দিনযাপন । ১৬১০১৬

বেশ কয়েকদিন ধরে দিনযাপন লেখা হচ্ছে না … সময় পাইনাই বলবো না … বলা যায় যে কাজের ফ্লো-এর মধ্যে ছিলাম, আর তারপর সেটা ভেঙ্গে উঠতে ইচ্ছা করে নাই … ছুটির শেষ দুইটা দিন তো খালি স্কুলের ওয়ার্কশিটের কাজ-ই করলাম, গতকালকে আবার স্কুলেও গেলাম … রাতের বেলাও অনেকক্ষণ কাজ করলাম … ফলে দিনযাপন লিখবো বলে আর বসা হয় নাই …

গতকাল অবশ্য একবার ভাবছিলাম যে অনেককাজের মধ্যেও কিছুটা হলেও লিখি … রাহুল দা’র মা মারা গেছেন গতকাল … মাসি’র সাথে শেষ দেখা হয়েছিলো সেই ২০১৩-তে … তারপর থেকে যখন রাহুল দা’র বাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিলাম, তারপর আর দেখা হয়নাই … গতবছর মাঝখানে একদিন রাহুল দা’র রূপনগরের বাসায় গিয়েছিলাম গ্রুপের একটা কাজে, কিন্তু সেদিন মাসির সাথে আমার দেখা হয়নি …

আর গতকাল তো তিনি মারাই গেলেন …

মনে আছে, শেষ যেবার দেখা হয়েছিলো ওই ২০১৩-তে, তখনও উনি বলেছিলেন যে মা’কে নিয়ে যেতে রূপনগরের ওই বাসায় … তখন আমরা থাকতাম সেন্ট্রাল রোড … সেই সেন্ট্রাল রোড থেকে মিরপুর চলে আসতাম রাহুল দা’র বাসায় … যখন তখন … আর যখন মিরপুর আসলাম … তার আগেই তো রাহুল দা’র সাথে দূরত্ব … এখন তো রাহুল দা আবার ৩২ নাম্বারের দিকে চলে গেছে …

তো … যেটা হতো যে … মাঝখানে কয়েকটা মাস আমার হঠাৎ করেই খুব কনফিউশন তৈরি হয়েছিলো যে মাসি কি আদৌ বেঁচে আছেন কি না … কিন্তু কাউকে কোনো কথাপ্রসঙ্গে যে টেকনিক্যালি জিজ্ঞেস করবো সেটাও হয়নাই … পরে অবশ্য নিশ্চিত হয়েছিলাম যে উনি বেঁচে আছে … আমার তখন মনে হতো, কোনোদিন যদি হুট করে শুনি মাসি চলে গেছেন, তখন হয়তো যেখানে থাকবো সেখান থেকেই চলে যাবো রাহুল দা’র বাসায়, কিংবা শ্মশানে … কারণ আমরা যারাই রাহুল দা’র কাছের মানুষ ছিলাম কোনো একসময় হলেও, মাসি আমাদের কাছে আরেক মা-এর মতোই ছিলেন …

কিন্তু মানুষ যা ভাবে তা সবসময় হয় না … এখন আমার অ্যাক্টিভ কোনো ফোন নাম্বার নেই … ফোন সেটে ওয়াইফাই দিয়ে নেট চালাই, কিন্তু বাসার বাইরে থাকলে সেটা সবসময় হয়ওনা … ফলে রাহুল দা’র মায়ের মৃত্যুসংবাদটা আমি পেলাম রাতে বাসায় ফিরে … তাও ১১টার দিকে … কালকে তো সকালে সেই সাড়ে ৯টায় বের হয়ে গেছি, আর ফিরেছি রাতে ১১টার দিকে … স্কুল … ফ্রেঞ্চ ক্লাস …সব কাজ শেষ করে …

মাসি অনেক অসুস্থ থাকতেন … ডায়াবেটিস নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো … হয়তো সেই কষ্টটা থেকে উনি মুক্তি পেলেন …

