দিনযাপন । ১১০৫২০১৬

যাক! পরীক্ষা দিয়ে মাথা ঠাণ্ডা … পরীক্ষা সবমিলিয়ে খুব ভালো হয়েছে এমনটা বলে গলাবাজি করবো না, কিন্তু আমি সন্তুষ্ট … কারণ, এইটুকু আমি শিওর যে আমার খাতার প্রেজেন্টেশন আর হ্যান্ডরাইটিং দেখে ম্যা’ম-এর ফার্স্ট ইম্প্রেশন ভালো হবে। আর ম্যাপ-ও জাপানের ম্যাপও এঁকেছি অনেক সুন্দর করে, রঙ-ও করেছি … কিন্তু জাপানের ভূগোল নিয়ে জ্ঞানের বহর ঢেলে দিতে গিয়ে একটু বেশিই সময় নিয়ে নিয়েছি, ফলে পরের প্রশ্নের উত্তর লিখেছি পরীক্ষার শেষ ১০ মিনিটে … মানে, ৪৫ মিনিটের পরীক্ষায় মোটামুটি আধাঘণ্টার বেশি সময় নিয়েছি একটা প্রশ্নে, আর বাকি ১৩/১৪ মিনিট পরের প্রশ্নে! … প্রথম প্রশ্নের দুইটা পার্ট ছিল আর ঠিকঠাক উত্তর দিলেই টু দি পয়েন্ট নাম্বার পাওয়া যাবে … পরের উত্তরটাতে মূল পয়েন্ট সবই দিয়েছি, কিন্তু সংক্ষেপে … ৫ নাম্বারের জন্য যথেষ্ট হয়নাই আর কি … হয়তো ২/৩ দেবে … ১০ এ না হয় সবমিলায় ৫/৬-ই পাবো … তাও আমি পরীক্ষা নিয়ে হ্যাপি …

যাই হোক, সামনে আবার ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষা, শফিক স্যার-ও এর মধ্যে পরীক্ষার ডেট দিয়ে দেবে … মানে, রোজার ছুটির আগে সবাই ক্লাস টেস্টগুলা নিয়ে শেষ করে ফেলবে … খুলেই মিডটার্ম … তারপর পরই ফাইনাল …

এর মধ্যেও আমি ঈদের সময় ভুটান যাবো না নেপাল যাবো তা নিয়ে গবেষণা করছি দিনরাত … যেখানেই হোক, যাবোই …

বছরে অন্তত একবার পাসপোর্টে একটা বোর্ডিং সিল লাগাতে না পারলে হলো কিছু? …

FB_20160511_01_46_28_Saved_Picture

ভালো কথা … আজকে ১১ মে, অ্যাকর্ডিং টু ফেসবুকের ‘অন দিজ ডে’, একটি ইভেন্টফুল দিন … বছরে বছরে একেকটা ইভেন্ট হয় নাই … এক ঢাকা ইউনিভার্সিটির-ই একটা ঘটনাই যথেষ্ট … ওইদিন প্রচন্ড মেজাজ খারাপ করে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস-ও দিয়েছিলাম যে ‘আই হেট মাইসেলফ ফর বিয়িং এ স্টুডেন্ট অব ঢাকা ইউনিভার্সিটি’ …

কাহিনী কি ছিলো? ১১ মে ২০১২ ছিলো ‘বিশেষ অনুমতি’ সাপেক্ষে অনার্সের থিসিস করে জমা দেয়ার ডেট … নাকি ১২ মে? … তারিখটা নিয়ে আমি একটু কনফিউজড … কিন্তু এখন ক্রসচেক করে দেখে নিতেও ইচ্ছা হচ্ছে না …

