দিনযাপন । ২৪০৬২০১৬

আহা! শান্তি! শান্তি! ভার্সিটির ক্লাস অ্যাট লাস্ট শেষ হইলো … কি যে শান্তি লাগতেসে! আগামী ১৭ জুলাইয়ের আগে সম্ভবত আর ক্লাসের প্যানা নাই। ভার্সিটি খুলবে ১৬ তারিখ, কিন্তু সেদিন মে বি ক্লাস হবে না, ১৭ তারিখ হবে। এর মধ্যে একদিন/দুইদিন অবশ্য ভার্সিটি যাবো … হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন কোর্সের টার্ম পেপারটার জন্য কিছু বই এর ফটোকপি লাগবে … সেগুলো করতে দেয়ার জন্য যাবো আর কি …

টার্ম পেপারের মূল কাজ যেভাবেই হোক ১০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে … তারপর ১১-১৪ তারিখ পর্যন্ত আমি স্কুলের লেসন প্ল্যান, সিলেবাস, ওয়ার্কশিট এইগুলার কাজ করবো … এর মধ্যে আবার হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন কোর্সের মিডটার্মের পড়া আছে, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের মিডটার্মের পড়া আছে, শফিক স্যার এখনো মিডটার্মের ডেট দেন নাই, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে এই ছুটির মধ্যেই নোটিশ টানায় দিবে, আর ভার্সিটি খুল্লেই গিয়ে দেখবো যে স্যার মিডটার্মের ডেট দিয়ে রেখেছেন! … সুতরাং, শফিক স্যারের পড়াও কিছুটা আগায় রাখতে হবে … এদিকে জুলাইয়ের ২৮ তারিখ থেকে নাকি ফাইনাল পরীক্ষাও শুরু করে দিতে পারে! কি ভয়ঙ্কর! …

এর মধ্যে আবার মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-ও একটা আছে। গ্রুপে ফেস্টিভ্যাল আছে, স্কুলের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে … সেইখানে আমি এমনিতে যাবতীয় পারফর্মেন্স, হাবিজাবি দায়-দায়িত্ব থেকে এড়ায় এড়ায় থাকছি ঠিকই, কিন্তু পাবলিকেশন টিম-এ রুবেল ভাইয়ের সাথে তো থাকতেই হবে। রুবেল ভাইকে বুঝদারীর সাথে অ্যাসিস্ট করবে সেরকম কেউ যেহেতু নাই, সো এই দায়িত্বটা এড়ায় যাইতে গেলে খুব একটা ভালো হবে না … দেখা যাবে রুবেল ভাই যা বলছে সেই অনুযায়ী কাজ হবে না, কিংবা দায়িত্ব নিয়ে প্রুফ রিড করে দেয়া, এডিটগুলো ঠিকঠাক আছে কি না দেখা, ডিজাইন নিয়ে ভাবা এইগুলা কাজ করবে না কেউ … এইসব ক্ষেত্রে যেহেতু আমার উৎসাহ এবং একধরণের এক্সপার্টিজ আছে, তাই এইটুকু দায়িত্ব নিতে আমার অসুবিধা নাই … কালকে গ্রুপে গিয়েছিলাম, রুবেল ভাইয়ের সাথে কথা হলো … এর মধ্যেই বসবো একদিন … কিন্তু ফেস্টিভ্যালের টাইমটাই এত বিশ্রি! ২৩ জুলাই এখনো পর্যন্ত টেন্টেটিভ ডেট … ২৩ জুলাই মানে হচ্ছে এর আগের সপ্তাহে হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন কোর্স-এর টার্ম পেপার সাবমিশন আর মিডটার্মের দৌড়াদৌড়ি! স্কুল করে ক্লাসে যাবো, সেখান থেকে গ্রুপ, সেখান থেকে বাসায় ফিরবো রাত ১২টায় … সকালে পরদিন আবার স্কুল … অতএব বাসায় এসে পড়ার কোনো উপায় নাই! … ভাবতেই তো অস্থির লাগতেসে আমার!