14717275_906457189490118_6987268718281830717_n

আজকে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম – আয়নাবাজি … অনেকদিন ধরেই এর সাথে ওর সাথে কথা হচ্ছিলো যে দেখতে যাবো … কিন্তু কারো সাথেই প্ল্যান ফাইনাল হলো না … তো এর মধ্যে হঠাৎ করেই তিন্নি আপুর সাথে প্ল্যান হয়ে গেলো যে আজকে যাবো ‘আয়নাবাজি’ দেখতে … তো গেলাম, আমি, তিন্নি আপু আর তার আরেক কলিগ … মিমি নাম সম্ভবত! … আমি আসলে মিন্নি, নিম্মি, মিমি’র মধ্যে কনফিউজড … একেকবার মনে হলো একেকনাম শুনছি! … যাই হোক, সিনেমা কেমন লাগলো সেটা নিয়ে কথা বলি … আয়নাবাজি এখন একটা হাইপ … সবাই ঝাঁপায় পড়ে দেখতেসে এই সিনেমা … একে তো অমিতাভ রেজা হিমসেলফ ইজ আ ব্র্যান্ড … তার ডিরেকশন – এই হাইপেই অনেকে দেখতে যাচ্ছে … আবার অমিতাভ রেজা’র বা মিডিয়ার ‘পুশ অ্যাডভারটাইজমেন্ট’ তো আছেই … কাজ হিসেবে ডিফেরেন্ট বলেই মানুষের এত আকর্ষণ … সাধারণ অডিয়েন্সের কাছে ওই ডিফেরেন্সটুকুই ‘ওয়াও! কি দেখলাম! বেস্ট মুভি এভার!’ টাইপ এক্সপ্রেশন পাওয়া যাচ্ছে … কিন্তু আমার মতো যারা ক্রিটিক্যাল অডিয়েন্স, যারা সিনেমার ল্যাঙ্গুয়েজ বা আর্টের ল্যাঙ্গুয়েজ, কিংবা অভিনয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ একটু হলেও ভালো জানে, তারাও হয়তো আমার মতোই বলবে/বলছে যে ‘বেশ ভালো কাজ’ … ভালো কাজ ইন টার্মস অভ সিনেমাটোগ্রাফি … ইন টার্মস অভ অ্যাক্টিং … ইন টার্মস অভ সাম আদার টেকনিক্যাল অ্যাপ্লিকেশনস … তবে, স্টোরিলাইন নিয়ে আমি বলবো যে ‘থট প্রভোকিং’ না … জাস্ট একটা গল্প … একটা কাহিনী আর কি … এইটা হলো … ওইটা হলো … তারপর ওইটা হলো … এই টাইপ … কিন্তু সেটা সত্যিকার অর্থে সিনেমা শেষে কোনো ইম্প্যাক্ট রাখে না … ‘চঞ্চল চৌধুরীর ক্যারেক্টারাইজেশন বেশ ভালো ছিলো’ ওইটুকুই … কিন্তু ওই ‘আয়না’ ক্যারেক্টারটা তারপর আর কোনো ইম্প্যাক্ট রাখে না … ‘ওহ! ওই শটটা তো জোশ ছিলো! হেলিকপ্টার শট ছিলো? না ব্রিজের ওপর থেকে ক্রেইন শট’ … ব্যাস! এইটুকুই! … নো মোর ‘থট প্রভোকিং’ ইম্প্যাক্ট … অন্তত, এই একটা জায়গায় এসে আমাদের দেশের সিনেমাগুলো আটকে যায় … ইট গিভস আস ডিফেরেন্ট ইম্প্রেশন বাট নট আ লং লাস্টিং ইম্প্যাক্ট …

যাই হোক … একটু পর পর বিভিন্ন দৃশ্যে একেকজনকে দেখে ‘আরে! প্রাচ্যনাট!’ … ‘আরে! আবারো!’ …মনে মনে এটা বলে ওঠাটাই মজার ছিলো … রাজেশ দা, বিপ্লব ভাই, কাব্য, তপন দা, সজীব ভাই, সোহেল … ও হাসান শাহরিয়ারও ছিলেন থিয়েটার আর্ট ইউনিটের … উনিও প্রাচ্যনাটেরই বন্ধু মানুষ …

ইদানীং বাংলা সিনেমা দেখতে গেলে এটাই একটা মজার এক্সপেরিয়েন্স হয় … যারা আশেপাশের প্রায় নিত্যকার চলাফেরার মানুষ, তাদেরকেই আবার সিনেমার পর্দায় দেখি … যেহেতু টিভি দেখি না, তাই টিভিতে তো আর রেগুলার এদের কাজ দেখা হয় না … সিনেমাতে দেখি … তখন মজাই লাগে … ভাবসাব মেরে অনেক মানুষের সামনে বলা যেতে পারে, ‘আরে মিডিয়াতে কাজ করে যে … ওই যে উনি … হ্যাঁ … ও/উনি তো আমার পরিচিত … খুবই ভালো পরিচয় … আমরা তো একসাথে থিয়েটার করি!’ … যাকে বললাম সে আবার তখন হয়তো ভাব্বে, বাপ্রে, মিডিয়ার এত মানুষকে চেনে! তাইলে উনি না জানি কি! … মজা কিন্তু! হা হা হা …

আচ্ছা, যাই হোক … আজকে আর লিখবো না … বেশ টায়ার্ড আজকে … অনেকদিন পর তো আবার স্কুলে গেলাম সেই ভোরবেলা উঠে … তারমধ্যে গতকালকে আবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত বসে বসে ১৬টা ওয়ার্কশিটে ম্যাপ কালার করেছি … সো, ঘুমটাও খুব আরামের হয়নাই … আর তারপর তো আবার স্কুল শেষে সিনেমা … এখন ভাত খাবো … তারপর ঘুমায় যাবো …

বোঁ সোয়াখ্‌ …    

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s