দিনযাপন । ০৮০৯২০১৬

মাথার ভেতর আর্টসেলের নতুন ট্র্যাক ‘স্পর্শের অনুভূতি’ ঢুকেছে! … বিশেষ করে ইন্ট্রো পার্টটা … গিটারের কাজটা শুনতে এত ভালো লাগে! … কেমন জানি একটা ভেসে যাওয়া টাইপের ফিলিংস হয়! কেমন একটা ঢেউ খেলানো অনুভূতি! …

২০০৮ সালে একটা নোট লিখেছিলাম ফেসবুকে … নাম দিয়েছিলাম ‘আমার হারিয়ে যাওয়া’ … অর্ণবের ‘আমার হারিয়ে যাওয়া তুমুল কালো মেঘ …’ গানের নামে ইন্সপায়ার্ড হয়ে এই নাম দেয়া … প্রসঙ্গ আমার অন্যমনস্কতা! … সেই নোটের কিছু অংশ দিয়ে শুরু করি আজকে …

আমার ব্যাপারে মানুষ একটা কথা খুব বলে যে আমি নাকি কখনো নিজের মধ্যে থাকি না … কোথায় নাকি হারিয়ে থাকি সব সময় … আনমনা … নিজের থেকে দূরে … অনেক দূরে হারিয়ে গিয়ে সব কিছু ভুলে বসে থাকি … কেউ এটা নিয়ে মজা করতে মজা পায়, কেউ বা আদুরে কন্ঠে কমপ্লিমেন্ট এর মতো করে বলে, কেউ আবার চরম বিরক্ত হয় … যার যেমনটা প্রয়োজন তেমনভাবেই ব্যাপারটা দেখে আর কি …

তবে কথা সত্য … আমি আসলেই খুব বাজে রকমভাবে নিজের কাছ থেকে হারিয়ে যাই সবসময় … এটার ভালো-খারাপের বিচারে আমি যাই না … আমি এরকমই, এই রকম একটা ভাব নিয়ে চলি … কারণ আমার এই হারিয়ে যাবার ব্যাপারটা আমি আসলে এক প্রকার ভালোবাসি … খুবই ভালোবাসি …

হারিয়ে যেতে ভালো লাগে আমার মেঘের দেশে … আকাশ জুড়ে চড়ে বেড়ানো লাল-নীল-হরেক রঙের মেঘের খেলা দেখতে দেখতে ভালো লাগে নিজেকে ওই মেঘের দেশে আসীন হিসেবে কল্পনা করে নিতে …

হারিয়ে যেতে ভালো লাগে ঘন কালো আকাশের ভেতর … ঝড়ের পূর্ব মুহুর্তে আকাশ যখন কালো করে আসে … উড়ে যেতে ইচ্ছা হয় ওদের কাছে … মনে হয় এক টুকরো মেঘ যদি আটকে রাখতে পারতাম পানির বোতলে করে … একদম নিজের কাছে … ব্যাগের মধ্যে…

কি জানি কি নিয়ে যেন সবসময় আনমনা হয়ে যাই … মানুষের কথাগুলো কানে আসে না … সামনে, পেছনে, ডাইনে, বামে মানুষগুলো যাওয়া-আসার মধ্যে থাকে, টেরই পাই না … রোল নাম্বার ৫০ রেজিস্টার খাতায় বেশিরভাগ দিনই অনুপস্থিত থাকে, ক্লাসে থাকবার পরও … কারণ সেই নাম্বারের অধিকারী আমি আনমনা থাকি…

সকাল-সন্ধ্যা হারিয়ে যাবার একটা চলমান রুটিনের মধ্য দিয়ে যাই আমি … বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিদিনই অন্যমনস্কতার কারণে ফেলে যাই কিছু না কিছু … টাকা-পয়সা, খাতা, মোবাইল, শ্যুটিং-এর প্রপস কিংবা কস্টিউম, কিংবা অন্য কিছু … কিছু না কিছু …

