দিনযাপন । ১৫০৫২০১৬

কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অবশ অনুভূতি নিয়ে চলছি গতকালকে রাত থেকে । এখন তাও চলতে পারছি, বসতে পারছি … গতকালকে তো ‘জীবনে আর কোনোদিন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবো না’ টাইপ অনুভূতি হচ্ছিলো … কাহিনী হচ্ছে, গতকালকে ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো ছিলো, তাও আবার দুইটা … ফলে, টানা প্রায় ৩ ঘণ্টা আসন গেড়ে বসে ভিডিও অপারেট করতে গিয়ে ফলাফল হলো এই যে শো শেষে মনে হলো আমি আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না! … একদিকে কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা, একদিকে তলপেটের বাম পাশটায় কেমন খামচি মেরে থাকা অনুভূতি, আরেকদিকে এসি’র প্রচন্ড ঠাণ্ডায় হাড় কাঁপাকাঁপি অবস্থা! … কোনোরকমে ল্যাপটপটা গুছায় গ্রিনরুমে গিয়ে নোবেল ভাইয়ের হাতে দিয়েই আমি ওইখানে সোফায় সটান শুয়ে পড়লাম। কোমরের ব্যথায় চোখ দিয়ে পানি চলে আসলো আমার … কিছুক্ষণ লম্বা হয়ে শুয়ে থেকে আরাম লাগলো … কোনোরকমে উঠে সাদি-কে সাথে নিয়ে শাহবাগে এসে সিএনজি নিয়ে বাসায় আসলাম …

বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করতে যতক্ষণ … তারপর ঘুম …

এদিকে সকাল বেলা আজকে আরেকটু হলেই ধরা খেয়ে যাচ্ছিলাম … সকালে স্কুলে পরীক্ষার ডিউটি ছিলো … তাও স্পেলিং ডিকটেশন পরীক্ষা … সুতরাং আমাকে তো সময়মতো যেতেই হবে … গতকালকে রাতে ভান্ডারি মামা-কে [ এলাকার পরিচিত সিএনজিওয়ালা] বলে রেখেছিলাম বলে বেঁচে গেছি! … গতকালকে তো রাতের বেলা অ্যালার্ম না দিয়েই ঘুমিয়ে গেছি … সকালে হঠাৎ ঘুম পাতলা হয়ে আসলো, চোখ আধাখোলা অবস্থায় দেখি দিনের আলো! তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ঘড়ি দেখলাম … ৬টা ১৬ বাজে! … বের হবো ঠিক সাড়ে ৬টায়! … কোনোরকমে দাঁত মেজে, হাতমুখ ধুয়ে, কাপড়-চোপড় পড়ে বের হয়ে গেলাম … ভাগ্যিস সিএনজি বলা ছিলো! … সিএনজি খোঁজার প্যানা থাকলে শিওর আজকে পৌছাতেই পারতাম না! …

আজকে ভাবছিলাম যে স্কুল শেষ করে বাসায় এসে রেস্ট নেবো … মামুন স্যারের ক্লাস নেয়ার কথা ছিলো … ভাবছিলাম যে ক্লাসে যাবো না আর এই শরীরে … সো, স্কুলের কাজ শেষ হওয়ার পর বাসায় চলে আসলাম … উদ্দেশ্য – গোসল করে মাথা ঠাণ্ডা করে তারপর লম্বা একটা ঘুম দেবো ! … সিএনজি অর্ধেক রাস্তা চলে আসার পর জানলাম যে আজকে মামুন স্যার ক্লাস নেবেন না, দিলরুবা ম্যা’ম নেবেন! … হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন ক্লাস … এইটা তো আর মিস দেয়া যায় না! … তার ওপর ম্যা’ম-এর ক্লাসে অ্যাটেন্ডেন্স এর কড়াকড়ি আছে, আর আমি অলরেডি উনার প্রথম দুইটা ক্লাস করিনি … সো, বাসায় এসে গোসল করে খেয়ে-দেয়ে আবার বের হলাম …

