দিনযাপন । ১৪০৭২০১৬

সকালবেলা বের হয়ে প্রচন্ড গরমে ঘেমে-নেয়ে স্কুলে গেছি … দুপুরের কড়া রোদের মধ্যে চাঁদনী চক এলাকা ঘুরেছি … বিকালবেলা খুব জোশের চোটে ক্রিমসন কাপে গিয়ে বরফ ঠান্ডা ক্যাফে মোকা খেয়েছি … তারপর নিশাতের বাসায় গিয়ে এসি’র মধ্যে বসে থেকেছি … আর এখন বাসায় এসে গোসল করার পর মনে হচ্ছে জ্বর আসবে ! … অলরেডি চোখ জ্বলছে … শেতার কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব আর ক্লান্তির জন্য হতে পারে, আর বাকিটা হয়তো জ্বর জ্বর ভাবের লক্ষণ! সামনে ভার্সিটির মিডটার্ম আর ফাইনাল, স্কুলের একগাদা কাজের ব্যস্ততা … এর মধ্যে জ্বরটা না আসলে ষোলোকলা আর কীভাবে পূর্ণ হবে! … ভাবছি আগেভাগেই অ্যালাট্রল খেয়ে ফেলবো কি না! প্রিভেনশন এই বেটার দ্যান কিওর আফটার অল!

আজকে দীর্ঘ একমাসের বন্ধ শেষে স্কুল খুললো … আমার যেহেতু জুনের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ভার্সিটির ক্লাসই হয়েছে, তাই ছুটির দৈর্ঘ্য বেশি হলেও, সেইটা উপভোগ করার সুযোগ হয়েছে ১২ দিন কম! … স্কুলের নতুন সেশনে অনেক নতুন দায়িত্ব! … পার্টটাইম টিচার থেকে ফুলটাইম টিচার … ক্লাস সেভেন আর এইটের বাংলাদেশ স্টাডিজ –এর পাশাপাশি ক্লাস ফোর থেকে ক্লাস সিক্স-এর জিওগ্রাফি পড়ানোর দায়িত্বও ঘাড়ে চেপেছে … সেই সাথে ক্লাস সিক্স –এর মতো ট্রানজিশনাল একটা ক্লাসের ক্লাস টিচারের দায়িত্ব! … সুতরাং! স্কুলের এবার বেশ কাজের চাপ … ক্লাস রুটিন পেয়ে প্রথমে একটু ধাক্কা খেয়েছিলাম যে ফার্স্ট পিরিয়ড থেকে ফোর্থ পিরিয়ড পর্যন্ত একদিন ছাড়া বাকি আর কোনদিন ক্লাস নাই, সব ক্লাস টিফিনের পরে … সকাল বেলা ৮টা সময় যাবো, তারপর ক্লাস সেই ১১টায়! … মনে হচ্ছিলো যে এই ৩ ঘণ্টায়ই তো ক্লান্ত হয়ে যাবো! … কিন্তু পরে মনে হলো যে এইটাই তো ভালো! সকালবেলাটা আমি কপি চেকিং আর অন্যান্য সব কাজে ব্যয় করতে পারবো, আর তারপর টিফিন টাইমের মধ্যে পুরা স্কুলের দিনের রুটিন থিতু হয়ে যাবে, আর তারপর আমি ক্লাস নিতে যাবো …

তবে, ক্লাস টিচার হওয়া ব্যাপারটা একটা বিশাল দায়িত্ব ঘাড়ে নেয়ার মতো ব্যাপার … ক্লাস টিচার হওয়াটা তো আর খালি সকালে গিয়ে রোল কল করা না … যতগুলা বাচ্চা থাকবে ক্লাসে, মোটামুটি তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও মানসিক ব্যাপারে ইনভল্ভড হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় … তাদের বাবা-মা’কে চিনতে হবে, তাদের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে হবে, বাচ্চার ভালো-মন্দ-আনন্দ-দুঃখ মোটামুটি সবকিছুর ব্যাপারেই ওয়াকিবহাল থাকার মতো একটা ব্যাপার … আই থিঙ্ক, এইটা আমার ধৈর্যশক্তি বাড়ানোর একটা বিশাল পরীক্ষা হয়ে যাবে আমার জন্য! … সামাজিক যোগাযোগ এবং ইন্টারঅ্যাকশনের ক্ষেত্রে ধৈর্যশক্তির! … দেখা যাক! কীভাবে কি হয়! তাও আবার ক্লাস সিক্স! এই বয়সের বাচ্চাদের ইমোশনাল আর ফিজিক্যাল ট্রানজিশন ডিল করাই তো একটা বিশাল ব্যাপার! … অ্যাডলেসেন্ট সাইকোলজির সব ভুলে যাওয়া বিদ্যা আবার মনে হচ্ছে বিস্মৃতির অতল থেকে তুলে আনতে হবে! … নিজেকেই নিজে বেস্ট অভ লাক দেই! কি আর করার!

