দিনযাপন । ১৮০৫২০১৬

দুই-একদিন আগেও কে জানি বলছিলো যে চোখ হলুদ, আজকে মা-ও তাই বললো … আর এমনিতেও গত দুইদিন যাবৎ চোখ জ্বলছে। চশমা চোখে দিলে আরও অসহ্য লাগছে! … জন্ডিসেরই লক্ষণ কি না কে জানে! … আমি ভাবছিলাম এমনিতেই পানি কম খাওয়া হচ্ছে গত কয়েকদিন যাবৎ, তার জন্যই এমন হতে পারে … আবার লাস্ট দুই/তিনদিন যাবৎ বাসায়ও ফিরছি অনেক বিশাল জ্যাম পার হয়ে … ক্লাসে যাবার আগে সাড়ে ৫টার দিকে লাস্ট ওয়াশরুমে যাই, কিন্তু ক্লাস শেষ করে বের হয়ে আর ওয়াশরুমে যাওয়ার উপায় থাকে না … কারণ, সব বন্ধ হয়ে যায়! … ফলে, তখন পানিও খেতে পারি না … বাসায় এসে তারপর পানি খাওয়া, ওয়াশরুমে যাওয়া সবকিছু … কিন্তু যেই জ্যাম পার হয়ে আসি, দেখা যায় দেড় ঘণ্টার মতো লাগে বাসায় ফিরতে! … অতক্ষণ বসে থেকে পায়ে পানিও চলে আসে …

এখন যদি আসলেই জন্ডিস জাতীয় কিছু একটা হয়, তাইলে তো বিশাল পেইন হয়ে যাবে … এমনিতেই সপ্তাহে সপ্তাহে ক্লাস টেস্ট চলছে ভার্সিটিতে, সেই সাথে মিড টার্মের আগের ইম্পোর্ট্যান্ট ক্লাসগুলা হচ্ছে … ঈদের পরে খুলেই মিডটার্ম … এদিকে স্কুলেও ফাইনাল পরীক্ষা চলছে … কি যে হবে! … মা ব্লাড টেস্ট করে বিলিরুবিন চেক করে নেয়ার কথা বললো, আমি না করলাম না … বিলিরুবিন চেক করে রাখি অন্তত … অন্য সময় হলে হয়তো গাইগুই করতাম, বলতাম ‘হইলে হবে’ … কিন্তু এখন নিজের পড়ালেখার গরজেই নিজে সুস্থ থাকতে চাই! …

FB_20160113_02_04_25_Saved_Picture

জাপান স্টাডিজ-এর পড়ালেখা জমে গেছে অনেকটা … শফিক স্যার ইনকোর্স নেবেন সামনেই … মে মাসের লাস্টে অথবা জুনের ফার্স্ট উইকে … মোট কথা, ভার্সিটি বন্ধ হবার আগে আগেই … সেই সাথে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও পরীক্ষা এর মধ্যেই … ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে টেনশন নাই … কিন্তু শফিক স্যারের কোর্সে উনি যা পড়াচ্ছেন, তার দ্বিগুন পড়তে হবে … কারণ উনি অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্ন করবেন, এবং উত্তরে যত রেফারেন্স দেয়া যাবে, যত নিজের বোঝা থেকে ব্যাখ্যা দেয়া যাবে, ততই মার্কস পাওয়া যাবে … ফলে, উনার নোটপত্র করতে হবে খুব মনোযোগ দিয়ে …