ভাগ্য এবার কিঞ্চিৎ ভালো … সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে আবার ভান্ডারি মামা-কেই পেলাম …

যাই হোক, এই ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’র শো হলেই আমি অসুস্থ হয়ে যাই … একটানা বসে থাকতে পারি না … কিন্তু সেটাই করতে হয় … আর অডিয়েন্সের সামনে বসে ভিডিও চালাই, খুব বেশি মুভমেন্ট-ও করতে পারি না … বারবার একজন সামনে বসে বসার পশচার চেঞ্জ করছে, এইটা দেখতেও তো কেমন লাগে! … তাই যতটা পারা যায় ফিক্সড হয়ে বসে থাকি …

ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো-তে আমার ভিডিও চালাতে ভালো লাগে না … তাও নিতান্তই বাধ্য হয়ে চালাতে হয় … ভালো না লাগার প্রথম কারণ এটাই যে এই কাজটা অনেক গোঁজামিল দিয়ে করতে হয় … ভিডিও-তেই এত গোঁজামিল যে এইটার অপারেশনেও প্রচুর গোঁজামিল সিস্টেম করতে হয় … আমি সোজা-সাপ্টা কাজ পছন্দ করি … সেরকম কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি … ফলে যেই কাজে একটা গোঁজামিল-কে সামলানোর জন্য আরো অনেকরকমের গোঁজামিল দিতে হয়, সেই কাজ করতে আমার বিরক্ত লাগে … আর দ্বিতীয়ত যেই কারণে এই নাটকটায় আমি টেকনিক্যাল কোনো কাজে ইনভল্ভড থাকতে চাই না, সেটা হলো যে আমি এই নাটকটা চলার সময় প্রচন্ড আনমাইন্ডফুল হয়ে যাই … এই নাটকের সাথে আমার মানসিক ইনভল্ভমেন্ট অনেক বেশি … এই নাটকের অনেক কথা, অনেক ফিলোসফি, অনেক ঘটনা, এমনকি খোদ তারাভান চরিত্রেরই অনেককিছুর সাথে আমার ব্যক্তিগত কানেকশনগুলো আমাকে এত খোঁচায় যে আমি সেগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে যাই … শো চলছে এই অবস্থাতেই … ফলে দেখা যায় ভিডিও’র কিউ একটু হলেই মিস করে ফেলি! … আর নিজেকে কনসেন্ট্রেটেড রাখাটা তখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আমার জন্য …

যেমন, তারাভান যখন ‘বাচ্চা! আমার হবে বাচ্চা!’ বলে ডায়ালগ দেয়, তখন নিজের বাচ্চা হওয়া না হওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় হা-হুতাশের উগলে ওঠাকে চ্যালেঞ্জ করে আমাকে আলেয়া’র ভিডিও কিউ দিতে হয় … এই সময়টাতে ডায়ালগগুলোতে আমার অনেক কান্না পায় … খুব অস্থির লাগতে থাকে … খালি মনে হয় যে এই কথাগুলো আমি শুনতে চাই না … এগুলো শুনবার কারণে যা যা আমার মনে পড়ে যায়, তা আমি মনে করতে চাই না … আগে যখন ভিডিও চালাতে হতো না, তখন এই সময়টাতে সরে থাকতে পারতাম, গ্রিনরুমে চলে যেতে পারতাম, কিংবা চোখে পানি আসলেও আড়ালে মুছতে পারতাম … এখন আর সেটা পারি না … বরং অপ্রিয় কথাগুলো শোনার বিশাল চ্যালেঞ্জ ফেস করতে গিয়ে প্রচণ্ড অসহায় বোধ করতে থাকি … আর ফলাফল স্বরূপ, আমার প্রচন্ড রাগ উঠে যায়! … চাপা একটা রাগ … সেই রাগের চোটে আমি পরের কিউগুলিতে আর ঠাণ্ডা মাথায় ভিডিও চালাতে পারি না …

