দিনযাপন । ১৫০৯২০১৬

সকালে আজকে ঘুম থেকে উঠেছি অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখে …

স্বপ্নের আগে-পিছে অনেককিছু ঘটছিলো, কিন্তু সেগুলো আমার মনে নাই … মূল ঘটনাটাই মনে আছে … দেখলাম যে লালামের জন্য এক পাত্র দেখা হবে … লালামের বয়সও কমে গেছে ! … মানে ৩০/৩৫ হবে … আমার বয়সও সম্ভবত আরো কম … তো, সেই পাত্র দেখার জন্য আবার লালাম আর আমিই যাচ্ছি পাত্রের বাড়িতে! ধানমন্ডিতে বাসা … ওইখানে যাওয়ার পর দেখা গেলো পাত্র বাসায় নাই … সে রেডি হতে গেছে বাইরে … ধরে নিলাম যে পার্লারে গেছে … এদিকে লালাম-ও একটা ঘরে বসে নিজে নিজেই রেডি হচ্ছে … মনে হচ্ছে উৎসাহ তারই বেশি … এর মধ্যে পাত্রের ছোটোভাইকে দেখে আমি ভাবলাম এই-ই বুঝি পাত্র … আবার কনফিউজডও হলাম যে এ তো অনেক ইয়ং, এ লালামের পাত্র হয় কিভাবে! … সেই ছোটোভাই আবার দেখতে জি বাংলা’র ‘ভুতু’ নামের একটা সিরিয়াল হয়, সেখানে নির্ঝর নামে একটা ক্যারেক্টার আছে, সেইটার মতো … মানে স্বপ্নে তাকেই দেখসি আর কি ছোটোভাই হিসেবে … যাই হোক, এর মধ্যে পাত্র আসলো … দেখি যে এরা নিজেরাই কথা বলে! … আমাদের বাসা থেকে তো আমি আর লালাম ছাড়া কেউ যায় নাই! … লালামের সাথে এই নিয়ে টেনশন করতে করতে ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখি অরুণদ্যুতি আপু হাজির আমাদের পক্ষে কথা বলার জন্য! … আমার আবার তখন মনে পড়লো যে আমিই অরুণদ্যুতি আপুকে বলেছিলাম আমাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে থাকার জন্য! … অরুণদ্যুতি আপুকে হাই বলতে গেলাম, সে আমাকে চিকেন ফ্রাই হাবিজাবি কি কি সব খাবার তাকে দেয়ার জন্য অর্ডার দিয়ে দিলো! … আমি ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি ওই পাত্রের বাসার সবাই টেবিলে সালাদ নিয়ে বসে আছে! তাও আবার সালাদের মধ্যে লেটুস পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না! … এইসব কি কি  হাবিজাবি দেখতে দেখতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো! …

কি অদ্ভুত স্বপ্ন! … আজকে সারাদিন অনেক কষ্ট করে স্বপ্নটা মনে রেখেছি যাতে দিনযাপন লেখার সময় ভুলে না যাই …

ঘুম থেকে উঠেছি আজকে সাড়ে দশটার দিকে … তারপর জাপান সম্পর্কে একটা আর্টিকেল লিখতে বসছিলাম, কিন্তু যেভাবে মনে মনে ভাবছিলাম সেভাবে ভাষাটা ঠিক আসছিলো না … দেখি, আজকে রাতে ঘুমানোর আগে আগে একটা লেআউট ভাবতে হবে মনোযোগ দিয়ে … ৫০০ শব্দের আর্টিকেল … খুব যে বড় কিছু লিখতে হবে তা না … কিন্তু তারপরও তো লেখার মধ্যে একটা শুরু, শেষ আর কানেক্টিং মিডল থাকতে হবে! … আর আমার অভ্যাস তো পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্স বেসড কিছু লেখা … ফলে যা-ই লিখবো, সেখানে নিজের চিন্তাটাকেও অনেক কনক্রিট একটা চেহারা দিতে হবে … এই আর্টিকেল লোপা ম্যাম দেখবে, তারপর সেটা কোনো না কোনো একসময় হয়তো জাপান অ্যাম্বেসির ফেসবুক পেজ-এ পাবলিশ হবে … সো, লেখার মধ্যে কোয়ালিটি ম্যাটারস …

