দিনযাপন । ২১০৫২০১৬

গতকালকে রাত থেকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আগমনী বৃষ্টি শুরু হয়েছে … আজকে সারাদিনই মোটামুটি বৃষ্টি হলো … আর বৃষ্টির ছুতায় আমিও আমার বাইরে যাবার সব প্ল্যান বাদ দিয়ে ঘরে বসে থাকার উছিলা পেয়ে গেলাম … বিকালে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে রোদ উঠলো, রংধনু দেখা গেলো, খুব সুন্দর রঙের খেলা দেখিয়ে সন্ধ্যা হলো … ঘূর্ণিঝড় কি উপকূল থেকে সরে গেছে নাকি শান্ত হয়েছে কে জানে! … ভূগোলের টিচার হিসেবে আমার এসব ব্যাপারে আপডেটেড থাকা উচিত, কিন্তু ইচ্ছা করছে না এখন …

যাই হোক, ঘরে থাকার অবসরে আজকে সারাদিনে রবার্ট অ্যাডামস-এ বইয়ের কাজ আগালো অনেকটা … প্রিফেস সহ প্রথম চ্যাপ্টারটা গুছিয়ে নিয়ে আব্বুকে দিয়েছিলাম দেখে দিতে। লেখকের ভাষার ব্যবহার অনেক জটিল বলে অনেক কথাই আমি সহজে বুঝতে পারছিলাম না, ফলে কিছু কিছু অংশের বাক্য গঠন নিয়ে নিজেই সন্তুষ্ট ছিলাম না। এই জিনিস মুনির ভাইয়ের হাতে দেই কি করে? সে কারণেই আব্বুকে দেয়া যে একটু দেখে দিতে … শত হলেও আব্বুকেই আমার লেখার জন্য বেস্ট এডিটর মনে হয় আমার … তো, আব্বু মোটামুটি মাস দেড়েক সময় নিয়ে ৮ পৃষ্ঠার চ্যাপ্টারটা দেখে দিলো ঠিকই, কিন্তু তাতে এতই ভুল ধরে দিলো যে নিজের অনুবাদের স্কিল নিয়ে নিজের মধ্যেই টানা-পোড়েন শুরু হয়ে গেলো … ‘আমাকে দিয়ে আসলে অনুবাদ হবে না’ টাইপ উদাসীনতাও চলে আসলো … ফলে আমিও আর ঐ চ্যাপ্টারটা কারেকশন করে মুনির ভাইকে পাঠাবো কি পাঠাবো না সেইটা নিয়ে খুব কনফিউজড হয়ে গেলাম … যাই হোক, আজকে কারেকশন করতে গিয়ে দেখলাম যে আসলে যতটা ভেবেছিলাম ততটা খারাপ অবস্থা না … অনেকজায়গাতেই সেন্টেন্স প্যাটার্ন চেঞ্জ করে দিয়েছে আব্বু, এমন না যে যা অনুবাদ করেছি তা একেবারেই মিনিংলেস হয়েছে …

তো, প্রথম চ্যাপ্টারের কারেকশন শেষ করে দ্বিতীয় চ্যাপ্টারটা নিয়েও বেশ কিছুক্ষণ কাজ করলাম … প্রথম চ্যাপ্টারটা মুনির ভাইকে পাঠিয়ে দেবো কাল-পরশুই … সবচেয়ে ভালো হয় নিজে গিয়ে দিয়ে আসতে পারলে … উনার সাথে অনেক কথা আছে … এই চান্সে সেগুলোও বলে ফেলা যাবে …

এইবার রোজার ছুটির মধ্যে যেভাবেই হোক এই বইয়ের কাজ যতটা সম্ভব এগিয়ে ফেলতে হবে … প্রায় দুই বছরের মতো হলো এই বইয়ের অনুবাদ করছি, করবো বলে ঘুরে বেড়াচ্ছি … আর কত! … ভাগ্যিস উনি অনেক ভালোমানুষ, এতকিছুর পরেও বিরক্ত হন না, কিংবা বিরক্ত হলেও প্রকাশ করেন না …

