দিনযাপন । ০৩০৯২০১৬

উফ! সেপ্টেম্বর মাস শুরু হয়ে গেছে … ২০১৪ সালের পর থেকে সেপ্টেম্বর মাস মানেই হতাশা আর এটা-সেটা মনে হয়ে মেজাজ খারাপ হওয়া মাস! … কেন যে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়টা এক লাফে পার হয়ে যায় না! … অগস্ট মাসের পরেই জানুয়ারি চলে আসলেই হয়! …

যাই হোক, গত দুইদিন যাবৎ শরীর বেশ খারাপ … বৃহস্পতিবার ৬টা পর্যন্ত স্কুলে থেকেও অর্ধেকের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারিনাই। সেই হতাশায় আর সারাদিনের ক্লান্তিতে জিদের বশে নায়ীমীর সাথে ক্রিমসন কাপ কফিতে গিয়ে বরফ ঠান্ডা হট চকোলেট ফ্রিজ খেয়েছিলাম … গত দুইদিন ধরে তার ফল ভোগ করছি কান ব্যথা, মাড়ি ফোলা আর খুশখুশে কাশিতে … জ্বর যে আসে নাই তাই-ই অনেক!

আজকেও স্কুলে গেলাম … বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত স্কুলেই কাজ করলাম … ১১টার দিকে গিয়ে একাই কাজ করছিলাম, এর মধ্যে পৌনে ১টার দিকে নায়ীমী আসলো … ফাঁকা স্কুলে বসে বসে আজকে অনেকখানিই কাজ আগায় ফেললাম … বৃহস্পতিবার আমার একসাথে ৭ সেট খাতা জমেছিলো, সেখান থেকে ওইদিন মাত্র ১ সেট দেখতে পেরেছিলাম … আজকে এক বসায় ৫টা সেট শেষ করলাম, একটা খাতায় ওয়ার্কশিট পেস্ট করলাম, কালকে দুইটা ক্লাসের টেস্ট কপি দেবো, সেগুলো গুছালাম … ১১ টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এত্তগুলা কাজ হয়ে গেলো …

14089289_879174888885015_257600716425347713_n

স্কুলে থাকতেই নায়ীমী বলছিলো যে এরপর যেহেতু কাজ নাই, বসুন্ধরা সিটি গিয়ে সিনেমা দেখা যায় কি না … তো, গেলাম … কি কি মুভি চলছে তা-ও জানি না … গিয়ে আগে মুভি লিস্ট দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিবো এরকম প্ল্যান … সপ্তাহ দেড়েক আগের ফায়ার ইন্সিডেন্ট-এর পর বসুন্ধরা সিটি বেশ ফাঁকা মনে হলো, অন্তত ঈদের বাজারের কন্টেক্সটে … ৬ তলার যেই অংশটায় আগুন লেগেছে, সেই আগুনের ইফেক্ট ওপরে ৭ তলা আর ৮ তলাতেও পড়েছে … ওই ব্লকগুলো বন্ধ করে এখন রিনোভেশনের কাজ চলছে … এস্কেলেটরও বন্ধ … ইলেক্ট্রিসিটিও লিমিটেড … বসুন্ধরা সিটি-তে ঢোকার পর আমার মনে হচ্ছিলো আজকে যদি আবার আগুন লাগে তাহলে কিভাবে কি হবে? … যদি সিনেমা দেখার সময় এরকম হয় তাহলে তো বেশ একটা হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যাবো! …

যাই হোক, সেরকম কিছু হয় নাই … আমরা সোয়া ৪টার দিকে গেলাম বসুন্ধরা সিটিতে … দেখলাম যে সাড়ে ৪টায় ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ আছে জেনারাল হলে … প্রিমিয়াম হলে বেশি টাকা দিয়ে সিনেমা দেখতে ইচ্ছা হলো না, কারণ মাসের শেষ … হাতে টাকা পয়সা সীমিত … প্রিমিয়াম হলে সিনেমা দেখলে অবশ্য বেশ আরাম করে দেখা যেতো … ওই হলগুলায় সিটগুলা খুব আরাম … যাই হোক, জেনারাল হলেই প্রিমিয়াম সিট নিলাম … অন্তত থ্রিডি দেখবো যাতে মোটামুটি পেছনের দিকে মাঝামাঝি কলামে সিট পাওয়া যায় … তাও ভালো যে মাঝের কলামে সাইডে সিট পেলাম … মানুষের গায়ের ওপর দিয়ে যাওয়া-আসা করার পেইন পাওয়া লাগলো না …

