দিনযাপন । ০৭০৬২০১৬

গত দুইদিন যাবৎ কিঞ্চিৎ হ্যাসেল ফ্রি ভাবে বাড়ি ফিরতে পেরেছি বলেই সম্ভবত আগের দুইদিনের ‘বাড়ি ফেরা’ সংক্রান্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ট্রমা বেশ খানিকটা কেটেছে … কালকে সকালে যখন বের হয়েছি তখনও প্রচন্ড প্যানিকড ছিলাম যে বাড়ি ফেরার জার্নিটা আবারো না আগের দুইদিনের মতো হয় … একেবারে গলায় কান্না ঠেকে থাকা টাইপের প্যানিকড হয়ে ছিলাম … ফৌজিয়া আপাকে বলছিলাম যখন যে কি কষ্ট হচ্ছে দুইদিন ধরে, মনে হচ্ছিলো কেঁদেই ফেলবো! … পরে কারো সাথে কথা না বলে চুপচাপ বসে বসে বিবিসি’র কাজ করতে থাকলাম … পরে অরুণদ্যুতি আপু, আলিয়া আপা, আরিফিন স্যার এদের প্যাম্পারিং-এ, একটু আধটু ডাইভার্টেড গল্প-গুজবে পরে হাল্কা হলাম অনেকটা …

কালকে ক্লাস হয়নাই … দুপুরে প্রতীতি’র ট্রিট ছিলো শর্মা হাউজে … ওর জন্মদিনের ট্রিট … শর্মা হাউজ থেকে বের হয়ে একটু পাশেই জুস বারে বসে জুস খেয়ে আমরা মোটামুটি বিকালের আগেই যে যার বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলাম …

আজকে ক্লাস শেষ করে বের হয়েছি তখন বৃষ্টি পড়ছে … আমি চিন্তা করলাম যে এখন যদি আমি বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজি খুঁজতে শুরু করি, তা তো পাবোই না, বরং যেই ভাড়া বলবে সেটা শুনলে আরও মেজাজ খারাপ হবে। নিশাতের সাথে সুমনের ফোন থেকে কন্টাক্ট করে ঠিক করলাম যে ওর বাসায় যাবো … সেক্ষেত্রে সিএনজি না পেলেও রিকশা দিয়ে তো যাওয়া যাবে! … এদিকে রিকশাও পাইনা, সিএনজি-ও পাই না … এই করতে করতে শেষে এক সিএনজি পেলাম … সেটাকে ঢাকা ভার্সিটি টু জাপান গার্ডেন সিটি ভাড়া দিলাম ২০০ টাকা … আর মিটারে উঠলো ১২৬ টাকা! … এর মধ্যে আমি যখন রিকশা/সিএনজি খুঁজছি তখন ডিপার্টমেন্ট-এর পিয়ন লাভলু ভাই লোপামুদ্রা ম্যা’ম-এর জন্য রিকশা খুঁজছে … ম্যা’ম যাবেন ৯/এ … আমি সিএনজি পাওয়ার পর ভাবলাম যে জাপান গার্ডেন সিটি তো শংকর দিয়েও যাওয়া যাবে, সো ম্যাম’কে ড্রপ করে যাবো কি না জিজ্ঞেস করে যাই … টিএসসি থেকে কলাভবন পর্যন্ত একটু ঘুরে যেতে বললাম দেখে সিএনজিওয়ালা মহা হম্বিতম্বি শুরু করলো … আগে বলেন নাই কেন … ইফতার ধরতে হবে … এই …সেই … আমার খুব বিরক্ত লাগলো … আমি একটু উষ্ম কণ্ঠেই বললাম যে রোজার দিনে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে সাহায্য করলেও তো সওয়াব হয় … আপনি নিজেও তো দেখতেসেন যে রাস্তায় কোনো সিএনজি/রিকশা কিছু নাই … একজন মানুষ অনেকক্ষণ ধরে বাড়ি যাওয়ার জন্য রিকশা খুঁজছে, তাই আমার মনে হচ্ছে যে আমি পারলে তাকে হেল্প করি … আপনার নিজের কেন মনে হচ্ছে না যে রোজার দিনে আপনি কত রাস্তা ঘুরে গেলেন সেটা না ভেবে কাঊকে একটু হেল্প করলে আপনারই সওয়াব হবে? … এইসব কথা শুনে সে গজ্‌গজ্‌ করতে করতে সিএনজি ঘুরায় কলাভবনের সামনে নিলো … তবে ততক্ষণে ম্যা’ম রিকশা পেয়ে চলে গিয়েছে … আমাকে আর সিএনজিওয়ালা কিছু বলে নাই … মনে হয় ভাবসে যে উনি কিছু বলার সাথে সাথে আমি বয়ান দিয়ে দিবো! …

