দিনযাপন । ০৪০৯২০১৬

আজকে সারাদিনের পজিটিভ ঘটনা এইটাই যে বাসায় ফিরসি আরাম করে। বিকালবেলা ইউনিভার্সিটি গিয়েছিলাম।  ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের একটা সারপ্রাইজ টেস্ট নিয়েছিলো লোপামুদ্রা ম্যা’ম গত জুলাই মাসে, কিন্তু সেদিন আমি ক্লাসে যাইনি দেখে সেই টেস্ট-টা দিতে পারিনি। আজকে সেই টেস্টটা দিতে গেলাম, কারণ ম্যা’ম ওই সারপ্রাইজ টেস্টের নাম্বারও যোগ করেছেন ইন-কোর্স আর মিডটার্মের মার্কের সাথে। তো, ভার্সিটি গিয়ে আমার পরিচিত সিএনজিওয়ালাকে ফোন করে রেখেছিলাম যাতে সন্ধ্যায় আমাকে নিয়ে যায়। ভার্সিটির কাজ সেরে কাঁটাবনে প্রিন্ট পয়েন্টে গেলাম কিছু ওয়ার্কশিট প্রিন্ট করানোর জন্য। সেখান থেকে বাসা …

কিন্তু কাহিনী হচ্ছে যে ঠান্ডাজনিত কানে ব্যথা আজকে সকাল থেকে দাঁতে ব্যথায় টার্ন নিয়েছে। মাড়ি ফোলা ফোলা ভাব ছিলো কালকেই। আজকে সকাল থেকে সেখানে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে সারাদিন কাটালাম। সারাদিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হয়নি বলেই কি না জানি না, দুপুরের পর থেকে ব্যথা বাড়তে থাকলো। এমন অবস্থা হলো যে মনে হলো কথাও বলতে পারছি না! কথা বললেও সেটা স্পষ্ট হচ্ছে না! … প্রিন্ট পয়েন্টে প্রতীতিও আমার সাথে ছিলো। আমাদের আগে এক কাস্টমার খুব ক্রিটিক্যাল একটা প্রিন্ট নিয়ে বসেছে দেখে আমাদেরও অনেকটা সময় বসে থাকতে হলো। সেই সময়টায় প্রতীতি সেলফি তুলছিলো আমাকে নিয়ে। সেলফি তুলতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম যে গালের বামদিকের অংশ ফুলে আছে! … কি অবস্থা! … এখন এরকম একটা চেহারা নিয়ে ঘুরছি যে একপাশ নর্মাল, আরেকপাশ ফোলা! কালকে এই অবস্থায় স্কুলে যেতে হবে!

কালকে আধাবেলা হরতাল … জামাতের … তারপরও স্কুল খোলা … বাচ্চা-কাচ্চা আদৌ কয়জন আসবে কে জানে! … লেসন প্ল্যান আবার সব উল্টা-পাল্টা হতে যাচ্ছে! … বিরক্তিকর! …

14184449_880959275373243_3107021092016932933_n

আজকে লোপামুদ্রা ম্যা’মের ল্যাঙ্গুয়েজ এর টেস্ট দিতে গিয়ে আরেক কাহিনী … আমাদের সাথে আমাদের আগের ব্যাচের ২/৩ জনও পরীক্ষা দিলো … তাদের কোর্সের মেক-আপ টেস্ট আর কি … তো এর মধ্যে আমরা যারা ৫ নাম্বারের পরীক্ষা দেবো, আমাদের ম্যা’ম বললেন কাতাকানা স্ক্রিপ্ট লিখতে। আমি বরাবরের মতোই একটা কাগজে রাফ করে নিয়ে সেটা দেখে দেখে ফ্রেশ করে লিখলাম। তো উঠে যাচ্ছি সেই সময় দেখি আগের ব্যাচের এক মেয়ে নিজ দায়িত্বে আমার রাফ করা কাতাকানা স্ক্রিপ্টের কাগজটা টেনে নিজের কাছে নিয়ে নিচ্ছে। খুব ক্যাজুয়ালি বললো, ‘আপু, এই কাগজটা আমাকে দিয়ে যাও!’ … সে পরীক্ষা দিতে আসছে, কাতাকানা স্ক্রিপ্ট মনে নাই, সেজন্য আমারটা তার খাতার নিচে রেখে নকল করবে! কি আবদার! আমি উনার হাতের ওপর থাবা দেয়ার মতো করে হাত রেখে উনার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘সরি আপু! আমি দেবো না!’ … তারপর তার এক্সপ্রেশন দেখার প্রয়োজন বোধ না করে ম্যাম’কে আমার কাতাকানা স্ক্রিপ্টের ফেয়ার করা কাগজটা জমা দিয়ে চলে আসলাম।

নকল করা ব্যাপারটা কিছু মানুষের কাছে এত ক্যাজুয়াল কিভাবে হয়? … আজিব!

