দিনযাপন । ২৭০৬২০১৬

গতকালকে সারারাত ঘুম হয়নি, তার বদৌলতে খুব সুন্দর একটা ভোর দেখা হলো … আবার আজকে সন্ধ্যাবেলাতেও খুব সুন্দর ছিলো আকাশ! … বর্ষাকালেই এত সুন্দর আকাশ! … এ যেন বর্ষাকালেই শরতের ছোঁয়া! …

কালকে রাতে ঘুম হলো না বিভিন্ন কারণে … কথা বলছিলাম দু’জনের সাথে … এদিকে প্রচণ্ড গরম … আর অনেকদিন পর উত্তরদিকের ঘরটায় পূর্ব জানালার পাশে শুয়ে খালি মনে হচ্ছিলো এই বুঝি চোর আসলো! … ল্যাপটপ, মোবাইল এইসব কিছুর টেনশনে আর ঘুমই আসলো না … শুয়ে শুয়ে একজনের সাথে কথাবার্তা চালায় গেলাম গুগুলে … ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে যে ভয় পায় বলে, সেটা এখন নিজেকে দিয়ে বেশ ভালোমতো টের পাচ্ছি! …

আজকে ভেবেছিলাম সকালে উঠে ইউনিভার্সিটি যাবো, জাপানের আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচারের ওপর কিছু বইপত্র দেখবো … কিন্তু একে তো রাতে ঘুম হয়নি, তার ওপর এত অসহ্য তাপমাত্রা ছিলো বাইরে যে আমার মোটেই বের হতে ইচ্ছা করলো না … কালকে তো এমনিতেই গ্রুপে যেতে হবে রুবেল ভাইয়ের সাথে মিটিং-এর জন্য … কালকে একেবারে ভার্সিটি, ব্যাংক, গ্রুপ সব কাজ শেষ করে ফেলবো … আজকে বরং বাসায় থেকে লাভ হলো … তকুগাওয়া জাপান বইটা পড়ছিলাম … তো সেখান থেকে কিছু পয়েন্ট নোট ডাউন করেছিলাম জাপানের এদো পিরিয়ডের আর্কিটেকচার নিয়ে … তো সেগুলো গুছিয়ে টাইপ করে ফেলা গেলো … দুই পাতা লিখেই মনে হচ্ছে অনেক কাজ এগিয়ে গেছে … এখন ফুল গিয়ারে চলে আসলেই ঝড়ের গতিতে কাজ আগায় যাবে …

বিকালে আবার বের হয়েছিলাম … নিশাতের বাসায় গেলাম … গেম অভ থ্রন্স-এর সিক্সথ সিজনের ফাইনাল এপিসোড দেখার জন্য … বেশ ইন্টেরেস্টিং একটা এপিসোড হয়েছে! … কিছু জিনিস প্রেডিক্টেবল ছিলো, কিন্তু সেগুলার প্রেজেন্টেশনও হয়েছে অন্যরকম … পুরা সিজন খুব ত্যানা প্যাঁচানো টাইপের হওয়ার পর লাস্ট দুইটা এপিসোড একেবারে ১০ এ ১০ ! … আমি গেম অভ থ্রন্স খুব অ্যানালিটিক্যাল পয়েন্ট অভ ভিউ থেকে দেখার চেষ্টা করি … আর সেই সাথে ভালো লাগে কীভাবে কেমন সিজিআই ব্যবহার করে পর্বটা বানালো সেটা দেখতে … যারা সিজিআই নিয়ে কাজ করে তাদের কল্পনাশক্তি সবসময়ই আমাকে মুগ্ধ করে … আমারও একসময় খুব ইচ্ছা ছিলো এইগুলা শিখবো আর নিজের কল্পনার সব বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে এটা-সেটা আঁকবো, অ্যানিমেট করবো … কিন্তু আমার আসলে ধৈর্য্য এত কম যে আমি খুব বেশি মনোযোগ রাখতে পারি না এইসব ডিটেইল কাজে … সো, একসময় এইসব চিন্তা বাদ দিয়ে দিলাম …