কিন্তু আমি না এইটা অনেক ভেবেও বুঝি না যে এই ‘সাহায্য’ করার ব্যাপারটা মানুষ কেন খুব ক্রিটিক্যালি দেখে … সবার মধ্যেই ‘কেন হেল্প করবো’ এই ব্যাপারটা জাস্টিফাই করার প্রবণতাটা বেশি থাকে! … আমি আবার সেইটা পারি না … আমার কাউকে হেল্প করতে ইচ্ছা হয় বা হয় না … কিন্তু যুক্তি খাটায় আমি কাঊকে হেল্প করবো বা করবো না টাইপের সিদ্ধান্ত নেই না … কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকেই আমি দেখি যে চিন্তা করে যে কাউকে হেল্প করলে তার কি বেনিফিট হবে, আর তারপর সে অনুযায়ী সে সিদ্ধান্ত নেয় যে হেল্প করা যাবে কি যাবে না!

যাই হোক, এই রোজার মধ্যেই ১৬ তারিখ পর্যন্ত ক্লাস হবে জাপানিজ স্টাডিজ –এর। আমি ভাবছি যে টানা যেই কয়েকদিন ক্লাস আছে, আমি ফৌজিয়া আপা’র বাসায় বা অরুণদ্যুতি আপুর বাসায় থেকে যাবো … বিশেষ করে মামুন স্যার যেদিন ক্লাস নেবেন সেদিন তো অবশ্যই … কারণ উনার ক্লাস শেষ হতে হতে ইফতার-এর টাইম পার হয়ে যাবে, আর তারপর শুরু হবে জ্যাম … আর সিএনজি পাওয়ার আশা তো ছেড়েই দিলাম … একেকটা সিএনজি নিশ্চয়ই ৪০০/৫০০’র নিচে ভাড়াই চাইবে না! … এত স্ট্রেস নেয়ার চাইতে বাসায় ফেরার চেষ্টা বাদ দিয়ে কাছাকাছি কোথাও থেকে যাওয়াই ভালো …