মুভিটা কেমন জানি … মানে … খুব ভালোও লাগলো না … খুব খারাপও লাগলো না … ডিসি কমিক্স-এর ভিলেনগুলা এখানে হিরোয়িক ক্যারেক্টার হিসেবে দেখিয়েছে … প্লট ভালো, কিন্তু স্টোরিলাইনটা কেমন জানি প্রেডিক্টেবল, টিপিক্যাল ‘হিরোজ অলওয়েজ উইন’ টাইপের আর একটু বেশিই মেলোড্রামাটিক … মার্ভেল সিরিজের ক্যারেক্টারদের নিয়ে যে অ্যাভেঞ্জারস হয়, সেইটাও হিরোজ অলওয়েজ উইন কিসিমের, কিন্তু কাহিনীর গাঁথুনি স্ট্রং থাকে … এইখানে মনে হইলো যে এই ভিলেনদেরকে সামহাও ভালো প্রমাণ করতেই হবে, সেজন্য এই মুভি বানানো! … প্রথমদিকে আমার খুবই বোরিং লাগছিলো, মাঝখানে গিয়ে তবু একটু ইন্টেরেস্টিং লাগলো … শেষের দিকে এসে মনে হলো ইন্ডিয়ান সিনেমা, বাংলা সিনেমার মতো নায়িকা মরে গিয়ে আবার বেঁচে উঠলো টাইপ কাহিনী হয়ে গেলো! …

আজকে ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ দেখতে গিয়ে নিজেরই সুইসাইড করার অবস্থা হয়ে যাচ্ছিলো আরেকটু হলে! … মুভির টিকিট কেটে কাউন্টার থেকে ২ নাম্বার হল পর্যন্ত গেলাম, টিকিট দেখায়, ব্যাগ চেক করায় ঢুকলাম, পটেটো ওয়েজেস আর পপ চিকেন কিনলাম, তারপর চশমা-টশমা নিয়ে হলে ঢুকতে যাবো, হঠাৎ খেয়াল হলো যে আমার হাতে আরেকটা ব্যাগ ছিলো, যেটায় স্কুলের সব জিনিসপত্র! নায়ীমীকে জিজ্ঞেস করলাম, নায়ীমী আমার ব্যাগ কই রাখসি? … নায়ীমীরও তখন খেয়াল হলো যে আমার ব্যাগ তো এতক্ষণ ধরে সাথে নাই … হঠাৎ মনে পড়লো টিকিট কাউন্টারে রেখে আসছি কি না! … নায়ীমীর হাতে টিকিট, চশমা, খাবার সব দিয়ে দিলাম দৌড় … টিকিট কাউন্টারের দিকে যেতে যেতে ভাবছি যে যদি ওখানে না রেখে এলিভেটরের ভেতরে রেখে আসি, কিংবা এলিভেটরে ওঠার আগে যখন নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম, ওখানে যদি রেখে আসি? … যদি ব্যাগ আর না পাই? … আজকেই আমি আমার ৪টা রেজিস্টার খাতাই সাথে নিয়ে বের হয়েছি, তারপর যাবতীয় ওয়ার্কশিটের ফাইল … টিকিট কাউন্টারের সামনে গিয়ে দেখলাম ব্যাগ নাই … কি মনে করে কাউন্টারের লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম, উনি বেশ একটা মুচকি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কি ছিলো ব্যাগে বলেন তো?’ ~ ‘ বই-খাতা … রেজিস্টার…’ … উনি দেখলাম সেই মুচকি হাসি কন্টিনিউ করে কাউন্টারের দরজা খুলে আমার হাতে ব্যাগটা বাড়িয়ে দিলেন … উনাকে ধন্যবাদ –টন্যবাদ দিলাম … কিন্তু আসল ধন্যবাদটা মনে মনে তাকে দিলাম যে এই ব্যাগটা দেখেছে এবং কাউন্টারে বলেছে যে এখানে একটা ব্যাগ পড়ে আছে … সেই ব্যক্তি যে কে, সেটা তো আর জানার উপায় নাই! … তবু তাকে ধন্যবাদ! … এই যাত্রা আর চাকরির কপালে চুনকালি পড়লো না! …

