দিনযাপন । ০৬০৭২০১৬

ওয়েল, এই হচ্ছি আমি ! … গতকালকেই দিনযাপনে টার্ম পেপার নিয়ে বিশাল পরিকল্পনামূলক পোস্ট দিলাম, আর রাতেই এইটা-ওইটা ঘাঁটতে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটা আইডিয়া মাথায় আসলো … আর এখন টার্মপেপারের কাজ যতটুকু যা করেছিলাম, সেটা সেভাবেই রেখে, আবার নতুন লেআউটে কাজ শুরু করেছি সকাল থেকে! … নতুন লেআউট আইডিয়াটা আগেরটার চাইতে সহজ, কিন্তু একটু ব্যাকফুটে চলে যেতে হচ্ছে আর কি! … যদিও এখনো পর্যন্ত নিজের সেট করা ডেডলাইন কিছুতেই ক্রস করবো না বলে ঠিক করে রেখেছি … দেখা যাক, এই দুইদিনের মধ্যে কাজ কতদূর আগাতে পারি … ইন এনি ওয়ে, ১১ তারিখ যখন গ্রুপে যাবো, তখন একটা ডামি প্রিন্ট আমাকে নিতে পারতেই হবে টার্ম পেপারের … নইলে লেআউট অনুযায়ী সাজাতে পারবো না, আর লেখার কারেকশনও করতে পারবো না …

আজকেও বেলা ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি … সারারাত ঘুম আসলো না … ভোরবেলা যখন ফজরের আযান দিলো, তখন লাইট-টাইট সব নিভিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়ে শুলাম … কি যে যা তা লেভেলের ঘুমের রুটিন হইসে এই ছুটির মধ্যে! … আজকে বিকালে জোর করে ঘুমাইনাই … দেখি আজকে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে কি না …

আমার মতো সুযোগ পেলেই পাঙ্খা লাগায় ঘুরা টাইপ মানুষকে আসলে ছুটি দেয়া ঠিক না … যদি ভার্সিটি খোলা থাকতো, আমি এতদিনে ঠিকই ভার্সিটির যাবতীয় অ্যাসাইনমেন্ট, পড়ালেখা সব গুছায় ফেলতাম … আর যদি আমি ওই যে ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুলের অফিস খোলা ছিলো, তখন স্কুলে যেতাম, তাইলে স্কুলের সব কাজও এতদিনে শেষ হয়ে যেতো! … একগাদা কাজ মাথায় নিয়ে ‘ছুটি’ মোড অন করে বাসায় বসা মানেই না হবে ছুটি কাটানো, না হবে মনোযোগ দিয়ে কোনো কাজ করা! … কি যন্ত্রণা!

FB_20160618_09_09_42_Saved_Picture

যাই হোক, আজকের দিনের একটা কাহিনী নিয়ে লিখি … এক কাহিনী দিয়ে একসাথে অনেককিছু বলা হয়ে যাবে …