আজকে সন্ধ্যায় গ্রুপের মিতুল আপুর বাসায় দাওয়াত ছিলো … গেলাম না … ইচ্ছাই করলো না … একে তো বৃষ্টি, তার ওপর বাসা চিনি না … তাছাড়া মুড-ও ভালো নাই … দাওয়াত খেতে গিয়ে সবাই হাহা-হিহি হইহুল্লোড় করলে মানায় … সেই মুড এখন আমার নাই … এমনিতেই লাস্ট দুই-চারদিন যাবৎ কিছু হলেই কেঁদে ফেলা টাইপের মন-মেজাজ নিয়ে ঘুরছি … আর ওখানে গিয়ে মুখ বানায় বসে থাকারও মানে হয় না … এইসব কিছু চিন্তা করেই আর গেলাম না …

সোশ্যাল গ্যাদারিং বিষয়টার প্রতি উৎসাহ দিন দিন কমে যাচ্ছে … বিয়ে-শাদির দাওয়াত টাইপ বিষয়আশয় … তারপর এইসব গেট-টু গেদার … ভালোই লাগে না এখন আর যেতে … স্কুল ফ্রেন্ডদের সাথে মাঝে মাঝে হ্যাং-আউট হয়, মাঝে মাঝে নিশাতের সাথে এখানে-ওইখানে যাই, স্কুলে যাই, সেখানে কলিগদের সাথে হাহা-হিহি করি, ভার্সিটি যাই, সেখানে সদ্য খাতির হওয়া দুই-তিনজনের সাথে গল্প-টল্প করি … ব্যাস … এইটুকুই … গ্রুপে যেতেও ইচ্ছা করে না … (অবশ্য গ্রুপের কেউ ওভাবে খোঁজ-ও নেয় না … অনেকদিন পর পর কোনো একটা কাজ পড়লে তখন মনে পড়বে আর কি! … অ্যাজ ইউজুয়াল যা হয় আর কি প্রাচ্যনাটে …)

আজকে সারাদিন খুব কাচ্চি বিরিয়ানি ক্রেভিং নিয়ে পার করলাম … কেন জানি হঠাৎ-ই খুব কাচ্চি খাওয়ার ইচ্ছা হইলো … একেবারে বিয়ে বাড়ির কাচ্চি … মা বের হয়েছিলো … ফোন করে বলবো কি না ভাবলাম একবার যে আসার সময় যেন স্টার থেকে কাচ্চি নিয়ে আসে … কিন্তু পরে আর ফোন দিলাম না … মনে হইলো যে বেশি ঝামেলা হয়ে যাবে মা’র … আজকে বৃষ্টি না থাকলে হয়তো নিশাতকে ফোন করে বলতাম কাচ্চি ক্রেভিং-এর কথা, তারপর দুইজন মিলে খেতে বের হয়ে যেতাম … অবশ্য বৃষ্টি না থেকে রোদ ঝলমলে আকাশ থাকলে আমার কাচ্চি ক্রেভিং হতো কি না সেইটাও একটা ফ্যাক্টর … তারচেয়ে বড় কথা টাকা খরচ করে সিএনজি ভাড়া দিয়ে কোথাও গিয়ে, সেখানে আবার কাচ্চির পেছনে টাকা খরচ করতাম কি না … এমনিতেই মাসের শেষ সপ্তাহ … টাকাপয়সা প্রায় শেষ … এর মধ্যে মাথায় ক্যারা উঠেছে চুল কাটবো, সুতরাং কাটবোই কালকে … আর চুল কাটাতেই তো মোটামুটি ৬০০/৭০০ টাকা শেষ হয়ে যাবে … তারমধ্যে ভার্সিটিতেও ডিপার্টমেন্টে একগাদা বই ফোটোকপি করতে দিয়ে আসছি … সেগুলোর টাকাও হাতে রাখতে হবে … আমি আবার অনলাইনে একটা ব্যাগেরও অর্ডার দিয়েছি … ব্যাগটা খুব পছন্দ হলো, দাম দেখলাম ৬০০ টাকা … অর্ডার দিয়ে দিলাম … ওইটাও হয়তো কাল-পরশুই দিয়ে দেবে …