ইদানীং খুব অ্যাবসেন্ট-মাইন্ডেড থাকি … হতাশা … বিষণ্ণতা … বিরক্তি … সবমিলায়ই মনে হয় এই অবস্থা! …

৩১ তারিখ যে গ্রুপ থেকে ফিরে এসে মন খারাপ করে এতকিছু লিখলাম, তাতে করে মন আরো খারাপ হয়ে গেলো! … কথাগুলো মনে মনে থাকলে একরকম ইফেক্ট পড়তো মনের মধ্যে, আর এখন যেহেতু কিছুটা হলেও এক্সপ্রেস করেছি, এখন আসলে সারাক্ষণই কথাগুলো মনের মধ্যে গিজগিজ করছে … তবুও ভালো যে যাকে নিয়ে লিখেছি সে আমার দিনযাপন পড়ে না বলেই জানি … না হলে হয়তো এটা নিইয়ে এই দুইদিনে আরো লঙ্কা-কান্ড হতো! … কিংবা হয়তো হতো না! …

ইদানীং রাস্তা-ঘাটে বের হলেই মেজাজ খারাপ করা ঘটনা ঘটতে থাকে … আজকে যেমন বসুন্ধরা সিটির বড় গেটের দিকে যাচ্ছি, সিড়িতে উঠবার আগে কিছুটা রাস্তা পেভমেন্ট দিয়েই হাঁটছিলাম … মানে পেভমেন্ট ক্রস করে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে যতক্ষণ আর কি … পেছনেই এক গাড়ি সমানে হর্ন দিয়ে যাচ্ছে … তো কিছুটা আগানোর পর সিঁড়ির নিচের ফুটপাথটায় উঠলাম … পাশ থেকে গাড়ির ড্রাইভার আমাকে শুনায় গেলো, ‘একটু ব্যায়াম-টেয়াম কইরেন, বুঝছেন!’ … আমি এক মুহুর্তের জন্য ভাবলাম যে ড্রাইভারকে ধরি … তারপরেই আর ইচ্ছা হইলো না … ওই শালা কুকুর বলে আমিও কুকুর হইতে যাবো কেন? … থাক! … আরেকবার ভাবলাম যে গাড়ির নাম্বার প্লেটের ছবি তুলে রাখি … তারপর ফেসবুকে দিয়ে দিবো … ট্রাফিক অ্যালার্ট টাইপের গ্রুপ-টুপ আছে না … ওইখানে নাম্বার প্লেটের ছবি সহ পুরা কাহিনী জানায় দিবো … একটা পাবলিক গ্রুপে দিলে কোনো না কোনোভাবে গাড়ির মালিকের পরিচয়শুদ্ধা বের হয়ে যাবে! … সেটাও করলাম না! … ভাবলাম যে থাক! কি হবে এইসব করে!

