দিনযাপন । ২৭১০২০১৬

ওয়ার্কশিটের পাহাড় বানায় ফেলবো ধান্দা করে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিলাম, কিন্তু দিনযাপন লিখতে বসে গেলাম। মনে হলো যে দিনযাপন লেখাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

গতকালকেই আমার দিনযাপন লেখার ব্যাপক ইচ্ছা ছিলো … আফটার অল, ২৬ অক্টোবর ইজ আ ডে অভ ইভেন্টফুল মেমোরিজ ফর মি! … কিন্তু কালকে আবার জিদ উঠলো মাথায় যে আজকে ক্লাস ফোরের প্রশ্নটা অন্তত স্কুলে জমা দেবোই। ফলে রাতে ৮টার দিকে বাসায় ফিরে গোসল-টোসল করে ফ্রেশ হয়ে পৌনে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বসে কোয়েশ্চেনের একটা লে-আউট ফাইনাল করেছি। অ্যাটলিস্ট ড্রাফটটা আজকে আমি দিতে পেরেছি, এটাই যথেষ্ট।

যাই হোক, প্রশ্ন করতে গিয়ে কালকে আর দিনযাপন লিখতে বসা হয়নাই।

২৬ অক্টোবর দিনটা কেন ইভেন্টফুল মেমোরির দিন? … এই জন্য না যে পাভেল ভাইয়ের জন্মদিন! এই জন্য যে ২৬ অক্টোবর দিনটাতে প্রায় প্রতি বছরেই কিছু না কিছু ঘটে/ঘটেছে। অন্তত গত ৫/৭ বছরের মধ্যে ২৬ অক্টোবর বললেই মাথায় অনেকরকমের ইভেন্ট ঘুরে।

যেমন, ২০১৫ সালে, মানে গত বছরই, এই দিনটাতেই ভোরবেলা আমার ম্যাকবুক প্রো চুরি হয়েছিলো। ২০১৪ সালে এমনিতেই ওই সময়টা খুব ডিভাস্টেটিং যাচ্ছিলো। সোহেলের সাথে ‘৫ অক্টোবর’ পরবর্তী গন্ডগোল চলছিলো। ২০১৩ বা ২০১২/২০১১ কিংবা তার আগেরও কিছু এই মুহুর্তে মনে আসছে না। হয়তো দিন তারিখ হিসেবে মনেই রাখি নাই ঘটনাগুলো। ২০০৯ সালটা সিগ্নিফিকেন্ট। ইন ফ্যাক্ট ২০০৯ সালের ঘটনার কারণেই ২৬ অক্টোবর আসলেই আমার মনে হইতে থাকে যে ‘এই তো এই দিনেই তো! পাভেল ভাইয়ের জন্মদিন ছিলো। রাজা না কোন নাটকের শো-ও ছিলো। শো-এর পরে আমরা কেক কাটলাম পাভেল ভাইয়ের জন্য … তারপর শিল্পকলা থেকে বের হওয়ার আগে একজনকে একটা জিনিস দিতে গিয়েছিলাম। একটা পেন্ডিং গিফট … আর সেই গিফট দিতে গিয়ে একটা ‘আনএক্সপেক্টেড কিস’ এর ইন্সিডেন্ট ঘটেছিলো! আমি কোনোভাবেই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ওরকম একটা ইন্সিডেন্ট-এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সে আমার যথেষ্টই পছন্দের মানুষ ছিলো ( এমনকি এই গতবছরের আগ পর্যন্তও) কিন্তু তাই বলে তার সাথে ওরকম কোনো ইনভল্ভমেন্টের কোনো ভাবনা আমার ছিলো না। কোনোরকম সেক্সুয়াল চিন্তা ছাড়াই তো একটা মানুষকে স্রেফ পছন্দ করা যায়! তার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই ছিলো। হি ওয়াজ আ ফেভারিট কোম্পানি। ওই ইন্সিডেন্টের পরে আরো কয়েকবারই তার আগ্রহে কিছু অ্যাটাচমেন্ট হবার প্রক্রিয়া হয়েছিলো, কিন্তু আমার অস্বস্তির কারণেই হয়তো ব্যাপারটা বেশিদূর গড়ায় নাই … ওই একটা জায়গায় গিয়েই আমি সবসময় আটকায় যেতাম যে আর যাই হোক, তার সাথে আমি সেক্সুয়াল ইনভল্ভমেন্ট চাই না …