10355633_10154130421315655_8053317052235917944_o

২০১৪ সালের এই সময়টায় ডগ,ম্যান, উইমেন নাটকটার কাজ চলছিলো … আমি অ্যাজ ইউজুয়াল ডিরেক্টরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলাম … ঋতু আপুর ডিরেকশন ছিলো … গ্যাটে ইন্সটিটিউটের কাজ … ভালোই ছিলো কাজটা … কাজের সময়টা … সোহেলের সাথে অনেকধরণের ডিস্টার্বেন্স তৈরি হচ্ছিলো … আর এই কাজের মধ্যে ডুবে থেকে সেইগুলা থেকে বাইরে থাকার চেষ্টা করছিলাম … এর মধ্যে আবার সোহেলের আইফোন না কিনতে পারলে জীবন থাকবে না টাইপ অবস্থায় ওর জন্য টাকা যোগাড়ের প্রেশারও ছিলো … ভালো মানুষের মতোই ধার দিয়েছিলাম … কম না তো! প্রায় ৪০ হাজার টাকা হবে … এদিকে আবার ঐ একই সময়ে সে আরেকটা সম্পর্কে জড়াবারও প্রস্তুতি নিচ্ছিলো … অনেক পড়ে আমি বুঝেছিলাম, কারণ ছাড়াই তৈরি করা ডিস্টার্বেন্সগুলো আসলে ছিলো ঐ মেয়ের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি …

যেমন, এই ডগ,ম্যান, উইমেন-এর কাজের মাঝখানেই একদিন … রাতের বেলা ৯টার দিকে ফোন করে বললো যে খেতে যাবে … কাজ শেষ করে বের হয়ে সাড়ে ৯টার দিকে ফোন দিলাম … ফোন বিজি … মোটামুটি ১০টা পর্যন্ত দাঁড়িয়েই রইলাম … এর মধ্যে যতবারই ফোন দিলাম, ফোন বিজি পেলাম … সোয়া ১০টার দিকে সোহেল ফোন করে জানালো যে ওর বাসা থেকে ফোন আসছিলো, ও কথা বলতে বলতে ওর মেসে উঠে গেছে, আজকে আর খেতে যাবে না … জানি না, কি হয়েছিলো ঐ সময়গুলোতে আমার … নর্মালি আমার সাথে কেউ এরকম করলে আমি দ্বিতীয়বার আর কোনোদিন তার সাথে কথাও বলতাম না … সম্পর্ক রাখা না রাখা তো অনেক পরের ব্যাপার … কিন্তু, এইসবের পরেও আমি তার সাথে খালি যোগাযোগই রাখি নাই … অনেককিছুই করেছি … কি ভর করেছিলো আমার ওপর কে জানে! …

