দিনযাপন । ২৫০৬২০১৬

সারাদিন বাসায় থাকলে টাইমিং-এর একটা কেমন গন্ডগোল হয়ে যায়! … মানে, ইদানীং, এই রোজার বন্ধে যেটা হচ্ছে আর কি … দেখা যায় যে ঘুমাচ্ছি অনেক দেরিতে, উঠছি সকালে সাড়ে ১০টা/১১টার দিকে, তারপর দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করতে করতে প্রায় ৪টা/সাড়ে ৪টা … খেয়ে-দেয়ে ৫টার দিকে ঘুমাচ্ছি, উঠছি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কি পৌনে ৮টায়! … এরপর আর রাতে ঘুম আসবেনা, আবারও ঘুমাতে ঘুমাতে সাড়ে ৩টা/৪টা … না সন্ধ্যায় একটু সময় নিয়ে পড়ালেখার কাজ হচ্ছে, না দিনের বেলা! …

টার্ম পেপার নিয়ে কাজ করার যে একটা ফ্লো চলে আসছিলো, মাঝখানে মামুন স্যারের পরীক্ষার পড়ালেখা করতে গিয়ে সেই ফ্লোটা বাধাগ্রস্ত হলো … এখন লাস্ট দুইদিনেও টার্ম পেপার নিয়ে বসার উৎসাহ তৈরি করতে পারছিনা! … অন্তত তকুগাওয়া জাপান বইটা তো পড়তে পারি! ওইটার ২/৩টা চ্যাপ্টার আছে তকুগাওয়া পিরিয়ডের আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার নিয়ে … ওইগুলা পড়লেও একটু ধারণা পাবো যে কতটুকু রিসোর্স কাজে লাগানো যেতে পারে ওখান থেকে। কিন্তু সেটাও করছি না … কালকে সারাদিন খুব ছুটি ছুটি মুড নিয়েই ছিলাম, বিকালে আবার টিয়ামের বাসায় গেছি, ফিরতে ফিরতে রাত ১০টা … আজকে ঘুম থেকেই উঠলাম ১১টায়। তারপর বসে বসে ল্যাঙ্গুয়েজ বইটা থেকে লেসন টু অনেকখানি করে ফেললাম। আমাদের সিলেবাসে দেখলাম ফার্স্ট সেমিস্টারে লেসন ১০ পর্যন্ত শেষ করার টার্গেট, কিন্তু আমাদের যেই লুথা ব্যাচ, দুই মাসেও হিরাগানা-কাতাকানাই ৫০% এর মুখস্ত হয় নাই, সেখানে লেসন ১ শেষ হয়েছে মাত্র, আর লেসন ২ হয়তো ছুটির পর শেষ করে দেবে। কিন্তু বাকিগুলা তো আর করাতে পারবে না! … এই স্পিডে যদি ২ বছর চলে, তাইলে তো ম্যা’ম অর্ধেক বই-ই শেষ করতে পারবে না। আমি ঠিক করেছি, আমি যতটুকু বুঝি, সেভাবে নিজে নিজে লেসনগুলা আগায় ফেলবো … আমার তো আর ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না … বাকিরা কবে হিরাগানা-কাতাকানাই মুখস্ত করতে পারবে, তারপর গ্রামার বুঝবে, তারপর জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ তাদের কাছে সহজ হবে, সেজন্য আমার বসে থেকে লাভ আছে? …

যাই হোক, ল্যাঙ্গুয়েজটা একটু আগায় রাখলে অ্যাট লিস্ট খোলার পরে তাড়াহুড়ো হবে না …

ভাবছি কালকে থেকে আবার টার্ম পেপার-এর পড়ালেখা নিয়ে বসবো … পরশুদিন ডিপার্টমেন্টে গিয়ে বই নিয়ে আসতে হবে … দিলরুবা ম্যা’ম কিছু বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন সেদিন, সেগুলো একটু ঘাঁটাঘাঁটি করবো … ইন্ট্রোডাকশনটা মোটামুটি শুরু করেছিলাম, এখন সেটার লেজ ধরে বাকিটা আগায় নিতে হবে …

