দিনযাপন। ২০০৯২০১৬

হইসে কাজ … কালকে থেকেই নাকি জাপান স্টাডিজ-এর সেকন্ড সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হবে! … এমনিতেই স্কুলের কাজের ব্যস্ততায় জান বের হয়ে যাবার যোগাড় … এইবার মনে হয় সত্যি সত্যিই জানটা বের হয়েই যাবে … যেই অবস্থা স্কুলের কাজের, দেখা যাবে ৪টা/সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্কুলে থেকে তারপর ভার্সিটিতে গিয়ে ক্লাস করতে হবে … আরাম করে দুই/তিন ঘণ্টা আগে গিয়ে রেস্ট নেয়ার আর উপায় নাই …

অন্তত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তো না-ই …

এদিকে আজকে নাকি ডিপার্টমেন্টে ১৪তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ছিলো … আমি তো স্কুলেই ছিলাম ৬টা পর্যন্ত … ফোন আর চেক করি নাই … বাসায়  ফেরার পথে সিএনজি-তে উঠে দেখলাম যে প্রতীতি দুপুরে সাড়ে ৩টার দিকে কল করেছিলো … আমি ভাবছিলাম যে আজকেই কি ক্লাস-টাস শুরু হয়ে গেলো কি না, সেজন্য বোধহয় প্রতীতি ফোন করেছে … তো বাসায় এসে ফোন করে জানলাম যে আজকে নাকি ওরিয়েন্টেশন ছিলো … অফিসের লাভলু ভাইয়ের সাথে কি এক মিসকম্যুনিকেশনে প্রতীতি আমাকে আর জানায় নাই যে আজকে ওরিয়েন্টেশন … ওকে নাকি লাভলু ভাই বলেছে খালি ওকেই যেতে বলেছে … এদিকে ও ডিপার্টমেন্টে যাওয়ার পরে নাকি জেনেছে যে আসলে সবাইকেই যেতে বলেছে, ও যেহেতু টোকিও ইউনিভার্সিটিতে একটা ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামের জন্য সিলেক্টেড হয়েছে, তাই ওর উপস্থিতিটা কনফার্ম করার জন্য লাভলু ভাই বলেছে যে প্রতীতিকে থাকতে হবে … যাই হোক, যেহেতু আমাদের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ কখনোই এইসব নোটিশ-টোটিশ আমাকে, প্রতীতিকে কিংবা ইফাকে জানায় না, আর ফেসবুকের গ্রুপটায় যদি পোস্ট করে সেটাও যেহেতু আমরা দেখতে পারি না, ফলে সিআর যে আসলে ক্লাসের বাকি আর সবাইকে জানিয়েছে, আমাদেরকে জানানোর প্রয়োজন মনে করে নাই, এইটাও প্রতীতি ডিপার্টমেন্ট গিয়ে তারপরে আবিষ্কার করেছে … তো, ওই সাড়ে ৩টা সময়ও যদি প্রতীতির সাথে আমার কথা হতো, আর ও যদি বলতো যে তখনই যেতে পারবো না কি না, তাও তো আমি যেতাম না … আজকে স্কুলে ৬টা পর্যন্ত থেকেও কাজ শেষ করতে পারিনি … সো, তখন বললেও যেতে পারতাম না, কারণ কাজটা ফেলে রেখে হঠাৎ নোটিশে নাকে-মুখে দৌড়ে যাওয়াটা সম্ভব হতো না …  

আবারো দিলরুবা ম্যাম, লোপা ম্যামদের কাছে বিষয়টা দাঁড়ালো এমন যে ‘প্রজ্ঞা তো ডিপার্টমেন্টের কোনো অ্যাকটিভিটিতে পারটিসিপেট করে না’ … কালকে তো লোপা ম্যামের ক্লাস … ম্যাম অবশ্যই আমি কেন যাইনাই সেইটা আমাকে জিজ্ঞেস করবে … কি জানি কেন এই জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের সাথে আমার কোনোকিছুই সিঙ্ক্রোনাইজ হচ্ছে না … আমার ব্যাপারে ‘নেগেটিভ অ্যাপ্রোচ’ টাই বেশি এবং যাবতীয় ভুল ধারণাগুলো উনাদের কাছে ভেঙ্গে দেয়ার মতোও কেউ নাই … ফলে ভবিতব্য এটাই যে মোটামুটি ‘মিসফিট’ হিসেবেই আমাকে বাকি সময়টা এই ডিপার্টমেন্টে পার করতে হবে …

কেমন জানি একটা ‘হিস্ট্রি গোয়িং টু বি রিপিটেড’ টাইপের একটা গন্ধ পাচ্ছি! … অনার্সেও তো এরকমই ‘মিসফিট’’-ই ছিলাম … তাই না? … এমন কি পাঠশালাতেও … এবার জাপানিজ স্টাডিজ-এও তাই …

