দিনযাপন । ১৫১১২০১৬

দিনযাপনের এখন এমনই অবস্থা যে নিজের ভাত-তরকারিটাও নিজেই গরম করে খেতে হচ্ছে , রান্না করাটুকুই বাকি আছে। শেষ কবে নিজে রান্না করে খেয়েছি ভুলেও তো গেছি। অনেক আগে ইন্টারমিডিয়েট দেয়ার পরের কোনো একটা সময় বেশ কয়েকদিন নিজে রান্না করে খাওয়া শুরু করেছিলাম। খুব সিম্পল রান্না-বান্না আর কি! ভাতটা রাঁধতাম না। আর তরকারি বলতে আলু সেদ্ধ, ডিম সেদ্ধ নইলে ভাজি এইসব! একবার দুইবার মুরগি রেঁধেছিলাম, কিন্তু অনেক এক্সপেরিমেন্টেশনের চোটে ওইটার অবস্থা খুব বেশি সুবিধার হয়নি।

সে যাই হোক, এখন আমাকে এই কাহিনী করতে হচ্ছে কারণ মা গত শুক্রবার থেকে হাসপাতালে। এর আগের সপ্তাহখানেক যাবৎ-ই জ্বর ছিলো আর সারাক্ষণ নাকি তার সারা শরীর ব্যথা করতো, স্পেশালি কোমরের জয়েন্টে, অথবা সায়াটিক এরিয়াতে। তো ডাক্তার দেখানোর কথা বললে বলতো যে সুস্থ হলে নাকি যাবে। সুস্থ হয়ে গেলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে কি লাভ হবে এই নিয়ে দুই-একদিন তর্ক-টর্ক করে আমি এই বিষয়ে কিছু বলা বাদ দিলাম। দেখা গেলো পর পর দুইদিন সে কলেজে গিয়ে অসুস্থ হয়ে গেলো, তারপর কোনোরকমে বাসা ফিরে শয্যাশায়ী … আলটিমেটলি শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলো। জানা গেলো যে সুগার হাই, আর সেই সাথে ইউরিন ইনফেকশন। লে হালুয়া! সুগার হাই তো হাই, তাও আবার ১৫-১৬ এইরকম! এই আজকে প্রায় ৪ দিন পরে এসে তার নাকি সুগার কিছুটা কমেছে। কালকে সম্ভবত রিলিজ দিয়ে দেবে …

fb_20160916_04_04_58_saved_picture

আর এর মধ্যে আমার কি অবস্থা? … ভার্সিটির ক্লাস-টাস সব মাথায় তুলে বসে আছি কারণ বিকালের মধ্যে বাসায় ফিরে আসতে হয় বাড়ি পাহারা দেয়ার জন্য। সকালে স্কুলে যাই আর তারপর বাসা … এদিকে বাসায় ফিরে যে আমার খুব কাজ হয় তা না … রাতের বেলা নিজের বিছানায় না শুয়ে গত ৪ রাত ধরে সোফায় ঘুমাচ্ছি, কারণ একা একা জানালার পাশে শুয়ে ঘুমাতে কেমন জানি অস্বস্তি করে … এদিকে সোফায় শোয়া মানে তো এক কাতে ঘুমানো। সো ঘুমটাও আরামদায়ক হয় না। এর মধ্যে এখন একটা কেমন না গরম, না ঠান্ডা অবস্থা। রাতের অর্ধেক সময় কাঁথা জড়ায় ঘুমাই, আবার অর্ধেক সময় কাঁথা- টাথা সব ফেলে দিয়ে ঘুমাই। এই করতে করতে ঘুমটাও ইন্টেরাপটেড হয়। দেখা যায় যে ভোর বেলা সাড়ে ৩টা কি ৪টার দিকে ঘুম আসে, আর ঘুম থেকে উঠি সোয়া ৬টার দিকে, কোনোরকমে খালি দাঁত ব্রাশ করে, কাপড় পাল্টায় বের হয়ে যাই। সকালের নাস্তা, সকালের ধোঁয়া ওঠা গরম চা এইসব গত ৪ দিন যাবৎ ইতিহাস মনে হচ্ছে! এদিকে স্কুলেও দুনিয়ার কাজের প্রেশার। মোটামুটি স্টিম রোলার চলছে। আর আমরাও রোলিং মেশিনে ক্রমাগত রোল হয়েই যাচ্ছি। তো ২টায় স্কুল ছুটি হয়, তারপর একটা সেট হলেও খাতা দেখে আসি, ফলে বের হতে হতে অন্তত সাড়ে ৩টা কি ৪টা। বাসায় ফিরতে ফিরতে ৫টার মতো বাজে। তারপর গোসল করে বের হয়ে একটা কিছু খাই, চুলা জ্বালানো থাকে বলে পানি গরম করে চা বানিয়ে খাই, আর তারপর দেখা যায় শরীর আর কুলাতে পারে না। যেই কাজ নিয়েই বসি না কেন, আধাঘন্টার মধ্যে ঘুম! রাতে সাড়ে ৯টা/১০টার দিকে উঠে খাওয়া-দাওয়া করে কতক্ষণ নিজের মনে হা-হুতাশ করি, নয়তো রাহাত-কে নক করে ফেসবুকে কতক্ষণ বকবক করি,তারপর আবার ঘুম!

