দিনযাপন । ১৯০৯২০১৬

দুইদিনও হয়নাই স্কুল খুলেছে,অথচ এর মধ্যেই মনে হচ্ছে পৃথিবীর সকল ক্লান্তি যেন শরীরে এসে বাঁধা বেঁধে ফেলেছে! … গতকালকেও প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত স্কুলে ছিলাম … আজকেও তাই … আজকে তো তাও কাজ শেষ করতে পারলাম না … কালকে টেস্ট আছে একটা ক্লাসের, সেই টেস্টের ওয়ার্কশিট পেস্টিং-এর কাজ শেষ করে আসতে পারি নাই … কালকে গিয়ে বাকি পেস্টিং করতে হবে সকাল থেকে …

এই পেস্টিং জিনিসটা একটা অসহ্য কাজ … আর ওয়ার্কশিট তো এক-দুই পাতার হয় না … ৩/৪ পাতার ওয়ার্কশিট যদি ৩০টা করে খাতায় পেস্টিং করতে হয় তাহলে মোটামুটি ১২০টার মতো কাগজ খালি আঠা দিয়ে লাগাই একটা ক্লাসেই! এরকম তো ৩টা ক্লাসের ৩০টা করে খাতা … বাকি দুই ক্লাসের ১৫টার মতো! … এই হচ্ছে অবস্থা! … আর কপি চেকিং তো আছেই …  

স্কুল থেকে বের হয়ে বাসা পর্যন্ত আসার জার্নিটুকু আরো ক্লান্ত করে দেয় …

আর তার মধ্যে গত দুই/তিন যাবৎ একে তো ঘুম হচ্ছে না রাতের বেলা … আর মন-মেজাজও খুব খিঁচে আছে …

আজকে ভাবছিলাম দিনযাপন লিখবো না … মন খারাপ নিয়ে দিনযাপন লিখতে বসলে মন খারাপের আবেগটাই ডমিনেট করতে থাকে … তবে, আজকে আমার অবস্থা গত দুইদিনের চেয়ে বেটার … এখনো পর্যন্ত … আজকে সারাদিনে আমি একবারও কাঁদিনাই … বাসায় ফেরার পথে সিএনজিতে বসে চোখ ছলছল করে উঠেছে একটা জিনিস ভাবতে গিয়ে, কিন্তু চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে দেই নাই …

আচ্ছা, দুই বছর আগেও তো এই সময়টাতে এমন কোনো দিন যায় নাই আমি কাঁদি নাই … তখন প্রতিদিন ইউপিএল-এর অফিসে যেতাম … আর যাওয়া-আসার পথে সিএনজিতে বসে বসে কাঁদতাম … ইউপিএল-এর অফিসে বসেও ট্রান্সলেশন করার ফাঁকে ফাঁকে কাঁদতাম … সোহেলের সাথে ফোনে বা সামনাসামনি দেখা হলেও কথা বলতে গিয়ে কাঁদতাম … জীবনে আর কখনো এত কাঁদি নাই, যত কান্না ২০১৪ সালের ওই ৩/৪ মাসে কাঁদসি …

যাই হোক, এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরেই, মানে সেপ্টেম্বর মাস শুরু হবার পর থেকেই একটার পর একটা স্মৃতি যেন প্রগাঢ় হতে শুরু করেছে … আচ্ছা, গত বছর তো এই সময়টাতে এই বিষয়গুলা এত গভীরভাবে মনে পড়েনাই, কিংবা এভাবে ইমোশনালি অ্যাটাক করে নাই … তাইলে এই বছর কেন এত অস্থির সময় কাটাচ্ছি? …

14364860_888233847979119_8017673275060527228_n

দুইদিন আগে মন খারাপের শুরু একজনের বাবা সংক্রান্ত একটা স্ট্যাটাস পড়ে … আব্বুর সাথে কথাবার্তা বলি না, হয়তো কখনো আর বলবোও না, এটাই জীবন – এইটা তো এভাবে আমি মেনেই নিয়েছি অনেক আগে … তবুও সেদিন ওই স্ট্যাটাসটা পড়তে পড়তে আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেলো … যে স্ট্যাটাসটা দিয়েছে, তাকেই আবার আমি মেসেজ পাঠাচ্ছিলাম নিজের আব্বুর সাথে কথা হওয়া, না হওয়া এইসব নিয়ে … তো সেটা লিখতে লিখতে আমি খুব ইমোশনাল হয়ে গেলাম … আর তারপর সারারাত তো ঘুম হলোই না বরং কাঁদলাম … একেবারে বালিশ ভিজিয়ে কান্না যাকে বলে …

