দিনযাপন । ২৬০৭২০১৬

আগামীকাল হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন কোর্সের পরীক্ষা … বিশাল সিলেবাস … আসুকা পিরিয়ড থেকে তকুগাওয়া পিরিয়ড পর্যন্ত প্রায় ১০০০ বছরের ইতিহাস পড়তে হবে … কিন্তু এখনো আমার একটা লাইনও পড়ার সুযোগ হয় নাই … কীভাবে কি করবো, আর কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা পড়বো সেই টেনশনে অস্থির হয়ে পড়তেই বসলাম না … বরং মনে হলো দিনযাপন লিখে মনকে একটু হাল্কা করি!

আজকে অলরেডি একটা পরীক্ষা দিয়ে আসলাম … ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষা … বেশ হচপচ অবস্থা … পরীক্ষা শুরু হবার কথা ৬ টায় … সেই পরীক্ষা শুরু হলো সোয়া ৭ টার দিকে … এমনিতেই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে করতেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো আমার … তার মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়ে আরো মাথা খারাপের অবস্থা … এমন এক ফন্টে জাপানিজ লেখাগুলা টাইপ করা হয়েছে যে পরিচিত বর্ণও অপরিচিত লাগছে! … দেখলাম যে আশেপাশে সবারই একই অবস্থা … তাও আন্দাজে আন্দাজে মিলায় মিলায় উত্তর লিখতে থাকলাম … এর মধ্যে ম্যা’ম অফিসের স্টাফ শাহিন ভাইকে পরীক্ষার হলে রেখে কিছুক্ষণের জন্য বের হলেন আর পুরাটা ক্লাস মাছের বাজার হয়ে গেলো! এ ওকে জোরে জোরে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, আরেকজন আবার সেইটার উত্তর দেয় … মোটামুটি আলোচনা করে পরীক্ষা দেয়া শুরু হয়ে গেলো! … আমি নিজেও কিছুটা সুযোগ নিলাম … পাশেই প্রতীতি ছিলো, যেই শব্দগুলো বুঝছিলাম না, সেগুলো নিজেরা আলোচনা করে নিলাম … উত্তর জিজ্ঞেস করিনি অবশ্য … একটা প্রশ্নেরই উত্তর জেনেছি ওর কাছ থেকে, কিন্তু পরে আবার দেখা গেলো যে সেইটা ভুল … আর সেইটা ও বুঝেছে খাতা জমা দেয়ার পর … আর আমি ঠিকটাই লিখেছি … কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দেখা গেলো যে এইটা নিয়ে সবারই কনফিউশন … ক্লাসে দুই-একজন আছে যারা জাপানিজ ভাষা জানে আর কোথায় কোথায় জানি শেখায়ও … তারা যেই উত্তরটা লিখেছে সবাই সেইটাই লিখেছে … কিন্তু তাদের উত্তরও ঠিক মনে হচ্ছে না … এদিকে ইফা আবার জানালো যে ওই প্রশ্নের একেকটার নাম্বার নাকি ২ করে, সুতরাং ভুল হলে ২ নাম্বার বাদ! … এক প্রশ্ন নিয়েই এখন সবার মাথা গরম … আমি খুব রিলাক্টেন্ট থাকার চেষ্টা করছি … কারণ নিজের প্রস্তুতি অনুযায়ী আমি পরীক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট না … এখন যা হয় হবে …

আজকে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে সারাদিন পড়ে গিয়ে পরীক্ষা দিলাম … কালকেও ছুটি নিয়েছি … কালকেও হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন-এর যা সিলেবাস আছে সেগুলো সকাল থেকে পড়বো, তারপর গিয়ে পরীক্ষা দেবো … এমন একটা সপ্তাহ গেলো গত সপ্তাহে, এক টার্ম পেপারের কাজ করতে করতেই হাঁপিয়ে উঠছিলাম স্কুল আর ধুন্ধুমার ক্লাসের ফাঁকে! … শোক সপ্তাহের উছিলায় পরীক্ষা পিছিয়ে গেলো … আর তারপর পরপর দুইদিনে এসে ঠেকলো! … আচ্ছা, ল্যাঙ্গুয়েজ না হয় একদিনে পড়ে পরীক্ষা দেয়া যায় … কিন্তু হিস্ট্রির মতো একটা ভাস্ট সাব্জেক্টে কি সেটা সম্ভব? … টেস্টের সময় সাজিয়ে-গুছিয়ে নোট করে পড়েছিলাম, তখন নাম্বারও ভালো পেয়েছিলাম … কালকে যে কি মার্কা-মারা পরীক্ষা হবে কে জানে! …

