দিনযাপন । ২০০৭২০১৬

বেশ অনেকদিন হয়ে গেলো দিনযাপন লিখতে বসা হয় না। স্কুল খোলার পর থেকে সব রুটিনে কেমন একটা হচপচ লেগে গেছে! কোনটা রেখে কোনটার কথা আগে বলবো? … ২৩ তারিখে গ্রুপের উৎসব হওয়ার কথা ছিলো, সেটা পিছিয়ে গেলো এক সপ্তাহ, ২৯ তারিখে রিশিডিউলড হলো। আমি মনে মনে বেশ খুশি হলাম যে , যাক! ১৭-২২ এর মধ্যে ভার্সিটিতে দুনিয়ার প্যানা ছিলো! … টার্ম পেপার সাবমিশন আর দিলরুবা ম্যাম-এর পরীক্ষাটা হয়ে গেলেই আর টেনশন নাই … ২৫ তারিখ ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষাটা হয়ে গেলেই আরাম করে গ্রুপের কাজে সময় দেবো! … কিসের কি! গুলশানে হলি আর্টিসানের হামলায় যে ৫ জন জাপানি মারা গেছেন, তাদের জন্য জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৯ – ২৫ জুলাই শোক সপ্তাহ পালন করা হবে! সেই কর্মসূচিতে বিকালে/সন্ধ্যায় কি কি প্রোগ্রাম হবে, সে কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে দিলো! ২০ তারিখের পরীক্ষা চলে গেলো ২৬ তারিখ, আর ২৫ তারিখের পরীক্ষা ২৭ তারিখে! এই কাহিনীর পর থেকে পড়াশোনা সংক্রান্ত ব্যাপক উইথড্রয়াল সিনড্রম নিয়ে ঘুরছি গত ২/৩ দিন! এর মধ্যে গতকালকে ক্লাস ছিলো, কিন্তু রেডিও স্বাধীনের প্রোগ্রামে যাবো বলে টাইমিং-এর ক্যাচালের কারণে আর ক্লাসে যাই নাই। দিলরুবা ম্যা’ম –এর ক্লাস হবার কথা ছিলো, উনার সাথে সাথে নাকি লোপা ম্যাম-ও এসে ল্যাঙ্গুয়েজের ক্লাস নিয়েছেন, আবার একটা স্পট টেস্ট-ও নাকি নিয়েছেন! উইথড্রয়াল সিনড্রম বাড়াতে এর চেয়ে বেশি আর কি লাগে! …

এদিকে ঘুম আর বিশ্রামের রুটিনও কেমন উল্টা-পাল্টা হয়ে গেছে! … এই পুরা সপ্তাহে তো একদিনও আমি স্কুল থেকে বের হয়ে খুব আরাম করে ভার্সিটি গিয়ে কমন রুমে বসে থেকে রেস্ট নেয়ার সুযোগ পাইনি! … তারমধ্যে আরো দৌড়াদৌড়ি তো আছেই! বৃহস্পতিবার, মানে ১৪ তারিখ স্কুলের পরে নিশাতের সাথে মার্কেটে দৌড়িয়েছি! পরদিন তো আরো দৌড়াদৌড়ি … পিঙ্ক সিটি থেকে নিউমার্কেট, সেখান থেকে বাসায় এসে আবার  বের হলাম … সর্বনাম –এর লাইভ ছিলো দেশ টিভি-তে … ছবি তুলবো বলে গেলাম … সেটা রাত ১১টা ৪৫ থেকে ২ টা পর্যন্ত ছিলো … সেখান থেকে রিপন ভাইয়ের বাসা … পরদিন নিজের বাসায় ফিরতে ফিরতে দুপুর … তারপর ঘুম … রবিবারে গেলাম অরুণদ্যুতি আপুর বাসায় … উনি ইন্ডিয়া থেকে শাড়ি এনেছে, সেগুলো দেখতে আমরা কয়েকজন কলিগ দল বেঁধে চলে গেলাম। সেখান থেকে ক্লাসে যেতে যেতে সাড়ে পাঁচটা। এদিকে ২৯ তারিখে স্কুলের ৩০ তম ব্যাচের কস্টিউমের কোঅর্ডিনেশন করতে বলেছে জেম, সো ওইটার রিহার্সাল দেখার জন্য গত পরশুদিন আবার স্কুল থেকে গ্রুপে গেলাম, সেখান থেকে সরাসরি ক্লাসে … শফিক স্যারের ক্লাসে আমার মনে হচ্ছিলো যে আমি ঘুমে ঢলে পড়ে যাবো! … কিন্তু ক্লাসে শেষে বাসায় যাওয়ার সুযোগ হয় নাই … আবার গ্রুপে গেছি! … বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১২টা! … গতকালকে আবার সকাল সকাল স্কুলে গিয়েছি, বাসায় এসেছি, তারপর আবার কাঁটাবন গেছি, সেখান থেকে রেডিও স্বাধীনের অফিসে … সেখানে রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রোগ্রাম হলো … সেই প্রোগ্রাম শেষ হবার পর আর বাসায় আসলাম না … ভাষার সাথে ওর বাসায় চলে গেলাম … তাও তখন প্রায় সাড়ে ৩ টা বাজে … ৪টার দিকে ঘুমিয়েছি … ৭টা সময় আবার উঠেও গেছি! … তারপর সেখান থেকে স্কুল … নাস্তা করি নাই, বাথরুমে যাই নাই … খালি কোনোরকমে দাঁতটা ব্রাশ করে কাপড় পাল্টায় স্কুলে গেছি … নিজেকে খুবই নোংরা নোংরা লাগছিলো সারাদিন! দুপুরে স্কুল শেষ করে বাসায় এসে গোসল করে তারপর শান্তি হয়েছে! … বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একটা লম্বা ঘুম হলো … এতক্ষণ যাবৎ বসে বসে স্কুলের লেসন প্ল্যানের কাজ করলাম … কালকে স্কুলে গিয়ে সেগুলো ফ্রেশ করতে হবে … তারপর মনে হলো যে আজকে দিনযাপন লিখবোই লিখবো!

