দিনযাপন ।০৭০৯২০১৬

সারাদিনের ভালো ব্যাপার হচ্ছে কালকে যে স্টেশনারি জিনিসপত্র ফেলে এসেছিলাম সেগুলো ভালোভাবেই ফেরত পেয়েছি। স্কুল শেষ করে বিকালে জ্ঞানকোষে ঢুকবার মুখেই দোকানের একজন আমাকে দেখেই বললো, ‘কালকে কি কিছু ফেলে গেসিলেন?’ … আমিও মাথা নাড়লাম … দেখলাম যে প্যাকেট শুদ্ধই আলাদা করে রেখে দিয়েছে উনারা … সকালে স্কুলে তাসলিমা আপা, ফারাহাত আপা দুইজনেই বলছিলেন যে জ্ঞানকোষের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা ভালো না … আমি ভয়ই পাচ্ছিলাম যে ওরা না আবার অস্বীকার করে যে আমি কিছু ফেলে গেছি! … দেখা গেলো যে সেরকম কিছুই হয়নি … হয়তো বা এজন্য হতে পারে যে জ্ঞানকোষ থেকে বহু বছর ধরেই নিয়মিত স্টেশনারি জিনিসপত্র কিনছি, চেহারায় পরিচিত হয়ে গেছি নিশ্চয়ই …

আজকের দিনটা সারাদিন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলে খুব ভালো হতো! … সোহেলের জন্মদিন … হাবিজাবি … কোনোকিছুই মনে পড়তো না … সোহেলের জন্মদিন নিয়ে আমার কোনো উচ্ছ্বাস নাই … কিন্তু সোহেল সংক্রান্ত কোনোকিছুই মনে করতে চাই না বলে ওর জন্মদিনটাও আমাকে খুব পেইন দেয় … ওর ব্যাপারে একটা কিছু মনে হওয়া মানে একসাথে সবকিছু মনে হয়ে যাওয়া … আর তারপরেই বিরক্তি … তারপরেই হতাশা … তারপরেই বিষণ্ণতা … মন খারাপ … বছরের এই সময়গুলাই খারাপ … ভালো কিছুর স্মৃতি নাই …

14264158_883069618495542_4280531176355914721_n

আজকে আমার কিছুই লিখতে ইচ্ছা করছে না … কিন্তু মনে হচ্ছে দিনযাপন পাবলিশ হইতেই হবে আজকে! … কি আজব ইচ্ছা! … দিনযাপনে কি লিখবো সেটা নিয়ে কোনো চিন্তা নাই অথচ দিনযাপন পাবলিশ করতে হবে সেই ভাবনা মনের মধ্যে খোঁচাচ্ছে! …

কেমন জানি অনুভূতি নিয়ে চলি … নাকি অনুভূতিহীনভাবে চলি? … পরিচিত পরিবেশে আর থাকতে ভালো লাগে না … খালি মনে হয় চলে যাই অন্য কোথাও … আবার নতুন করে নতুন নতুন মানুষদের সাথে চলতে শিখি … জাপানিজ স্টাডিজ পড়ছি … জাপান চলে যেতে পারলেও হয়! … ইশ! কেউ যদি এখন বলতো যে তোমাকে জাপান পাঠায় দিচ্ছি, ওখানে চলে যাও সবকিছু ছেড়ে! … প্রতীতির সাথে কথা হচ্ছিলো আজকে একটা ব্যাপারে … কয়েকদিন আগে জাপানের একটা ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামের ব্যাপারে সিভি চেয়েছিলো জাপান স্টাডি সেন্টার থেকে … ওইটার সিলেকশনের ব্যাপার-স্যাপার আছে … প্রতীতি শুনেছে যে একজনকে সিলেক্ট করার সম্ভাবনা আছে … ওকে নাকি লোপা ম্যাম ফোন করে পাসপোর্ট আছে কি না এইসব ব্যাপারে খোঁজ-খবরও নিয়েছে … একজনকে সিলেক্ট করলে ওকে সিলেক্ট করতে পারে … ওর অনেকগুলা অ্যাডভান্টেজ-এর একটা হচ্ছে ও চাকরি করে না, আর ওর অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট-এর হিস্ট্রিও ভালো … যে চাকরি করছে, কিংবা অ্যাকাডেমিক রেজাল্টের অবস্থা ভালো না তাকে নিশ্চয়ই প্রায়োরিটি দেবে না … সেক্ষেত্রে আমি নিজেকে অপশনের মধ্যে রাখিও নাই … দিলরুবা ম্যাম দুই-একবার আমার রেজাল্ট-টেজাল্টের বৃত্তান্ত নিয়েছেন দেখা হলেই … কিন্তু রেজাল্ট শুনে তার এক্সপ্রেশন দেখে মনেই হয়েছে যে আমি তাদের প্রায়োরিটি লিস্টে আছি ঠিকই, কিন্তু আমার যা রেজাল্ট তাতে করে আমাকে সিলেক্ট করার সম্ভাবনা নাই … আর রেজাল্টের জায়গাটা কন্সিডার করলেও দ্বিতীয় প্রসঙ্গই আসবে চাকরি … আর তারপরেই বাদ! … যাই হোক, জাপানে যদি এভাবে কোনো একটা সুযোগে চলে যাওয়া যেতো, তাইলেও নতুন করে সবকিছু শুরুর একটা তাগিদ পেতাম …