FB_20160722_09_11_36_Saved_Picture

এদিকে ডিপার্টমেন্টে আরেক কাহিনী … গত সপ্তাহে যে শোক সপ্তাহ হলো, তাতে কি কি জানি প্রোগ্রাম হয়েছে … র‍্যালি, প্রার্থনা, হলি আর্টিজানে গিয়ে ফুল দেয়া, আলোচনা এইরকম বিভিন্ন প্রোগ্রাম … আমি একটাতেও যাই নাই … প্রথম দুইদিনের প্রোগ্রাম ছিলো দিনের বেলা, আর বৃহস্পতিবার বিকালে একটা হলো, আরেকটা সোমবার সন্ধ্যায় … এখন বৃহস্পতিবারে যাই নাই দেখেই কাহিনীর শুরু … ওইদিন সকাল থেকে খুব হেকটিক একটা দিন গেলো স্কুলে … তারপর ভাবলাম যে বাসায় চলে যাবো, রেস্ট নেবো … এর মধ্যে শুনি ক্লাস হবে! ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস … তো গেলাম … প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে বসে ছিলাম ক্লাসে … ক্লাস শেষে লোপা ম্যা’ম সবাইকে নিয়ে দল বেঁধে শহিদ মিনারে গেলেন, আর আমি চলে আসলাম … আমার কোনোভাবেই শরীরে কুলাচ্ছিলো না যে আমি শহিদ মিনার গিয়ে ঘন্টাখানেক দাঁড়ায় থাকবো … এদিকে কপাল এমনই খারাপ যে আমার রিকশা একেবারে ম্যাম’এর সামনে দিয়েই গেলো! … শনিবারে দিলরুবা ম্যা’ম-এর ক্লাস ছিলো, ওইদিন দেখি দিলরুবা ম্যা’ম সরাসরি চার্জ করে বসলেন সবার সামনে যে আমার ব্যাপারে নাকি এরকম কমপ্লেইন এসেছে যে আমি ইন্টেনশনালি যাই নাই, আবার সামনে দিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে গেছি! … আমি ভালো স্টুডেন্ট হয়ে নাকি এরকম আনএথিক্যাল কাজ করতে পারি না! … কি আজিব! একটা পাবলিক প্রোগ্রামে আমি যাবো কি যাবো না সেটা তো সম্পূর্ণই আমার চয়েজ! এখানে এথিকস-এর কথা আসে কোত্থেকে! যাই হোক … শুনে গেলাম … গতকালকে কি একটা সেমিনার টাইপের ছিলো … বলেই দিলো যে ঐখানে থাকাটা বাধ্যতামূলক! তাও গেলাম না! এমনিতেই জ্বর জ্বর ভাব ছিলো, তার মধ্যে আজকে পরীক্ষা! ওই সেমিনারে গিয়ে বসে থাকলে বাসায় ফিরে তো আর কিছু পড়ার এনার্জিটুকু থাকতো না! … আজকে প্রতীতি বলছিলো যে ওকে নাকি ফোন পর্যন্ত করেছে যাওয়ার জন্য! ভাগ্যিস আমার ফোন বন্ধ! না হলে হয়তো আমাকেও ফোন করতো!

