দিনযাপন । ২৮০৫২০১৬

এত পড়া, কিন্তু কীভাবে কোন পড়াটা গুছাবো কিছুই বুঝতে পারছি না … ৩১ মে আর ২ জুন দুইটা কোর্সের পরীক্ষা … প্রথমটা ল্যাঙ্গুয়েজ … পরেরটা মডার্নাইজেশন অভ জাপান … ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষা নিয়ে আমার তেমন টেনশন নাই … এমনিতেও ল্যাঙ্গুয়েজ ভালোই বুঝতে পারছি, তার ওপর প্রশ্ন খুব কঠিন হবে বলে মনে হয় না… এমনিতেই আমাদের ক্লাসের ৮০ ভাগ স্টুডেন্ট-ই হিরাগানা-কাতাকানা মনে রাখতেই হিমশিম খায়, আর পড়ে পড়ে বোঝা তো অনেক দূরের ব্যাপার … ফলে, ঐ কোর্সে এমনিতেও নাম্বার ভালো উঠবে …

কিন্তু, আরেকটা যে কোর্স, সেই কোর্সের পড়ালেখা নিয়েই যত টেনশন! … এই কোর্সের ক্লাস নেন একজন সিনিয়ার টিচার, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইকোনমিক্স ডিপার্টমেন্ট-এর একজন সিনিয়ার টিচার … উনার পড়ানো ধরতে হলে নিজেদেরকেই আগে থেকে পড়ালেখা করে যেতে হয়, যাতে উনার সাথে কম্যুনিকেট করা যায় … উনাকে যত প্রশ্ন করা যাবে, তত ডাইভারসিফাইড উত্তর পাওয়া যায় … নয়তো একটা প্রসঙ্গেই উনি ঘুরপাক খেতে থাকেন … তো, আমরা এতদিন পর্যন্ত উনার পড়াই ধরতে পারিনাই … এখন হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন কোর্সে তকুগাওয়া পিরিয়ড নিয়ে পড়াচ্ছে বলে তকুগাওয়া পিরিয়ডের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নিয়ে স্যারের পয়েন্টগুলো ধরতে পারছি … নোট করতে বসেও একই ঝামেলা … স্যার কেমন প্রশ্ন করবেন তাই-ই তো জানি না! … স্যারের ক্লাস লেকচারের বেসিসে নিজেরা কিছু প্রশ্ন বানিয়েছি, কিন্তু সেরকম প্রশ্নই যে আসবে তারও গ্যারান্টি নাই … আবার স্যার হয়তো কোনো প্রসঙ্গে বলছেন দুই লাইন, কিন্তু সেইটা প্রশ্নোত্তর আকারে লিখতে গেলে দেখা যাচ্ছে দুই পাতা ইনফরমেশন দিতে হচ্ছে! … এমনকি প্রসঙ্গগুলোও এমন স্ক্যাটারড যে সেগুলো একটা-দুইটা বইয়ে পাওয়া সম্ভব না! … ঐ দুই পাতা লিখতে হলে অন্তত তিন/চার জায়গা ঘেঁটে তারপর একটা কিছু সাজানো যাচ্ছে! …

এর মধ্যে মামুন স্যারের দুইটা অ্যাসাইনমেন্ট ছিলো … কিন্তু স্যার ঢাকায় নেই বলে কালকে ক্লাস হবে না … ফলে, অ্যাসাইনমেন্ট করার কাজে আজকে একটু ফাঁকি দিতে পারলাম … স্যারের একেকটা অ্যাসাইনমেন্ট করাও তো একেকটা ছোটো-খাটো গবেষণা … তবে, কালকে ক্লাস না হলেও সকালে কাজটা শেষ করে রাখতে হবে, যাতে পরশুদিনও যদি মেক-আপ ক্লাস দেয়, তাহলে খালি প্রিন্ট করানোর ঝামেলা থাকবে …

ওহ! আগে যেই টেস্ট-টা হলো, হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশনের, ওইটায় তো ১০-এ ৯.৫ পেয়েছি ! … আর মনে হয় দুই/তিনজন এরকম নাম্বার পেয়েছে … নাম্বার পেয়ে তো আমি মহা খুশি … কিন্তু, সাথে টেনশন-ও বাড়লো … অন্য কোর্সগুলাতেও তো কাছাকাছি নাম্বার রাখতে হবে! … আর যাই হোক, দিনশেষে এই জাপানিজ স্টাডিজ সেন্টারে সিজিপিএ-ই ম্যাটার করবে … অ্যাট লিস্ট, স্কলারশিপ পেতে চাইলে তো অবশ্যই …