সেই হিসাবে কিন্তু তার সাথে কিছু হবার আগেই আমার তার সাথে সবকিছু শেষ হয়ে যাবার কথা … একবার সিনেমা দেখতে যাওয়ার প্ল্যান হলো … ফোরটি সেভেন রোনিন … আমি তাকে বললাম যে আমি স্কুল থেকে বের হয়ে ব্যাংকে যাবো, তারপর বাসায় যাবো, তারপর রেডি হয়ে বের হবো … কথায় কথায় বলেছিলাম বোধহয় যে ব্যাংকে ১০-১৫ মিনিটের কাজ … ও ওইটুকুই শুনেছিলো, বাসায় যাবো তারপর বের হবো ঐটা আর শোনে নাই … তো আমি ব্যাংকে গেছি, পার্লারে গেছি, বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়েছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি, তারপর রেডি হয়ে ৪টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছি … যেমনটা ওকে বলা … বাসা থেকে বের হয়ে ওকে ফোন করেছি, বললো বসুন্ধরা সিটিতে চলে যেতে সরাসরি … গিয়ে দেখি ও আগেই পৌঁছে গেছে … কিন্তু বেশ গরম দেখাচ্ছে … তারপর বুঝলাম যে সে আসলে ভেবেছে আমি ব্যাংকের কাজ সেরে সরাসরি বসুন্ধরা সিটি চলে যাবো, আর সে কারণে সে ৩টার দিকেই বসুন্ধরা সিটি চলে গেছে এই ভেবে যে লাঞ্চ করবে, সময় কাটাবে, তারপর সিনেমা দেখবে … কিন্তু যেহেতু সে তার কথা বুঝতে ভুল হয়েছে সেটা স্বীকার করবে না, তাই আজাইরাই আমার ওপর গরম দেখানো শুরু করলো, অ্যাজ ইফ তাকে আমি ৩টা সময় আসতে বলে বসিয়ে রেখেছি! … আমার স্বভাব অনুযায়ী সেদিনই কিন্তু ‘ভাই, তুমি তোমার রাস্তা মাপো … তোমার সাথে আমার চলবে না’ বলে চলে আসার কথা … কিন্তু আমি সেটা করি নাই … কেন করি নাই, তার কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে এখনো নাই … ওইদিনই একটা ডিসাইসিভ মোমেন্ট হতে পারতো … যার ফলে পরবর্তী অনেক কিছুই ঘটতো না … আর এখনকার যাবতীয় অনুশোচনা, অনুতাপ হাবিজাবি এসবও থাকতো না …

কিংবা কে জানে! হয়তো আরও অন্যরকম কিছু ঘটতো … আরো খারাপ কিছু …

জীবনের এই রেনডমনেসটা আমার ভালো লাগে … ঠিক এক মুহুর্ত পরেই কি হবে তা কি আসলেই আমি জানি? … জানলে নিশ্চয়ই জীবন এত ইভেন্টফুল হতো না … আর আমিও বসে বসে নিজেকে অ্যানালাইসিস করার দায়িত্ব নিয়ে দিনযাপন লিখতাম না … কারণ জানতামই তো কি হবে!

আজকে আর লিখবো না … আজকে বিকালে ঘুমাই নাই … তাই এখনি ক্লান্ত লাগছে … ঘুমিয়ে যাবো … কালকে ভোরবেলা উঠে কাজ করতে হবে বিবিসি’র … তারপর স্কুল … তারপর ভার্সিটির ক্লাস  …

ওহ! ভালো কথা … ব্লাড টেস্ট করতে দিয়েছিলাম যে, তাতে বিলিরুবিন নর্মাল … ০.৫ … সো, জন্ডিস –এর টেনশন নাই …

আশা করছি কালকে চুল কাটার সাথে সাথে মাথা ব্যথা কমে গিয়ে শরীর অর্ধেক সুস্থ হয়ে যাবে … আজকে দুপুরে চুল আঁচড়াতে গিয়ে মাথায় একটা উকুন পেয়েছি! কি ভয়ঙ্কর! … চুল ঠিকমতো শুকায় না সেজন্য হয়েছে, নাকি কারো কাছ থেকে এসেছে জানি না … যাই হোক … কালকে তো চুল কেটেই ফেলছি … দরকার হলে বয়কাট করে ফেলবো … তাও মাথায় একটা উকুনও থাকতে দেবো না …

যাই হোক, আজকের মতো শেষ করছি …

আর সেই সাথে গতবছরের লিঙ্ক –

১৯ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/20/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

২০ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/21/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/?fb_action_ids=10155548415140655&fb_action_types=news.publishes&fb_ref=pub-standard

২১ মে ২০১৫

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/05/22/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a8%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%ab%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s