এইবার একটু আমার রিসেন্ট স্যোশিও-সাইকোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস –এর প্যাচাল পাড়ি … গত দুইদিন যাবত আমার দুইজনের সাথে কথা হচ্ছে … বেশ ইন্টেরেস্টিং এক্সপেরিয়েন্স … একজন খালি সেক্স নিয়ে কথা বলে, আরেকজনের কথাবার্তায় এখনো পর্যন্ত সেক্সুয়াল কোনোরকমের প্রসঙ্গই আসে নাই … আমি দুজনেরই বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফরমেশন অ্যানালাইসিস করার চেষ্টা করছিলাম … কোথায় কোথায় মিল আছে, কোথায় কোথায় নাই … লাইক, বাবা-মা দুজনেই আছে কি নাই, থাকলে তারা কি করে, ভাই-বোন কয়জন, কোথায় পড়ালেখা করছে বা করেছে, একা থাকে না ফ্যামিলির সাথে থাকে এইসব এইসব … তো, যে যেকোনো কথাকেই শেষমেষ সেক্সুয়াল প্রসঙ্গে নিয়ে যায়, তার সাথে আমার কথা বেশি আগায় না … বেশ যুক্তি-তর্ক বিশ্লেষণ হয়, আর আল্টিমেটলি দেখা যায় সে বেশ অফেন্ডেড ফিল করতে থাকে যে কেন আমি এটা বললাম, ওটা বললাম … আর যে কোনো সেক্সুয়াল প্রসঙ্গই আনে না কথার মধ্যে, তার সাথে আমার গেম অভ থ্রন্স, ইউরো কাপ, ব্রাজিল- আর্জেন্টিনা, এমন কি রিলিজিয়াস বিলিফ নিয়েও কথাবার্তা হয়, এবং দুইপক্ষই একে অন্যের যুক্তিকে খুব ক্যাজুয়ালিই নেই … তো, কালকে এমন হলো যে প্রথমজনের সাথে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে খুব মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো … একেবারে চোখ ফেটে কান্না চলে আসা টাইপের মেজাজ খারাপ … কারণ কিছু কিছু বিষয় নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার সোহেল সংক্রান্ত যাবতীয় পেইনফুল স্মৃতিগুলা মাথায় চলে আসলো … আমার তখন ‘ধুর বাল! কেন কথা বলতে গেলাম’ চিন্তা করতে করতে আরো মেজাজ খারাপ হইলো … এদিকে দ্বিতীয়জনের সাথে ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত কথাবার্তা চললো … মেজাজ খারাপের মধ্যে তার সাথে কথাবার্তা বলতে গিয়ে চিন্তা-ভাবনা অন্যান্যদিকে ডাইভার্টেড হলো আর একপর্যায়ে মেজাজও ঠান্ডা হলো … নিজেকে নিয়ে তারপর ভাবছিলাম দিনের বেলা … আসলে সমস্যাটা কি আমার যে আমি এখন সেক্সুয়াল কথাবার্তা নিতে পারি না? … স্পেশালি যখন কেঊ সেক্সুয়ালি প্রভোকিং জোক করে, তখন আমার আরো মেজাজ খারাপ হয়ে যায়! … আর এইসব সেক্সুয়াল কথাবার্তাও খুব প্রেডিক্টেবল … একদম একই প্যাটার্ন … একটা কথার উত্তর কি দিলে যার সাথে কথা বলছি সেও প্রভোকড হবে, সেটাও বোঝা যায়! … ১০ জন ছেলের সাথে যদি সেক্সুয়াল বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলি, ৮ জনের সাথেই আমি নিশ্চিত একই প্যাটার্নের বাক্যব্যয় হবে আমার! … তো, এই কথাগুলো আমি কালকে ওই প্রথম ছেলেটাকে বলছিলাম … ওকে কথায় কথায় আমি সোহেলের সাথে আমার যাবতীয় এক্সপেরিয়েন্সের কথা বলেছিলাম … ও আবার খুব ইমোশনাল হয়ে বললো যে ফ্রেন্ড হিসেবে সে আমাকে সোহেল সংক্রান্ত যাবতীয় ট্রমা থেকে বের হতে হেল্প করবে … কালকে আবার কথায় কথায় বলছিলাম যে ওর মতো যারা র‍্যান্ডমলি মেয়েদের সাথে সেক্স করে, তাদের অনেককিছুই একটা প্যাটার্নের মতো, ইজিলি প্রেডিক্ট করা যায় … যেইটা আমি আগেও অনেক ছেলের মধ্যে দেখসি, আর সোহেলের মধ্যে তো দেখসিই … সো, ওকেও আমার কাছে ঐরকমই মনে হচ্ছে … তখন তার আবার কথাগুলো খুব গায়ে লেগে গেলো … আমারও কথার পিঠে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো ঠিকই, কিন্তু একই সাথে ইন্টেরেস্টিং-ও লাগলো … প্রায় একইরকম রিঅ্যাকশন এর আগেও আমি অনেক ছেলের থেকে পেয়েছি, সোহেলের কাছ থেকে তো বটেই! … এইরকম যারা খুব র‍্যান্ডম সেক্স করে, আর এটাকে ‘ফ্রি মাইন্ডেড অ্যাটিচুড’ বলে দাবি করে, তাদেরকে যদি তাদের সেক্সুয়াল বিহেভিওর নিয়ে নেগেটিভ কিছু বলা হয়, সেটা তারা সহজভাবে নিতে পারে না! … এটা তারা খুব বড় করে বলতে পছন্দ করে যে তারা তখনই একটা মেয়ের সাথে সেক্স করে, যখন মেয়েটা নিজে থেকে রাজি হয়! … অর্থাৎ, নিজেকে তারা সবসময়ই সেফ সাইডে রাখে যে তাদের আসলে কিছু করার নাই, মেয়েটাই তো নিজে থেকে আসছে! … তারা কখনো কাউকে রিকোয়েস্ট করে করে সেক্স করে না! … কি অদ্ভুত! … এইসব কথাবার্তা সোহেলও বলতো! … আরও অনেকের মুখেই শুনেছি … ভাবটা এমন, ‘ আমি বলসি নাকি? নিজেই তো আসছে!’ …