গত পরশুদিন সন্ধ্যায় ফৌজিয়া আপার বাসায় চলে গিয়েছিলাম যাতে কালকে পরীক্ষার আগে অন্তত জ্যাম ঠেলে যাওয়ার ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্স না হয়। সন্ধ্যায় যদিও ইফতারের টাইমে রাস্তা ফাঁকা থাকবে এই ক্যালকুলেশন করে জাস্ট সাইরেন দেয়ার সাথে সাথে বের হয়ে গেছি, জিয়া উদ্যানের সামনের মোড়টায় এসে পাক্কা ৪০ মিনিট সিগন্যালে আটকে রইলাম। গণভবনে নাকি ইফতার পার্টি, সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে তার কার্যালয়ে যাবে, আর সেই কারণে পাক্কা ৪০ মিনিট ধরে সব রাস্তায় সিগন্যাল আটকানো! … যাই হোক, প্রধানমন্ত্রী গেলেন, তারপর আরেকজন কেউ ভিআইপি গেলেন, তারপরে সিগন্যাল ছাড়লো! যাই হোক, ফৌজিয়া আপার বাসায় আরামে গল্প-গুজবই করা হল বেশি, পড়া আর খুব একটা হলো না … অবশ্য আমার আর বইপত্র নিয়ে পড়তে ভালো লাগছিলো না। বরং, যেই সামারিটা শুরু করেছিলাম লিখতে, ওইটাই আপগ্রেড করছিলাম। পরদিন সকালে মোটামুটি ১০টা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি … তারপর উঠে নাস্তা করে, কিছুক্ষণ পড়ালেখা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে তারপর আড়াইটার দিকে বের হয়ে ৩টার মধ্যে ভার্সিটি পৌঁছায় গেলাম … কি শান্তি!

পরীক্ষাও যা দিয়েছি! আমার অ্যান্সার লেখার স্টাইলে স্যার মনে হয় হেসেই গড়াগড়ি খাবে! একেবারে ক্যাজুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজে অ্যান্সার দিয়ে আসছি … অ্যাাজ ইফ স্যারের সাথে কথা বলতেসি! … জাপানের ফ্যামিলি প্যাটার্নের চেঞ্জ নিয়ে এমন লেখা শুরু করলাম যে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের পরীক্ষায় যখন ৩৫ মিনিট বাকি, তখনও আমি ওইটাই লিখছি! পরে আমি লিখলাম যে, মানে ইংলিশে লিখসি, আর সেটার বাংলা ভাবার্থ এমন দাঁড়ায় যে, এই টপিকটা এতই হিউজ যে এইটা নিয়ে লিখতে থাকলে তো একটা বই লিখে ফেলা যাবে … আর এখন যেহেতু সেটা সম্ভব না, তাই এখানেই কনক্লুশন টানতে হচ্ছে …স্যার শিওর ভাববে আমার মাথা খারাপ! নইলে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরে কেউ এভাবে লেখে? …

FB_20160618_09_10_59_Saved_Picture

কালকে বহুদিন পর গ্রুপে গেসিলাম … স্কুলের ১৫ বছর পূর্তি নিয়ে ব্যাপক আয়োজনের ব্যাপার-স্যাপার চলছে … নাচের রিহার্সাল করাচ্ছে দেখলাম স্নাতা আপু … কি একটা পারফরমেন্স-এর কথাও হলো … এদিকে স্কুলের এইবারের ব্যাচে নাকি যাত্রা হচ্ছে … নবাব সিরাজউদ্দৌলা … ব্যাপক অবস্থা! … কিন্তু আমি এবার পলটি দেয়া টিমে থাকতেসি, খালি পাবলিকেশন-এর হেল্পটুকু ছাড়া আর কিছুতেই মিনিমাম লেভেলের উঁকিঝুঁকি মারাও পসিবল না …

