দিনযাপন । ১৬০৯২০১৬

মানে … দেখতে দেখতে ছুটিটা শেষই হয়ে গেলো … কালকে থেকে আবার শুরু হবে স্কুলের দৌড়াদৌড়ি … কালকে শনিবার, এমনিতে স্কুল বন্ধ … কিন্তু ছুটির আগেই চার/পাঁচ সেট খাতা জমায় আসছি, তার মধ্যে এক সেট আবার রবিবারেই দিয়ে দিতে হবে, কারণ মঙ্গলবার ওই ক্লাসের টেস্ট … তার মধ্যে ২১ তারিখের মধ্যে নাম্বার জমা দিতে হবে সব ক্লাস টিচারদের, তারপর অ্যাসেসমেন্ট-এর কাজ শুরু হবে … সো, ২০ তারিখের মধ্যেই বাকি সেটগুলাও দেখে শেষ করতে হবে …ধরেই নিচ্ছি এই সপ্তাহে অন্তত ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনই বিকাল ৫টা/৬টা পর্যন্ত স্কুলে থেকে খাতা দেখতে হবে … অনেকেই বাসায় খাতা নিয়ে যায় দেখার জন্য, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় খাতা দেখার কাজটা বাসার চাইতে স্কুলেই আরাম … ওয়ার্কশিট হলে এক জিনিস … কিংবা যদি টার্ম-ফাইনাল পরীক্ষার খাতা-টাতা হয় তাইলেও বাসায় আনা যায় … কিন্তু এত ভারি ভারি খাতার সেট বহন করে বাসায় আনা, তারপর সেগুলো চেক করে আবার পরদিন নিয়ে যাওয়া … এই হ্যাসেলটা নিতে ইচ্ছা করে না আমার … সেজন্য যত কষ্টই হোক, খাতা দেখার কাজটা স্কুলেই সেরে আসি …

কালকে খাতা দেখা ছাড়াও আরো কাজ আছে অবশ্য… লেসন প্ল্যান করতে হবে … ওয়ার্কশিট পেস্ট করতে হবে লেসন প্ল্যানের খাতায় … আবার নতুন ওয়ার্কশিট প্রিন্ট করাতে হবে … সো, অফিসিয়ালি ১৮ তারিখ স্কুল খুললেও কালকে থেকেই আনঅফিসিয়ালি আমার ছুটি শেষ …

আজকে সারাদিনের মধ্যে ঘটনা একটাই যে তৃষা আর মিন্নির সাথে দেখা করার জন্য বের হয়েছিলাম … কোথায় যাবো সেটা নিয়ে গতকাল ব্যাপক আলোচনার পর শেষমেশ যমুনা ফিউচার পার্কে প্ল্যান সেটল হলো … ইনফ্যাক্ট, নিশাতের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ধানমন্ডি/বসুন্ধরা সিটি এসব বাদ দিয়ে এই জায়গা ঠিক করা হলো কিন্তু আনফরচুনেটলি আজকে নিশাতই আসলো না … ওর নাকি শরীর খারাপ করেছে হঠাৎ, তাই আসতে পারলো না … আমি যমুনা ফিউচার খুব ভালো চিনিনা, গিয়েছি হাতে গোনা এক-দুইবার … তৃষাকে বললাম যে ১২ নাম্বার দিয়েই যেহেতু যাবে, সো ও যদি ওই পর্যন্ত চলে আসে ওর বাসা থেকে, তাহলে বাকি পথটুকু দুইজন একসাথে যেতে পারি … তো তাই হলো …ও ১২ নাম্বারের সাগুফতার গেটে এসে দাঁড়ালো, আমিও এর মধ্যে বের হয়েই সিএনজি পেয়ে গেলাম … যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে কিছুক্ষণ বসতে বসতে মিন্নিও চলে এলো … তারপর ৩ জন মিলে লাঞ্চ করে, কফি খেয়ে আর আড্ডাবাজি করে সময় কাটিয়ে আবার যার যার বাসায় …

যমুনা ফিউচার পার্ক জায়গাটা জানি কেমন … বেশি হিজিবিজি টাইপের লাগে আমার কাছে … এর আগে একবার গিয়েছিলাম কমিক কন -এর একটা প্রোগ্রামে, আরেকবার দেশালের ব্রাঞ্চ ওপেনিং-এর সময় … কেমন জানি … অনেক কার্ভ এদিক সেদিক … আবার অনেক ঘুরতেও হয় … তারপর মনে হয় যে একই জায়গায়ই বারবার ঘুরছি! … দোকানপাট আজকে বন্ধ ছিলো … মনে হলো কিছু দোকানপাট ভালোই … শপিং-এর জন্য জায়গাটা কেমন একবার এসে দেখতে হবে … খাওয়া-দাওয়ার জন্য খুব আহামরি মনে হলো না … তবে তাইওয়ানিজ দুইটা পেস্ট্রি শপ দেখে ভালো লাগলো … মুন কেক খোঁজার জন্য দোকান দুইটায় ঢুকেছিলাম … এখন তো চাইনিজ মুন ফেস্টিভ্যাল -এর সিজন … ভাবছিলাম যে যমুনা ফিউচার পার্কেই যদি যাই, তাহলে মুন কেক পাওয়া গেলে কিনবো … কিন্তু ওরা বললো যে বানিয়েছে কয়েকদিন আগে, এখন নাই …