যাই হোক, সে বড় কমপ্লিকেটেড হিস্ট্রি … মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ যাবৎকাল পর্যন্ত যতগুলো মানুষের সাথে আমার কম-বেশি সেক্সুয়াল অ্যাটাচমেন্ট হয়েছে কারো সাথেই আমি ভালো সম্পর্ক/যোগাযোগ রাখিনি বা রাখতে চাইনি। কিন্তু এই একটা মানুষের সাথে আমি অনেক বেশিই অ্যাটাচ থেকেছি। গ্রুপের কাজেই হোক, ঘোরাঘুরিতেই হোক, মদ খাওয়ার পার্টিতেই হোক, কিংবা তার নিজের কোনো কাজেই হোক … কিন্তু তার সাথেই আবার আমি নিজেই যেচে পড়ে দূরত্ব তৈরি করেছি কারণ তার ব্যক্তিগত কিছু সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ হয়নি।

ইন ফ্যাক্ট, আমি যদি সেই ২০০৯ এর ঘটনার কথা চিন্তা করি, তাহলে এভাবে চিন্তা করা যায় যে আমার নিজের মধ্যে যদি অস্বস্তি না থাকতো, তাহলে হয়তো ব্যাপারটা ‘সবই হবে অগোচরে জানবেনা কেউ’ টাইপ ভাবসাব নিয়ে অনেকদূর গড়াতো। কিন্তু সেটা হয়নাই। আমি যদিও ঘটনাটাকে প্রথমে এভাবে দেখেছিলাম যে সে কোনোকারণে ইমোশনাল ছিলো, তাই হুট করে ওরকম করে ফেলেছে। কিন্তু যখন ব্যাপারটা কন্টিনিউ হবার আলামত শুরু হলো তখন আমি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। … কেউ সিঙ্গেল থাকা অবস্থায় তার সাথে ইনভল্ভমেন্টে আমার অস্বস্তি নাই, বাট কারো একজন এস্টাব্লিশড গার্লফ্রেন্ড থাকা অবস্থায় তার সাথে সেক্সুয়াল কিছুতে ইনভল্ভড হওয়াতে আমার এথিক্স-এ বাঁধে। … সে নিজেও অবশ্য … আচ্ছা না … বাদ! … বেশি বলা হয়ে যাচ্ছে … বাদ দেই এই প্রসঙ্গ!