ওহ! এই ফোন বন্ধ নিয়ে তো আরেক কাহিনী … মানে, আমি বেশ বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি আর কি! … আমার সিম আমি বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করি নাই, সো বন্ধ হয়ে গেছে … এইটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত … এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আমার আছে যে আমি ফোন ইউজ করবো কি করবো না … এখন, কিছু কিছু মানুষের রি-অ্যাকশন এমন হচ্ছে যে ফোন বন্ধ রেখে আমি মোটামুটি বিরাট অপরাধ করে ফেলেছি! তারা আমাকে নাকি কাজের সময় পায় না! … এইটা আরো আজব বিষয়, কারণ যে এই কথা বলে তার সাথে কিন্তু আমার সরাসরি কোনো কাজ নাই! যাদের সাথে আমার কাজ হচ্ছে, তাদের সাথে কিন্তু ঠিকই আমার যোগাযোগ হয়ে যাচ্ছে! … যেমন, একদিন আমার একটা মেইল পাঠানোর কথা … যেহেতু আমার ফোন নাই, তাই আমি বলেই দিলাম যে আমি সকালে ১০টা/সাড়ে ১০টার মধ্যেই মেইলটা পাঠিয়ে দেবো … সুতরাং যার কাছে মেইল পাঠাবো, ধরেই নিলাম সেটা সে মনে রাখবে … এখন সারাদিন পার করে, অমিতকে দিয়ে ফোন করে কেউ যদি সন্ধ্যায় জানতে চায় যে ‘মেইলটা কি করেছো?’ তাহলে আমার আর কি বলার আছে! … কিন্তু বিষয়গুলা এই টাইপেরই হচ্ছে আর কি! … এখন, আমি লম্বা সময় স্কুলেই থাকি … ৭টায় স্কুলে ঢুকি আর ৩টায় বের হই … এর মধ্যে এমনিতেও আমাকে ফোনে পাওয়া সম্ভব না, যেহেতু স্কুলে ফোন বের করা বা ইউজ করা নিয়ে রেস্ট্রিকশন আছে … তারপর আমার ক্লাস থাকলে আমি ভার্সিটি চলে যাই … আবার ৬টা থেকে ৮টা ক্লাস করি … ওইসময়ও আমাকে ফোনে পাওয়া সম্ভব না … তারপর আমি বাসায় ফেরার পথে সিএনজি-তে পারতপক্ষে ফোন বের করি না … বাসায় ফেরার পর আমি ফোনে এভেইলেবল … তো, এই যদি প্রতিদিনের অবস্থা হয়, তাহলে আসলে ফোন থাকলেই কি আর না থাকলেই কি! … ওইদিন পাভেল ভাই বেশ বিরক্ত হয়ে বলছিলো যে তুমি যদি যোগাযোগের জন্য এভেইলেবলই না থাকো তাহলে দায়িত্ব নাও কেন! মনে মনে হাসলাম … দায়িত্ব আমি নেই, নাকি আমাকে ডিপেন্ড করে দেয়া হয় সেইটা নিয়েই তো কথা বলা যেতে পারে অনেক! … সেই প্রসঙ্গে আর কথা বাড়ালাম না … আমি মানুষকে এটাই বোঝাতে পারি না যে ফোন যেহেতু ইউজ করছি না, আমাকে তো তাদের মতো করে কন্টাক্ট করলে চলবে না … আমার কাজের জায়গায় কিন্তু আমি কমিটমেন্ট ঠিক রাখছি … কিন্তু সেটা তো আমার বিপরীতে যে আছে তাকেও খেয়াল রাখতে হবে! … আমার ফোন নাই, তবু সবাই ধরেই নেয় আমারই গরজ থাকবে টাইম টু টাইম যোগাযোগ করার! কি আজিব! …

যাই হোক, বোঝা গেলো যে এই ২৯ তারিখের ফেস্টিভ্যালটা শেষ হলে গ্রুপের আর কোনো কাজে সরাসরি ইনভল্ভড হওয়া যাবে না … এইসব ইনভল্ভমেন্ট যত পারা যায় কমিয়ে ফেলতে হবে … তাহলেই শান্তি! … যার গরজ থাকবে যে ফেসবুকে বা  মেইলে কন্টাক্ট করে কাজ আদায় করবে, সে না হয় ওভাবেই করবে … না হইলে নাই … মানুষের টেন্ডেন্সিই হচ্ছে যে মানুষ খালি নিজের রিয়্যালিটিটাই যোলো আনা বোঝে, অন্যেরটা বোঝে না … আমিও হয়তো তাই-ই করি … সুতরাং, রিয়্যালিটিতে ইনভল্ভমেন্ট যত কম হবে, ততই ভালো …

আর কি লিখবো? ঘুমাই গিয়ে … কালকে সকাল সকাল উঠে পড়তে বসতে হবে … ভার্সিটি যাওয়ার আগে আবার গ্রুপেও যেতে হবে … দেখা যাবে যে গ্রুপে মিটিং-এর টাইম ২:৩০ ঠিক করা হয়েছে, কিন্তু যার সাথে মিটিং গিয়ে দেখবো সে তখনও গ্রুপে যায়ই নাই! … আবার না-ও হতে পারে … দেখা যাক! …

শেষ করি তাইলে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s