1934309_45264115654_7965_n

আবারো জানাই যে ফোন ছাড়া বেশ ভালোই চলছি … টুকটাক মিসকম্যুনিকেশন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো বাদ দিলে এমনিতে আমি ভীষণ রিলাক্সড আছি … কারো সাথে যোগাযোগের মধ্যে থাকার ব্যাপারে আমার আসলে কোনো অব্লিগেশন কাজ করছে না … এই যেমন দুইদিন যাবৎ আমার ঘাড়ে গ্রুপ থেকে একটা ছোটো কাজ ধরিয়ে দিয়েছে … কিন্তু আমি তো সকালে বেড় হয়ে যাই, আর রাতে ফিরি … সো কাজটার ব্যাপারে চাইলেও কেউ যোগাযোগ করতে পারছে না … আমি রাতে ফিরে টুটুলের প্রশ্নের উত্তর দেই … আবার টুটুল একটা প্রশ্ন করে এমন সময় যখন আমি বাসায় থাকি না … তারপর টুটুলের সেই প্রশ্নের জবাব আমি আবার রাতে দেই … টুটুল বলছিলো যে এভাবে কাজটার জন্য একটা একটা করে দিন পার হয়ে যাচ্ছে … আমি তখন ওকে বললাম যে ‘আউট অফ নেটওয়ার্ক’ টাইপ মানুষের ঘাড়ে এমন কাজ চাপালে তো এমনটা হবেই … ও খুব বলার চেষ্টা করলো যে এই কাজগুলা আপনিই ভালো পারেন দেখে আপনাকে দেয়া হয় … আমার খুব বিরক্ত লাগলো, আবার হাসিও পেলো … আমি যদি এখন কোনো কারণে প্রাচ্যনাটেই আর রেগুলার না থাকি, যদি সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে নিজেকে উইথড্র করি, তখন কি করবে প্রাচ্যনাট? তখন তো ঠিকই কাঊকে বের করে নেবে যে এই কাজগুলা পারে … সো হোয়াই নট নাও? … সবসময়ই এটা হয়ে আসছে যে আমি যেই কাজগুলো করি সেগুলোর কোনো যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট-ই পাওয়া যায় না! … তো, এখন আমি যদি আর ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’র ভিডিও অপারেট না করি, তাহলে কি ভিডিও বন্ধ থাকবে? আমি যদি আর ইংরেজি চিঠিপত্র, লেখালেখি না করে দেই তাহলে কি প্রাচ্যনাট সবকিছু বাংলায় লেখা শুরু করবে? যদি আমি আর পূনর্জন্ম, মায়ের মুখ কিংবা ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নাটকের শো-এর সময় না থাকি, তাহলে কি নাটকের পারফর্মাররা আমাকে ছাড়া সব ভুলে যাবে জাস্ট বিকজ এই কারণে যে এই নাটকগুলোর ডায়ালগ, কম্পোজিশন, ডিজাইন, ডিরেক্টরের ফিলসফি সব আমার নখদর্পণে? … আমি না এই ধরনের অ্যালিবাই-এর কোনো যুক্তিই পাই না যে একটা জায়গায় যে কোনো কাজে আমি একাই সর্বেসর্বা থাকবো, এবং সাত/আট বছর পার করে ফেলার পরেও আমার ‘সমান’ কিংবা ‘বেশি’ এন্থুজিয়াজম-এর কাউকে পাওয়া যাবে না! আমি যদি কখনো কোনো কারণে মারা যাই, তাহলে কি হবে? ‘সি ওয়াজ সামওয়ান উই ক্যান নেভার রিপ্লেস’ টাইপ তকমা দিয়ে তখন আমাকে নিয়ে হা-হুতাশ করবে? …

আসলে এখানেও সেই বেনিফিটের প্রসঙ্গই চলে আসে … অন্য আর যে-ই যেটা পারুক, তাকে সেটা করতে বললে সে বেনিফিট খোঁজে, কিংবা চিন্তা করে যে বিনিময়ে সে কোন সুবিধাটা পাবে … সেটা ছবি তোলা হোক, কম্যুনিকেশন হোক, ইংরেজিতে লেখালেখি হোক, কথা বলা হোক, কিংবা নির্দেশকের সাথে তার সহকারী হিসেবে কাজ করে দশ মাথার চিন্তা এক মাথায় নেয়ার দায়িত্বই হোক … ‘এটা যদি করি তাহলে কি পাবো?’ … এই চিন্তা করতে করতেই আর তাদের সেই কাজটা করা হয় না …

সেজন্যই ভাবছি যে জোরপূর্বক এইসব কাজ থেকে অব্যহতি নিয়ে নিবো … দূরত্ব বাড়তে থাকলেই ঠ্যাকায় পড়ে ঠিকই একজন রিপ্লেসমেন্ট তৈরি হয়ে যাবে সেই কাজের …

যাই হোক … আজকে আর লিখবো না … আজকে একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বো … শরীরের ওপর দিয়ে কয়েকদিন যে ধকল গেছে, সেটার জন্য প্রপার ঘুমই হয়নাই … কালকে ঘুমিয়েছি বেশ রিলাক্সডভাবে … সকালে জানি কি কি স্বপ্ন দেখসিলাম … স্বপ্ন দেখতে দেখতেই ভাবছিলাম যে এগুলা ছাড়াছাড়া হলেও খুব ইম্পোর্ট্যান্ট সাইকোলজিক্যাল ডাটা হিসেবে দিনযাপনে লিখে রাখা যেতে পারে … সুতরাং মনে রাখতে হবে … কিন্তু ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে বেমালুম ভুলে গেলাম যে কি নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম! …

যাক গে … ঘুমাই … বহুৎ ফায়দা হবে নিজের শরীরের … সেই সাথে দেশ ও জাতির …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s