এদিকে আজকে মামুন স্যার ক্লাস নিতে শুরু করেছেন … কন্টেম্পোরারি জাপানিজ সোস্যাইটি পড়াবেন … উনার ক্লাস নেয়ার স্টাইল ইন্টারঅ্যাক্টিভ … গ্রুপ করে করে চ্যাপ্টার পড়তে দেবেন, প্রেজেন্টেশন হবে, তার ওপর বেস করে অ্যাসাইনমেন্ট দেবেন … সিস্টেমটা আমার পছন্দ … উনার ক্লাস নেয়ার স্টাইল অনেকেরই পছন্দ হয় নাই, কারণ এখানে নিজের খাটনি অনেক বেশি … একটা দুইটা বই পড়ে গৎবাধা নোট বানায় পড়ার উপায় নাই … নিজেকেই নিজের অনেক সময় দিতে হবে … ফলে অনেকেই দেখলাম ক্লাস থেকে বের হয়ে খুব বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করলো … এদিকে স্যার ১০টা গ্রুপ করতে বলেছেন … স্বভাবতই সেই গ্রুপে ছেলে-মেয়ে মিক্সড থাকবে … আর গ্রুপের মেইন টাস্ক হচ্ছে একসাথে বসে পড়ালেখা করা … এটা নিয়েও দেখলাম অনেকের অনেক সমস্যা! … একজন তো বলছিলেন যে মেয়েদেরকে নিয়ে একটা আলাদা গ্রুপ করে ফেললেই তো হতো, এমনিতেই গল্প-গুজব করতে পারি না, এখন একসাথে পড়তাম আর গল্প করতাম! … আমার খুব বিরক্ত লাগলো উনার কথা শুনে! উনি বয়সে কিছুটা সিনিয়ার … কিন্তু তাই বলেও এখন এই সময়ে এসেও মানুষ এইরকম ‘ছেলে’ ‘মেয়ে’ আলাদা আলাদা করে ভাবে! … আমি উত্তর দিয়ে দিলাম হাসতে হাসতে যে, ‘তাইলে জাপানিজ স্টাডিজ –এর একটা গার্লস সেকশন খুললেই হয়!’ … উনি মনে হইলো যে ঐরকম হলেই খুশি হতেন! … একটা পাব্লিক ইউনিভার্সিটিতে পড়তে আসছেন, আর সেখানে আলাদা ‘গার্ল জোন’ বানায় চলবেন, আবার ছেলেদের সাথে কাজ করতে হলে বিরাট ঝামেলা মনে হতে থাকবে!… কি আজিব!

এদিকে আমাদের সাথে আরেকজন বিরক্তিকর ভদ্রলোক আছেন … আমার মনে হয় যে কোনোদিন উনার সাথে একটা ‘নীতিগত’ বিষয়ে বিশাল তর্কা-তর্কি হয়ে যাবে … পেশায় নাকি উনি আইনজীবী … নামের আগে অ্যাডভকেট লাগিয়ে রেখেছেন … তো উনার একটু ‘জাতীয় নেতা’ টাইপের অ্যাটিচুড দেখানোর অভ্যাস আছে … যেচে পড়ে লিডারের ভূমিকা নেয়া টাইপের পাব্লিক … তো, আজকে উনার উপর আমার একটা বিষয়ে এত মেজাজ খারাপ হলো যে আরেকটু হলেই মুখ খুলে যাচ্ছিলো আমার … কিন্তু খুব কষ্ট করে নিজেকে দমালাম! … মামুন স্যার ক্লাসের শুরুতেই বললেন যে উনার কোর্সের স্টাইল-ই হচ্ছে এমন যে অনেক পড়তে হবে … কারণ উনি প্রচুর পড়তে দেবেন, আর উনার যাবতীয় অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা সবকিছুর জন্যই বই পড়ার বিকল্প নাই … তো, মামুন স্যার যদি না বলতেন, তাও এইটা বুঝতে কোনো সমস্যা হতো না যে উনার কোর্সের জন্য নোট মেথড চলবে না, বরং প্রচুর বই পড়তে হবে, আর উনি কাজও দেবেন ‘রিসার্চ বেজড’ … পুরাই কন্টেম্পোরারি টিচিং মেথড … আমি আগেও শুনেছি যে বিদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোতে এভাবে পড়ায় … গাদা গাদা আর মোটা মোটা গ্রুপ বানিয়ে পড়তে দেয়, একেকটা গ্রুপ একেকটা চ্যাপ্টারের ওপর প্রেজেন্টেশন দেয় আর একে অপরের প্রেজেন্টেশনের ওপর বেজ করে পুরো বইকে সামারাইজ করে … মামুন স্যারের স্টাইলও সিমিলার … এই সিটেমে কারো পড়া না বুঝে উপায় নাই! … হ্যাভিং আ ক্লিয়ার কনসেপ্ট অ্যাবাউট দ্য টপিক ইজ আ মাস্ট …

