দিনযাপন । ০৫০৬২০১৬

ক্লাস শেষ করে সন্ধ্যার পরে বাসায় ফেরাটা দিনের পর দিন একটা হরিবল এক্সপেরিয়েন্স-এ পরিণত হচ্ছে … সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টা/৮টার দিকে ভার্সিটি থেকে বের হই, আর বাসায় যখন ঢুকি তখন রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়! …

কালকে তো এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেলাম। প্রচণ্ড জ্যামের মধ্যে সিএনজি পাই না … হাঁটতে হাঁটতে পরিবাগ পর্যন্ত চলে গেলাম … আবার রিকশা নিয়ে ল্যাব এইডের দিকে রওয়ানা দিলাম … মোতালেব প্লাজার মোড়ে জ্যাম দেখে রিকশাওয়ালাকে কাঁঠালবাগানের ঢালের ভেতর দিয়ে চলে যেতে বললাম, সেই রিকশাওয়ালা গলি দিয়ে অনেক ঘুরতে হবে, এই সেই বলে বলে সেই জ্যামের রাস্তা দিয়েই যেতে থাকলো … শেষে হাতিরপুল বাজার পর্যন্ত এসে আমি অধৈর্য হয়ে নেমে গেলাম। হাতিরপুল বাজারের মোড় থেকে একটু সামনে আগাতেই সালমানের সাথে দেখা … ও নাকি গুলশান না কই যাবে, সেজন্য সিএনজি খুঁজছে … দুইজনে হেঁটে হেঁটে ল্যাব এইড পর্যন্ত যাওয়ার পরেও সিএনজি পাই না … কেউই যাবে না … এমন জ্যাম রাস্তায় যে কেউই যেতে চাইছে না … শেষে সালমান ঠিক করলো সে মিরপুর ১০ নাম্বার পর্যন্ত আমার সাথে এসে ওখান থেকে সিএনজি করে বা বাসে গুলশানের দিকে যাবে … তো, আমরা তখন একটা রিকশা নিয়ে ১০ নাম্বার পর্যন্ত আসলাম … আমি তারপরে আবার আরেকটা রিকশা নিয়ে বাসা পর্যন্ত … একে তো গরম, তারওপর এভাবে হেঁটে, রিকশায় বসে আসতে আসতে আমি অসুস্থ হয়ে গেলাম … পিঠ আর কোমর তো ব্যথা হলোই, সেই সাথে পেটে ব্যথাও চলে আসলো … অনেকক্ষণ রিকশায় বসে থাকলে আমার টিউমারটায় চাপ পড়ে, আর সেজন্যই মনে হয় পেটে একটা চিনচিন টাইপের ব্যথা শুরু হয়ে যায় …

আজকেও বাসায় ফেরার সময় আরেক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা … ক্লাস শেষ হলো মনে হয় ৮টার দিকে … আজকে সময় দেখিনাই বের হবার সময় … আর যেহেতু এখন ফোনের সাথে যোগাযোগ নাই, তাই ফোন বের করেও নাম্বার দেখতে মনে থাকে না … যাই হোক, প্রায় ৪৫ মিনিট ডাস-এর চত্বরটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর না পেলাম সিএনজি, না কোনো রিকশা যে ল্যাব এইড যাবে … অনেক্ষণ পরে একটা রিকশা পাওয়া গেলো, তাও আবার ল্যাব এইড পর্যন্ত ৫০ টাকা চায় … তখন আমার আর ভাড়া নিয়ে কথা বলার মতোও অবস্থা নাই … নিজের অবস্থার কথা চিন্তা করে প্রচণ্ড কান্না পাচ্ছিলো … ওই ভাড়াতেই উঠে গেলাম … রিকশায় উঠে আর চোখের পানি আটকায় রাখতে পারলাম না … খালি মনে হচ্ছিলো যে বাংলাদেশের এই বাল-ছাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের কাছে কত অসহায় আমি! … একটা গাড়ি থাকলে সব থোরাই কেয়ার করে চলতাম টাইপের হা-হুতাশ শুরু হয়ে গেলো … গাড়ি যে নাই, এবং গাড়ি কেনার ক্ষমতা যে আমার বাবা-মা কিংবা আমারও নাই, সেই চিন্তাটা প্রচণ্ড একটা ক্ষোভে পরিণত হলো … সারাদিন প্রচন্ড পরিশ্রম করে বাসায় ফেরার সময় আসলে খুব আয়েশ করে গা এলিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে … আমার খালি মনে হয় যে প্রতিদিন যে হেক্টিক জার্নি করি ধানমন্ডি কিংবা ভার্সিটিতে যাওয়া আসার জন্য, সেটার জন্যই হয়তো আমি মানসিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে যাবো … শারীরিক অসুস্থতার কথা বাদই দিলাম …