FB_20160714_22_47_50_Saved_Picture

আসল কথা হচ্ছে … এই এত কিছুর মধ্যে ঠান্ডা মাথায় পড়ালেখা বিষয়টা হচ্ছে না! … কখন পড়বো আমি? … সময়ই তো কুলাতে পারছি না! … হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন –এর পরীক্ষার সিলেবাস বিশাল … কিন্তু আমি এখনো একটা লাইনও পড়িনাই … কালকে বৃহস্পতিবার … কালকে হয়তো কিছুটা পড়বো … তারপর শুক্রবার সারাদিন আমি টার্ম পেপার নিয়ে কাজ করবো … আর শনিবারে টার্ম পেপারের প্রিন্টের কাজ, আর ল্যাঙ্গুয়েজের পড়া … রবিবার আর সোমবার স্কুলের পরে বাসায় ফিরে যতটুকু যা হয় আর কি! …

এর মধ্যে আবার গ্রুপের নাটকের কস্টিউমের যোগাযোগ, ফেস্টিভালের পাবলিকেশনের কাজ এইগুলা কিছুটা হইলেও মাথায় নিতে হবে … কস্টিউমে আমার অ্যারেঞ্জমেন্টের কিছু নাই … যাত্রাপালা হচ্ছে … সো, কস্টিউম সব ভাড়া আনা হবে … সেইটার যোগাযোগ করা আর কি … সেইটা হয়তো কালকে করে ফেলা যাবে গ্রুপে গিয়ে …

উফ! এর মধ্যে স্কুলে যে এক্সপ্লেনেশন ক্লাস শুরু হবে, সেইটার জন্য পড়ালেখাটা যে কখন করবো! …

একসাথে এত কাজ ঘাড়ের ওপর আসলেই আমি খেই হারায় ফেলা শুরু করি আর আমার উইথড্রয়াল সিনড্রম মাথাচাড়া দিয়ে উঠে … আর তখন খালি মনে হয় যে সব বাদ দিয়ে কোথাও পালায় যাই! … এত স্ট্রেস কেন ম্যানেজ করতে হবে আমার? … এইরকম স্ট্রেসফুল সিচুয়েশনে আমার বেহুদাই মন-মেজাজ খিঁচে থাকা ছাড়া ভালো আর কিছু হয় না! … সবকিছুই বিরক্ত লাগতে থাকে … এবং এখন আসলে সেটাই হচ্ছে … পড়ালেখাও বিরক্ত লাগছে, স্কুলের কাজও বিরক্ত লাগছে, আবার গ্রুপের কাজটাও! …

এবং একই সাথে … আরো বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে হতাশা এবং বিষণ্ণতা শতভাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে …

‘কিছুই ভালো লাগে না’ ফেজ-এ আছি আপাতত …

দিনযাপন লিখতেও আর ভালো লাগছে না … ঘুমিয়ে যাবো এখন … কালকে তো আবার সকালবেলা উঠে স্কুলে যেতে হবে! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s