গতকালকেও আমার এক সিএনজিওয়ালার সাথে ঝগড়া হইলো … হাতিরপুল বাজারের মোড় থেকে উঠেছি … মিটারের সিএনজি, কিন্তু মিটারে যাবে না … আমি রাজি না দেখে সে পরে বললো যে ৩০ টাকা বাড়ায় দিতে হবে … ভাবলাম যে জ্যামের মধ্যে সিএনজি পাই কি না পাই … উঠে পড়লাম … মনিপুরী পাড়া-কাজিপাড়া-শ্যাওড়াপাড়া লাইনটায় ইউজুয়ালি সন্ধ্যার পরে অনেক জ্যাম হয়, তাই ৬০ ফিট রাস্তা দিয়ে বের হয়ে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে চলে আসলে সময় অনেকটা বেঁচে যায় … একটু ঘোরা হয় বেশি, এই আর কি … তো সিএনজিওয়ালাকে সেটা বললাম দেখে তার পছন্দ হলো না … সে হয়তো ভেবেছিলো যে জ্যামে বসে বসেই মিটারে অনেক ভাড়া তুলে ফেলবে … তো সে বাসার সামনে পৌঁছায় গজগজ করতে থাকলো যে এমনিতে ১৪/১৫ কিলোমিটার আসার কথা, সেখানে সে ঘুরে-টুরে প্রায় ২৪ কিলোমিটার রাস্তা এসেছে … ভাড়া কিন্তু কম আসে নাই … এমনিতেই এসেছে ৩৪৪ টাকা! সেটাকে রাউন্ড ধরে ৩৫০ টাকা হিসাব করলে সাথে আরো ৩০ টাকা যোগ হয়ে ৩৮০ হয়। সিএনজিওয়ালা দেখলাম দিব্যি ৪০০টাকা রেখে দিলো! … বলে অনেক ঘুরসি, তাই রাখলাম! … আমার গেলো মেজাজ খারাপ হয়ে! … অনেক ঘুরসে তো মিটারেই ঘুরসে … ভাড়া ঠিক করে তো আর উঠি নাই! … যেখানে ৩০ টাকাই তার চাওয়ার কথা না, তাও সেটা দিতে রাজি হইসি, এখন আবার এক্সট্রা ২০ টাকা রেখে দিলো! … টাকা চাইলেই বলে ভাংতি নাই … আমি দারোয়ান চাচাকে ডাকলাম যে চাচা ভাংতি করায় দেন উনাকে, উনি আমাকে ২০টাকা ফেরত দেবে … তারপরও সিএনজিওয়ালা সাত-সতেরো বুঝায় দেখে মেজাজ খারাপ করে বললাম যে রূপনগর থানার ওসি কিন্তু আমার চাচা, কথা বেশি বইলেন না, একেবারে ধরা খাওয়ায় দিবো … সাথে সাথে সে ২০টাকা বের করে হাতে দিয়ে আরো কি কি সব কথা বলতে বলতে গজগজ করতে করতে চলে গেলো! …

রূপনগর থানার কোন ওসি-কে যে নিজের চাচা বানাইলাম আল্লাহই জানে! …

আমার এলাকার পরিচিত সিএনজিওয়ালা আছে একজন, শুকুর আলী … তার আশেপাশের অন্য সিএনজিওয়ালা তাকে ভান্ডারি বলে ডাকে … সেই লোক একটু বাউল কিসিমের, গান-বাজনাও করে … তো সেই লোক যেদিন আমাকে আনা-নেয়া করে সেদিন আমি খুব আরামে যাওয়া-আসা করি … লোকটা ভালো চালায়, আবার তার আচার-আচরণও ভালো … আরাম আয়েশ করে যেদিন যাওয়া-আসা করতে পারি না, সেদিনই দেখা যায় কোনো না কোনো সিএনজিওয়ালার সাথে আমার ঝগড়া হবেই! …

বৃহস্পতিবারেই যেমন …ক্রিমসন কাপ কফি থেকে বের হয়ে আমি আর নায়ীমী মিনাবাজারের সামনে দাঁড়ায় সিএনজি খুজতেসি … মিরপুরে যাওয়ার জন্য সিএনজি পেয়ে নায়ীমীকে বিদায় জানায় সিএনজি-তে উঠলাম, সিএনজিওয়ালা বলে, ‘আমি ভাবসি কি জানেন, অই যে মেয়েটা আপনার সাথে ছিলো, ও আপনার মেয়ে!’ … মেজাজটা খারাপ লাগে না এইসব কথা শুনলে? … কোনদিক দিয়ে আমাকে বেশি সিনিয়ার লাগে বা নায়ীমীকে বেশি বাচ্চা লাগে যে একেবারে মা-মেয়ে বানায় ফেলবে? … কি উদ্দেশ্যে যে সিএনজিওয়ালারা এইসব আলাপ-আলোচনা শুরু করে কে জানে! … প্যাসেঞ্জারের সাথে সিএনজিওয়ালার এত কথা বলারই বা দরকার কি? …

আর তাছাড়াও রাস্তায় হাঁটতে গেলে গায়ের ওপর পড়ে যাওয়া টাইপ মানুষও যেন ইদানীং একটু বেশিই বেড়ে গেছে! … অসহ্য লাগে রাস্তায় বের হইলে! …

যাই হোক … আজকের মতো লেখা শেষ করি … অনেক ক্ষুধা লেগেছে …

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s