তো, ওই অ্যাডভকেট ভদ্রলোকের কথায় ফিরে আসি … বই পড়া সংক্রান্ত এইসব যাবতীয় কথা বলে উনি মাঝখানে ব্রেক দিয়ে নামাযে গেলেন, আর এই ফাঁকে সেই ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে টিচারের ডায়াসের সামনে গিয়ে খুব বক্তৃতা দেয়ার ভঙ্গিতে বোঝাতে লাগলেন, ‘ আরে এইগুলা স্যার ভয় দেখানোর জন্য বলসে … এত পড়ার সময় আছে নাকি আমাদের? উনি নোট দেবেন, ওইগুলা পড়বো, এসে উত্তর লিখবো … ব্যাস! … এইগুলা কথা গুনে আপনাদের টেনশন করার কোনো কারণ নাই … স্যারের ক্লাসে যে ফেইল করসে বললো, ওরা তো পরীক্ষাই দেয় নাই! … ইত্যাদি ইত্যাদি …’ … এরপর স্যার ডায়াসে উনার টিচিং মেটেরিয়াল রেখে গেছেন, সেগুলা ঘেঁটে ঘেঁটে দেখতে শুরু করলেন! … আমার এমনিতেই উনার আজাইরা বক্তৃতা শুনতে খুব বিরক্ত লাগছিলো, এই কান্ড দেখে পুরাই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো! … একজন শিক্ষকের পারমিশন ছাড়া তার জিনিস ধরা যে চরম অনৈতিক কাজ, সেইটা কি উনি জানেন না? … উনার মোরাল এথিকস মনে হলো জিরো লেভেলে! … অথচ উনি নাকি আবার আইনজীবী! … এইরকম সেন্স অভ এথিকস নিয়ে কীভাবে মামলা ডিল করে আল্লাহ- খোদা জানে! …

যাই হোক, মোটামুটি ৫/৭ টা বই এর ফটোকপি করতে হবে আমাদের … বিভিন্ন কোর্সের জন্য … গতকালকে আর আজকে মিলে অর্ডার দিয়ে আসছি … আগামী সপ্তাহে পাবো … কোনটা বাদ দিয়ে যে কোনটা পড়বো!

যাই হোক, আজকে পড়ালেখা নিয়ে ব্যাপক বয়ান দিয়ে দিলাম … যেই অবস্থার মধ্যে আছি, দুইদিন পর মনে হয় দিনযাপন লিখতে বসে পড়ালেখার টপিক নিয়েই আলোচনা শুরু করে দিবো! … লাইক, প্রাচীন জাপানের ইতিহাস কেমন ছিলো … তকুগাওয়া জিদাই কেন জাপানের ইতিহাসে ইম্পোর্ট্যান্ট … মেইজি রিস্টোরেশন কেন হলো … এইসব এইসব …

আর এর মধ্যেই স্কুলের কাজ করতে করতেও শহিদ হয়ে যাওয়ার অবস্থা হচ্ছে … আগামী সেশনে আমাকে ৫টা ক্লাসের ভূগোল আর বাংলাদেশ স্টাডিজ নিতে হবে … তারমানে প্রতি সপ্তাহে ৫ সেট ওয়ার্কশিট, ৫ সেট কপি চেকিং ইত্যাদি ইত্যাদি থাকবে … সেকারণে, আমি আগে থেকেই চ্যাপ্টারওইয়াইজ যাবতীয় ওয়ার্কশিটের বেসিক তৈরি করে রাখছি … আপাতত হাতে লিখছি … জুন মাসের রোজার ছুটিতে বসে টাইপ করে ফেলবো সেগুলো … তাহলে যেটা হবে যে ক্লাস চলার সময়টায় লেসন প্ল্যান অনুযায়ী খালি ফাইনালাইজ করে প্রিন্ট করে নিবো … কিন্তু, এই যে এখন হাতে লিখে বেসিকটা বানাচ্ছি, সেটার জন্যও তো প্রচুর পরিশ্রম হচ্ছে … বই পড়ছি, ক্লাস ওয়ার্কে কোনটা দেবো, মার্কিং ক্লাসওয়ার্কে কি দেবো, টেস্টেই বা কি দেবো সব হিসাব করে করে বের করতে হচ্ছে … মাঝে মাঝে মাথা জ্যাম হয়ে যায় এগুলা করতে গেলে …

কিন্তু, সব শেষ করে প্রিন্ট করে ফাইল আপ না করা পর্যন্ত আমার শান্তি হবে না জানি … মনে হতে থাকবে যে কি জানি কাজ শেষ করি নাই! …

আজকে আর লিখবো না … চোখ ব্যথা করছে … ঘুমিয়ে থাকি … প্রতিদিন এখন ভোরবেলা ৬টায় উঠি আর ৮টার দিকে বের হয়ে যাই … ক্লাস করে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০টা … তারপর আর কিছু করার এনার্জি থাকে না … কালকে বৃহস্পতিবার … ক্লাস নাই … স্কুল শেষে ল্যাব এইডে গিয়ে ব্লাড টেস্ট করে বাসায় এসে রেস্ট নেবো …

তো, আর কি! … আজকে যাই …

আজকে আর গতবছরের লিঙ্ক খুঁজে বের করে এখানে দিতে ইচ্ছা করছে না … খুব ক্লান্ত লাগছে … কেউ চাইলেই আর্কাইভ থেকে মে ২০১৫-এর সব পোস্ট বের করে পড়ে ফেলতে পারেন …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s