ইনফ্যাক্ট, ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি পুরোটা নাটকই আমার জন্য একটা জলজ্যান্ত চ্যালেঞ্জ … আর এই চ্যালেঞ্জটা আমি নিতে মোটেও পছন্দ করি না … কিন্তু আমাকেই নিতে হয় … জার্নাল ভাই ভিডিও অপারেট করতো … তার গোঁজামিল দেয়া কাজ সে তার মতো গোঁজামিল দিয়ে চালাতো … এখন বিভিন্ন কারণে সে ভিডিও অপারেট করে না, মাঝখানে তো ছিলো না দেশে … তো, যেটা হয়েছে যে জার্নাল ভাই যখন হুট করে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে, তখন ইন্সট্যান্টলি আমাকেই দায়িত্বটা নিতে হয়েছে … কিন্তু তারপর আর কোনো রিপ্লেসমেন্ট তৈরি করা যাচ্ছে না … না সাবস্টিটিউট! … বরিশালে যখন যাই নাই, তখন টুটুল ভিডিও চালালো … কিন্তু ঢাকায় শো হলে নীল ওকে মিউজিক-এর প্যানেল থেকে ছাড়বে না! … এবং তারপরে আর কেউই নাই যে দায়িত্ব নেবে! …

আমিও এতটা ইরেসপন্সিবিলিটি দেখানোর ধৃষ্টতাবোধ এখনো করতে পারি না যে আমার অল্টারনেট কাঊকে ঠিক না করেই বলে দেবো যে শো-তে আর ভিডিও চালাবো না … তখন হয়তো ইনস্ট্যান্ট কাউকে ঠিক করা হবে, কিন্তু সেটাও আরেকটা গোঁজামিল দেয়া ব্যাপার হবে … কারণ, এই দায়িত্ব নিলে এমন কাউকেই নিতে হবে যে ভিডিও বোঝে … সেরকম কাউকে খুঁজে পাওয়াটা অন্তত এখনকার প্রাচ্যনাটে আপাত অসম্ভব! …

দিন দিন এই অনুভূতিটা আমার মধ্যে গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে যে ‘পারফেকশনিস্ট’ মেন্টালিটির মানুষদের জায়গা প্রাচ্যনাট না! … এখানে সে-ই সর্বপ্রিয় যে সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে নিতে পারে! … কিন্তু সে নয় যে কোনোকিছুর একটা ‘সিস্টেমেটিক’ সলিউশনের কথা ভাবে! … ব্যাপারটা এমন যে, কাজ যা-ই হোক না কেন, ‘একভাবে করলেই হলো!’ … থিয়েটারের পড়ালেখা, গ্রুমিং, চিন্তা-ভাবনা’র সাথে মিনিমাম সংযোগ যার নাই, সে-ও ভাবে, ‘আরে ধুর! স্টেজে গিয়ে মেরে দেবো!’ …

থিয়েটার করা কত সহজ এখন সবার কাছে! … আসলাম, ৬ মাস স্কুল করলাম, মেম্বার হয়ে গেলাম … ব্যাস! … থিয়েটার বলতেই যেই ‘সোফিস্টিকেশন’ বুঝি, তার কিছুই নাই এখন আর! … অন্তত বাংলাদেশের থিয়েটারে নাই … ঢাকা শহরের থিয়েটারে নাই … প্রাচ্যনাটে তো নাই-ই ! …

ফলে, ৭ বছর ধরে এক জায়গায় টিকে থাকার বহুমূল্য ব্যক্তিগত রেকর্ড করে ফেলেছি যেই জায়গায়, সেখানেই এখন কাজ করতে গেলে হতাশ লাগে, মেজাজ খারাপ হয়ে যায় … মনে হয়, কাজ না করাই ভালো … যতটা সম্ভব কাজ বাঁচিয়ে, গা বাঁচিয়ে চলার পলিসি ধরাটাই মনে হয় উত্তম! … কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক খারাপ করে, মুখ বানিয়ে চলে আসার চেয়ে চুপচাপ নির্লিপ্তভাবে থাকাই ভালো … ইচ্ছা হলে যাবো … নইলে যাবো না … যেই কাজে ইনডিভিজুয়াল ক্রেডিট নাই সেইসব কাজে ইনভল্ভড হবো … আর কি! …