আজকে সারাদিন যাবৎ কেমন বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব! শীত নামানোর বৃষ্টি! … ঢাকা শহরে বৃষ্টি ভালো লাগে না আমার, কিন্তু আজকে সকালে যখন বৃষ্টি শুরু হলো, মনে মনে একটা আকর্ণবিস্তৃত হাসি দিলাম খুশিতে যে শীত নামবে হোপফুলি! … নিম্নচাপের বৃষ্টি … শীতের আগের শেষ নিম্নচাপ আই গেস … বিকালে বাসায় ফেরার পথে তো সারাটা রাস্তা ঝুম বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে আসলাম। স্কুল থেকে আর যদি আধা ঘণ্টা দেরি করে বের হতাম তাহলেই বৃষ্টিতে পড়তাম। তারপর আর সিএনজি-ও পেতাম না। সিএনজি নিয়ে যখন আমি পান্থপথ মোড়ে জ্যাম আর সিগন্যালে বসে আছি, তখন বৃষ্টি শুরু হলো … মনে মনে ভাবলাম যে কাশফিয়া আপুও আমার সাথেই বের হয়েছে, বসুন্ধরা সিটি যাবে, শিওর বেচারি দুনিয়ার ব্যাগ-বোচকা নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে রিকশায় বসে আছে … উনার আজকে এমনিতেই মুড অফ ছিলো, তার মধ্যে একা একা বসুন্ধরা যাবে একটা কাজে, সেটাও তার ভালো লাগছিলো না। আমি একবার ভাবছিলাম যে উনার সাথে বসুন্ধরা সিটি পর্যন্ত সঙ্গ দেই। কিন্তু তারপর ভাবলাম যে আজকে আমার কাঁধের ব্যাগ, হাতের ব্যাগ দুইটাই প্রচন্ড ভারি, সেই সাথে আবার ওই সন্ধ্যার দিকে বসুন্ধরা সিটি থেকে বের হয়ে সিএনজি পাওয়া একটা হ্যাসেল, তারওপর এখন তো বিকাল হলেই আমার প্রজাপতির ভয়! সো সব মিলায় খুব স্বার্থপরের মতোই সিদ্ধান্ত নিলাম যে স্কুল থেকে বের হয়েই বাসার দিকে রওয়ানা দিবো। পরে সিএনজি-তে বসে কাশফিয়া আপুর জন্য খারাপ লাগার সাথে সাথে ভাবলাম যে স্বার্থপর হয়ে ভালোই হলো! পৌনে ৫টার দিকে মনে হয় বের হলাম স্কুল থেকে। যদি বসুন্ধরা সিটি যেতাম, তাহলে তো পুরাই বিপদে পড়ে যেতাম! ওইসময়টাতেই যেই বৃষ্টি হইলো! কাশফিয়া আপুর বাসা বসুন্ধরা সিটির কাছেই, কোনোমতে হয়তো রিকশা নিয়ে চলে যেতো। কিন্তু আমি তো পুরাই ফেঁসে যেতাম!

ইদানীং খুব পঙ্গু হয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে ট্রান্সপোর্ট সংক্রান্ত ভাবনার জন্যই অনেক জায়গায় যাই-ই না আমি! কোনো একটা জায়গায় যাবো, তারপর সেখান থেকে বাসায় পৌছানোর ট্রান্সপোর্ট নিয়ে কোনো শিওরিটি নাই মনে হলেই ওখানে আর যাই না! আবার ওয়েদার আরেকটা ফ্যাক্টর! বৃষ্টি বৃষ্টি অবস্থা মানেই আমি আরো অচল! … কাশফিয়া আপু আজকে খুব হতাশ হয়ে বার বার বলছিলো একা একা সবকিছু করতে তার এখন আর ভালো লাগে না। আমিও বাসায় ফেরার পথে সিএনজি-তে বসে বসে ভাবছিলাম যে আমার কি ভালো লাগে? … একেকজন মানুষের দুঃখ-কে দেখার এঙ্গেল একেকরকম। একজনের কাছে যেটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গা, আমার জন্য হয়তো সেটা অনেক টলারেবল, কিন্তু তার চেয়েও হয়তো বেশি কষ্ট আমি অন্য কিছু একটা নিয়ে পাই … তারপরও কিছু কিছু বেস তো এক … যেমন এই যে একা লাগা! কাশফিয়া আপুর একা লাগার কন্টেক্সট হয়তো একরকম, আমার একা লাগার কন্টেক্সট একরকম। কিন্তু দু’জনেই ফিল করি যে আমরা অনেক একা! … আমি ভাবছিলাম, এই যে প্রতিদিন এতটা রাস্তা একা একা বাসা থেকে স্কুলে যাই, কিংবা বাসায় ফিরি, আমার কি ভালো লাগে? আমার কি মনে হয় না যে সাথে যদি কথা বলার কেউ থাকতো তাহলে অনেক ভালো লাগতো? নট নেসেসারিলি সেটা কোনো প্রেমিক-ই হতে হবে … কিন্তু মনে মনে হয়তো কোথাও এরকম একটা সুপ্ত চিন্তাও কাজ করে যে কেউ না কেউ তো লাইফে এরকম থাকতেই পারতো যার কারণে আমি ফিল করতে শুরু করতাম যে আমার যাবতীয় হতাশা, বিষণ্ণতা, একা একা পথ চলার অসহায়ত্ব কমে যাচ্ছে! রাতে আমার ঘুম আসে না, চুপচাপ আধো ঘুম আধো জাগা অবস্থায় সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকি, নয়তো চোখ বন্ধ করেই এটা সেটা দৃশ্যকল্পের চেষ্টা করি। তখনও মনে হয় যে একা ঘুমাতে হচ্ছে কেন? কি হইতো সাথে কেউ থাকলে? ঘুম না আসলে কথা বলতে পারতাম। কিংবা কেউ পাশে থাকলে হয়তো সেই স্বস্তিতেই বেঘোরে ঘুমিয়ে যেতাম! ঘুমাতে যাইও চোখের পানি আটকায়, ঘুম থেকে উঠেও সেই চোখের পানিই আটকাই! …