_DSC7288_1

গত কয়েকদিন যাবৎ একটা ইন্টেরেস্টিং জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকছি রাতের বেলা … একজন আমাকে একটা স্ট্রেঞ্জার চ্যাটিং-এর ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে … এইখানে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা লাগে না, গেলেই চ্যাট করা যায়, তাও বেনামে … আমার খুব মজা লাগলো এইটা ভেবে যে এইটা পাবলিক সাইকোলজি অ্যানালাইসিস-এর একটা ভালো জায়গা হতে পারে … এইখানে দেখলাম কনভারসেশনের শুরুর একটা অলিখিত ফরম্যাট আছে … একজন আগে নিজের সেক্স আর বয়স বলে, অপরজনও তারটা বলে … বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেল আর ফিমেল হলে কথা আগায় … মেল টু মেল কিংবা ফিমেল টু ফিমেল হলে খুব একটা কথাবার্তা আগায় না … আর আমি এ পর্যন্ত কোনো ফিমেলও পাই নাই … তো, আমি মজা করার জন্য বয়স কমায় বলি … কখনো ২২, কখনো ২৫ এরকম … এইটা স্ট্রেঞ্জার চ্যাট, এখানে আমি চাইলেই কিন্তু যে কোনো রোল প্লে করতে পারি, নিজের সম্পর্কে বানায় বানায় অনেক কিছু বলতে পারি … কারো বোঝার তো উপায় নাই …

তো, কয়েকজনের সাথে কি কি ধরণের কথাবার্তা হলো, বলি …

আমি ফাজলামি করতে করতে ইন্টেরেস্ট বক্সে ‘প্রাচ্যনাট’ লিখে সার্চ দিলাম … একজনকে পেলাম … সে বললো তার বয়স ২৬ … আমি বললাম ২২ … সে নাকি স্কুলিং করেছে প্রাচ্যনাট থেকে … তো আমিও বললাম যে আমিও স্কুলিং করেছি কিন্তু গ্রুপে জয়েন করি নাই … তো সে কথায় কথায় আমাকে বলতে থাকলো গ্রুপের কোন মেয়েকে তার সেক্সি লাগে, কার সাথে সে কি করতে চায়, কার কি দেখার জন্য সে নাটক দেখতে গেলে তাকায় থাকে এইসব এইসব … আমাকে আবার প্রোফাইল লিঙ্ক দিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো অমুককে চিনি কিনা, তমুককে চিনি কি না … আমি হাসতে হাসতে শেষ! … বেচারা যদি জানতো যে কার সাথে কথা বলতেসে!

আবার আরেকজনকে পেলাম, তার বয়স ১৭ … আমি বলসিলাম আমার বয়স ২৫ … তো আমি তাকে বললাম যে ‘টু ইয়ং ফর মি!’ … সে আবার বলতে চাইলো যে ইয়ংগার দ্য বেটার, কজ ডে লাস্ট লংগার … এখনো ঠিকমতো বাল গজাইসে টাইপের একটা কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইসিলাম, কিন্তু পরে আর কথাবার্তা আগাইলাম না …

আরেকজনকে পাইলাম … সে ব্যাংকার বললো … আমি বললাম ২৫, কিন্তু তার বয়স আর জিজ্ঞেস করা হইলো না … সে দেখলাম যেটুকু সময় কথা বললো ক্যারিয়ার, পড়ালেখা এইসব নিয়েই কথা বললো … তারপর অনেক রাত হয়েছে, ঘুমাতে যাই বলে চলে গেলো … এই পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র ব্যক্তি যে কথাবার্তায় কোথাও সেক্স সম্পর্কে কোনো প্রসঙ্গ তুলে নাই …