যাই হোক … এ তো মোটে দুইজন … আমি শিওর, ঐ স্ট্রেঞ্জার চ্যাট-এর সাইটে যদি আমি টানা কয়েকদিন বসি, তাইলে বিভিন্ন কিসিমের পোলাপাইন পাবো … কেউ এরকম সেক্সুয়াল বিষয় নিয়েই ইন্টেরেস্টেড, আবার কেউ খুব নর্মাল কথাবার্তাই বলে … তবে, আমার ধারণা, এই দিনযাপন পড়লে যেই দুইজনের কথা লিখলাম, তাদের কেউই আর আমার সাথে কথা বলবে না! … একজন তো কালকে বলেই দিলো, আমি যেহেতু ব্লগার, তাই খোঁচায় খোঁচায় বিভিন্ন ইনফো নিচ্ছি, তারপর সেগুলা দিয়ে স্টোরি বানাবো … আমি হাসতে হাসতে শেষ! …

এদিকে তো আমাদের জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের আরেক কাহিনী! … এইটা নিয়ে লিখবো না ভাবসিলাম … কিন্তু এখন মনে হচ্ছে লেখা উচিৎ … ২৩ তারিখে মামুন স্যারের পরীক্ষা শেষ করে আমি, প্রতীতি আর ইফা রিফাত আপুর বাসায় গেসিলাম … অনেকদিন আগেই একবার রিফাত আপুর সাথে আমরা আহ্লাদি করতেসিলাম যে তার বাসায় যাবো … তো রিফাত আপুও মাঝখানে অসুস্থ ছিলো, আর পরীক্ষার ব্যস্ততায় সেই প্ল্যান আর হচ্ছিলো না … তো ওইদিন কথায় কথায় হুট করেই রিফাত আপুকে ধরলাম যে আজকেই যাবো … রিফাত আপুও রাজি … তো আমরা সন্ধ্যায় গিয়ে ইফতার করলাম উনার বাসায় … ইফা রোজা ছিলো, ওর ঊছিলাতেই ইফতার করা … তো প্রতীতি ওর মোবাইলে ছবি তুলেছে, সেটা আবার ফেসবুকে দিয়েছে যে পরীক্ষার পরে আড্ডাবাজি টাইপ ব্যাপার-স্যাপার বোঝানোর জন্য … তো সেই ছবি দেখে একজন মন্তব্য করলো যে রিফাত আপু আমাদের ৩ জনকেই দাওয়াত দিলো, ক্লাসের বাকিদের দিলো না … আবার আমাদের, স্পেশালি আমাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করলো, এত খাই কেন, কম খাওয়া উচিৎ আমার! … রিফাত আপু ঐ ছবিতে মন্তব্য করলো যে এইটা সাডেন প্ল্যান, আমরা যখন যাবো বলে ঠিক করেছি, ততক্ষণে আর সবাই চলে গেছে … সেটারও আবার বিভিন্ন পালটা মন্তব্য ! … একজন নাকি আবার রিফাত আপুকে সরাসরি মেসেজই পাঠিয়েছে যে এইটা নাকি রিফাত আপু পার্শিয়ালিটি করেছে যে আর কাউকে না বলে ‘তিনজন চোজেন গার্লস’ কে তার বাসায় নিয়ে খাইয়েছে! … কি পরিমাণ লেইম লোকজন! … এখন অবস্থাটা এমন দাঁড়াচ্ছে যে যাদেরই ক্লাসে আমাদের সাথে ভালো সম্পর্ক, তাদেরকেই তারা নানানভাবে বুলি করে, কথা শোনায় বা মন্তব্য করে! … কিসের মধ্যে যে গিয়ে পড়লাম! … হাসবো না কাঁদবো বুঝি না! … একজনের বাসায় গেছি, সেটা নিয়েও এরকম কাহিনী বানায় কেউ? …

যাক গে! এসব নিয়ে লিখে আর মন মেজাজ না বিগড়াই …

ভালো কথা, ঘর গোছানো প্রজেক্ট ৮০ ভাগ কমপ্লিট … সেদিন মিস্ত্রি এসে সব রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট করে দিয়ে গেলো … এখন ঘরটাকে আর যেমনে খুশি তেমনে জিনিস রাখা স্টোররুম মনে হচ্ছে না … আরো কিছু জিনিস ঘোছানো বাকি আছে, সেগুলো হয়তো এর মধ্যেই করে ফেলবো …

তাহলে আর কি! আজকে শেষ করি লেখা … বহুত তো হাতি-ঘোড়া মারলাম … এবার ক্ষান্ত দেই! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s