তারিখ যাই হোক, এর আগের কাহিনীগুলোতে খুব বেশি না যাই … এক কথায় বলতে গেলে, ২০১০ এ যখন অরিজিনালি থিসিস দেয়ার কথা তখন তো দেই নাই, তারপর শহিদুল্লাহ স্যার একবার লেট সাবমিশনের পারমিশন দিয়ে তার পরদিনই আবার সেই পারমিশন উইথড্র করলেন … সো, আল্টিমেটলি রেজাল্ট উইথহেল্ড হয়ে থাকলো … তো, ২০১২’র সেশনের সাথে আমাকে আবার ঘটনাচক্রে থিসিস জমা দিতে বলা হলো … আমার জন্য স্পেশাল কমিটি হলো … সুপারভাইজার হলেন শিমুল স্যার … সুপারভাইজার হয়েই তিনি জানালেন যে আমাকে থিসিস আবার জমা দেয়ার জন্য এই স্পেশাল পারমিশনের পক্ষে তিনি নন, তাও ভাগ্যচক্রে তিনিই সুপারভাইজার … যাই হোক, তারপর আমিও তাকে সুপারভাইজার হিসেবে দেখার আগ্রহ হারায় ফেলে নিতান্তই অনাগ্রহের সাথে থিসিসের কাজ করে যেতে লাগলাম, স্যার ছাড়া আর সবার কাছ থেকেই ফিডব্যাক নিলাম, হেল্প নিলাম, সাজেশন নিলাম … তো শেষমেশ থিসিস জমা দেয়ার দিন ধার্য হলো এমনই দিনে যে ওইদিন স্কুলেও আমার লাস্ট রিভিশন ক্লাস … আমি তখন সানিডেলের টিচার, বাই দ্য ওয়ে … লাস্ট রিভিশন ক্লাসে না গেলে বাচ্চা-কাচ্চাদের পরীক্ষার আগে কীভাবে কি করবো! মূল ক্যাচাল হয়েছিলো টাইমিং নিয়ে … আমি দেখলাম যে ডিপার্টমেন্টে ভাইভা’র টাইমটা একটু আধাঘণ্টা এদিক-ওদিক করলেই আমি ইন বিটুইন লিভ নিয়ে ভার্সিটিতে থিসিস সাবমিট করে চলে আসতে পারি … তো ভাইভার আগের দিন রাতে শিমুল স্যার, নজরুল স্যার কাউকেই আমি রিকোয়েস্ট করে আধা ঘণ্টা টাইম এদিক সেদিক করতে পারিনি … উনাদের কথা হচ্ছে ১১টা মানে ১১টা … আমাকে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা নাকি দেয়া হয়েছে, আমি নাকি চাইলেই সেগুলোর অপব্যবহার করতে পারি না ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু বলেছিলেন …

আমি খুব মেজাজ খারাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলাম যে আমি থিসিস জমা দিতে যাবো না … সেটা নিয়ে আবার বাসায় কান্নাকাটি, মাতম শুর হয়ে গেলো … মা কাঁদতে কাঁদতে হার্ট ফেল করার অবস্থা … আব্বু বলেই দিলো আমার মতো বীভৎস মানসিকতার মানুষ সে আর দেখেনাই … পরে আমি সিদ্ধান্ত পালটে যেতে রাজি হলাম … চরম অনিচ্ছাসত্ত্বে …

তবে যাওয়ার আগে আমি শিমুল স্যারকে একটা মেইল করেছিলাম … অনেক কড়া কড়া কথাই লিখেছিলাম তাকে … উনি এবং ডিপার্টমেন্টের আরো অনেক শিক্ষক আসলে শিক্ষক হিসেবে কতটা অযোগ্য সেই বিষয়ে ব্যাপক ইমোশনাল একটা মেইল করেছিলাম …

তো পরদিন আমি স্কুলে যাইনি … স্কুলে আমাকে কি জবাবদিহিতা করতে হবে সেটা নিয়েও ভাবিনি … ডিপার্টমেন্টে গিয়ে সময়ের আগেই উপস্থিত হয়েছি … কারণ ১১টা মানে ১১টা … তারপর শুরু হলো অপেক্ষার পালা … নজরুল স্যার আসেন না … আসেন না … আসেন না … উনাকে ফোন করা হলো … উনি আসেন না … আসলেন অবশেষে … সাড়ে ১২টার দিকে … এসে হাসতে হাসতে উনার কমিটি মেম্বারদের বললেন, ‘আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম এইটার কথা!’ …

আমার মাথার ভেতর সেদিন ঠিক সেই মুহুর্তে একসাথে ভিসুভিয়াস, ফুজি, স্ত্রম্বলি সব আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হয়েছিলো … ভাইভা বোর্ডে আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিলাম না … যা-ই জিজ্ঞেস করেন, উত্তর দেই ‘জানি না’, ‘মনে নাই’ … এমনকি রাগে, ক্ষোভে আমি কথাও বলতে পারছিলাম না … কেমন জানি অবশ হয়ে গিয়েছিলাম … ঠোঁট নাড়াতেও কষ্ট হচ্ছিলো আমার … এর মধ্যে শিমুল স্যার আগের রাতের মেইলের প্রসঙ্গ তুললেন … আমিও কি কি জানি জবাব দিলাম … রাগ চিল্লাচিল্লি শুরু করলেন … আমাকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তারা কথাবার্তা বললেন …

এইসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি লিখেছিলাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হবার কারণে আমি আমাকে ঘৃণা করি …

সেই ঘৃণা আরো বেড়েছিলো … যখন এই ঘটনার মাস ছয়েক পর রেজাল্টে দেখা গেলো যে স্যার/ কমিটি নিজ দায়িত্বে আমাকে ফেইল মার্কস দিয়েছে থিসিসে …

সকালবেলা ‘অন দিস ডে’ তে এই স্ট্যাটাস পড়ার পর থেকে সারাটা দিন ধরেই মেজাজ কেমন খিঁচে ছিলো …

আজকে স্কুলে ক্লাস এইটের সাথে শেষ ক্লাস ছিলো … ক্লাস নাইনে আর ওদের পড়াবো না … এই ক্লাসটায় যেতে আমার ভালো লাগতো … অনেক এঞ্জয় করতাম ওদের ক্লাস নিতে … দেখা যেতো যে ক্লাস সেভেন থেকে চরম মেজাজ খারাপ করে বের হয়েছি আর ক্লাস এইটে ক্লাস নিয়ে যখন বের হয়েছি তখন অলরেডি মেজাজ ঠান্ডা! … তো ওদের সাথে আজকে অনেক মজা করবো ভেবে রেখেছিলাম … কিন্তু সেই ক্লাসটাও পার করলাম খুব রিলাক্টেন্ট মুডে … ভার্সিটি গিয়ে পড়ালেখা করতেও বিরক্ত লাগলো … তাও কমার্স ফ্যাকাল্টির কমন রুমে বসে হুদাই বই-খাতা খুলে বসে থাকলাম …

ওহ! ক্লাস এইটের সাথে গল্প করতে গিয়ে আজকে নিজের ক্লাস এইটের শেষ দিনের কথা ভাবছিলাম … প্রায় ১৬ বছর আগে ক্লাস এইটে পড়তাম! সময় কত দ্রুত যায়! … সেই ২০০০ সালের কাহিনী! … আর এখন ক্লাশ এইটে যারা পড়ে তারা তখন কেউ কেউ জন্মও নেয়নি! নেহায়েত মায়ের পেটে ছিলো! … আমাদের তো বছরের শেষ ক্লাস থাকতো অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে … তো আমাদের আবার ক্লাস পার্টিও হতো … আমরা কালচারাল প্রোগ্রাম করতাম … খাওয়া-দাওয়া হতো … ক্লাস এইটে আমাদের ক্লাস পার্টি আর ক্লাসে ক্লাসে না থেকে একসাথে ‘গণ-আয়োজন’ হলো … আমরা কয়েকজন আবার দ্য কার্পেন্টারস-এর ‘ইয়েসটারডে ওয়ান্স মোর’ গানটা গেয়েছিলাম … খুব ভালো কিছু হয় নাই … ক্যাসেট প্লেয়ারে গান ছেড়ে দিয়ে তার সাথে সাথে মাইকে গেয়েছি … কিন্তু বন্ধুরা মিলে স্টেজে গাইছি, ওইটাই ছিলো মজা … মনে আছে, সবাই মিলে নীল সালোয়ার কামিজ পড়েছিলাম প্ল্যান করে … তৃষা, নিশাত, বান্টি, তন্ময়, আমি … মিন্নি মনে হয় গান গাইতে উঠে নাই … মনে নাই …

ওইসব দিনগুলির কথা মনে হলে ইচ্ছা করে আবার স্কুল লাইফে ফিরে যাই …

ইজি আর সিম্পল ইমোশনের লাইফ …

আজকে আর লিখবো না … অনেক টায়ার্ড … পরীক্ষা সংক্রান্ত টেনশনটা মাথায় ছিলো দেখে আরও মনে হচ্ছে শরীর ছেড়ে দিয়েছে … কালকে আবার হরতাল … আরেকটা ফাউ ছুটি পাওয়া গেলো … একটু রেস্ট হবে কালকে …

আর কি! শেষ! …

গতবছরের দিনযাপনের লিঙ্ক নাই আজকে … ১০ তারিখের পরে আবার কয়েকদিন লিখিনাই গতবছর … ১৩ তারিখে আবার লিঙ্ক পাওয়া যাবে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s