FB_20160511_01_37_18_Saved_Picture

যাই হোক, আর কি লিখবো? … ওহ! কালকের একটা ঘটনা লিখি …

পরশুদিন রাতে নিশাতের বাসায় ছিলাম … তো, গতকালকে সকালে সিএনজিতে করে নিশাতের বাসা থেকে ফেরার সময় সিএনজিতে এক মহিলার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, আড়ং-এর মেম্বারশিপ কার্ড এগুলা পড়ে থাকতে দেখলাম … আমি পুরো রাস্তা ভাবতে ভাবতে গেছি আমার কি করা উচিত … শাহজালাল ব্যাংকের কোনো ব্রাঞ্চে গিয়ে কার্ড জমা দিয়ে আসা উচিত? …. কার্ডের সাথে আবার দুইদিন আগে ১০ হাজার টাকা তুলেছে সেই রিসিড-ও আছে! সেটা দেখে আমি আরো কনফিউজড হয়ে গেলাম … কার্ড কি ছিনতাই হয়েছে কি না ভাবছিলাম, আবার মনে হলো ছিনতাই হলে পাসওয়ার্ড বের করে টাকা তুলবে কিভাবে? … নাকি সেটাও সম্ভব? … নাকি যার কার্ড সে ফেলেই গেছে ইচ্ছা করে? … নাকি হাত থেকে বা ব্যাগ থেকে পড়ে গেছে, খেয়াল করেনি? … সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বাসার নিচে এসে সিএনজিওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম যে লাস্ট ট্রিপ কাকে নিয়েছিলো … বললো যে এক মহিলাকে মিরপুর ১ নাম্বার থেকে মহাখালি আইসিডিডিআরবি-তে নিয়ে গেছে, তারপর ফেরার পথে জাপান গার্ডেন সিটির সামনে থেকে আমাকে … মহাখালি থেকে ঊল্টা ঘুরে মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটির সামনে দিয়ে কি পুরো রাস্তা খালিই এসেছে, নাকি মহাখালি থেকে কাউকে এইদিকে নিয়ে এসেছে সেইটা জিজ্ঞেস করতে গিয়েও করলাম না। সরাসরি ক্রেডিট কার্ডের কথায় চলে গেলাম … সিএনজিওয়ালার দাবি মিরপুর ১ নাম্বার থেকে যেই মহিলাকে তুলেছেন এইগুলা তারই জিনিস! … সে নাকি মহিলাকে প্রতিদিন নিয়ে যায়, বললো যে দেখা হলে দিয়ে দেবে, তার হাতে দিতে … আমি একবারের জন্য ভাবলাম যে দেবো না … নিজের দায়িত্বে শাহজালাল ব্যাংকের কোনো ব্রাঞ্চে গিয়ে দিয়ে আসবো … সিএনজিওয়ালা যে দুই নাম্বারি করছে না সেইটার বিশ্বাস কি? … কিন্তু তারপর কি জানি মনে হলো, সিএনজিওয়ালাকেই দিয়ে দিলাম … ঝামেলা নিতে আর ইচ্ছা হলো না …

আর লিখতে ভালো লাগছে না … পিঠে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে এখন … অতএব আমি অফ যাই …

গতবছরের লিঙ্ক –

১৩ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/14/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a7%e0%a7%a9%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

ইন্টারেস্টিংলি গত বছরের ১২ মে তারিখেও ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির একটা শো ছিলো এবং সেই শো প্রসঙ্গেও আমি অনেক কিছু লিখেছিলাম … পাশাপাশি এক বছরের তফাতে একই নাটকের শো নিয়ে দুইটা লেখা পড়াটা পাঠকের জন্য বেশ বিনোদনদায়কই হবে … আই গেজ …

১৪ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/15/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a7%e0%a7%aa%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/?fb_action_ids=10155522648540655&fb_action_types=news.publishes&fb_ref=pub-standard

১৫ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/16/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a7%e0%a7%ab%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s