দিনযাপন । ১০১০২০১৬

ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করার দিন মনে হচ্ছে চলেই গ্যালো! আজকে দুপুরে গোসল করতে গিয়ে রীতিমতো কাঁপলাম … ডাইরেক্ট অ্যাকশন হিসেবে বিকেলের মধ্যেই খুসখুসে কাশি ফ্রি পেয়েছি … এখন সর্দি-কাশি-জ্বর এইসব না হলেই হয় … রাতে মনে হচ্ছে ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে হবে …

ভাবছিলাম এই ছুটিতে পারতপক্ষে বের হবো না … বের হলেই তো টাকা-পয়সা খরচ … কিন্তু ভাবলেই কি আর হয়? … গতকালকে সারাদিনই বাসায় ছিলাম, কিন্তু আজকে বের হওয়াই হলো … প্রথমত ভেবেছিলাম যে খালি ব্যাংকে যাবো, চেক জমা দেবো, তারপর সরাসরি বাসায় … সেটা হলো না … স্কুলে গেলাম … অরচার্ড পয়েন্টে গেলাম …ব্যাংকে গেলাম … ক্রিমসন কাপ কফি-তে গেলাম … আর্টিসানে গেলাম …

স্কুলে যাওয়ার কারণটা প্যাথেটিক, কিন্তু এখানে বলবো না … যে কারণে গেছি আশা করছি সেটা আরো ঘোলাটে হবে, তখন যদি বেশি গায়ে লেগে যায়, অবশ্যই দিনযাপনে ‘টাইপের অক্ষরে’ লিখে রাখবো … স্কুল থেকে বের হয়ে অরচার্ড পয়েন্টে ঢুকলাম … আসল উদ্দেশ্য ছিলো স্কুলের কলিগ রোকসানা আপা’র জন্য অপেক্ষা করা … উনি আসতে আসতেই আমি টাকা ভাঙ্গানোর উছিলায় ১৫০ টাকার একটা স্যান্ডেল কিনে ফেললাম … উনার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্য ছিলো এই যে উনার একটা ক্যামেরা আমার কাছে ছিলো, ওইটা ফেরত দেবো … তো উনার সাথে এমনিতেই কিছুক্ষণ বেশ কথাবার্তা হলো … উনিও থিয়েটার করে, মিডিয়াতে কাজ-বাজও করে, ফলে উনার সাথে এসব নিয়েও অনেক কথা হয় আমার … এর মধ্যে উনি একটু দোকান-পাট ঘুরলেন … আমিও সঙ্গ দিলাম … সঙ্গ দিতে গিয়ে বিশ্বরঙ থেকে একটা পেন্ডেন্ট পছন্দ হলো, ৫৪০ টাকা দাম দিয়ে সেটা কিনে ফেললাম … সেখান থেকে বের হয়ে ব্যাংকে গেলাম … ২৭ নাম্বারে ব্যাংক … এবি ব্যাংক … তো বহুদিন ধরে আলসেমি করতে করতে ৩ টা চেক জমে গিয়েছিলো … একটা চেক পেয়েছিলাম সেই মার্চ মাসে, স্কলাস্টিকায় নাটকের ছবি তুলে … সেই চেক আর জমা দেয়া গেলো না, যেহেতু ৬ মাস পার হয়ে গেছে … ৪০০০ টাকা হারিয়েই গেলো জীবন থেকে … বাকি দুইটা চেক জমা দিলাম … তাও তো হাজার বিশেক টাকা জমা হলো ব্যাংকে … স্কলাস্টিকার চেকটা জমা দেয়া গেলে আরো কিছু টাকা জমতো … কিন্তু এখন এই চেক রিনিউয়ালও তো ঝামেলা … আবার ইমন ভাইকে বলো … ইমন ভাইয়ের আবার এটা অফিসে বলতে হবে … আবার সেখানকার অ্যাকাউন্টস … এত ঝামেলা করার মানেই হয় না! … এদিকে দুইটা চেকের একটা বিবিসি’র, আরেকটা ছিলো সুরের ধারার … ওই যে পহেলা বৈশাখের আগে হিংসুটে দৈত্য’র কাজ করালাম, সেটার … তো সেই চেকে আমার নাম লিখেছে বাংলায় … এইটা নিয়ে ব্যাংকের মহিলা একটু ঝামেলা করার চেষ্টা করলো … অ্যাজ ইফ আমি নিজের মনের মতো করে চেক বানায় নিয়ে আসছি! … এইটাই আমার নাম কি না, নামের বানান ইংরেজিতে PRAJNA কেন এইসব এইসব … আমি একটু বিরক্ত হয়েই বললাম যে এই ব্যাংকে এই নামেই আমার অ্যাকাউন্ট্‌, এ যাবৎকাল পর্যন্ত এই নামেই আমি টাকা জমা দিয়েছি এবং তুলেছি … ওই চেকে বাংলায় নাম লিখেছে, সেটা যদি ভুল হয় তাইলে তো সেটা আমার ভুল না!… তারচেয়ে বড় কথা এই মহিলা কিন্তু অনেকবারই আমার চেক জমা রেখেছে, সুতরাং আমাকে দেখে উনি যে ‘আসলেই এইটা আপনি কি না’ ভঙ্গি করলেন ব্যাপারটা খুবই উইয়ার্ড লাগলো …