হারিয়ে যাই ক্লাসের ফাঁকে, লেকচার শুনতে শুনতে চিন্তার টানা-পোড়েন ঘটে অন্য জায়গায় … সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাই অনেক উপরে … দেহটা রয়ে যায় একটা স্থানে … মনটা উড়ে যায় অন্য কোথাও … ক্লাস হোক, বন্ধুদের সাথে আড্ডা হোক, অফিসে মিটিং-এ হোক কিংবা শ্যুটিং-এর সময় শট তোলার সময়ই হোক … কোথা থেকে যেন কোথায় চিন্তার লাগাম চলে যায় … কত বকা যে খাই সবার … হারিয়ে যাওয়া রোগটার জন্য নিজেকেই বকা দেই … বার বার বলি, ‘ খবরদার আর যেন না হয় এরকম’ … কিন্তু তারপর আবার যেই কে সেই …  

তারপরও আমি শুধরাই না …

ভাবুক বলে আমার বেশ নাম অথবা বদনাম রয়েছে … কারো কাছে এটা আবার আতলামি … কারো কাছে এটা খুবই বিরক্তিকর কারণ তাদের কাজগুলো আমার অন্যমনস্কতার কারণে ঠিকমতো হয়না … কেউ খুব মজার একটা বিষয় বলে এটাকে ধরে নেয় … ‘কি এত চিন্তা করো তুমি?’ বলে কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি বিনিময় করে …

আর আমি … নিজেকে যতই বোঝাই যে অন্যমনস্কতা পরিহার করতে হবে, কিংবা একটু হলেও কমাতে হবে, ঠিক ঠিক প্রতিদিন হারিয়ে থাকি নিজের ভেতর থেকেও … আমার মধ্যে থেকেও আমি আমার মধ্যে থাকি না … পালে হাওয়া দিয়ে চিন্তার কল্পনা সাগরে নৌকা ভাসিয়ে দেই …

এভাবেই চলতে থাকে আমার হারিয়ে যাওয়া … তেপান্তর পেরিয়ে দূরে … অনেক অনেক অনেক দূরে …

যেই ঠান্ডা লেগে থাকা ভাবটা দুই দিন হলো ঠিক হয়েছিলো, আজকে সেটাকে আবার ফিরিয়ে এনেছি! … স্কুলের পরে আজকে কলিগদের সাথে লাঞ্চের প্রোগ্রাম ছিলো … ধানমন্ডির শর্মা কিং-এ … তারমধ্যে সারাদিনই তো গরমের মধ্যে শাড়ি পড়ে ঘুরেছি … তো শর্মা কিং-এ ঠান্ডা পেপসি, প্রচুর বরফ দেয়া লেমন ক্রাশার এইসব খাওয়া হলো … তারপর আবার আমরা কয়েকজন মিলে গ্লেজড-এ গেলাম ডোনাট খেতে … সেখানে লেমন আইস টি খেলাম … সিএনজি-তে করে বাসায় ফেরার পথে গরমে মাথার চুল পর্যন্ত চুপচুপে ভেজা হয়ে গেলো … তো এই ঠান্ডা ড্রিঙ্কস আর গরমের ঘামের কম্বিনেশনে বাসায় ঢুকবার আগেই দরজার বাইরে দাঁড়িয়েই গোটা পাঁচেক হাচি দিয়ে দিলাম … তারপর গোসল করার পর থেকে তো আরো খারাপ অবস্থা! … নাক খুসখুস করছে আর চোখ জ্বলছে! … নাপা আর পিউরিসল নিয়ে বসে আছি … জ্বর আসার কোনো মানে নাই এখন … সামনে অনেক কাজ …

যদিও স্কুল ছুটি … আজকে হয়ে বন্ধ হয়ে গেলো … খুলবে ১৮ তারিখ … ভার্সিটিরও ক্লাস বন্ধ … তারমানে এবার আমার ছুটি মানে সত্যিকার অর্থেই ছুটি … এই ছুটিতে প্রধান কাজ হিসেবে ধরেছি ঘর গোছানো … মানে ঘরের জিনিসপত্রের অ্যারেঞ্জমেন্ট সংক্রান্ত কাজ-বাজ … বস্তার মধ্যে জিনিসপত্র না রেখে বাক্সে বাক্সে রেখে স্টোরেজ সেকশনটাকে একটু গোছানো চেহারা দেয়া … তারপরে ভাবছি একটা জালি পার্টিশান দিয়ে দেবো মাঝখানটায় … যাতে করে দেখতেও ভালো লাগে, আবার পার্টিশনও হয় …

