দিনযাপন । ০৪১০২০১৬

অক্টোবর মাস চলছে এইটা ভাবতে গেলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় … একটা মানুষের জীবনে একটা মাসের মধ্যেই এত রকমের ‘আনওয়ান্টেড ইন্সিডেন্ট’-এর স্মৃতি থাকে কিভাবে? …

১ তারিখে দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম … কিন্তু আর শেষ করা হয়নাই … তারপর গত দুই দিন আর লিখতে বসার সময়-সুযোগ হয়নাই … আজকেও বেশ ক্লান্ত, ঘুম ঘুম অবস্থা … কিন্তু আজকে লিখবোই লিখবো ইরাদা নিয়ে বসেছি …

অক্টোবর মাসের প্রতিটা দিনই বাজে … যায় … এবং যাবে … তাও আজকের দিনের মন্দের ভালো ঘটনা হচ্ছে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে সংসদ ভবনে যাওয়া … স্কুল থেকে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ এর পড়ার অংশ হিসেবে বাচ্চাদের সংসদ ভবন নিয়ে যাওয়া হলো … ক্লাস সিক্স, সেভেন আর এইট … বাংলাদেশের আর্কিটেকচার সম্পর্কে ক্লাস সেভেন/এইটে একটা চ্যাপ্টার থাকে … তো ওইটার প্র্যাক্টিক্যাল অবজার্ভেশন যাতে ওদের কিছুটা হেল্প করে সেজন্যই যাওয়া … আমার জন্যও ট্রিপটা স্পেশাল ছিলো কারণ সংসদ ভবনের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ তো আমারও এটাই প্রথমবারের মতো হলো… জীবনের এতটা বছর সংসদভবন খালি বাইরে থেকেই দেখে আসলাম, আর ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি হলটাও টিভিতেই দেখলাম … কিন্তু নিজের চোখে ভেতরে গিয়ে এত এমেজিং একটা আর্কিটেকচারাল ওয়ার্ক দেখে আসার সুযোগ তো আর এত সহজে হয় না! …

আজকে জাপানিজ স্টাডিজের ক্লাসে যাইনি … একে তো সারাদিন রোদে গরমে ঘুরে ক্লান্ত লাগছিলো … তারপর আবার স্কুলেও অনেকগুলা কাজ জমে গিয়েছিলো … আজকে তো সংসদ ভবনে যাওয়ার কারণে স্কুল আওয়ারে আর কোনো কাজ করা যায় নাই … স্কুলের পরে প্রায় ৬টা পর্যন্ত থেকে কপি চেক করলাম এক সেট, ওয়ার্কশিট পেস্টিং করলাম আরেকটা সেটে … তাও অনেক কাজ শেষ হয় নাই … কালকে এমনিতেই ৩টা ক্লাস ছিলো, আমি আবার আজকের ক্লাসের মেকাপের জন্য আরো দুইটা ক্লাস নিয়েছি … সো ৫টা ক্লাস নেবো কালকে আমি! … কপি চেকিং-এর তো সময়ই পাবো না, কালকে আবার ক্লাস ফোর-এর একটা চ্যাপ্টার নিয়ে শিলু আপার সাথেও বসতে হবে …

স্কুলের কাজ-কর্ম নিয়ে দিন দিন কেন জানি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি … সম্ভবত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ব্যাপারে উইথড্রয়াল সিনড্রোমটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে … যখনই দেখি যে গার্জিয়ানদের পুতুপুতু আচরণের কাছে টিচারদের জিম্মি হুয়ে যেতে হচ্ছে, তখনই ওই স্কুলের ব্যাপারে আমার মন উঠে যাতে থাকে … মানে, স্কুলটা এখানে ফ্যাক্টর না, সিস্টেমটা ফ্যাক্টর … একজন টিচার কি পড়াচ্ছেন, কিভাবে পড়াচ্ছেন সেটার ইভালুয়েশন তো একজন গার্জিয়ান এই বেসিসে করতে পারেন না যে উনি বাচ্চাকে কিছু পড়াতে পারছেন না, তাই এটা কঠিন! এইগুলাতে আমার খুব রাগ হয়। আমি তো বাচ্চাকে পড়াই, গার্জিয়ানকে না! … বাচ্চা যদি না বোঝে সে তার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করবে, নইলে টিচারকেই বারবার জিজ্ঞেস করবে … কিন্তু বাবা-মা পড়াতে বসে নিজে বুঝবে না দেখে বলে দেবে অনেক কঠিন পড়া দেয়া হচ্ছে, কিংবা এমন কোশ্চেন দেয়া হচ্ছে যেটার উত্তরই প্যারেন্টরা খুঁজে বের মকরতে পারছে না! … এখন, আমি খুব ট্রিকি কোশ্চেন করি … কারণ আমি দেখতে চাই যে টপিকটা বাচ্চারা কতটুকু বুঝেছে এবং ক্লাস্ কতটুকু ফলো করেছে … বই থেকে লাইন বাই লাইন প্রশ্ন করে ফেলা তো খুব সহজ, ফাঁকিবাজি কাজ … মাথা খাটিয়ে ক্রিয়েটিভ কোশ্চেন করি এইজন্যই যে আমি চাই না একজন স্টুডেন্ট খালি ক্লাসওয়ার্কে করা কাজগুলো হড়বড় করে এসে পরীক্ষার খাতায় বমি করুক, আর আমিও যা পড়িয়েছি ওই বেসিসেই খাতা দেখে নাম্বার দিয়ে ‘বাচ্চারা খুব ভালো নাম্বার পেয়েছে সবাই’ বলে বলে বগল বাজাই! … আমার কথা হচ্ছে একটা ক্লাসে যা পড়বে তা তো পরের বছরেও লিঙ্ক করতে পারতে হবে … সো, ক্লাসে কত সহজে উত্তর লিখে ফেল্লো, কত বেশি নাম্বার পেলো তার চেয়ে আমার কাছে জরুরি যে একটা বাচ্চা ওই টপিকটা কতটুকু বুঝলো! … তাও আবার ভূগোল! … ভূগোলের বেসিক জিনিস যদি বাচ্চারা না আত্মস্থ করতে শেখে, ইতিহাসের বেসিক জিনিস যদি বাচ্চারা আত্মস্থ করতে না শেখে, তাহলে যে হায়ার স্টাডিজে গিয়ে কতটা প্রবলেম হয়, সেইটা হয়তো বা ওইসময় গিয়ে ঠেকে যাবার পর এখনকার ইংলিশ মিডিয়ামের থ্রি/ফোর/ফাইভের বাচ্চাদের অনুধাবন হবে! তখন হয়তো নতুন করে ভূগোল আর ইতিহাস বুঝতে হবে! …