14671369_917277871741383_1367293830006476925_n

নিজের একা থাকার অসহায়ত্বটা আমি প্রকাশ হতে দেই না … কিংবা দিতে পারি না! … তবুও মাঝে মাঝে নিজের মধ্যেই এত অসহ্য লাগে যে মনে হয় ‘ভাল্লাগে না ! ভাল্লাগে না’ না বলে বলতে থাকি ‘একা একা লাগে! একা একা লাগে!’ …

কিন্তু যখনই আমি মুখ ফুটে এস্টাব্লিশ করবো যে আমি প্রচন্ড ডিপ্রেসড কারণ আমি প্রচন্ড লোনলি ফিল করি, আবার আমার সোহেল সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এবং টিউমারজনিত হতাশার কারণে আমার পক্ষে কারো সাথে ইনভল্ভড হবার কথা ভাবতেও ভালো লাগে না, তখন আশেপাশের অনেক মানুষ আমাকে অনেক কেয়ার করবে, অনেক সিম্প্যাথেটিক হবে, কিন্তু সেটাও আমার ভালো লাগে না। আমি কেমন জানি একটা ইমেজ নিয়ে চলি, যেটা আসলেই আমি কি না সেটা নিয়ে আমি নিজেই খুব কনফিউজড হয়ে যাই! নিজে আমি যতটা না স্ট্রং, মানুষের সামনে তার কয়েকগুণ বেশি স্ট্রেংথ দেখায় চলি। প্রচন্ডরকমের এই ‘ আই অ্যাম কুল উইথ মাই লাইফ’ টাইপ অ্যাটিচুড দেখায় চলতে গিয়ে আমার মনে হচ্ছে আমি যতটা স্ট্রং আসলে থাকতে পারতাম তারচেয়ে বেশি ভেঙ্গে পড়ছি সবকিছু নিয়ে! … সবকিছুই এখন আমার কাছে কেমন নেগেটিভ লাগতে শুরু করেছে! … মনে হয়, কোনো কিছুই আমার ভালোর জন্য হচ্ছে না! … সবকিছুই একটা উপহাস! … প্রচন্ড রকমের উপহাস মনে হয়! …

এই যে জাপান স্টাডিজের ফার্স্ট সেমিস্টারের ফাইনালে হায়েস্ট গ্রেড পাইলাম, এইটাও উপহাস … কয়েকদিন আগে যে ভাইভা দিয়েছিলাম জাপানের আপকামিং কোনো একটা প্রোগ্রামে সিলেকশনের জন্য, সেখানে নাকি ওয়েটিং লিস্টে আছি না কি জানি! … প্রতীতি কালকে ফেসবুকে খালি প্রসঙ্গ তুলেছিলো … আমার সাথে সাথেই খুব অসহ্য লাগলো! মনে হইলো যে আমি জাপান যাওয়া সংক্রান্ত কিছু শুনতেই চাই না কারো কাছ থেকে! জাপানে যাওয়ার জন্য সিলেক্ট হইলাম কি না হইলাম, সেইটাও এখন জীবনের আরেকটা উপহাস বলেই মনে হচ্ছে! …