এনি ওয়ে, আসল প্রসঙ্গে ফিরে আসি … ল্যাব এইডে নেমে একটা-দুইটা সিএনজিকে জিজ্ঞেস করার পর এক সিএনজিওয়ালা ২৫০ টাকায় আসতে রাজি হলো … কিন্তু সেই সিএনজিওয়ালা আবার হেভি পাকনা … এমনিতেই প্রাইভেট সিএনজি, তারমধ্যে আনন্দ সিনেমা হলের কাছে একটা ভাইটাল চেক পয়েন্টের কাছে এসে সে রং লেনে গাড়ি ঢুকায় দিলো ওভারটেক করে চলে যাবে ভেবে … আমি তাকে মানা করতে করতে সে এই কাজ করে বসলো, এবং সাথে সাথে পুলিশ সার্জেন্ট দেখে ওকে ধরার জন্য ছুটে আসলো … সিএনজিওয়ালা ভেবেছিলো টান দিয়ে চলে যাবে, কিন্তু জ্যামের রাস্তায় কি আর সেটা হয়! পুলিশ ঠিকই তার সিএনজি আটকায় কাগজ-পত্র বাজেয়াপ্ত করে ফেললো … এদিকে সিএনজি রাস্তার একপাশে ড্রাইভিং সিট খালি রেখে, দরজা খোলা রেখে পুলিশের পেছনে হাওয়া … এমনিতেই ফার্মগেট এলাকা খুব ভালো জায়গা না, তার মধ্যে তখন বাজে রাত প্রায় ১০টা … আমার খালি একবার মনে হলো যে এখন যদি কেউ এসে হুট করে সিএনজিতে ঢুকে পড়ে চালানো শুরু করে, ছিনতাইকারী বা কিডন্যাপার, তাইলে আমি কি করবো! … আমি ভেতর থেকে সিএনজি’র দরজা খুলে বের হয়ে হাঁটা দিলাম … এর মধ্যে আবার সিএনজিওয়ালা এসে বলে, ‘ভাড়া না দিয়েই চলে যাবেন?’ … ‘আপনার মতো ভোদাই সিএনজিওয়ালাকে আমি কোনো ভাড়া দিবো না’ বলে আমি হাঁটা কন্টিনিউ করলাম … হেঁটে হেঁটে ইন্দিরা রোডের মাঠটার কোণা পর্যন্ত যেতে যেই ভয়টা পাচ্ছিলাম! … কেউ যদি এখন ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে কি করবো? ব্যাগে তো ল্যাপটপ আছে! … এসব ভাবতে ভাবতে ইন্দিরা রোডের মাঠের কোণায় এসে দেখি সেখানেও কোনো সিএনজি নাই … এক সিএনজিওয়ালাকে পেলাম কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর, সে বললো ঐখান থেকে মিরপুর ১২ নাম্বার তাকে ৩০০ টাকা দিতে হবে … রাগের চোটে সিএনজিটা উল্টায় দেয়ার ইচ্ছাটা অনেক কষ্টে দমন করে শেষে রিকশা নিয়ে বাসায় ফিরলাম! …

FB_20160520_00_11_28_Saved_Picture

বাই দ্য ওয়ে, বায়োমেট্রিক প্রসেসে সিম রেজিস্ট্রশন করিনাই দেখে ফাইনালি আমার সিমটা বন্ধ হয়েছে ১ তারিখ থেকে … গতমাসেই তো বন্ধ হয়ে যাবার কথা ছিলো, কিন্তু শেষ মোমেন্টে গিয়ে একমাস টাইম এক্সটেন্ড করলো … এবার অবশেষে সরকার তার কথা রেখে আনরেজিস্টার্ড সিম বন্ধ করেছে। আমার যে তাতে খুব অসুবিধা বোধ হচ্ছে তা না … বরং আমি প্রচন্ড রিলাক্সড ফিল করছি যে কারো সাথে যোগাযোগ করার অবলিগেশন নাই! … জবাবদিহি করারও বিষয় নাই … মানুষজনকে বলেই রেখেছি ফেসবুকে মেসেজ পাঠিয়ে রাখতে জরুরি দরকারে, সো কেঊ যদি আমাকে জরুরি দরকারে খুঁজতে গিয়ে বলে যে ‘তোমার তো ফোন বন্ধ, তোমাকে তো পাওয়াই যায় না’ তাকে আমার থোরাই কেয়ার করার অবকাশ আছে … সবকিছু লিমিটেড করে ফেলার এই-ই সুযোগ … খালি স্কুল আর ভার্সিটি … ব্যস! … অসামাজিক হওয়ার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হয় না! …

আজকে আর কিছু লিখতে আর ইচ্ছা করছে না … অনেকদিন পরে লিখতে বসলাম … এর মধ্যে অনেক টাইপের ঘটনা ঘটেছে যেগুলো গরম গরম লিখলে মজা হতো … আর তখন একই সাথে ইনকোর্স পরীক্ষার পড়া নিয়ে মহাব্যস্ত ছিলাম দেখে আর সেগুলো লেখার বা লিখতে বসার সুযোগ হয়নি … পরে আবার প্রসঙ্গ আসলে হয়তো সেগুলো নিয়ে লিখবো …

আজকের মতো বিদায় হই … ঘুমের রাজ্যে সব ভেঙ্গেচুড়ে ফেলতে ইচ্ছা করছে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s