আজকে ডিপার্টমেন্টে যাওয়ার পর দিলরুবা ম্যা’মের সাথে দেখা। উনি কথায় কথায় এসএসসি, এইচএসসি’র রেজাল্ট, অনার্সের রেজাল্ট সব জানতে চাইলেন … সামনে কি জানি একটা ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম-এর জন্য স্টুডেন্ট সিলেকশনের ব্যাপার-স্যাপার আছে … সেটার কারণেই হয়তো খোঁজ নেয়া! … অনার্সের রেজাল্ট শুনে ম্যাম নিজেই জিভ কাটলেন … মনে মনে বললাম, ম্যাম-কে যদি অনার্সের চার বছরের ইন্ডিভিজুয়্যাল রেজাল্ট দেখানো যেতো … অথবা এইটা যদি ম্যা’ম জানতেন যে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষায় আমি বি-ইউনিট থেকে মেধা তালিকায় ৩৪-তম ছিলাম ! … আর ডি-ইউনিট থেকে ১৯তম! … আই উইশ এইসব রেজাল্টও সিভি-তে বা মার্ক শিটে ইনক্লুড থাকতো! … অনার্সের কম্বাইন্ড সিজিপিএ দিয়ে কি আর আমার ইভালুয়েশন করলে হবে? …

দিলরুবা ম্যা’ম আজকে আরেকটা কথা বললেন যেটার অর্থ বুঝলাম না, কিন্তু কথাটা বারবার কানে বাজছে শোনার পর থেকে। কথা প্রসঙ্গেই ম্যা’ম জিজ্ঞেস করলেন যে জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজে আমার পারফরমেন্স কেমন … বললাম যে এমনিতে তো ভালো, কিন্তু আমার অনেক সিলি মিস্টেক হয় … ম্যা’ম সাথে সাথে কথা নাই বার্তা নাই বললেন যে ‘পড়ালেখায় সিলি মিস্টেক করা যাবে না যদি ভালো করতে চান। আর আচরণেও কিন্তু তেমনভাবেই সিলি মিস্টেক করা যাবে না! আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন কি বলছি!’ … আমি যে বুঝিনাই সেইটার এক্সপ্রেশন দেখার জন্য অপেক্ষা না করে ম্যাম টিচার্স রুমে ঢুকে গেলেন! আর আমি ভোদাইয়ের মতো কতক্ষণ দাঁড়ায় থেকে বোঝার চেষ্টা করতে থাকলাম যে ম্যা’ম আমাকে এই কথা কেন বললেন! … যদি এটা এখনো সেই শোক সপ্তাহের অনুষ্ঠানে কেন অ্যাটেন্ড করলাম না ইস্যু হয়, তাহলে তো ব্যাপারটা প্যাথেটিক হবে! …

ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামের জন্য যে সিভি দিলাম, সেটা যদি মনোযোগ দিয়ে পড়েন টিচাররা তাহলে তো আমি ছবি তুলি, লেখালেখি করি, থিয়েটার করি এইগুলা সবই জেনে যাবে! তখন আবার ‘এইগুলা এতদিন কেন বলো নাই’ প্রসঙ্গ উঠলে তো আরেক অবলিগেশন তৈরি হবে! … সামনে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম হবে ঈদের ছুটির পর … তখন থেকে একটু অ্যাক্টিভনেস দেখাতে হবে আর কি! … থিয়েটার করি বলতে গেলে তো বিপদ আরেকরকম! … তখন বের হবে যে জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট-এর চেয়ারম্যান স্যারের মেয়েও প্রাচ্যনাটে আমার গ্রুপমেট! … তখন আবার এইটা নিয়ে আমাদের ব্যাচ-এর কতিপয় স্পাইনলেস লোকজন বিভিন্নরকমের কথাবার্তা লাগাবে আর ওইগুলা শুনলে আমার মেজাজ খারাপ হবে! … যতটা লো প্রোফাইলে থাকা যায় ততই ভালো! …

আজকে আর লিখবো না … সারাদিন প্রায় কিছুই খাইনি … আজকে টিফিন আনানোরও সময় পাইনি স্কুলে … পরে ফারাহাত আপা রুটি-ভাজি এনেছিলো সেটা অল্প একটু খেলাম, কুপার্স থেকে কেনা বিস্কিট ছিলো কয়েকটা সেটা খেলাম … এই হচ্ছে সারাদিনের খাবার … ভেবেছিলাম যে প্রিন্ট পয়েন্টে কাজ শেষ করে আমি আর প্রতীতি কোথাও বসে খাওয়া-দাওয়া করবো সিএনজিওয়ালা ভাই আসতে আসতে … দেখা গেলো যে প্রিন্ট পয়েন্টেই এত দেরি হলো যে উলটা সিএনজিকেই ঘন্টাখানেক বসে থাকতে হলো! … তারপর আর খেতে বসার মানে হয় কোথাও? … প্রচন্ড ক্ষুধা পেটে নিয়ে বাসায় ফিরে এখনো খাওয়া দাওয়াই করি নাই … যাই, খাই গিয়ে … আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s