সেদিন একজনের সাথে ফেসবুকে অনেক কথা বলছিলাম আমার এই ইমোশনাল স্টেট নিয়ে… কাঁদছিলাম আর কথা বলছিলাম … যেহেতু চ্যাটবক্সে লিখে লিখে কথাবার্তা হচ্ছিলো,তাই কান্নাটা তো আর দেখা যায়নি … সে আমাকে যথেষ্টই ইন্সপায়ার করার চেষ্টা করছিলো … কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো যে আমি যতই কথা বলছি, কোনোটাই আসল কথাটা বলছি না! … কেবল ডিনাই করে যাচ্ছি সবকিছু! … যেটা ফিল করছি না, সেটাকেই এস্টাব্লিশ করতে চাচ্ছি! … কোনোভাবেই নিজেকে লোনলি প্রমাণ করা যাবে না, এরকম একটা ভাবসাব নিয়ে খুব কথা বলছিলাম যে আমি আসলে লাইফে এখন যেই অবস্থায় আছি সেখান থেকে চেঞ্জ চাই না! চাই না কারো সাথে মেন্টালি ইনভল্ভড হতে, এমন কি বিয়ে করতে, আবারো বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে ভাবতে,টিউমারের অপারেশন করতে, লাইফে কোনো কিছুতে সেটল হতে, চাইনা ভালো থাকতে, চাইনা আবার একটা হাসিখুশি লাইফে ফিরে যেতে।যা হয় হবে … মরে গেলে মরে যাবো! … এই সেই … কিন্তু লিখতে লিখতেই ভাবছিলাম যে আসলেই কি আমি এরকম চাই? নাকি এর উল্টোটা চাই? কিন্তু সেই উল্টোটা হবার সম্ভাবনা দেখি না বলেই হতাশ হয়ে সবকিছু ডিনাই করে বেড়াই? …

ইদানীং সবকিছু নিয়েই এত বিষণ্ণ হয়ে যাচ্ছি! … মাঝে মাঝে মনে হয় কোনোদিন হয়তো মনে হবে ঘুমের ওষুধ-টষুধ খেয়ে মরে-টরে যাওয়া দরকার, তারপর সেটা করার জন্যই উঠে-পড়ে লাগবো! … নিজেকেই এখন আমি সবচেয়ে ভয় পাই … কারণ নিজের ভেতরটাই নিজে বুঝি না! … কি যে চাই আসলে! …

যাক গে, কথাবার্তা বেশি ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছে … দ্যাট মিন্স, এখন আমাকে দিনযাপন শেষ করতে হবে … কালকে সকালে উঠে মনে হয় মহিলা সমিতি যাবো … পাভেল ভাইয়ের ৫০তম জন্মদিনের ৩ দিন ব্যাপী প্রোগ্রাম চলছে … গতকালকে বা আজকে কোনোটাতেই যাইনাই! … কাল সকালে উঠে যদি যেতে ইচ্ছা হয়, যদি দেখি আকাশে বৃষ্টি-বাদলা ভাব নাই তাইলে হয়তো শাড়ি-টাড়ি পরে সেজেগুজে বের হয়ে যাবো … কালকে এমনিতেও অবশ্য যত তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া যায় ততই ভালো! … পালিয়ে বাঁচার প্রক্রিয়া হিসেবে হলেও মহিলা সমিতিতে গিয়ে বসে থাকা ভালো! …

কিন্তু, আমি ভাবি, এমনও দিন আসলো যে প্রাচ্যনাটের শো হয়, উৎসব হয় আর আমি দিনের পর দিন রিহার্সাল ফ্লোরে তো যাই-ই না, এমনকি প্রোগ্রামেও যাচ্ছি না! এবং সেটাও খুব রিলাক্টেন্টলি! … যেতে হবে ভাবনাটাই আমাকে অনেক পঙ্গু করে দেয়! একগাদা ডিসকম্ফোর্ট এনে দেয়! …

এটাকেও আমার সময়ে সময়ে প্রচন্ড বিষণ্ণতায় ‘জীবনের উপহাস’ বলেই মনে হয়!

যাই হোক, এই ‘উপহাসমূলক’ দিনযাপন শেষ করি … না হলে বকবক করতেই থাকবো! …

সাইয়োনারা … বন নুই ! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s