দিনযাপন । ১৮০৬২০১৬

ওয়েল, আজকে আবারো এক ভয়াবহ ‘জার্নি বাই সিএনজি’ দিন গেলো! খুব বেশি না, সাড়ে ৩ ঘণ্টার কাছকাছি একটা জার্নি করলাম … মিরপুর সাড়ে ১১ টু ঢাকা ইউনিভার্সিটি …

আজকে ভার্সিটিতে ক্লাস ছিলো মামুন স্যারের … ক্লাস শুরু হবার কথা সাড়ে ৩টায় … গত শনিবারের অভিজ্ঞতার আলোকে আজকে ঠিক করলাম যে যথেষ্টই আগে বের হয়ে যাবো … দরকার হলে ডিপার্টমেন্টে গিয়ে বসে থাকবো … যদি আগে আগে পৌঁছে যাই, তাহলে বসে বসে বিবিসি’র একটা কাজও এগিয়ে রাখবো, এটা ভেবে নেটবুকটাও নিয়ে নিলাম … কিসের কি! ১২টা সময় রওয়ানা দিয়েও আমি ভার্সিটি গিয়ে যখন পৌছালাম, তখন সোয়া ৩টার বেশি বাজে! মিটারে ভাড়াই উঠলো ৪৩৫ টাকা! সিএনজিওয়ালাকে ৪৫০টাকা ধরে ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি উনার কাছে ১০০০টাকার ভাংতি নাই, আমার কাছেও খুচরা আছে মাত্র ২৫০ টাকা! … এদিকে এত হিসাব-নিকাশ মেলানোর সময় নাই, আশেপাশে ভাংতি পাওয়ার জন্যও একবার জাপান স্টাডি সেন্টারের অফিসে ঢুকবো, ভাংতি নেবো, আবার বের হয়ে সিএনজিকে দেবো … এত হ্যাপা নিতে ইচ্ছাই করলো না … সিএনজিওয়ালার কাছে নাকি ৪৫০ টাকা আছে ভাংতি … তাইলে আমার কাছ থেকে তার ৫৫০টাকা নিতে হয় … আসলেই ৪৫০ টাকা আছে নাকি কম করে বলছে, সেটাও আর ভেরিফাই করতে ইচ্ছা করলো না … যা দিলো তাই নিয়ে নিলাম … সিএনজিওয়ালা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে থাকলেও কি করা যাবে! … এইরকম প্যাথেটিক জার্নির পর আর কিছু মাথায় নেয়া সম্ভব? … তার মধ্যে শনিবার, আল্লাহর ওয়াস্তে ঢাকা ইউনিভার্সিটির সব বন্ধ, এদিকে ওয়াশরুমেও যাওয়া লাগবে … আজকে ভাগ্য ছিলো যে সেমিনার রুমে লোপা ম্যাম ছিলেন, উনাকে যদিও অনেক ভয়ে ভয়ে বলেছি যে ওয়াশরুমে যাবো … কারণ একদিন উনিই আমাদেরকে সেমিনার রুমে ওয়াশরুমের দরজা খোলা কি না পরীক্ষা করতে দেখে বলেছিলেন যে এই ওয়াশরুম স্টুডেন্টদের জন্য না … ফলে উনি আসলে পারমিশনটা দেবে কি না সেটা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম … কিন্তু দেখলাম যে আজকে পারমিশন দিয়ে দিলেন … আমিও বেশ ঝড়ের বেগে থ্যাংকু ম্যাম বলে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ক্লাসে ঢুকলাম … প্রচণ্ড ক্ষুধায় পেট তখন চোঁ চোঁ করছে, তারমধ্যে একটানা এতক্ষণ বসে থেকে তলপেটের ডান দিকেও ক্র্যাম্পিং পেইন শুরু হয়ে গেছে … ইমার্জেন্সিতে কাজে লাগতে পারে চিন্তা করে ব্যাগে দুইটা ড্যান কেক নিয়ে বের হয়েছিলাম … কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে একটা বের করে খেতে না খেতেই স্যার এসে পড়লেন … ফলে, একটা ড্যান কেকে ক্ষুধা মিটলো না ঠিকই, কিন্তু হাত-পা কাঁপাকাঁপি পর্যায়ের যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিলো, সেটা অন্তত পরবর্তী দুই ঘণ্টার জন্য উপশম হলো …

