দিনযাপন । ২১০৬২০১৬

সন্ধ্যার পর থেকে পড়ালেখা সব বাদ দিয়ে গান শুনতেসি … মাথার মধ্যে ইমাজিন ড্রাগনের একটা গান ঢুকসে, ‘ইট’স টাইম’, সেইটাই মনে হয় ৬/৭ বার শুনে ফেলসি ! … তারপর গেম অভ থ্রন্স-এর সিক্সথ সিজনের নাইনথ এপিসোডে ব্যাটল ফর উইন্টারফল কীভাবে বানালো, সেইসব সংক্রান্ত ভিডিও, লেখা-লেখি এইগুলাও পড়ে ফেললাম … সোজা কথায়, পড়ার মুড নাই!

এমনিতেও, দুপুর থেকে হঠাৎ প্রচন্ড কোমর ব্যথা শুরু হয়েছে। সন্ধ্যায় ঘন্টাখানেক বিছানায় শুয়ে এদিক-ওদিক করলাম, কিছুটা আরাম লাগলো, কিন্তু এই যে এখন আবার এসে ঘণ্টা দুই যাবৎ টেবিল-চেয়ারে বসে কাজ করছি, এখন আবার শুরু হয়েছে। গত দুইদিন যাবৎ ঘুম-এর রুটিন খুব উল্টাপাল্টা হয়েছে। রাতে ঘুমিয়েছি ৩টার দিকে, আবার সকালে উঠেছি তাড়াতাড়ি, দুপুরেও ঘুমাইনাই … এইগুলি মিলায়ই বোধহয় কোমরের ব্যথা শুরু হয়েছে … আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে থাকবো …

আর, পড়ালেখার কন্টেন্ট-ও আল্লাহর ওয়াস্তে কম না! স্যার তো ক্লাসে এইটা-সেটা হু-হা করে অল্প কথায় বলে দিয়েছে, কিন্তু পড়তে তো হচ্ছে ডিটেইল! ৩টা টপিকের জন্য মোটামুটি একটা বই প্রায় পুরোটাই পড়তে হচ্ছে, সেই সাথে আবার স্যারের দেয়া কিছু ম্যাটেরিয়ালও আছে … এত কন্টেন্ট, আর এত রকমের থিওরি, এত রকমের ডাইভারশন! আজকে শেষমেশ ঠিক করলাম যা পড়েছি, সেটা নিয়ে যা মনে হচ্ছে তাই সামারাইজ করে লিখে ফেলবো। একেবারে ডাইরি লেখার মতো করে, অ্যাজ ইফ কাউকে বলছি যে কি পড়লাম, কি বুঝলাম! কালকে রাতে ফৌজিয়া আপার বাসায় থাকবো ঠিক করেছি, যেহেতু পরশু পরীক্ষা আর রাস্তায় জ্যাম ঠেলে যেতে চাই না … ফৌজিয়া আপার বাসা থেকে সকালে ১২টার দিকে ভার্সিটি চলে যাবো … তো, ফৌজিয়া আপারা তো বহুদিন জাপানে ছিলেন, তাও আবার ঐ নব্বই-এর শেষ দিকটাতেই, যখন জাপানে অনেকধরণের ইকোনমিক্যাল চেঞ্জ হলো। ফলে, ফৌজিয়া আপার কাছ থেকে গল্পচ্ছলে অনেককিছু বুঝে নেয়া যাবে।

ইফা’র সাথে আলোচনা হচ্ছিলো যে আমরা যে যা বুঝছি সেইটা সামারি লিখে ফেলি, তারপর গ্রুপ চ্যাটটাতে শেয়ার করি … সেটা নিয়ে তারপর ফেসবুকেই আলোচনা করলাম। একরকম গ্রুপ স্টাডিও হলো। কিন্তু, পরে ইফা বললো যে ওর আরেকটু পড়া দরকার, একেবারে পরীক্ষার দিনই আগে আগে এসে আলোচনা করবে। কিন্তু সামারি লেখার আলোচনা হবার আগেই যেহেতু আমার মাথায় সামারি লিখবো এইরকম একটা চিন্তা ছিলো, আমি মোটিভেটেড হয়ে লেখা শুরু করলাম। তাতে করে বেশ লাভ হলো কিছু ক্ষেত্রে। একটা জিনিসের সাথে আরেকটা জিনিস লিঙ্ক করে ফেলতে পারলাম … আজকে সন্ধ্যায় আর বসে ওটা লিখে শেষ করতে ইচ্ছা হলো না … কালকে সকাল থেকে লিখবো আবার …