আজকে দিন হিসেবে বিশেষত্ব হচ্ছে এই যে আজকের দিনে আমি এক্সেল একাডেমি’র সাথে চাকরির প্রথম কন্ট্রাক্ট সাইন করেছিলাম … একেবারে ঘুম থেকে তুলে চাকরি দেয়ার মতো ঘটনা ছিলো … তাও ৭ সেপ্টেম্বরে … সোহেলের জন্মদিনের আগের দিন যে দিনযাপনে লিখেছিলাম যে মনে হচ্ছে ৭ সেপ্টেম্বরের পরে অনেককিছু পালটে যাবে, সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে চাকরি পেয়ে যাবার পর মনে হয়েছিলো যে ইনটুইশনটা আসলে এই চাকরি পাওয়া নিয়েই ছিলো! …

আজকেও যেমন আমার একটা ছোটোখাটো ইনটুইশন-এর সত্যতা প্রমাণ হয়েছে … ঘটনাটা এখনই বলবো না … কিন্তু এটুকুই বলি যে ঘটনাটার অনেক আগেই, যেই ব্যক্তি এখানে মূল চরিত্র তাকে নিয়ে আমার মনের মধ্যে একটা ‘ঠিক হচ্ছে না ব্যাপারটা’ টাইপ অনুভূতি তৈরি হয়েছিলো … আজকে দেখলাম যে কিছু ঘটনার ঘনঘটা তাকে ‘ঠিক হলো না ব্যাপারটা’ স্টেজেই এনে ফেললো! …

যাই হোক, ব্যাপারটা কতটুকু ঘোলা হবে সামনে সেটাই এখন বোঝার চেষ্টা করতে হবে …

গতবছর এই দিনের দিনযাপনে একটা স্বপ্নের কথা লিখেছিলাম … স্বপ্নে কাউকে ন্যুড দেখেছিলাম … কিন্তু বাস্তবে তাকে আমার খালি গায়ে দেখা হয়েছে, কিন্তু সম্পূর্ণ নগ্ন দেখা হয় নাই … এক বছর আগে লিখেছিলাম যে সেই মানুষটাকে যদি আমি সরাসরি গিয়ে আমার স্বপ্নের কথা বলি, তাহলে সে কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে … কিংবা স্বপ্নটা দেখার কারণে যদি এখন সেই ব্যক্তিকে ন্যুড কেমন লাগবে সেটা ভাবতে গিয়ে তার প্রতি আমার কোনোপ্রকার সেক্সুয়াল অ্যাট্রাকশন তৈরি হয় তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে … আমি ভেবেছিলাম যে দিনযাপন পড়ে এরকম কেউ যদি এটা নিয়ে আমার সাথে কথা বলতো বা মন্তব্য করতো তাহলে তার সাথে কথাচ্ছলে আমিও এই স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার কিছু এলিমেন্ট পেতাম … কিন্তু এক তিন্নি আপুর সাথে আমার এক-দুইটা কথা হয়েছিলো, কিন্তু আর কেউ আমার ওপেন কোশ্চেনে সাড়া দেয় নাই! …

আজকে একবছর পার করে এসে যদি এই দিনযাপনেই বলি যে অই স্বপ্নে দেখা ব্যক্তিটা ছিলো গোপী, তাহলে ব্যাপারটা আজকে এই মুহুর্ত থেকে ‘নাম প্রকাশের কারণে’ কোথায় কিভাবে টার্ন নেবে? … যারাই দিনযাপন পড়বে, এবং তাদের মধ্যে যারা গোপীকে চেনে তাদের কাছে ব্যাপারটার রিঅ্যাকশন কেমন হবে সেটা ভেবে এখন বেশ মজা লাগছে … দিনযাপনে এটা পড়ার সাথে সাথেই অনেকে কল্পনা করতে থাকবে গোপীকে ন্যুড কেমন লাগতে পারে! … কিংবা হয়তো ভাব্বে, আল্লারে! প্রজ্ঞা/ প্রজ্ঞা আপু গোপীকে নিয়ে এই স্বপ্ন দেখসে! কেম্নে কি? তাইলে কি গোপীর জন্য প্রজ্ঞা/ প্রজ্ঞা আপুর কুছ কুছ হোতা হ্যায় ? … কিংবা কারো কাছে হয়তো ব্যাপারটা নিছকই মজার একটা ঘটনা মনে হবে যে কথা নাই বার্তা নাই একটা মানুষকে আমি স্বপ্নে এভাবে ন্যুড দেখলাম, যেটা বাস্তবে কখনোই আমার সচেতন চিন্তাতে আসে নাই! … কিংবা কেউ এই স্বপ্নের কথা পড়ে গোপীকে জানালো … গোপীর রিঅ্যাকশনটা তখন কি হবে? … আই উইশ আই কুড সি হাও হি রিঅ্যাক্টস হোয়েন হি নো’জ সামওয়ান স হিম কমপ্লিট ন্যুড ইন হার ড্রিম … হে হে হে …