14333659_891303157672188_1613686504749226996_n

ইন্সটিটিউশনাল পড়ালেখা মে বি আমার জন্য না! … ইন্সটিটিউশনাল পড়ালেখার কোনো প্রসপেক্টই তো দেখতে পাই না আমি! … অনার্সের রেজাল্টের কারণে এখন যেটা হচ্ছে যে কোথাও সিলেক্টেড হওয়া, চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই বাদ পড়ে যাচ্ছি জাস্ট বিকজ অভ রেজাল্ট! … এই যে ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামটায় প্রতীতি সিলেক্টেড হইলো, ওর অনার্স-মাস্টার্সে গ্রেড পয়েন্ট ভালো সেজন্য ও চান্স পেয়ে গেলো … বুঝলাম যে ৩.০৩ গ্রেড নিয়ে আমার আসলে ভবিষ্যতেও জাপানের মাস্টার্স কোর্স বা পিএইচডিতেও চান্স পাওয়া তো দূরের কথা, রিকমেন্ডেড হওয়ারই কোনো সুযোগ নাই … যতই আমার মাস্টার্সের রেজাল্ট ভালো হোক …

আর এই ডিপার্টমেন্টে দেখলাম যে টিচারদের সাথে লিয়াজো রাখা, কারণ ছাড়াই ডিপার্টমেন্টে বেশি বেশি সময় দেয়া এইসব এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘জ্বি স্যার, আপনিই ঠিক’ টাইপের অ্যাটিচুডকেই এনকারেজ করা হয়, যার একটাও আমাকে দিয়ে কখনোই হয় না … ফলে, এই ডিপার্টমেন্টে অন্তত ‘টিচারদের সাথে ভালো যোগাযোগ’ মেইন্টেন করে চলার কাজ আমাকে দিয়ে হবে না … আর আল্টিমেটলি যে কোনো সিলেকশন/রিকমেন্ডেশনে আমার নামও যাবে না …

অতএব, আমার মনে হয় একটু হাঁসফাঁস লাগা শুরু করার সাথে সাথেই ইটস বেটার যে আই লিভ স্টাডি … যেটাতে আমার আসলে কিছুই হবে না, সেটা করতে গিয়ে শুধু শুধু নিজের মনের হতাশা বাড়ায় কি লাভ? … অলরেডিই তো নিজের অনার্স লাইফ নিয়ে আমার হতাশার শেষ নাই … নতুন করে মাস্টার্সের হতাশা যোগ করে লাভ আছে?

ভালো কিছু হবার জীবন তো আর আমার নাই … ওই জীবনকে পেছনে ফেলে আসছি বহু আগেই … এখন যা-ই করতে যাবো, ফলাফল হবে শূণ্য … খালি খালি নিজের মধ্যে এক্সপেক্টেশনের জায়গা ভারি করে লাভ কি? … এই যে জাপান স্টাডিজে ভালো ভালো নাম্বার পেয়ে যাচ্ছিলাম, তাতে করেই তো কনফিডেন্স তৈরি হয়ে যাচ্ছিলো যে এবার মনে হয় পড়ালেখার জীবনের ফাঁড়াটা কাটবে … কিসের কি? … একেবারে হাতেনাতে জেনে গেলাম যে কোনো পজিটিভ প্রসপেক্ট নাই …

মাস্টার্স পাস করলে প্রসপেক্ট একটাই … বাবা-মা-আত্মীয়-স্বজন বলতে পারবে মেয়ে মাস্টার্স পাস … আমার নিজের পড়ালেখা নিয়ে গরজটা তো তাদেরই বেশি! …

কিন্তু আল্টিমেটলি আমার হতাশার বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো প্রসপেক্ট আমার জন্য নাই …

যাই হোক … আজকের মতো লেখা শেষ করি … কালকে স্কুল, তারপর আফটার-স্কুল কাজ, তারপর ক্লাস … কি যে হবে কালকে … বাসায় ফিরতে ফিরতে বেঁচে থাকলেই অনেক …

আর আজকে ২০ সেপ্টেম্বর … আজকে থেকে শুরু করে আগামী দুইটা সপ্তাহ মনের ওপর দিয়ে আমার কি যাবে জানি না … এই টাইমলাইনটাই ভালো না … ২০১৪’র এই সময়টা … উফ! … অসহ্য! … এতকিছুর মধ্যে এই অসহ্য স্মৃতিগুলোকেও কেন আমার মাথার মধ্যে নিয়ে চলতে হবে? …

কেন যে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে যাই না আমি! …

         

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s