ছবি দেই, সেটাতে অনেকেই লাইক দেয়, কিন্তু সেটার সাথে লেখাটা পড়েনা! … অনেকসময়েই এমন হয় যে দিনযাপনের কন্টেন্ট সেদিন অনেক সেনসিটিভ, কিংবা অনেক ইন্টেরেস্টিং, কিন্তু না পড়ার কারণে সেই ইমোশনটা কিংবা সেই মজাটা অনেকেই পায় না।

আগে আমি দিনযাপনে ছবি দিতাম না। কিন্তু এখন প্রতিদিন একটা ছবি হলেও দেই। লেখার সাথে সম্পর্কিত কোনো ঘটনা থাকলে তখন একাধিক ছবি দেই। নাহলে এমনিতেই দৃষ্টি আকর্ষণমূলক কোনো একটা ছবি দেই …

যেমন আজকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবেই একটা ছবি দেবো দিনযাপনে, আর সেই ছবি নিয়ে অনেকটাই স্মৃতি রোমন্থন করবো। আগে না হয় ছবিটাই দেই, তারপর বাকি কথা …

1929745_38738155654_2573_n

এই ছবিটা তুলেছিলাম ২০০৮-এ … আজকে থেকে ৮ বছর আগে! … এইদিনেই তুলি নাই … কিন্তু এইদিনের কাছাকাছি কোনো একসময় হয়তো তুলেছিলাম … এইদিনে  ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম বলে ফেসবুক  মনে করিয়ে দিলো … জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি’র আশেপাশের কোনো একটা জায়গায়। এই ছবির দুই চরিত্র, অঙ্কন আর অনিক এবং ওদের বন্ধুদের দেয়া একটা নাম ছিলো মনে হয় জায়গাটার, ভুলে গেছি।  এর মধ্যে মূলত অনিক ছিলো আমার বন্ধু। অনিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়তো। ওর সাথে বন্ধুত্ব হবার একটা বড় মোটিভেশন ছিলো এইটাই যে ও ইংরেজি সাহিত্যে পড়ে। ওর সাথে আমার প্রথম ফেসবুকীয় আলাপ-আলোচনা শুরুই হয় ওর এই প্রশ্ন দিয়ে যে আমি মহাভারত পড়েছি কি না … কি মজার প্রশ্ন! প্রথম পরিচয়েই যে এরকম প্রশ্ন করে তার সাথে কথা বলার ব্যাপারে আগ্রহী না হয়ে পারা যায়? সাহিত্য নিয়ে কথা বলতে আমার ভালো লাগে, ফলে ওর সাথেও টুকটাক এটা-সেটা নিয়ে কথা বলতে বলতে হাই-হ্যালো পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব … ওর প্রতি আমার সবচেয়ে বড় কৃতজ্ঞতা এই যে ও আমাকে আমার নিজেকে চিনতে শিখিয়েছে, আমার নিজের বিশ্লেষণ নিজে করতে শিখিয়েছে … আবার এইটাও ঠিক যে নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার যে সুপ্ত টেন্ডেন্সি আমার ভেতরে ছিলো, সেটাকেও আমার সচেতন জ্ঞানে ও-ই ঢুকিয়েছে, আর তার ফলাফলও হয়েছে অনেকক্ষেত্রেই ভয়াবহ … ওর সাথে বন্ধুত্বের খাতিরে অনেকটাই বোহেমিয়ান লাইফস্টাইল-এ অবগাহন করেছি অনেকটা সময়, কিছুটা বুঝে, কিছুটা না বুঝে … যা যা বুঝিনি, যা যা এখন বুঝি, সেসব যদি তখন বুঝতাম, তাহলে জীবন হয়তো অনেক সহজ হতো, কিন্তু একই সাথে আরেকটু কম রঙ্গিনও হতো …