এটা গত পরশু, মানে শনিবার রাতের ঘটনা …

তারপর কালকে যেটা হলো যে আমি ওই ছেলেটাকে আব্বু-কে নিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছিলাম, ও-ও সেটার রিপ্লাই দিলো … ‘সব কিছু ঠিক ঠাক করে ফেলেন’ টাইপ উত্তর আর কি … তো আমি তখন লিখলাম যে লাইফ এখন এত কমপ্লিকেটেড হয়ে গেছে যে এখন আর আসলে কোনোকিছু ঠিক করার চেষ্টা করতেও ভয় লাগে … সবকিছুই যেন আসলে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে … তো এইসব আবেগী কথাবার্তার রিপ্লাই আসলো খুব ছোটো , ‘হুম’ … তারপর আবার রাতের বেলা আরো কিছু কথা লিখেছিলাম … সেগুলার আবার কোনো রিপ্লাই-ই আসে নাই … আমার তখন খুব মন খারাপ হয়ে গেলো … বিষয়টা কিন্তু এমন না যে ওই ছেলের সাথে কথা হচ্ছে না দেখে আমার মন খারাপ হয়েছে … আমার মন খারাপ হলো নিজের ব্যাপারেই একটা জিনিস ভাবতে গিয়ে … আমি ভাবছিলাম যে আমি যখন খুব ইমোশনাল কথাবার্তা কারো সাথে শেয়ার করি, তখন সেই কথাগুলোর কোনো উত্তর আসে না … মানে, কেউ ধরা যাক প্যাম্পার করে কথা বলে না, কিংবা কিছু একটা বলে মোটিভেট করার চেষ্টা করে না … কিন্তু মানুষজন নির্বিশেষে এইটা আমার কেমন জানি একটা নেচারাল এক্সপেকটেশন তৈরি হয় যে আমি যখন এসব কথা বলবো যে ‘আমার জীবনে ভালো বলতে এখন আর কিছু নাই’ ‘ আমি এখন পুরাই হোপলেস একটা মানুষ’ … ইত্যাদি ইত্যাদি … তখন আমার মনে হয় যে যাকে কথাগুলা বললাম সে আমার মন খারাপটাকে ভালো করার জন্য মোটিভেশন দেবে … কিন্তু আসলে সেটা হয় না … আর সেটা যখন হয় না, তখন আবার আমার নিজেরই খারাপ লাগতে থাকে যে আমি কেন এইসব কথা বলতে গেলাম … আসলে আমার ইমোশন আমার নিজের ভেতরেই রাখা উচিৎ, দরকার নাই কারো আমার মন খারাপ, দু;খ-কষ্ট সম্পর্কে জানার … সবার এইটাই ধারণা থাকুক যে আমি খুব হাসিখুশি, হ্যাপি-গো-লাকি টাইপের মানুষ, মেন্টালি অনেক স্ট্রং, কাউকে থোরাই কেয়ার করি না … আর তখন কেমন জানি মেজাজ খারাপ লাগতে থাকে কেন আমি কারো কাছে একটু ফ্রি-স্পেস পেলেই তার কাছে আমার যাবতীয় মনের কষ্ট উজাড় করে দিতে শুরু করি! …

এই অভ্যাসটা আমি আসলে কবে ত্যাগ করতে পারবো? …

অবশ্য, আরেকটা উপায় আছে … সবার সাথেই এইসব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া… প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কোনো কথা বলবো না, এইরকম একটা স্ট্র্যাটেজি যদি নিতে পারি, তাহলে নিজের কথা আর মানুষকে উজাড় করে বলার আর্জটা তৈরি হবে না …

মনের দুঃখ মনের মধ্যেই পচুক, গলুক, গন্ধ বের হোক …

আজকে আর লিখবো না … ঘুম আসছে খুব … ঘুমানোর চেষ্টা করি … আল্টিমেটলি ঘণ্টা দুই/এক পরে ঘুম ভেঙ্গে যাবে আর তারপর সারারাত আর ঘুম আসবে না … চোখ বন্ধ করলেই কেমন এটা ভয় লাগার অনুভূতি তৈরি হবে আর তখন ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত আর চোখ বন্ধ করতে চাইবো না …

সো, এখন যতটুকু সময় ঘুমিয়ে নেয়া যায় …   

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s