বাসায় একটা কাজের মানুষ থাকলেই আর এই অবস্থায় পড়তে হতো না … অন্তত সকালের চা-টা খেয়ে ঠান্ডা মাথায় বাসা থেকে বের হতে পারতাম … প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে সারাদিন … প্রচণ্ড ক্লান্ত …

আজকে ভার্সিটিতে একটা অ্যাসাইন্মেন্ট জমা দেয়ার ডেডলাইন ছিলো … আবারো মামুন স্যারের অ্যাসাইনমেন্ট … কিন্তু দিতে পারলাম না … গত কয়েকদিন ধরেই একটু একটু করে অ্যাসাইনমেন্টের কাজ করেছি কিন্তু শেষ করতে পারিনি। স্কুলে বসে বসে যে করে ফেলবো সেই সময় ছিলো না। বাসায় ফিরে আসলাম ঠিকই, কিন্তু ওই যে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম, তারপর আর প্রতিদিন খুব বেশি কাজ আগানো গেলো না। একটা চ্যাপ্টারের ট্রান্সলেশন। আর মাত্র দেড় পাতা বাকি। আজকে ক্লাসে তো আর যেতে পারতাম না, হয়তো প্রতীতি’র কাছে মেইল করে দিতাম, ও দিয়ে দিতো। কিন্তু সেটা হলো না আর কি। ভেবেছিলাম যে মামুন স্যারকে ফোন করে মা অবস্থার কথা জানিয়ে সরি-টরি বলে রবিবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেবো। কিন্তু আজকে বাসায় এসে কোনোরকমে খালি ব্যাগটা রেখেছি, তারপর ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সন্ধ্যা ৭টা! গতকালকে দিলরুবা ম্যা’ম-এর ক্লাস ছিলো, উনাকে ফোন করেছিলাম। তো ভাবছিলাম যে মামুন স্যার যদি আবার এইটা নিয়ে মাইন্ড করে বসে যে উনাকে কেন ফোন করে জানালাম না! এমনিতেই নাকি উনি আমার উপর যথেষ্ট বিলা … ওই যে, এর আগের পোস্টারের অ্যাসাইন্মেন্ট-এর সাবমিশন ছিলো, আর আমি স্কুলের সেশনের শুরুতে নাকানি-চুবানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে মনে মনে ভাবছিলাম যে জাপান স্টাডির পড়ালেখা ছেড়েই দিবো, আর সেই উইথড্রয়াল সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে পোস্টারের হাফ ডান অ্যাসাইন্মেন্ট-টা আর শেষ করে জমা দেই নাই। স্যার হয়তো আমার ড্রাফটটা দেখে বেশ আশাবাদি ছিলেন যে মূল পোস্টারটাও বেশ ক্রিয়েটিভ হবে, এবং উনি যে পোস্টারের প্রেজেন্টেশন প্ল্যান করেছিলেন, সেখানে ওই পোস্টার শোভাও বাড়াবে। যেহেতু আমার কাছ থেকে উনি উনার আশানুরূপ রেসপন্স পাননি, তাই উনার খুব খারাপ লেগেছে বিষয়টা। এবং যা বুঝলাম এতদিনে তা হলো যে সেই খারাপ লাগা বা মাইন্ড খাওয়ার আফটার ইফেক্ট হিসেবে আসলে জাপান যাওয়া সংক্রান্ত যে কোনো অপশনের ক্ষেত্রে উনি নেগেটিভ অ্যাপ্রোচ হোল্ড করছেন। টিপিক্যাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষকীয় আচরণ যেটা হয় আর কি!

তো, সেই স্যারেরই অ্যাসাইন্মেন্টে আমি আবারো ডিফল্টার হলাম। দেখি, আগামীকাল স্যারকে ফোন করে কথা বলার সৎসাহস অর্জন করতে পারি কি না …

আজকে আর কি-ই বা লিখবো? প্রচন্ড টায়ার্ড লাগছে, মাথা ব্যথা করছে, ক্রমাগত নাক টানছি ঠাণ্ডায়। আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চাই। কালকে স্কুলে ক্লাস বেশি নাই, কিন্তু কপি চেক করতে হবে অনেকগুলা। স্কুলের কাজটা এখন আর ভালো লাগা নিয়ে করছি না … কেমন জানি ‘অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’ টাইপ ফিলিংস নিয়ে কাজ করছি … এবং এই ফিলিংস যখনই একটা জায়গা নিয়ে আমার মধ্যে তৈরি হয়, তখনই  আমার ওই জায়গা থেকে মন উঠে যেতে থাকে … স্কুলের কাজটার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে আর কি ইদানীং … আগামী টার্মের শেষতক হয়তো মন পুরোপুরিই উঠে যাবে!

আজকে ঘুমাতে যাই … বহুত প্যাচাল পারলাম …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s