কিন্তু এসব ওয়ার্কশপ, বাইরে যাওয়া , কিংবা কোনো কিছুতে প্রায়োরিটি বেসিসে সিলেক্টেড হওয়া এইসব ব্যাপারে আমার ভাগ্য কখনোই ভালো না! … সো এগুলা নিয়ে এখন আর ভাবিও না …

ইদানীং কেমন জানি লাগে! … নিজেকে বহন করে চলতেই আজকাল ক্লান্ত লাগে! … নিজের প্রতি নিজের বিরক্তি ধরে যায় … মনে হয় আমার ভেতরের আমি আসলে একটা ভুল শরীরে আটকা পড়ে গেছি আর এখন আমারই ওপর দায়িত্ব বর্তেছে এই শরীরটাকে বহন করে, ধাক্কা-ধাক্কি করে সামনে নিয়ে চলার! … কিন্তু কিছুই করতে ভালো লাগে না আমার … না কাজ করতে … না কাজ না করে থাকতে … না পড়ালেখা করতে … না পড়ালেখা না করে থাকতে … না কারো সাথে মিশতে … না কারো সাথে না মিশে থাকতে … কিছুই ভালো লাগে না! … সবকিছুই খুব ভারি মনে হয় … প্রচন্ড ভারি … জগদ্দল পাথর …

কালকে স্কুল হলেই ছুটি … অন্তত সাত দিনের জন্য … ঈদের ছুটি … ১৮ তারিখ খুলবে স্কুল … ভার্সিটিও বন্ধ … এবারের ছুটিটা কাজে লাগাতে হবে ঘর গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়ে … এবার ঈদের ছুটিতে তেমন কাজ নাই … না স্কুলের, না ভার্সিটির … ফলে বেশ একটা ‘ছুটি ছুটি’ ভাবের মধ্যেই কাটবে … এই অবসরে ঘরের কিছু জিনিস গুছিয়ে ফেলতে পারলে আবার পরের ছুটি পর্যন্ত নিশ্চিত …

হঠাৎ গতবছরের কথা মনে হলো … গতবছর নিজের জন্মদিনের আগের দিন সোহেল আমাকে অনেককিছু লিখে মেইল করেছিলো … যার সার বক্তব্য ছিলো এই যে তার কারণে যা যা ঘটেছে তার জন্য সে অনুতপ্ত … তার মা’র পারকিনসন্স রোগ দেখা দিয়েছে যেটা নাকি সে তারই পাপের শাস্তি হিসেবে দেখছে … ব্লা ব্লা ব্লা … তারপর সে ক্ষমাও চেয়েছিলো … মেইলটা পেয়ে আমি খুব হেসেছিলাম … কারণ ওইদিনই আমি দিনযাপনে লিখেছিলাম যে ওর জন্মদিনের দিন একটা কিছু বোমা ফাটাবো … আর সে হয়তো ওটা পড়ে ভয় পেয়েছিলো যে এই বুঝি আমি সবকিছু ওর বাসার কাউকে বলে দিলাম …

বলে আমি দিয়েছিলাম অবশ্য … তবে ওর জন্মদিনের সময় নয় … পরের মাসে … দুলু আন্টিকে ফেসবুকে মেসেজ পাঠিয়ে সব জানানোর পরে উনি আমাকে সহমর্মিতা জানিয়ে দুই-এক্টা কথা লিখেছিলেন, কিন্তু তারপর কয়েকদিন পরেই দেখেছিলাম যে উনার প্রোফাইলে আমি ব্লকড! … সোহেল কি বুঝ দিয়েছে ওর ফ্যামিলিতে ও-ই জানে … মুগ্ধ, সোহেল এরা এসব বুঝ দেয়ার ব্যাপারটা খুব ভালো পারে আই গেস! …

আমি ভাবছি আস্তে আস্তে আমার ফেসবুক থেকে কিছু মানুষকে বাদ দিতে শুরু করবো … সোহেল রিলেটেড, পাঠশালা রিলেটেড কিছু মানুষ … আস্তে আস্তে সোহেল সংক্রান্ত সব রকমের যোগাযোগের জায়গা রেস্ট্রিক্ট করে দেবো … ফোনে গুগল অ্যাকাউন্টে এখনো কন্টাক্ট লিস্টে সোহেলের নাম্বার আছে … সেকারণে আজকে ফোনেও ওর জন্মদিনের রিমাইন্ডার এসেছে … প্রথম কাজ হবে ওর নাম্বার শুদ্ধা ডিলিট করে দেয়া …

জানি, এসব কিছুর পরেও যা যা ভুলে থাকতে চাই, তার কিছুই ভুলতে পারবো না … বরং যতই দিন যাবে স্মৃতিগুলো যেন আরো কংক্রিট হয়ে মনের মধ্যে গেঁথে বসবে ! … এতকিছু ডিলিট করার চাইতে নিজেকেই ডিলিট করে ফেলাটা হয়তো সবসময়ই সহজ হতো … কিন্তু নিজের রিমুভালের দায়িত্ব নিজে নিতে তো আমি পারি না! সেই সাহস আমার নাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s