আর এই দুইটা সাব্জেক্টেই আমাদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলাতে একদমই ভালো কোনো বই নাই! বই পড়ায় যেগুলো, সেগুলোও ইন্ডিয়ান! … নিজেদের দেশের আমাদের কোনো ভালো বই নাই, কেউ লেখেও না! … আমার তো খুব ইচ্ছা যে য়ামি বাংলাদেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলার জন্য ওয়ান টু সিক্স এর ভূগোল আর ইতিহাস বই লিখবো! যাতে বাচ্চারা বাংলাদেশ সম্পর্কে ছোটোবেলা থেকেই জানে, আর একটু বড় হয়ে না বলে যে ভাষার জন্য ৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো … কিংবা আজকে যেমন কেউ কেউ সংসদ ভবনে গিয়ে প্রশ্ন করছিলো যে ‘এখানে কি হয়?’, কিংবা ‘বাংলাদেশে এরকম ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি হল কয়টা আছে?’ …  

সত্যি সত্যিই হয়তো কোনোদিন একটা বই লিখতে শুরু করে দেবো … হিস্ট্রি অভ বাংলাদেশ ফর কিডস টাইপের … কিংবা বাংলাদেশ স্টাডিজ ফর কিডস টাইপের একটা কিছু … সেখানে হিস্ট্রিও থাকবে, জিওগ্রাফিও থাকবে …

আগামীকালকের কথা ভাবছি … আর মনে হচ্ছে না আসুক কালকের দিনটা … গতবছর কি কি নিয়ে জানি খুব ব্যস্ত ছিলাম … খুব বেশি খোঁচায় নাই বিষয়গুলা … কিন্তু এবার খুব খোঁচাচ্ছে … এই বছর আমি অনেক কিছু নিয়ে অনেক হতাশ … আর সেই হতাশার অন্যতম বড় একটা ফ্যাক্টর হচ্ছে সোহেলের সাথে আমার যাবতীয় ঘটনা … আর আগামীকালকের দিনটা তো …

গতবছর ৪ অক্টোবরের ফেসবুক স্ট্যাটাসটা পড়ছিলাম আজকে অন দিজ ডে-তে … এই যে এইটা লিখেছিলাম …  

গত বছর এই সময়টায় পূজা চলছিলো … বিসর্জন ছিলো আজ কিংবা গতকাল … তার দুইদিন পরেই কুরবানির ঈদ ছিলো … আরেক বিসর্জন … আর আমিও প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আরেক বিসর্জনের … সেই বিসর্জনে আমার জীবনে যেই ‘বিষ’ অর্জন হয়েছে, সেই বিষ ক্ষয় করার মতো বিষ কি কোথাও আছে? …

আমার শরীর জুড়ে বিষ … আমার রক্ত জুড়ে বিষ … আমার অন্তরের অন্তঃস্থল পুরোটা বিষে নীল …আর একদিন … সেই বিষ-অর্জনের এক বছর হবার আর একদিন … বিষের জ্বালা … উফ! …

আজকে আমার খুব ঘুম আসছে … অলরেডি এক প্রস্থ ঘুমিয়েও গেছিলাম … হঠাৎ চোখে মেলে মনে করতে চেষ্টা করতে হলো যে কি করছিলাম …

ঘুমিয়েই যাই আপাতত … দিনযাপন এখানেই শেষ করি আজকে … আজকে ঘুমিয়ে গিয়ে কালকে যদি আর ঘুম থেকে উঠতে না হতো তাহলে বেশ ভালোই হতো … 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s