আজকে রাহুল দা’র ছেলে তোতা’র জন্মদিন … শুক্লা দি যখন প্রেগন্যান্ট সেইসময়টাতে রাহুল দা’রা সেন্ট্রাল রোডে থাকতো, প্রপার্টি প্লেস-এ। ফলে আমারও মোটামুটি দিনরাত নিজের আরেকটা রেস্টিং প্লেসে মতোই রাহুল দা’র বাসায় যাওয়া হতো … তো, তোতার যেদিন জন্ম, সেদিনের কাহিনীটা বেশ ইন্টেরেস্টিং … অন্তত আমার কাছে … ওইদিন সকালবেলা পাঠশালায় ক্লাস হচ্ছিলো … সুমন ভাইয়ের ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ক্লাস … তো ক্লাসের ব্রেকে যখন সবাই চা খেতে বের হলাম, দেখি যে বিউটি আর জার্নাল ভাই অনেকবার ফোন করেছে … আমি চিন্তা করলাম যে ওদের বাসায় কোনো বিপদ হলো কি না … ফোন দিয়ে জানলাম যে শুক্লা দি’কে নাকি ডাক্তার বলসে আজকেই অপারেশন করতে হবে, এখন সবাই সেন্ট্রাল হাসপাতালে আছে, শুক্লা দি’র অপারেশন চলছে … আমার খালি সুমন ভাইকে একটা অজুহাত দেখায় বের হতে যত দেরি … তো আমি যখন গিয়ে পৌছালাম, তার কিছুক্ষণ আগেই তোতার ডেলিভারি হয়েছে, আর সবাই অপেক্ষা করছে তোতাকে কখন নিয়ে আসবে … যেহেতু পাঠশালার ক্লাস ছিলো, তাই ক্যামেরাটাও সাথেই ছিলো … সেই ২০১০ সালেও মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিলো না … সো, তোতাকে নিয়ে আসার পর ওর প্রথম ছবিটা তোলার সুযোগটা আমারই হইলো … বেশ ইন্টেরেস্টিং ঘটনা আমার কাছে … এখন সবারই হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকে … কারো এখন আর ক্যামেরার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না … আজকে সকালেই ফেসবুকে তোতার ছবি দেখছিলাম, জবা দি তুলে পোস্ট করেছে … তখন ভাবছিলাম, আজকে এই ২০১৬ তে এসে যদি রাহুল দা’র বাচ্চাটা হইতো তাইলে কি হইতো ঘটনাটা? … তখন রাহুল দা ছিলো নিজের মতো করে চুপচাপ নিজের একটা জগতে থাকা ‘রাহুল আনন্দ’ … তখন রাহুল দা’র ফ্যান পেজ ছিলো না … জলের গান মাঝে মাঝে খালি প্র্যাকটিসই করতো, তাও ৩/৪ জন, কিন্তু আজকের মতো ‘সেলিব্রিটি’ সিল লাগানো ব্যান্ড ছিলো না … তখন রাহুল দা কিংবা তার পেরিফেরিতে থাকাটা খুব স্বস্তিদায়ক ছিলো … মনে হইতো যে রাহুল দা’র মতো এইরকম ‘আ ম্যান অভ হার্ট’ টাইপ মানুষ আশেপাশে থাকলে জীবন ক্রিয়েটিভ হইতে বাধ্য! … যাই হোক, পরে রাহুল দা মিরপুর চলে গেলো, আমারও বহুদিন পর্যন্ত মিরপুর গিয়ে রাহুল দা’র বাড়িতে বেড়ানোর তেল হয় নাই,তাই আমি যাইও নাই … পরে আবার যখন যাওয়া শুরু করসি, তখন সুযোগ পাইলেই চলে গেসি … তখন রাহুল দা’র বাসা আবারো আমার একটা সেকন্ড রেস্টিং প্লেস হয়ে গেসে … আবার, এরপর জলের গান যখন ধুমায় কাজ শুরু করলো, অ্যালবাম বের হইলো তখন মনে হইতে শুরু করলো যে রাহুল দা’র নিজস্ব জগতের পেরিফেরি বড় হয়ে যাচ্ছে, এইখানে এখন অনেক অনেক মানুষজন ঢুকতে শুরু করসে, অতএব হয় অনেকের মধ্যে একজন হয়ে থাকতে হবে, নয়তো পেরিফেরির বাইরে থেকে যতটা সম্ভব ক্যাজুয়াল যোগাযোগ রাখতে হবে … এর মধ্যেই সঞ্জয়ের সাথে একটা কাহিনী হইসিলো … এই কাহিনী কে কীভাবে কিরকম ভার্সন জানে সেইটাই আমি ক্লিয়ার না … তবে এইটুকু আইডিয়া করতে পারি যে নিজের জায়গা শক্ত রাখার জন্য সঞ্জয় নিজের দায়িত্বেই মানুষজনকে নিজের জন্য ‘সেফ অ্যান্ড সিকিওর’ একটা ভার্সন বলে বলে বেড়াইসে … হয়তো বা তাতে করে মানুষের কাছে ধারণা হইসে যে আমি সঞ্জয়ের পেছনে পেছনে ঘুরসি, তাকে ফোন-টোন দিসি, এইটা-অইটা করসি বা বলসি … আবার অনেক কিছুই মানুষ দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাইসে যে ‘হ্যাঁ! তাই তো! এইটা তো এমন ছিল! তাইলে এই জন্যই!’ … আমার সেসব নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা ছিলো না, কারণ মিথ্যা বললেই, কিংবা একটু যুক্তি-প্রমাণ দেখায় এইটা ওইটা বললেই সেটা আমি হয়ে যাই না … কিন্তু আমি লিটেরেলিই তখন খুব আহত এবং বিরক্ত হইসিলাম রাহুল দা আর কনক দা’র আচরণে … সঞ্জয়কে তারা যতদিন চেনে, আমাকে তার চেয়ে অনেক বেশিদিন চেনে, এই জন্য হলেও খুব স্বাভাবিকভাবে আমার সাথে কথা বলে তারা অনেক কিছুই ক্লিয়ার হতে পারতো … আমি পুরা ঘটনায় পিসড অফ হয়ে খুব মন-মেজাজ খারাপ করে হয়তো জলের গানের সার্কেলে গেছি, আর সেটাকে যদি সবাই জেনারালাইজ করে যে ‘সঞ্জয়ের কাছে পাত্তা পায়নাই দেখে এইরকম করতেসে’ তাইলে ব্যাপারটা খুব হাস্যকর, এবং আমার কাছে মনে হইতো যে রাহুল দা আর কনক দা’ও ওইভাবেই ভাবতেসে আর আমার উপর বিরক্তি দেখাইতেসে যে আমি উনাদের সাথে এতদিন ধরে থেকে থেকে শেষমেশ এইরকম করলাম! তো, ফাইনালি কি কি বিষয় নিয়ে জানি ব্যাপারটা খুবই বিরক্তিকর হয়ে যাইতেসিলো, আর আমারও একদিন সবার সামনেই সঞ্জয়ের সাথে বেশ চিল্লাপাল্লা হইলো … এরপর থেকে আমি জলের গান, রাহুল দা এইসব পেরিফেরির ধারেকাছে আর যাই নাই বহুদিন … অনেকদিন পরে জেম এর কাছে কিছু কিছু কথা শুনসিলাম যে সঞ্জয় কি কি জাতীয় কথাবার্তা বলতো … ওকে তখন অনেককিছু বলসিলামও যে আসল কাহিনী কি … কিন্তু এই দ্বিপাক্ষিক ভুল বোঝাবুঝি আর বিরক্তি, বিশেষ করে রাহুল দা/কনক দা’র সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ব্যাপারটা আমি কখনোই মেটানোর গরজ করি নাই … তারাও অনেক বড় মানুষ, তাই তারাও করে নাই … ফলে, পুরা ঘটনাটা বেশ জট পাকানো অবস্থায় আছে …