যাই হোক, চেক জমা দিয়ে বের হয়ে চিন্তা করলাম যে কোনদিকে যাবো … এর মধ্যেই মা ফোন করে জানিয়েছে যে ল্যাপটপের সার্ভিস সেন্টার থেকে নাকি ফোন করেছে … ল্যাপটপ রেডি … সাথে যদি কাগজপত্র থাকে তাহলে আজকে নিয়ে আসতে পারি … এদিকে আমি ল্যাপটপের সার্ভিস সেন্টারে ফোন দিয়ে ‘ল্যাপটপ এর কাজ হয় নাই’ শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে একজনকে বলেছিলাম যে আমার হয়ে যেন ফোন করে ল্যাপটপের সার্ভিস সেন্টারে একটু ঝাড়ি-টাড়ি দেয়, আমি তো এসব পারি না! … তো, মা’র ফোন পেয়ে আমার প্রথমেই মনে হলো যে তাকে তো আমার জানানো উচিৎ যে ল্যাপটপটা রেডি! লাস্ট দুইদিন ও ফোন করে নাই ল্যাপটপের ওখানে, কিন্তু আজকে করবে ফর শিওর! যদি এর মধ্যে ফোন করে ফেলে তাইলে তো বিচ্ছিরি ব্যাপার হবে! তাকে কিভাবে জানানো যায় সেটাই মাথায় ঘুরছিলো। ফেসবুকে যে মেসেজ পাঠাবো, মোবাইলে তো ইন্টারনেট নাই। ওয়াইফাই ভরসা । আবার ওর ফোন নাম্বারও নাই যে ফোনে মেসেজ পাঠাবো … বাসায় ফিরতে ফিরতে যদি দেরি হয়ে যায়? এর মধ্যে যদি ও ফোন দিয়ে দেয়? … দেখা গেলো আমি মাল্টিপ্ল্যানে গেলাম এখন, ল্যাপটপ নিলাম, তারপর বাসায় ফিরতে ফিরতে এর মধ্যেই ও-ও আবার ওইখানে ফোন দিয়ে ল্যাপটপ কবে আসবে এই মর্মে কথা বলতে শুরু করলো! কি ভাব্বে তখন ওই সার্ভিস সেন্টারের লোকগুলা? এই ভাবতে ভাবতে ব্যাংকের উল্টাদিকে ক্রিমসন কাপে গিয়ে বসলাম। ওখানকার ওয়াইফাই কানেক্ট করে মেসেজ পাঠিয়ে রাখলাম ফেসবুকে যে ল্যাপটপ রেডি, আর ফোন দেয়ার দরকার নাই … ক্রিমসন কাপে গিয়ে আরেকটা লাভ হলো যে ওয়াশরুমে যাওয়া দরকার ছিলো, সেই কাজটাও হলো … এদিকে ক্ষুধাও লেগেছে … একা একা বসে কোথাও খাওয়ার মতো দুর্লভ কাজটা করলাম … ক্রিমসন কাপ থেকে বের হতে হতেই পাশে আর্টিসানে দূর থেকে একটা টপস দেখে চোখ আটকে গেলো … ভেতরে গিয়ে সামনাসামনি সেটা খুব পছন্দ হলো না … আরেকটা পছন্দ হলো, সেটা কিনে ফেললাম প্রায় ১৩০০ টাকা দিয়ে! …

একদিনে অনেক টাকা খরচ করে ফেললাম একসাথে … শুক্রবার যদি ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজের ক্লাস হয় তাহলে তার আগে আর বের হওয়া উচিৎ হবে না …

এর মধ্যে অবশ্য একদিন আয়নাবাজি দেখতে যাওয়ার একটা ঝুলন্ত প্ল্যান আছে … সেটা ফিক্সড হবে কি না আদৌ শিওর না … হইলে আবার খরচ আর কি! …