FB_20160618_09_07_57_Saved_Picture

আজকে মামুন স্যার ক্লাস নিলেন ঠিকই, কিন্তু আগের দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া যাবতীয় ঘটনা নিয়ে উনি কিন্তু সরাসরি কিছুই বলেন নাই। তাতে আমি খুশিই হলাম। বরং, উনি যদি এক সপ্তাহ পার করে এসে ঐ ইস্যু নিয়ে কথা তুলতেন, তাহলেই ব্যাপারটা বাজে হতো … প্রতীতি মনে হলো বেশ মনঃক্ষুণ্ণ হলো যে স্যার সবকিছু জানার পরেও কেন কিছু বললেন না … ও বোধহয় আশা করেছিলো যে স্যার খুব পানিশমেন্ট দেবেন বা বকা-ঝকা করবেন ওদের … মানে, স্কুল-কলেজ লেভেলে হলে যেটা আমিও ভাবতাম আর কি! … তবে, স্যার আজকে যখন সোশ্যাল ডিজইন্টিগ্রেশনের কথা বলছিলেন, তখন কিন্তু ইন্ডিরেক্টলি এটা সাজেস্ট করলেন যে দেখবা ক্লাসের ভেতরেও এরকম ডিজইন্টিগ্রেশন থাকে … এইটা হয়তো ৬ মাস বা ১ বছর পর আবার ঠিকও হয়ে যায় …এইসব কথাবার্তায় আসলে ঐ মূল হোতারা এবং ক্লাসের অন্যরা যা বোঝার বুঝে নিলো …

আমিও ব্যাপারটার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই … ঝগড়া করে নয় … কারণ ঝগড়া করলে আমি ঐ দুই মূল হোতা, মিজান আর রেজার মতোই হয়ে যাবো … এইটা শিওর যে তাদের সাথে আমি সহসা এবং অদূর ভবিষ্যতেও সহজ বাক্যব্যয়ে যাবো না … আমাদেরকে গ্রুপ থেকে ব্লক করে দিয়ে তারা আমাদের নিয়েই কিছু কথাবার্তা লিখেছে এবং তার পিঠে আরো কিছু মন্তব্যও করেছে … সেগুলোর স্ক্রিনশট সামহাও দেখেছি আমরা ৩ জনই … তো, ওখানে এই মিজান আর রেজা যেই ভাষায় এবং যেই টোনে আমাদের নিয়ে, এমনকি স্যারকে নিয়েও কিছু কথা বলেছে, তাতে ওদের দুইজনের সাথে ভালোভাবে কথা বলার রুচি অন্তত আমার হবে না … কিন্তু ক্লাসের বাকিদের সাথে তো আমার ঝামেলা নাই … তাদের সাথেও পার্ট নেয়ার আমি আসলে কোনো যুক্তি পাই না … যে কথা বলতে আসবে, তার সাথে আমি অবশ্যই কথা বলবো … যেমন আজকে হাসান ভাইয়ের সাথে, সুমনের সাথে ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টের নাম্বার নিয়ে বেশ নর্মাল কথা হলো, কারণ উনারাই নিজে থেকেই নর্মালি কথা বলেছে …