তো, এই আর্টিকেল লিখতে বসে যেটা হলো যে এক/দেড় প্যারা লেখার পর আর আমার ভালো লাগলো না … মনে হলো যে এভাবে লিখবো না … তো তারপর কি কি ভাবতে ভাবতে আমি একটা ইংরেজি সেন্টেন্স-এর জাপানি অনুবাদ খুঁজতে গিয়ে ওই জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যেই ডুবে গেলাম … হঠাৎ করেই এমন উৎসাহ কাজ করলো যে সেই বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা অব্ধি একটা নতুন নোটবুকের মধ্যে বিভিন্ন জাপানিজ সেনটেন্স-এর লিস্ট করতে থাকলাম … তারপর মাথায় ঢুকলো যে আর যাই হোক, বেসিক কিছু কানজি শিখেই ছাড়বো! … অনেকক্ষণ কানজি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে যখন টের পেলাম যে মাথা ধরে গেছে আর চোখও ব্যথা করছে, তখন উঠে গোসল -টোসল করে টিয়ামের বাসায় চলে গেলাম …

fb_20160911_21_09_19_saved_picture

এই যে এখন দিনযাপন লিখতে বসছি, এখনও খালি মনে হচ্ছে যে কখন দিনযাপন লেখা শেষ করবো আর তারপর কানজি নিয়ে বসবো … ভাবখানা এমন যে জাপানে ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামের জন্য সিলেক্ট হতে না পারলে কি হবে, এবার আমি সেকন্ড সেমিস্টারে ১০০ তে ১০০ পেয়ে দেখায় দিবো যে আমিও পারি! … আমাকে নেন নাই, এখন দেখেন আমি কত ভালো পারি! কানজি শুদ্ধা শিখে ফেলসি! …

এই আমার একটা বদভ্যাস … কোনোকিছু অ্যাচিভ করা নিয়ে আমার কখনোই খুব মাথাব্যথা নাই … কিন্তু যখনই চোখের সামনে অন্য কেউ কিছু পেয়ে যায়, তখন মনে হইতে থাকে যে আমি কেন না? অ্যাজ ইফ, ইট ওয়াজ ইনেভিটেবল যে আমারই ওইটা অ্যাচিভ করার কথা কিন্তু সামহাও সেই চান্সই আমাকে দেয়া হইলো না!… মানে এমন হইতো যে আমাকে বলসে, আমি বলসি আমার এই সমস্যা, ওই সমস্যা তাই পারবো না, তারপর আরেকজনকে বলসে তাইলে আর কি আমার ভাল্লাগ তো যে চান্স পাইসিলাম, কিন্তু তারপরও ফিরায় দিসি … ! … অদ্ভুত সাইকোলজি আমার … এমনিতে কম্পিটিশ্নের ধারে-কাছেই যাই না, অথচ কিছু একটা মনের মতো না পাইলেই কম্পিটিটিভ মনোভাব নিয়ে ঘুরি! …

যাই হোক … আপাতত এইসব নিয়ে মাথা না ঘামাই … এক ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে সিলেক্ট হইনাই দেখেই তো আর সব শেষ না … মাস্টার্সটা যে করতেসি তাই তো অনেক … খালি ভালো একটা রেজাল্ট করে ঢাকা ইউনভার্সিটির টিচার হয়ে কয়েকজনকে দেখায় দিতে পারলেই আমার গ্রেটেস্ট অ্যাচিভমেন্টটা হবে … যেহেতু সেটাই আমার মূল টার্গেট, আই শুড স্টিক মাইসেলফ টু দ্যাট … নিজের চিন্তা থেকে কোনোরকম ডিরেইলড হওয়া যাবে না …

এনি ওয়ে … কানজি  নিয়ে কথা বলছিলাম, সেখানেই ফিরে আসি … আশা করা যাচ্ছে আজকে উৎসাহের চোটে একটা কানজিময় রাত কাটবে …

তবে, কেমন জানি জ্বর জ্বর ভাব আছে … অলরেডি নাক বন্ধ, আর জোরে নাক টানলেই একেবারে মাথায় গিয়ে টান খাচ্ছে … মনে হচ্ছে যেন মাথার ভেতর কোনো একটা রগ ছিঁড়েই যাবে! … গা-ও গরম গরম ঠেকছে… কাল বাদে পরশু থেকে স্কুলে যাবো, এখন জ্বরটা না আসলে কিভাবে হবে? … সামনের সপ্তাহটা এমনিতেই কাজের পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে যাবে, সেই সঙ্গে জ্বর … ভালোই কম্বিনেশন হবে …

কালকেও অবশ্য বের হবার প্ল্যান আছে … তৃষা, মিন্নি আর নিশাতের সাথে … দেখা যাবে কালকে ঘোরাঘুরি, খাওয়া-দাওয়া করে যেটুকু জ্বর না আসতো, সেইটাও চলে আসবে …

আজকে রাতে ওষুধ খেয়ে ফেলতে হবে আর কি আগে থেকেই … এই ঠান্ডা জিনিসটা যে কেন দুইদিন পর পর ভোগায়! … অসহ্য লাগে! … এত ভালনারেবল হয়ে গেছে আমার শরীর …একটুতেই ঠান্ডা লেগে, জ্বর এসে অস্থির অবস্থা হয়ে যায় …

যাই হোক … আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ করি … এখন আমি কানজি নিয়ে বসবো … কানজি আঁকতে অনেক মজা … প্রতিদিন যদি অন্তত ৫টা করে কানজি শেখা যায় তাহলে অল্পদিনেই অনেকগুলা কানজি শেখা যাবে …  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s