তারপরও, কেঊ যদি জিজ্ঞেস করে আমার জীবনে এ যাবতকালে সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী ব্যক্তি কে, আমি অনিক-এর নামই বলবো … ওর সাথে এখন আর আমি কথা বলি না … ওকে বন্ধুও ভাবি না … ওর সূত্রমতেই আমরা এখন অনেক দূরের মানুষ, কাছে থাকার ধার ধারি না … সেটাও ওর কারণেই … তারপরও … হি হ্যাজ বিন দ্যা মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিভ পারসন ইন মাই লাইফ সো ফার …

যাই হোক, ছবিটার গল্প বলি … অনিক আর ওর বন্ধু অঙ্কন কোনো একদিন দেয়ালে তাদের নাম লিখেছিলো। আমি সেই নাম লেখা দেয়ালের ছবি তুলেছিলাম এম্নেই। এভাবে করে ভিন্ন বানানে নামগুলো লেখাটাও একটা কারণ ছিলো। তখন আমি সাথে সাথে একটা সাইবার শট ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতাম, যা-ইচ্ছা-তাই ছবি তুলতাম … অনিকের বোন জুঁই তখনি অনেক দামী ডিসিএলআর ক্যামেরা নিয়ে দেশে-বিদেশে ঘোরা ফটোগ্রাফার। অনিক ওর বোনের কাছ থেকে ফোটোগ্রাফি সম্পর্কে জানতো, শিখতো, বুঝতো আর সেগুলো নিয়ে নিয়ে আমরা কথা বলতাম … বলা যায়, ছবি তোলাতুলি বিষয়টা নিয়ে সিরিয়াস হবার পেছনেও অনীকের অনেক ভূমিকা আছে … তো, ওইরকমই কোনো এক আলোচনার ফাঁকে এই দেয়ালের ছবি তুলে রেখেছিলাম … স্মৃতির দেয়াল হয়ে থাকবে অনেক বছর পর … সেরকম একটা চিন্তা থেকে …

আজকে প্রায় ৮ বছর পরে, এই দেয়াল ঘষে-মেজে পরিষ্কার করে নতুন করে রঙ-ও করে ফেলা হয়েছে নিশ্চয়ই … এখন এই ছবিটাই স্মৃতি হিসেবে বেঁচে আছে …

ফেসবুকের অন দিস ডে-তে অনিক সংক্রান্ত অনেক পোস্ট-ই মাঝে মাঝে অনেক অনেক নস্টালজিয়া নিয়ে হাজির হয় … বেশিরভাগই দীর্ঘশ্বাস দিয়ে কাটিয়ে যাই … আজকে গেলাম না … এই ছবিটা যেই মুহুর্ত থেকে তুলেছি তখন থেকেই আমার অন্যতম প্রিয় ছবি, ফলে এইটা দিনযাপনে পোস্ট করে এর স্মৃতির স্থায়ীত্ব আরেকটু বাড়িয়ে দিলাম।

গতবছর এইদিনে সিন্ডারেলা সিনেমাটা দেখতে গিয়েছিলাম, তিন্নি আপুর সাথে আমার যাওয়ার প্ল্যান ছিলো, শেষে মেবিন-ও যোগ দিয়েছিলো … তার দুইদিন আগে দেখেছিলাম অ্যাভেঞ্জারস সিরিজের এজ অব আলট্রন … এই বছরও ওই এজ অব আলট্রন দেখার দিনেই বছর ঘুরে এসে ‘সিভিল ওয়ার’ এর প্রথম দিনের প্রথম শো দেখার সুযোগ ছিলো, কিন্তু শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ১০টার মধ্যে বসুন্ধরা সিটি থাকতে হবে ভাবতেই এমন আলসেমি লাগলো যে ওই প্রস্তাব আর নিলাম না … কত সিনেমা দেখার জন্য জমে গেছে … জুটোপিয়া দেখি নাই … ব্যাটম্যান ভার্সাস সুপারম্যান দেখিনাই … এখন সিভিল ওয়ার চলে আসছে … সামনে আরও মুভি আসতেসে … সময় মেলে তো সঙ্গী মেলে না … সঙ্গী আর সময় মেলে তো, টাকা থাকে না … কি আজব যন্ত্রণা! … এই উইকে নাকি জিপি স্টার হোল্ডারদের জন্য একটা টিকিটের সাথে আরেকটা ফ্রি অফার আছে … কিন্তু আশেপাশে এমন কোনো জিপি স্টার হোল্ডার-এর কথা মনে আসছে না যাকে সঙ্গী বানায় সিনেমাটা দেখে আসবো … ওভারস্মার্ট কিসিমের মানুষ হইলে না হয় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দিতাম যে ‘কোন সহৃদয়বান জিপি স্টার হোল্ডার আমাকে সিভিল ওয়ার ম্যুভিটা দেখাবেন ? … প্লিজ হাত তোলেন …’ … তারপর প্রায় ১২০০ ফেসবুক ফ্রেন্ডের মধ্যে কেউ না কেউ বের হয়ে যেতো যে এহেন প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাবে …

আজকে আর লিখতে ভালো লাগছে না। মাথা ব্যথা করছে। গতকালকে রাতে ঘুম হয়নি একদম … ভোরবেলা ৫টার দিকে মনে হয় একটু চোখ লেগেছিলো, তাও আবার ৭টার দিকে উঠে গেছি … কেন যেন খুব অস্থির লাগছিলো কালকে … কেমন জানি একটা ভয় ভয় টাইপের অস্থিরতা … কেন কে জানে! … এমনিতেই কালকে ঘুম আসার আগ মুহুর্তেই প্রদোষে প্রাকৃতজন পড়া শেষ করে খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো … উপন্যাসটা এত হঠাৎ করে শেষ হয়, আর এত মন খারাপ করা ভাবে! … পুরাই গেম অব থ্রন্স টাইপের আনএক্সপেক্টেড মৃত্যুওয়ালা এন্ডিং … তারমধ্যে কি জানি কি হলো … চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করতে করতেই কেমন একটা অস্থির টাইপের অনুভূতি নিয়ে ঘুমটা কেটে যায়! … মাঝখানে আবার কি একটা স্বপ্নও দেখলাম … প্রমা বৃষ্টিতে ভিজছে, সেটার জন্য ওকে খুব জোরে জোরে বকা দিচ্ছি কারণ ওর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে … ও আবার বলছে, বৃষ্টিতে ভিজতে যায়নাই, ভূমিকম্প হচ্ছে সেটার জন্য বাইরে গেছে … এই টাইপের স্বপ্ন … আমি আবার চোখ মেলে কিছুক্ষণ বোঝার চেষ্টা করলাম যে আসলেই ভূমিকম্প হয়েছে কি না … ফেসবুকেও কিছুক্ষণ গুতাগুতি করলাম যে ভূমিকম্প যদি আসলেই হয়, তাহলে অন্তত মানুষজনের স্ট্যাটাস পাওয়া যাবে … এইসব করতে করতে রাত কাবার …

আজকে আবার সকাল সকাল স্কুলে গিয়েছি, সেখান থেকে ভার্সিটি … ক্লাস শেষ করে দীর্ঘ জ্যামের রাস্তা পার করে বাসায় ফিরেছি …

এখন আর শক্তিতে কুলাচ্ছে না বসে থাকার …

তারমধ্যে পিরিয়ড শুরু হয়েছে … প্রথম দিন তো তাও আজকে কোনোরকম চলে গেলো … আসল পেইন তো টের পাবো কালকে … তাও ভালো স্কুলে যেতে হবে না … ডে অফ … বিকালে খালি নিশাতের বাসায় যাবো … তাও তো বাসাতেই থাকবো …

যাই হোক, ঘুমাতে যাই … ঘুমের চোটে চোখ পর্যন্ত জ্বলছে …

৯ তারিখে দিনযাপন লিখিনাই গতবছর … সো, কোনো পুরানো লিঙ্ক নাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s