আজকে ঘুম থেকে উঠসি সকালে সাড়ে ১১টায় … তারপর মহা উৎসাহের সাথে ঘর গোছানোর লে-আউট এঁকে ফেলসি … রবিবারে মিস্ত্রী আসবে … খাট খুলে সেট করে দিয়ে যাবে পূর্ব জানালার পাশে … বাকি জিনিসপত্রের-ও রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট করে দিয়ে যাবে … আহা! ভাবতেই ভালো লাগতেসে … অবশেষে ঘরটার একটা গোছানো চেহারা দেখতে পারবো …

ভাবতেসিলাম একটা টেলিভিশন কিনবো … সিনেমা-টিনেমা দেখা যাবে তাইলে … এই ঈদেই কিনে ফেলবো কি না ভাবতেসিলাম … কিন্তু তারপর ভেবে দেখলাম যে এইবার টাকা-পয়সা সংক্রান্ত যাবতীয় দেনাগুলো শোধ করে ফেলাটাই বেটার … অরুণদ্যুতি আপু’র কাছে শাড়ি-কাপড় এনে অনেক টাকা দেনা হয়েছে … সেগুলো দিয়ে দেবো … আর ভাবছি, যেটুকু টাকা থাকবে ব্যাংকে, সেটার সাথে আরো কিছু টাকা জমিয়ে জমিয়ে পাভেল ভাইয়ের টাকাটাও আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে দিয়ে দেবো … অন্তত দুই মাসে হাফ হাফ করে দিলেও শান্তি … এই টাকাটা দিয়ে দিতে পারলে আমার মাথা থেকে একটা বিশাল বোঝা দূর হয় … আর এক-দুইজন পাঁচসাত হাজার টাকা পায়, সেগুলা একরকম করে দিয়ে দিতে পারবো আস্তে আস্তে …

উফ! নাহ! কেন যে টাকার কথা তুললাম! আবারো আমার মাথায় ঘুরতে শুরু করলো যে সোহেলের কাছে আমি যেই টাকাগুলা পাই, সেগুলোর অর্ধেকও যদি ও ফেরত দিতো তাইলেও আমি অনেক দেনা শোধ করে ফেলতাম … ইন ফ্যাক্ট, ওর জন্য করা ধার তো ওর টাকাতেই শোধ করা উচিৎ! … নিজের ইনকামের টাকা দিয়ে আমি এখন সেটা করছি! … কয়েকমাস পর পর বিবিসির কিছু বড় অঙ্কের চেক জমা হয়, আর সেই টাকাটা তুলে আমি ধার শোধ করি … তাও এখনো ইমন ভাইয়ের বউয়ের ৮০০০ টাকা, মাহরুখ আপুর ৮০০০ টাকা আর জার্নাল ভাইয়ের ৫০ ডলারের ধার শোধ করা বাকি … কবে করবো জানি না! … এই ঈদে যার যা ধার পারি শোধ করে ফেলবো ভাবতেসি … অন্যকে ঝুলায় রাখতে, আর নিজেও ঝুলে থাকতে ভালো লাগতেসে না …

অবশ্য, সিজার ভাইয়ের ৫০০০ টাকা, আর সাবরিনা আপুর ৫০০০ টাকা যদি ফেরত পাইতাম, তাইলে আমার টেনশন আরো কম থাকতো … কিন্তু এদের টাকার আশায় অপেক্ষা করে করে আমি হতাশ হয়ে এখন এক্সপেক্ট করাই ছেড়ে দিসি যে আদৌ এদের কাছ থেকে আমি টাকাগুলো ফেরত পাবো … ধার নেয়ার সময় ‘ইমার্জেন্সি’ ‘ইমার্জেন্সি’ বলে ধার নেয়, অথচ দেয়ার সময় হয় বলবে টাকা নাই, নইলে যোগাযোগ করারই প্রয়োজন বোধ করে না … কি আজিব মেন্টালিটি মানুষের!

যাই হোক, আর লিখবো না আজকে … ঘুম পাচ্ছে … ঘুমায় যাবো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s