যাই হোক, পড়াশোনার প্রসঙ্গ বাদ দেই … এই কয়েকদিন দিনযাপন লিখিনাই বলে বেশ কিছু বিষয় জমা হয়ে গেছে … ব্যস্ততার জন্য দিনযাপন লিখিনাই, ঠিক তা না … বরং ক্লান্তিজনিত কারণেই লিখি নাই … তার মধ্যে আবার লাস্ট দুই/তিন দিন ডান হাতে খুব ব্যথা ছিলো … হাত নাড়াতে পারছিনা টাইপেরই ব্যথা … ফলে কম্পিউটারে টাইপ করাটাও পসিবল ছিলো না … হাতে ব্যথা পাওয়ার কাহিনীটা একটু বলি … গত বুধবার, নাকি মঙ্গলবার সকালবেলা হাত-মুখ ধুয়ে এসে টেবিল-চেয়ারে বসতে না বসতে এক কাহিনী … বেশ কয়েকদিন ধরেই টের পাচ্ছিলাম যে চেয়ারটা আগের চেয়ে অনেক বেশি নড়বড়ে লাগছে … তো, ওইদিন চেয়ারে বসা অবস্থাতেই উবু হয়ে মোবাইলের চার্জারটা মাল্টিপ্লাগের সকেটে ঢুকাতে গেছি, আর কথা নাই বার্তা নাই চেয়ারের সিট-টা ভেঙ্গে আমি চেয়ারসমেত পড়ে গেলাম! … হাতের ব্যথাটা তখনই পেয়েছিলাম, কিন্তু টের পাইনাই … দিন পার হয়ে রাত আসতে আসতে ব্যথার তীব্রতা বেড়েছে …

চেয়ারটা কেন নড়বড়ে সেই কাহিনীটা কিন্তু আবারো সোহেল রিলেটেড … চেয়ারটা আমি ওর সাথে গিয়েই কিনেছিলাম … তো, যেহেতু ওর বাসার কাছের দোকান থেকে কেনা, ও যে কোনো কারণে নিজ দায়িত্বে চেয়ারটা আমার বাসায় দিয়ে গিয়েছিলো … যেহেতু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওর বুদ্ধি মাথায় না থেকে নুনুর আগায় ছিলো, ফলে বাসার নিচে এসে সে যখন দেখলো যে কলাপসিবল গেটটা এক মানুষ সমান করে খোলা, এবং সেখান দিয়ে চেয়ারটা ঢুকছে না, ও এইটুকুর জন্য অপেক্ষা করলো না যে আমি নিচে নেমে দারোয়ানকে ডাকবো, দারোয়ান গেটটা খুলে দেবে … ও গায়ের জোরেই এদিকওদিক করে চেয়ার ঢুকাতে গিয়ে ওইদিনই একটা স্ক্রু খুলে ফেলেছিলো! … নিতান্তই ভদ্রতাবশতঃ আমি এটা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করিনি …

তো, যাই হোক, অবশেষে চেয়ারটা ভাঙলো … ওর সাথে সম্পৃক্ত আরেকটা স্মৃতি বিদায় হলো …

এর মধ্যেই অনেক বড় একটা অভিজ্ঞতার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো … সুইজারল্যান্ডের ফোক মেটাল ব্যান্ড ‘ইলুভিতি’র কন্সার্ট হবার কথা ছিলো গত বৃহস্পতিবার … যারপরনাই এক্সাইটমেন্ট ছিলো ভেতরে, কারণ টিকিট কেটে কনসার্ট দেখতে যাচ্ছিলাম না, বরং ভলান্টিয়ার হয়ে যাচ্ছিলাম! ইলুভিতি’র গান ভালো লাগে, আর তাদেরকে এভাবে কাছাকাছি দেখার সুযোগ পাবো, ব্যাপারটায় নিজেকে বেশ ভিআইপি মনে হচ্ছিলো … ভেন্যুতে যাওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনার চক্রে জানা গেলো যে ইলুভিতি’র কন্সার্ট হবে না … সিকিউরিটি সংক্রান্ত ইস্যুতে নাকি এনএসআই কনসার্ট আটকে দিয়েছে! … আমি বুঝি না, সিকিউরিটির ঝামেলা হবে বলে যদি সরকারের মনেই হয়, তাহলে কন্সার্ট বন্ধ করে দেবে কেন? দরকার হলে কি সিকিউরিটির কড়াকড়ি করা যেতো না? … এতদিন ধরে এইটার ক্যাম্পেইন চলছে, এত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে, আর দলটা পর্যন্ত দেশে এসে গেছে, তারপর লাস্ট মোমেন্টে এসে এই সিদ্ধান্ত! … এই কন্সার্ট নাকি সামনে হবে আবার … সেটার জন্য কথাবার্তা চলছে শুনলাম … দেখা যাক! হলে তো খুবই ভালো …