মুন ফেস্টিভ্যালের কথা আসতেই একটা জিনিস মনে পড়লো … পাঠশালায় সেকন্ড সেমিস্টারে থাকতে কয়েকজন চাইনিজ স্টুডেন্টের সাথে পরিচয় হয়েছিলো … ওরাও পাঠশালায় আসছিলো আমাদের সাথে একটা কোর্সে পার্টিসিপেট করতে … মূলত ওরা ভাস্করের তত্ত্বাবধানে ওদের সার্কেলের সাথেই থাকতো, তো ওদের সাথে বিভিন্নভাবে আমারও বেশ ঘোরাঘুরি হয়েছিলো … ফ্রেয়া নামের একজনের সাথে আমার বেশ ভালো বন্ধুত্বও হয়েছিলো … ও আমার বাসায় এসেও থেকেছে এক-দুইদিন … তো, ওদের এরকম মুন ফেস্টিভ্যালের সময় একদিন একটা অথেনটিক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয়েছিলো … ওরা মুন কেক খাবে, সেই মুন কেক খুঁজতে খুঁজতে যাওয়া … গুলশান দুই নাম্বারে না এক নাম্বারে গোল্ডেন রাইস নামে একটা অথেনটিক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিলো … ওরা কয়েকজন, ভাস্কর, শুভ দা, তাপস দা, নাফিজ, আমি গিয়েছিলাম … ইমতিয়াজ ভাই বা আদনান ভাই গিয়েছিলো কি না বা আর কে কে গিয়েছিলো এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না …ওহ! হ্যাঁ, হায়দার ভাই ছিলো … আরেকজন ছিলো, কিন্তু এই মুহুর্তে কিছুতেই আমি তার নাম মনে করতে পারছি না … উনারা দুইজন আবার পাঠশালার সিনিয়র ভাই ছিলেন …তো, চাইনিজ গ্রুপটার সাথে ওই মুন ফেস্টিভ্যালের খাওয়া-দাওয়া করতে যাওয়ার ঘটনাটা সিগ্নিফিকেন্ট এইজন্য যে ওইদিন আমার লাইফে প্রথম অ্যালকোহল খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিলো … গোল্ডেন রাইস থেকে বের হয়ে আমরা কোরিয়ানায় গিয়েছিলাম … আর ওইখানে মহা উৎসাহে প্রায় এক বোতল সমান সুজো খেয়ে টাল-মাটাল হয়ে হেভি কান্নাকাটি করে একাকার অবস্থা করেছিলাম … বাসায় ফিরি নাই যে এই অবস্থায় বাসায় ফিরলে কি অবস্থা হবে … শুভ দা’র বাসায় ছিলাম রাতে … নাফিজ আবার শয়তানী করে আমার ক্যামেরাতেই কো্রিয়ানায় আমার ওই অবস্থার ছবি তুলে রেখেছিলো …

পরদিন আবার দুপুরবেলাতেই চিটাগাং রওয়ানা হয়েছিলাম গ্রুপের সাথে … কইন্যার শো-ছিলো ওখানে … আমি আবার তখন যেই ওয়ার্কশপটা চলছিলো পাঠশালায়, সেখানে একজন থিয়েটার পারসনের ডেইলি লাইফ নিয়ে স্টোরি করছিলাম … তো সেটার জন্য আবার ইমন ভাই ছিলো সাবজেক্ট …