FB_20160711_09_32_11_Saved_Picture

গত কয়েকদিনে দিনযাপন লেখা হয় নাই … কোনো কোনো দিন লিখতে ইচ্ছা হয় নাই, আবার কোনো কোনো দিন সময় বা সুযোগ হয় নাই … গোট কয়েকদিনে নিজেকে বেশ ধাক্কাধাক্কি করে অ্যাাসাইনমেন্টের ৮০ ভাগ কাজ শেষ করলাম … এখন যেটুকু কাজ বাকি, সেইটা একদিন সারাদিন সময় দিলেই হয়ে যাবে … যদিও আমি জানি না, সেই একদিনটা আমি আদৌ কবে পাবো! … ২০ তারিখে মিডটার্ম … সো ২০ তারিখ পর্যন্ত আমি আর অ্যাসাইনমেন্ট ধরবোই না … মিডটার্মের পড়া কিছুই ধরি নাই এখনো … আজকে তো আর বসা হবে না … কালকে বসতে হবে পড়া নিয়ে … যাতে শনিবার থেকে একদম বুধবার পরীক্ষার আগ পর্যন্ত আর সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে খালি পরীক্ষার পড়াটাই পড়া যায় …

একটা ভালো ব্যাপার হচ্ছে যে ২৩ তারিখের ফেস্টিভ্যাল পিছিয়ে গেছে … সেটা ২৯ তারিখে হবে … অতএব, এই সপ্তাহে যেই স্টিমরোলার যাওয়ার কথা ছিলো, তার কিছুটা হলেও কমেছে! … এর পরের সপ্তাহেও পরীক্ষা আছে, কিন্তু সেটা ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষা … সেটার পড়ার চাপ এই হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশনের মতো না … এমন কি এর মধ্যে যদি শফিক স্যারও পরীক্ষার ডেট দেন, সেটার পড়াও অনেক ম্যানেজেবল …

রবিবার থেকে ক্লাস শুরু হবে ভার্সিটির … তবে, প্রেশার কত প্রকার ও কি কি, সেটা আসলে বোঝা যাবে ২৪ তারিখ থেকে … কারণ সেদিন থেকে স্কুলেও এক্সপ্লেনেশন ক্লাস শুরু হবে, আর ভার্সিটির ক্লাসও থাকবে সন্ধ্যায় … সো, ভোরবেলা ৬টায় বের হয়ে স্কুলে গিয়ে একটা ক্লাস সামলায়, ৩ টা করে ক্লাস নিয়ে, দুপুরে ভার্সিটি গিয়ে কমন রুমে বসে পড়ালেখা করে, সন্ধ্যায় ক্লাস করে যখন ভার্সিটি থেকে বের হবো, তখন আদৌ আমার সিএনজিতে উঠে বাসা পর্যন্ত আসতেই মনে হয় মনে হবে যে সাত সমুদ্র তের নদী পাড় হয়ে যাচ্ছি! … স্টিমরোলার কি জিনিস সেটা আসলে তখনই বোঝা যাবে! …

ঈদ শেষ হওয়ার পর ছুটিটাও কেমন কেমন করে শেষ হয়ে গেলো! … মনে হইলো যে ঈদের পরে আসলে ছুটিই পাওয়া যায় নাই … এর মধ্যে একদিন খালি বের হয়ে বসুন্ধরা সিটি গিয়ে সিনেমা দেখেছি … ‘আইস এজ – কলিশন কোর্স’ … আর ‘ফাইন্ডিং ডোরি’ … তারপর আবার একদিন টুটুলের বাড়ি ধামরাই, সেখানে রথযাত্রা’র মেলা হচ্ছে, সার্কাস আসছে, সেখানে যাওয়া হবে কি না সেইটার একটা প্ল্যান হওয়া শুরু করলো … কিন্তু সেই প্ল্যানটা আর হলো না … আমিও আবার এর মধ্যে দুইদিন স্বপ্নও দেখে ফেললাম যে ট্যুরে গেছি কোথাও! … একদিন দেখলাম ফৌজিয়া আপা আর অরুণদ্যুতি আপুর সাথে কোথাও গেছি … ফৌজিয়া আপা’র তত্ত্বাবধানে সুসং দুর্গাপুর যাবো এইরকম একটা প্ল্যানও রোজার আগে থেকেই মুখে মুখে হচ্ছিলো … সো ঐটাই মনে হয় মাথায় রয়ে গেছে … আরেকদিন দেখলাম যে গ্রুপের কারা কারা জানি ধানক্ষেত, নদী এইরকম কোনো একটা জায়গায় বেড়াতে গেছি … টুটুল, রানা, নীল, গোপী এইরকম আর কে কে জানি! … আমি ঘুম থেকে উঠে খুব ভেবে রেখেছিলাম যে স্বপ্নটা মনে রাখতে হবে, কিন্তু তারপর আর মনে রাখার কথাই মনে নাই!

আজকে আর লিখবো না … বেশ ক্লান্ত লাগছে … কালকেও সকাল সকাল উঠবো … নিশাতের সাথে কিছু শপিং সংক্রান্ত কাজ আছে … অর সাথে যেতে হবে … পিঙ্ক সিটি … চাঁদনী চক … বাসায় ফিরতে ফিরতে নিশ্চয়ই সেই বিকাল হবে … আমি বরং এখন অল্প একটু খেয়ে ঘুমিয়ে যাই …

আর যাই হোক, জ্বরটা না আসলেই হইলো … দরকার হইলে নাপা, অ্যালাট্রল সব খেয়ে ঘুমাবো! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s