965024_10152844231615655_1682996276_o

আজকে যেই ছবিটা পোস্ট করছি লেখার সাথে, সেটার একটা মজার গল্প আছে। ছবিটা আজকে ফেসবুকের অন দিজ ডে-থেকে পেলাম … এই ছবিটা ২০১০ সালের দিকে তোলা … পুবাইলের কাছাকাছি কোনো একটা গ্রামে বোধহয় … জার্নাল ভাই কোনো একটা ভিডিওর কাজ করবে, আমাকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলো … সম্ভবত মেয়েটা যাতে অড ফিল না করে সেজন্য … মেয়েটার সাথে অবশ্য ওর বাবা-ও গিয়েছিলো … আমি তখন জানতাম না কিসের কাজ এটা … জার্নাল ভাই বলছিলো যে পাভেল ভাই একটা নাটকের কাজ করাবে, ওইটার জন্য লাগবে … তো, ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’র ভিডিও যখন বানানো হলো, তখন দেখলাম এই মেয়েটার ভিডিওস্কিডগুলোও কিছু কিছু জায়গায় আছে … তখন বুঝলাম যে এই নাটকটার কথা ভেবেই পাভেল ভাই এই ভিডিওগুলো করিয়েছিলো! … এই নাটকটা তো আগেও একবার পাভেল ভাই কাজ করানো শুরু করেছিলো, কয়েক বছর আগে … নিশ্চয়ই সেই সময়েরই ভাবনা এই ভিডিওগুলো! … আমার কাছে খুব ইনটেরেস্টিং লেগেছিলো ব্যাপারটা! … নিজের অজান্তেই কত আগে থেকেই আমি এই ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নাটকের ভাবনার সাথে সামহাও যুক্ত ছিলাম! …

ঐ ভিডিও সেশনের দিনে অনেক মজার মজার ছবি তুলেছিলাম … কিন্তু কখনো পোস্ট করা হয়নি … সিপিউ-টা নস্ট হয়ে পড়ে আছে … সেইটার হার্ডডিস্ক যদি ভালো থাকে, তাহলে সেটায় আছে ছবিগুলা … কখনো যদি উদ্ধার করা যায় তাহলে দেখার সুযোগ হবে …

আর লিখতে ইচ্ছা করছে না আজকে … আবার ঘুম আসছে … দুপুরবেলা প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে ঘুমিয়েছি … কি কি জানি স্বপ্নও দেখেছি … গোপী, টুটুল, নোবেল ভাই, নীল … আরো কে কে জানি ছিলো … আমার কাছে মনে হচ্ছিলো স্যাটানিক-এর মেম্বার … কিন্তু চেহারায় কাউকে চিনি না! … তো, ট্রেনে করে সবাই কোথায় জানি যাচ্ছি … তাও আবার আমি অনেকটা রাস্তা ট্রেনের দরজায় ঝুলে ঝুলে গেছি … খুব আবছা আবছা মনে আছে সবকিছু … ঘুম ভাঙ্গার পর ঘটনাগুলো আর জোড়া লাগাতে পারিনাই একটা একটা করে … ভালো ঘুম হয়নাই বলে এখনই ঘুম পাচ্ছে আমার … তাই ঘুমিয়ে থাকি … কালকে সকাল সকাল উঠবো … স্কুল নাই কালকে … কিন্তু পড়ালেখা আছে অনেক …

আজকেও গতবছরের লিঙ্ক দিতে আলসেমি লাগছে … তাই দিলাম না …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s