আবার আরেকজনকে পাইলাম, বয়স বললো ২৩ … সে নিজের নাম, ঠিকানা, ফেসবুক প্রোফাইল শুদ্ধা সবই দিয়ে দিলো … সে নিজেকে অনেক ফ্রি মাইন্ডেড বলে দাবি করে … তার কাছে নাকি লুকোছাপা বলে কিছু নাই … তো প্রথম প্রথম সেও খুব ফর্মাল কথাবার্তা বলছিলো, তারপর সেক্স প্রসঙ্গে চলে গেলো … তবে তার কথায় ভালগার নোশন পাইলাম না বলে কথা আগায় নেয়া গেলো … তার সাথে আমি আরেকজনের মিল খুঁজে পাইলাম কিছুটা, যার সাথে প্রায়ই আমার সেক্সুয়াল বিষয় নিয়ে আলাপ হয় … ইন ফ্যাক্ট, যে আমাকে এই স্ট্রেঞ্জার চ্যাট সাইটের খবর দিসে … তো সেই ছেলের সাথে আমি কিন্তু বেশ ফ্রিলি সেক্সুয়াল বিষয়-আসয় নিয়ে কথা বলি … তার কাছেও বিষয়টা এমন যে সেক্সুয়াল বিষয় নিয়ে কথা বলা মানেই তার সাথে বিছানায় চলে যাওয়া না … ফলে, রাত-বিরাতে তার সাথে আমি মোটামুটি হাহা-হিহি করতে করতেই এইসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি … তো আমার মনে হইলো স্ট্রেঞ্জার চ্যাটের এই ছেলেটাও অনেকটা সেরকম … আপাতদৃষ্টিতে … আরো কথা হইলে হয়তো আরো ভালো বোঝা যাবে …

আমার কাছে মনে হইসে এইটা স্যোশিও-সাইকোলজিক্যাল রিসার্চের একটা ভালো মাধ্যম হইতে পারে … স্ট্রেঞ্জার চ্যাটের ওয়েবসাইটগুলাতে ছেলেরা বেশি কথা বলে, নাকি মেয়েরা … কি বিষয়ে বেশি কথা হয় … ঢাকা বা বাংলাদেশ দিয়ে সার্চ দিলে কয়জনকে পাওয়া যায় যারা সব কথার শেষ কথা সেক্সুয়াল প্রসঙ্গে নিয়ে আসে? … কেনই বা তারা সেক্স নিয়েই একজন স্ট্রেঞ্জারের সাথে কথা বলে? … অনেক কিছু নিয়েই কিন্তু অ্যানালাইসিস করা যায় … আমার যেহেতু অনার্সের থিসিস-ও প্রি-ম্যারিটাল সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ নিয়ে ছিলো, ফলে আমার এইগুলা নিয়ে উৎসাহ কাজ করতেসে … মনে হচ্ছে যে আমিই একটা ছোটোখাটো অ্যানালিটিক্যাল রিসার্চ শুরু করি! … প্রতিদিন নোটবই নিয়ে বসবো একটা … কে কি বললো, কত বয়স, নিজের সম্পর্কে কতটুকু ইনফরমেশন দিলো এইগুলা লিখে রাখবো … খারাপ হয় না কিন্তু! … আমাদের দেশে ‘সেক্স’ শব্দটা একটা ট্যাবু, আর সেটা নিয়েই অনেক ভুল ধারণা, অনেক সমস্যা … কিন্তু ঐ ট্যাবু বলেই কেউই এটা নিয়ে কাজও করতে চায় না, কথাও বলতে চায় না … সেক্স এডুকেশন তো অনেক দূরের কথা, আমি তো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলেও দেখেছি যে ফাইভ-সিক্সের বায়োলজি বইয়ে রিপ্রোডাকশন নিয়ে যেই চ্যাপ্টার থাকে, সেইটা বইয়ের দোকানে বলে দেয়া হয় যাতে ঐ পেজগুলা বাদ দিয়ে বাইন্ডিং করে দেয়! … ওইখানে হিউম্যান ফিগারের যেসব ছবি থাকে সেগুলো দেখলে নাকি পোলাপাইন নষ্ট হয়ে যাবে! … আর তারপর সেই ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়া ছেলে-পেলে বাসায় গিয়ে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি দেখে দেখে সেক্স সম্পর্কে শেখে! … কি অদ্ভুত আমাদের স্যোশাল সাইকোলজি!

যাই হোক … আজকে আর লিখবো না … কালকে সকালে মিস্ত্রি আসবে, ঘরের জিনিসপত্রের রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট চলবে কালকে … দেখা যাক, পরিকল্পনা কতদূর কেমন সফল হয় … ঘরের চেহারা-সুরত একটু ভালো লাগলেই হলো … এখন তো স্টোররুমের চেহারা দাঁড়িয়েছে অনেকটা …

অক্কে … শেষ করলাম তাইলে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s