ওইদিন একটা কথা শুনে বেশ ইন্টেরেস্টিং লাগলো … ফরহাদ ভাইয়ের বাসায় গেসিলাম, একটা স্ক্রিপ্টের ব্যাপারে কথা বলতে … তো তখন কথায় কথায় উনি জিজ্ঞেস করতেসিলেন যে আমার লাইফে কি ঝামেলা যাইতেসে … মাঝখানে যে আমার লেখায় প্রাচ্যনাটের অনেকের ব্যাপারে, এমন কি উনার ব্যাপারেও কিছু কিছু বিরক্তি প্রকাশ হইসিলো, ইনডিরেক্টলি ওই বিষয়গুলোকে ইন্ডিকেট করে জানতে চাইলেন যে মাঝখানে যে আমি বেশ ডিস্টার্বড ছিলাম, সেটা কি নিয়ে … গ্রুপ সংক্রান্ত না ব্যক্তিগত … তো কথায় কথায় ‘রিলেশনশিপ’ বিষয়টা আসলো … সোহেল সম্পর্কে উনাকে কিছু বলার আগ্রহ হইলো না … নোবেল ভাই সব জানে বলে কাটায় দিলাম … এখন উনি যদি নোবেল ভাইয়ের কাছ থেকে সোহেলের সাথে কি হইসে না হইসে সেগুলো জানে তো জানবে … তো, উনিও কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলেন যে জলের গানের কারো সাথে কি কখনো কিছু ছিলো কি না … বুঝলাম যে সঞ্জয়ের ব্যাপারে জানতে চাইতেসেন … আমি সরাসরিই না করে দিলাম … আর মনে মনে খুব হাসলাম ! … কি আজিব! সঞ্জয়ের কাহিনীর তাইলে এইরকম ভার্সনও আছে যে তার সাথে আমার রিলেশন ছিলো! … হায়রে দুনিয়া! … কই যাই আমি! … ওই ছেলের সাথে যে দুই/এক দিন থাকসি, তাই-ই তো অনেক! … এক ঘণ্টা বসে সেক্সুয়াল বিষয়আশয় নিয়ে খুব নর্মাল আলাপ-আলোচনা করলেই যেই ছেলের সেক্স উঠে যায়, তার সাথে আমার সেক্স হইতে পারে, কিন্তু রিলেশন হওয়ার তো কোনো আগ্রহই তৈরি হবে না … মানুষ পারেও!

থাক! আজকে অনেক দুঃসাহসী কথাবার্তা লিখে ফেলসি … যারা পড়বে, তাদের অনেকেই হয়তো আমার ব্যপারে নতুন করে ভাবতে শুরু করবে … আর বেশি ভাববার সুযোগ না দেই … কালকে ঈদ … এইবারের একটা জবুথবু অবস্থায় মানুষ আসলে ‘খুশির ঈদ’ পালন করতেসে বলা যায় না … আজকে সকাল থেকেই ফেসবুক আবার তোলপাড় কারণ আইএস এর বরাত দিয়ে ৩ বাঙালি ছেলে একটা ভিডিও পোস্ট করসে ইন্টারনেটে যেখানে তারা বলসে যে এই গুলশানের হামলা কিছুই না, এইরকম আরো হবে … ফলে মানুষজন নতুন করে আবার বেশ প্যানিকড অবস্থাতেই আছে … কেউ কেউ সন্দেহ করতেসে কালকে ঈদের জামাতেও কিছু একটা হইতে পারে … আইএস নাকি বলসে ঈদের নামায পড়া হারাম … সো যারা ঈদের নামাযে যাবে তারা টার্গেট থাকতেও পারে …

কি যে অবস্থা হবে দেশের! কিছুই আর ভাবতে ভালো লাগে না … না ভালো, না খারাপ! … ভীষণরকমের স্কেপটিক ভাবসাব চলে আসতেসে! … মনে হচ্ছে, যতদিন বেঁচে আছি, সেইটাই অনেক …

আজকে তাইলে শেষ করি … জাপানের আর্ট আর আর্কিটেকচার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা বাকি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s