যাই হোক, অনেক কিছু লিখসি আজকে …

শেষ একটা জিনিস যোগ করি … আজকে প্রথম আলো-তে আনন্দ পাতায় থিয়েটারের পেজ-টায় একটা ছবি দিয়েছে … একটা গ্রুপ ছবি প্রাচ্যনাটের মেম্বারদের … সেখানে আমিও আছি … আমরা সবাই মিলে বিশাল এক থালা থেকে কাঙ্গালের মতো নুডলস খাচ্ছি টাইপ একটা ছবি … মাস দুই/তিন আগে কার মোবাইলে জানি তোলা হয়েছিলো … আজকে থিয়েটারে রিহার্সেলের ফাঁকে খাওয়া-দাওয়া প্রসঙ্গে একটা ফিচারে সেই ছবি ছেপেছে! … আমি তো মহাই বিব্রত হয়ে গেলাম … তবে একটা ভালোও দিক বের করেছি এই ছবি পাবলিশ হওয়ার … এই ছবি পাবলিশের নেগেটিভ দিকটা হচ্ছে যে স্কুলের বাচ্চা-কাচ্চারা দেখবে, তারপর তাদের বাবা-মা’রা দেখবে … তাদের একরকমের ইন্টারপ্রেটেশন হবে যে ‘আল্লা! এই টিচার এইরকম !’ … আর ভালো দিকটা হচ্ছে যে ভার্সিটিতে জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের ক্লাসমেট-টিচাররাও নিশ্চয়ই কেউ না কেউ প্রথম আলো দেখবে, আমাকে ওই ছবিতে আইডেন্টিফাই করতে পারবে … তারপর তারা জানবে যে আমি থিয়েটার করি … আমাকে তারা যতটা আঁতেল এবং ফাঁকিবাজ মনে করেন, এখন হয়তো কেউ কেউ ততটাই অ্যাকটিভ ভাব্বে! … দেখা হলে হয়তো বলবে, ‘আল্লা! আপনি থিয়েটার করেন? আগে বলেননি কেন?’ …

ফলে, প্রথম প্রথম এমন একটা ছবি পাবলিশ হয়েছে সেটা নিয়ে বিব্রতবোধ করলেও পরে এই চিন্তাটার কারণে মনে হলো যে যাই-ই ছবি ছাপা হোক না কেন, এটা দিয়েই কিছু মানুষের কাছে অন্তত আমার পরিচয়ের নতুন ডাইমেনশন তৈরি হবে! …

বহুত লিখসি আজকে … আর না! … ঘুম পাচ্ছে … ঘুমায় যাবো আজকে …

গতবছরের ৭ সেপ্টেম্বরের দিনযাপনের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি … ওই যে স্বপ্নের কথাটা বললাম, ওইটা নিয়ে লেখা আছে … ইফ এনি ওয়ান ইন এনি কেস ওয়ান্টস টু রিলেট …

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/09/08/%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A8-%E0%A7%A6%E0%A7%AD%E0%A7%A6%E0%A7%AF%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%AB/

গতবছরের ৮ সেপ্টেম্বরের লিঙ্কটাও দিয়ে দিচ্ছি …

https://prajnatrubayyat.wordpress.com/2015/09/09/%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%ae%e0%a7%a6%e0%a7%af%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s