আজকে আবার ক্লাসের অনেকে মিলেই ইফতার করেছে … ঘাসের ওপর বসে সবকিছু মাখায় ইফতার করা ব্যাপারটা আমার পছন্দ না, আর এমনিতেও ৩ ঘণ্টা সিএনজি জার্নি করে শরীর এত খারাপ লাগছিলো যে আমি থাকলাম না … প্রতীতি’র আগের ডিপার্টমেন্টের ফ্রেন্ডদের সাথে ইফতার পার্টি আছে দেখে চলে গেলো … আমি ওর সাথে নামলেও টেকনিক্যালি ওর থেকে একটু আলাদা হয়ে গেলাম, যাতে করে আমাদের সাথে সাথে যারা নামছিলো তারা এটা না ভাবে যে ইচ্ছা করে চলে যাচ্ছি কারণ ক্লাসমেট-দের থেকে নিজেদের আলাদা ভাবি এইসব এইসব … কিছুক্ষণ রিফাত আপুর সাথে বসে কথা বললাম, ক্ষুধা লেগেছে শুনে রিফাত আপু আবার চপ আর জিলাপি কিনে খাওয়ালো … আর আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ক্লাসে ‘প্রতীতি এবং তার দল’ টাইপের একটা লেবেল লেগে যাচ্ছে আমাদের গায়ে … এই লেবেলটা আমি আমার গায়ে লাগাতে চাই না, কারণ আমি কারো দলে না, আমি আমার মতোই … কিছু বিষয়ে কারো সাথে মেলে, কিছু বিষয়ে মেলে না … ব্যাস! সিম্পল! … প্রতীতির একটু স্ট্যান্ডার্ডাইজ করে চলার টেন্ডেন্সি আছে, ইদানীং সেটা একটু বেশিই চোখে পড়ছে আমার … নাকি আমিও ওর সব আচরণ ঐ পারস্পেক্টিভেই চিন্তা করছি কে জানে! … আজকেই যেমন, দুই লোক কলাভবনের নিচতলায় টিচার্স লাউঞ্জ কোথায় খুঁজছে, তো আমি আর প্রতীতি তখন ওইদিক দিয়ে যাচ্ছি … আমাদেরকে দেখে উনারা জিজ্ঞেস করলেন টিচার্স লাউঞ্জ কোথায় … আমি দেখলাম যে উনারা টিচার্স লাউঞ্জের সামনেই দাঁড়ানো … কিন্তু যেহেতু সবকিছু বন্ধ, আর টিচার্স লাউঞ্জের দরজায় কিছু লেখাও নেই, তারা কনফিউজড হয়ে গেছেন … উনাদেরকে পয়েন্ট করে দেখিয়ে দিলাম যে এই যে এইটাই টিচার্স লাউঞ্জ … উনারাও থ্যাঙ্কস দিয়ে ঢুকে গেলো … প্রতীতি বলে উঠলো, ‘টিচার্স লাউঞ্জও চেনে না!’ … আমার খুব বিরক্ত লাগলো হুট করে! বললাম, ‘না-ই চিনতে পারে! উনারা তো ঢাকা ইউনিভার্সিটির বাইরেরও কেঊ হতে পারে! তাহলে চিনবে কীভাবে?’ … তারপর বললাম ওকে যে ইদানীং দেখতেসি যে ও অনেক বেশি স্ট্যান্ডার্ডাইজ করে চলে … এইটা ওর জন্যই বিপদজনক হতে পারে …

আল্লাহই জানে ও দিনযাপন পড়ে কি না … পড়লে তো দেখা যাবে এরপর থেকে আমাকেও স্ট্যান্ডার্ডাইজ করে চলতে শুরু করবে! … এনিওয়ে … দিনযাপনে যখন লিখছি, যাহা লিখিবো, সত্যই লিখিবো … সত্য বই মিথ্যা তো আর লিখিবো না! … আর ট্রুথ হার্টস বাই দ্যা ওয়ে! … ওকে যদি ক্লাসের সবাই নাকউঁচু, অহঙ্কারী, পার্ট দেখায় চলে এইসব ভেবে নিতে থাকে সবাই, তাহলে ওরই আসলে বিপদ হবে … ও যদি প্রাচ্যনাটে এসে ঢুকতো, ও তো মনে হয় পাগল হয়ে যাইতো সবার কাজ কারবার আর কথা-বার্তায়! … যেই আমি এমনিতেই কখনো খুব একটা স্ট্যান্ডার্ডাইজ করে চলি নাই, সেই আমি সাইকোলজি পড়ার কারণে আর প্রায় ৭ বছর একটা বারোয়ারি মানুষের আড্ডাখানায় থেকে আমার তো স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের চিন্তাই নাই হয়ে গেছে মাথা থেকে! … ও থাকলে কি করতো আল্লাহ মাবুদ জানে! ‘এ আমি কোথায় এসে পড়লাম’ বলে মাথা চাপড়াইতো মনে হয়! …

যাই হোক … কই ভাবছিলাম যে আজকে ক্লাস শেষ হয়ে যাবে, তারপর ঈদের আগে আর ক্লাস-টাস হবে না … স্যার আবার ২৩ তারিখে পরীক্ষা দিয়ে দিয়েছেন … মিডটার্ম পরীক্ষা তাও আবার … ২০ মার্কস এর … সোয়া ১ ঘণ্টা পরীক্ষা হবে … উফ! কবে যে একটা ছুটির মতো ছুটি শুরু হবে! …

ধুর, আর লিখবো না আজকে … অনেক ক্ষুধা পেয়েছে … রাতে আমি ভাত খাই না … কিন্তু আজকে ভাত খাবো … সারাদিন না খেয়ে বাসায় এসে নুডলস খেয়েছি, কিন্তু তাতে পেট ভরেনি … দুধ আর কর্নফ্লেক্স খেয়ে আজকে পোষাবে না … মা অলরেডি মুরগীর লোভ দেখিয়ে দিয়েছে … ক্ষুধা পেটে ডিমভাজি আর ডালই অমৃত, সেখানে মুরগী তো এক্সট্রা অমৃত! …

যাই তাইলে … আপনারা দিনযাপন পড়ে এনলাইটেনড হন … আমি মুরগী দিয়ে ভাত খেতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s