FB_20160618_08_58_56_Saved_Picture

ওয়েল, সামারি লিখতে লিখতে আমার যেটা মনে হইলো যে জাপানের সমাজব্যবস্থা আসলে একটা বড় ফোল্ডার, যার ভেতর অনেকগুলা সাবফোল্ডার, সেগুলোর ভেতর আরো অনেকগুলা ফোল্ডার আর সেগুলোর ভেতর আবার হাজার হাজার ফাইল! সঠিক নামটা না জানলে সেই ফাইল খুঁজে পাওয়া কঠিন! আবার এক সাবফোল্ডারের জিনিসের সাথে আরেক সাবফোল্ডারের জিনিসের কোনো মিল নাই! এক সাবফোল্ডারের ভেতরে অনেক কষ্ট করে খুঁজে পাইতে হয় এমন একটা ফাইলের সাথে হয়তো অন্য আরেকটা কোনো ফোল্ডারের কন্টেন্টের মিল আছে। মানে সব মিলায় একটা জগাখিচুড়ি অবস্থা! একদিকে বলতেসে যে জাপানিরা বলতে চায় তারা সবাই এক, ‘ইউনিকলি ইউনিক’, আর দুনিয়াবাসী, স্পেশালি ইউরোপ-আমেরিকার পুঁজিবাদী কর্পোরেট থিওরি কপচানো পাবলিকেরা বলতে চায় জাপান যতই বলুক তারা সবাই এক, তারা একটা হোমোজেনাস স্যোসাইটি, আসলে মোটেই তা না! মানে, হ্যাঁ, হইতে পারে যে জাপানের সবাই দেখতে একরকম, কে যদু, কে মধু সেইটা দেখে বোঝা যায় না, সবাইকেই যমজ মনে হয়, কিন্তু তাই বলে মন-মানসিকতা, সমাজের উচু-নিচু অবস্থান, আয়-ইনকাম, পারিবারিক ইতিহাস এইসব ঘাটতে গেলেই দেখা যাবে হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের মতো এরাও এক না, আর তখন জাপানকে একটা ‘মাল্টিকালচারাল’ সোস্যাইটি হিসেবে তারা দাঁড় করায় দিয়ে বলে, ‘দ্যাখো দ্যাখো! জাপানের থেকে শেখো!’ … আর আলটিমেটলি, দুনিয়ার কাছে ইকোনমিক্যালি শিক্ষণীয় হইতে গিয়ে কালচারালি জাপান একটা হতাশ জাতিতে পরিণত হইসে! যারা মনে ‘জাপানিজ’ আর কাজে ‘ওয়েস্টার্ন’ !

এইগুলা পড়তে পড়তে আমি বাংলাদেশের সাথে অনেক কিছু মেলানোর চেষ্টা করতেসিলাম … দেখলাম যে থিওরিটিক্যালি এটা-ওটা অনেককিছুই মেলে, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি মেলে না! … আমাদের বাংলাদেশে কি হয়? … আমরা না পুঁজিবাদী, না সমাজতান্ত্রিক … সমাজতন্ত্র যা আছে, সেইটাও আবার না ওয়েস্টার্ন , না ইসলামিক! … দেশের সংস্কৃতিরই কি অবস্থা আমাদের? আমরা না আর্য সভ্যতার ধারক, না ইসলামি খিলাফত! … সেই যে মধ্য যুগে বখতিয়ার খলজি ঘোড়া ছুটায় আসলো, লক্ষণ সেন পেছনের দরজা দিয়ে পালালো, তারপর যে দিল্লি সালতানাত শুরু হইসিলো, বাঙ্গালির রক্তে-মজ্জায় মনে হয় সেই জিনিসই এখনো রয়ে গেছে !  আমাদের নিজেদের সংস্কৃতির মানদণ্ডগুলা কি আমরা জানি? … সেটাও কিন্তু কেউ শিওর না! আমি একটা বলবো, তো অমুকে আরেকটা বলবে, তো তমুকে বলবে যে সব ভুল, তোমরা জানো ঘণ্টা! … তারওপর আমাদের মধ্যে ওয়েস্টার্ন সোস্যাইটির স্যোশিও-ইকোনমিক প্যাটার্ন অবগাহনের অদম্য অবচেতন বাসনা! …সেখানেও আমরা যা কিছু পজিটিভ তা পাশে সরিয়ে রেখে সব নেগেটিভ ভাইবগুলাই সাদরে গ্রহণ করি! সুগিমোতো’র যে বইটা পড়ছি জাপানের কন্টেম্পোরারি স্যোসাইটির ওপর, সেরকম করে কেউ যদি আমাদের সমসাময়িক সমাজব্যবস্থা নিয়ে লিখতে যায়, সে আদৌ সুস্থ মস্তিষ্কে বই শেষ করতে পারবে তো? আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছে সেটা নিয়েই তো আমাদের দ্বন্দ্বের শেষ নাই! গোঁড়ায় গলদ নিয়ে বাকি পথ আগানো তো বহুদূরের ব্যাপার!