ওই চিটাগাং ট্রিপ নিয়েও পরে আরেক কাহিনী … ট্রেনে যাওয়া হয়েছিলো … তো আমি যেহেতু ইমন ভাইয়ের ছবি তুলছিলাম, তো আমার তো যাওয়াটা দরকার ছিলো নিজের জন্য … এমনিতে তো কইন্যার টিমে আমি ছিলাম না … তো শেষ মুহুর্তের সিদ্ধান্তে যেহেতু আমি যাচ্ছিলাম, আমি সিনিয়রদের রিকোয়েস্ট করে নিজের যাওয়াটা ম্যানেজ করলাম … বললাম যে আমার জন্য সিট লাগবে না, আমি যেহেতু ছবি তুলতে তুলেই যাবো, আমাকে একটা স্ট্যান্ড টিকিট ম্যানেজ করে দিলেই হবে … তো চিটাগাং-এর কাজকর্ম শেষ করে-টরে ঢাকায় ফিরে আসার দুইদিন পরে গ্রুপ থেকে জার্নাল ভাইয়ের সাথে বাসায় ফিরছি তখন জার্নাল ভাই সে কি ঝারি! … আমার এইটা আগে বলা দরকার ছিলো যে আমি যাবো, এইরকম হুট করে যাওয়ার কথা বলসি, চাইলেই তো আর টিকিট পাওয়া যায় না, টিমের মেম্বার তো গোনা থাকে, দরকার হইলে উনি বাসে আলাদা যাইতো ইত্যাদি ইত্যাদি … আমি পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম … আমি নাটকের ডিরেক্টর, প্রডাকশন ম্যানেজার এদেরকে বলেছি, ইমন ভাইয়ের ছবি তুলছি যেহেতু তাই ইমন ভাইকেই বলেছি, তখন কেউ বলে নাই যে এরকম করে একজন যেতে চাইলে গ্রুপের অনেক স্ট্র্যাটেজিক্যাল সমস্যা আছে বা কিছু … আমার তো জনে জনে গিয়ে বলার দরকার নাই … বা জাস্ট বিকজ রাহুল দা বা জার্নাল ভাইয়ের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক, আমার তো তাদেরকে দিয়ে বলায় নিজের যাওয়ার সুযোগ করে নেয়ারও দরকার নাই … আমার নিজের কাজের গরজে গেছি, তাই নিজের যাওয়ার ব্যবস্থার জন্য যোগাযোগও নিজেই করেছি … এখন এইটা নিয়ে গ্রুপে ইন্টারনালি কি হয়েছে না হয়েছে সেইটা তো আর আমি জানি না! … আর তখন তো আমি গ্রুপেও নতুন! গ্রুপের আমি-তুমি-আমরা-তোমরা এইসব গ্রুপিং আমি বুঝি না তখনও … সো আমি খুব নর্মাল প্রসিডিউরেই আগিয়েছি … এখন যদি বলতো যে এভাবে যাওয়া যাবে না তাইলে আমি হয়তো পাঠশালার কাউকে বলতাম সাথে যাবার জন্য, তারপর নিজে নিজে আলাদা যেতাম! … কি যে আজিব লাগসিলো সেই সময়! …

যাই হোক … পুরানো কাসুন্দি আপাতত থাকুক … দিনযাপন লেখা শেষ করি আজকের মতো … ওয়ার্কশিটের কাজ নিয়ে বসতে হবে আবার … লেসন প্ল্যানের রাফ-টাও করে রাখতে হবে … সিএনজিওয়ালাকে ফোন করতে ভুলে গেছি … ফোন দিতে হবে এখন …

বাই দ্য ওয়ে, সিএনজিওয়ালা প্রসঙ্গ আসতেই আজকের একটা কাহিনী মনে পড়লো … ভাবসিলাম এইটা লিখবো দিনযাপনে … মনে নাই … বাসা থেকে বের হয়ে দেখি কোনো রিকশা নাই … এর মধ্যে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়তেসে … ভাবলাম যে সিএনজি স্ট্যান্ড পর্যন্ত হেঁটেই যাওয়া লাগে কি না … এর মধ্যে এক সিএনজি পেলাম, খালি আসছে … তো যমুনা ফিউচার পার্ক শুনে ২৫০ টাকা ভাড়া চাইলো … এমনিতেই বৃষ্টি, তার মধ্যে ঈদের সিজন, সো একে তো মিটারে যাবে এমন সিএনজি পাওয়া টাফ, তার মধ্যে যদি আবার বৃষ্টি বেড়ে যায় তখন কি করবো এই চিন্তা করে বিনা বাক্য ব্যয়ে রাজি হয়ে গেলাম … তো, সিএনজিতে উঠে বললাম যে আপনি সাগুফতা’র গেটে গিয়ে একটু দাঁড়াবেন, একজন আসবে, সে-ও যাবে … সিএনজিওয়ালা হে হে করে হাসি দিয়ে বলে, ‘ওহ! দুলাভাই?’ … মেজাজটা এমন খারাপ হইলো তখন যে একবার ভাবলাম নেমে যাই সিএনজি থেকে … এইসব আজাইরা মন্তব্য করা সিএনজিওয়ালা আমি একদমই সহ্য করতে পারি না … দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, জ্বি না, বান্ধবী! … এর মধ্যেই তৃষা ফোন করলো … আমিও সিএনজিওয়ালাকে শুনিয়ে জোরে জোরে বললাম, হ্যাঁ, তৃষা, আসছিস তুই? …  

মেজাজ খারাপ লাগে ইদানীং যদি পরিচিত সিএনজিওয়ালা না পাই … অপরিচিত সিএনজিওয়ালা হোক আর রিকশাওয়ালা … একটা না একটা ক্যাচাল বাঁধবেই, আর নয়তো এমন অ্যাটিচুড দেখাবে যে মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s