14517431_902822909853546_6528882398583723089_n

এর মধ্যে একদিন বিবিসি-তে যাবো এরকম একটা ঝাপ্সা প্ল্যানও করে রেখেছিলাম … বিবিসি-তে আমি একটা চেক পাই, তাও প্রায় হাজার পয়ত্রিশ টাকার … কিন্তু যেই কাজের জন্য পাবো, সেই কাজটা নিয়ে কোর্ডিনেটরের সাথে এমন একটা বিব্রতকর ঘাপলা হয়েছে যে আদৌ চেকটা নিতে যাওয়াটা আমার ঠিক হবে কি না সেটা নিয়ে নিজের মোরাল এথিক্স বনাম প্র্যাক্টিক্যাল লজিকের মধ্যে বেশ দ্বন্দ্ব হচ্ছে … বিবিসি-তে প্রায় দুইবছরের বেশি সময় হলো কাজ করলাম, আমার কাজের কোয়ালিটি নিয়ে কখনো প্রশ্ন উঠলো না, এবারই কাজ করতে গিয়ে কাজ ভালো হয়নি টাইপের কথা তো শুনতেই হলো, আবার কাজ নাকি বুঝিইনাই, ঠিকমতো ইন্সট্রাকশনও ফলো করি নাই, তাও শুনতে হলো … আমার বেশ মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো শেষ যেদিন কোঅর্ডিনেটরের সাথে কথা হলো … উনি বলছিলেন যে এইটা তো এরকম হবার কথা, ওরকম হবার কথা, এখন আমি কাজ করতে গিয়ে যদি আপনার যেইটুকু করার কথা সেটাও আমাকে করতে হয় তাহলে কিভাবে হলো? … আমার কথা হচ্ছে, আমি তো প্রায় এক সপ্তাহ বিবিসি’র অফিসে বসেই কাজ করলাম, তখন কেন উনি বললেন না? তাছাড়া, আমি যখন একটা দুইটা স্ক্রিপ্ট পাঠিয়েছি তখনও তো উনি সেগুলো নিয়ে কাজ করতে বসতে পারতেন। তাহলে ইন্সট্যান্ট আমাকে ফিডব্যাক দিতে পারতেন যে কাজটা উনার রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী হচ্ছে কি না … যাই হোক, এগুলা নিয়ে বেশ ক্যাচাল হয়েছে আর কি … বিবিসি’র সাথে ভালো একটা বন্ডিং ছিলো, এখন হয়তো আর নেক্সট প্রজেক্টগুলাতেও ডাকবে না …

কিন্তু ওই যে আমার মোরাল এথিক্স! চেক রেডি হবার পর কোঅর্ডিনেটর এমনভাবে মেসেজ পাঠালেন যে ‘আপনার চেক রেডি। এসে নিয়ে যেতে পারেন’ টোনে যে মনে হলো উনি বলছেন ‘টাকার জন্যই তো কাজটা করলেন, আসেন টাকা নিয়ে যান!’ … হতে পারে উনি হয়তো নেচারালিই কথাবার্তার টোনে একটু রুড, কিন্তু তারপরও চেকের ব্যাপারে এত ঠান্ডা টোনে নোটিফাই করাটা আমার একটু গায়েই লাগলো। বরাবর তো চেকের ব্যাপারে আন্তরিক ফোন পেয়ে এসেছি । মেসেজ পাঠিয়ে চেক রেডি জানানোটা একটু দায়সারা লাগলো আর কি! … সো, আমি আসলে চেকটা নিতে যাবো কি না সেটা নিয়েই আমি কনফিউজড … চেক নিয়ে আসাটা যদি এই মিন করে যে অনেক টাকা পাবো বলেই কাজটা করেছি, আর সেটাও দায়সারাভাবে, তাহলে তো ওই চেক নিয়ে এসে আমার পোষাবে না মোটেই … কারণ বিবিসি’র কাজ আমি যত না টাকার কারণে করেছি, তার চেয়ে বেশি কাজটাকে ভালোবেসে করেছি …

যাই হোক, আর লিখবো না আজকে … আজকে আমি লাস্ট দুইদিনের চেয়ে লেস টায়ার্ড … কিন্তু মনে হয় শুয়ে পড়বো তাড়াতাড়ি … এখন যাই, পাবদা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে আসি … দুপুরে খেয়েও সাধ মেটেনাই … তাই রাতে ভাত না খাওয়ার রুটিনকে ক্যান্সেল করে আবার ভাত খাচ্ছি, শুধুমাত্র পাবদা মাছের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে …

বাই দ্য ওয়ে, গতকালকে থেকে আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার একটা এচিভমেন্ট-এর কথা তো বলা উচিৎ … মুনির ভাইয়ের প্রশংসায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি গতকালকে রবার্ট অ্যাডামসের বইটার থার্ড চ্যাপ্টার নিয়ে বসছিলাম … আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি প্রায় ৮০% অনুবাদ করে ফেলেছি! … আশা করছি এই ছুটিতে ফুটনোট এবং যাবতীয় আনুষঙ্গিক সহ শেষ করে এডিটের জন্য আব্বুর কাছে দিয়ে দিতে পারবো! … এভাবে আগালে আই হোপ জানুয়ারি নাগাদ বইটা শেষ করে ফেলা সম্ভব! … দেখা যাক, এই উৎসাহ কতদিন থাকে!

এনি ওয়ে … শেষ করি … আজকের মতো …

 

    

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s