কিন্তু, কেউ সেগুলো নিয়ে হতাশ না! বরং কেউ হতাশা দেখাইলে ঠোঁট উল্টায় বলি, ‘আরে হইসে! আদার ব্যাপারীর জাহাজের খোঁজ নিয়ে লাভ কি? কুয়ার মধ্যে বসে আছি, আরামেই আছি … কুয়ার বাইরে গেলেই যত ঝামেলা … আসো, তুমিও আমার সাথে এই কুয়ায় এসে বসো … এই যে এখানে, সবচেয়ে ভালো সিটটা তোমার জন্য ছেড়ে দিচ্ছি!’ …

আমার খুব হতাশ লাগে! খুব অস্থির লাগে মাঝে মাঝে! মানুষ কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে … মাঝে মাঝে মনে হয় কি, কোনো একটা ভাইরাস বোধহয় সবার মধ্যে ইনপুট করে দেয়া হইসে … ওই যে সিনেমায় যেমন দেখায় না, কিছু একটা সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট হয়, সেইটা ফেইল করে, বা ইন্টেনশনালিই মানুষজনকে কেমন জোম্বি বানায় ফেলা হয় আর কয়েকজন থাকে যারা বুঝে উঠতে পারে না যে কাহিনী কি হচ্ছে! … বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাজকারবার দেখে আমার সেরকম মনে হয় যে কিছু একটা জিনিস ওদের মধ্যে ঢুকায় দেয়া হচ্ছে, আর তাতে করে ওরা বিকৃত হয়ে যাচ্ছে … মানুষ মারছে, রেপ করছে, চুরি করছে, দুর্নীতি করছে, কিন্তু সেটা ওরা নিজেরাই টের পাচ্ছে না! ওদের কাছে মনে হচ্ছে এটাই তো স্বাভাবিক!

দুই/তিন দিন আগের একটা খবর পড়ছিলাম আজকে বিকালে … খবরটা কতটুকু সত্য/মিথ্যা জানি না … এক লোক নাকি বাজার থেকে মাংস কিনসে, তো তার পাশের বাড়ির এক পিচ্চিকে দেখসে বা কিছু, তাকে বলসে মাংসের প্যাকেটটা ঐ লোকের বাসায় দিয়ে আসতে … পিচ্চির বয়স ৮ বছর … ও বাসায় গিয়ে দেখসে যে কেউ নাই, ওর ৮ বছরের বুদ্ধিতে ও মাংসের প্যাকেটটা দরজার বাইরে রেখে চলে গেছে। হয়তো ভাবসে যে বাসার কেউ আসলে তো দেখবেই … তো সেই মাংস নাকি কোথাকার কুকুর এসে খেয়ে ফেলসে … ঐ লোক এসে যখন দেখসে মাংসের এই অবস্থা, সে ঐ পিচ্চিকে ডাকসে … পিচ্চিও নিশ্চয়ই সরলভাবেই স্বীকার করসে যে কেউ নাই দেখে দরজার বাইরে রেখে গেসে … ঐ পিচ্চিকে নাকি ঐ লোকের বাড়ির লোকজন মেরেই ফেলসে! … তাও কি বিভৎস বর্ণণা … পিচ্চির গা ফেটে নাকি রক্ত বের হইসে দেখে তারা ফেভিকল দিয়ে সেটা জোড়া লাগাতে গেসে … রক্ত আর আঠা মিলায় নাকি ওর গা ফুলে গেছে, তখন ওকে একটা বাক্সে আটকায় রাখসে, তারপর ঐ বাক্সে মে বি সাফোকেটেড হয়ে পিচ্চি মরে গেছে! … এইসব কাহিনী হলিউডি সাইকো-থ্রিলার হইলে মানায়! সত্যি সত্যি কি এরকম হইতে পারে? … খবরে অনেক কিছুই বাড়ায় বাড়ায় লেখে … আর অনলাইন পত্রিকা হইলে তো কথাই নাই … ঘটনার সত্যি-মিথ্যা যাই হোক, খালি মাংস কুকুরে খেয়ে ফেলসে দেখে পাশের বাড়ির একটা বাচ্চা ছেলেকে মারবে, তারপর মারতে মারতে মেরেই ফেলবে, সেই লাশ আবার পাশের পাটক্ষেতে পাওয়া যাবে! … এইরকম কতরকমের নিউজ যে কয়েকদিন পর পর দেখতে হয় … কয়েকদিন আগে যে পিটাইতে পিটাইতে এক বাচ্চাকে মেরেই ফেললো, সেইটার আবার নিজেরাই ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিসে! আরেকটা বাচ্চাকে গ্যাস বেলুনের পাম্পার দিয়ে পেট ফুলায় মেরে ফেলসে … শুধু কি বাচ্চারা মরতেসে? বাচ্চা, বুড়া, মহিলা কেউ বাদ নাই! … একটা স্যোসাইটিতে মারামারি, কাটাকাটি, খুনাখুনি যদি প্রতিদিনের খবর হয়ে যায়, তাইলে সেই সমাজের কয়জন সুস্থ? … সবাই কি সাইকো হয়ে যাচ্ছে? …

আমার খালি মনে হয়, কবে আমি এই দেশ থেকে পালায় যাবো! … আমি অনেক স্বাধীনচেতা ঠিকই, কিন্তু দুঃসাহসী না! … এই দেশে নিজেকে আমার সেফ মনে হয় না … নিজেকে সেফ করতে পারার মতো গাটস্‌ ও আমার খুব নাই …

যাই হোক … আজকের মতো লেখা শেষ করি … লিখতে লিখতেই আরো হতাশ হয়ে যাচ্ছি …

বরং খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাতে যাই … ঘুম থেকে উঠে পড়ালেখা করে সব উল্টায় ফালাবো … তাই ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s